প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল

১৯১৪-১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল প্রসঙ্গে বিশ্ব বিপ্লব, বিপ্লবের ধারা অব্যাহত, যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ফলাফল হিসেবে লোকক্ষয় ও সম্পদের বিনাশ, রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে চারটি বৃহৎ সাম্রাজ্যের পতন, নতুন রাষ্ট্রের উদ্ভব, জাতীয়তাবাদের জয়, জাতীয় রাষ্ট্র গঠন, গণতন্ত্রের প্রসার, একনায়কতন্ত্রের উদ্ভব, ইঙ্গ-ফরাসি প্রাধান্য নাশ, ফ্রান্সের নিরাপত্তা ভীতি, আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রসার, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, সামাজিক পরিবর্তন হিসেবে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি ও শ্রমিক শ্রেণির গুরুত্ব সম্পর্কে জানবো।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল

ঘটনা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
সময়কাল ১৯১৪-১৯১৮ খ্রি
বিবাদমান পক্ষ ত্রিশক্তি মৈত্রীত্রিশক্তি চুক্তি
ত্রিশক্তি মৈত্রী জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ইতালি
ত্রিশক্তি চুক্তি ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল

ভূমিকা :- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের গুরুত্ব ও ফলাফল ছিল গভীর ও সুদূরপ্রসারী। মূলত ইউরোপীয় বিবাদ বিসংসবাদকে কেন্দ্র করে এই যুদ্ধ সংঘটিত হলেও সমগ্র বিশ্বই এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। এর ফলে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি জাতি ও রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে এক ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়।

বিশ্ব-বিপ্লব

সমকালীন হাঙ্গেরির এক নেতৃস্থানীয় দেশনায়ক কাউন্ট জেরনিন বলেন যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিগত পাঁচ বছরের নাটককে বিশ্বযুদ্ধ না বলে বিশ্ব-বিপ্লব বলে অভিহিত করবে।

বিপ্লবের ধারা অব্যাহত

বিশিষ্ট জার্মান জননায়ক গুস্টাভ স্ট্রেসিম্যান-এর মতে এই যুদ্ধ ছিল বিশ্ব-বিপ্লবের একটি অঙ্গ, যা জীবনের প্রতিটি অধ্যায়কে গভীরভাবে আলোড়িত করবে, এবং সংঘর্ষ থেমে যাওয়ার দীর্ঘদিন বাদেও এই বিপ্লবের ধারা অব্যাহত থাকবে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের তাৎক্ষণিক ফলাফল

চার বছর স্থায়ী এই যুদ্ধের ধ্বংসলীলা সমগ্র বিশ্বের জনজীবনকে বিধ্বস্ত করে দেয়। এই যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ফলাফল হল –

(ক) লোকক্ষয়

  • (১) এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে প্রায় ছয় কোটি সৈন্য এবং তার মধ্যে প্রাণ হারায় এক কোটি ত্রিশ লক্ষ, অর্থাৎ প্রতি পাঁচজনে একজন। প্রতি তিনজনে একজন গুরুতর আহত হয়। চিরতরে পঙ্গুর সংখ্যা ছিল ৭৯ লক্ষ।
  • (২) ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ -এ যত যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং তাতে যত লোকের প্রাণহানি হয়, তার দ্বিগুণ প্রাণহানি হয় ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই চার বছরের যুদ্ধে। এছাড়া, যুদ্ধের অব্যবহিত পরে খাদ্যাভাব, রোগ ও মহামারীতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়।
  • (৩) যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় রাশিয়ায় – দুই মিলিয়নেরও বেশি। জার্মানি হারায় দুই মিলিয়ন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রায় এক মিলিয়ন এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১,১৫,০০০। এই ব্যাপক লোকক্ষয় ও প্রাণহানির প্রতিক্রিয়া ছিল ভয়াবহ।
  • (৪) মৃত ও হতাহত সেনাদের স্থান পূরণ করার জন্য বহুদেশে বাধ্যতামূলক সামরিক বৃত্তি চালু করা হয়। এর ফলে বহু উদীয়মান কবি, সাহিত্যিক ও বৈজ্ঞানিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারান। এই ব্যাপারে ইংরেজ কবি উইলফ্রেড আওয়েন এবং রবার্ট ব্রুক-এর নাম করা যায়।

(খ) সম্পদের বিনাশ

  • (১) যুদ্ধে ধন-সম্পদেরও ক্ষতি ছিল মারাত্মক। যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলির দৈনিক ব্যয় ছিল ২৪ কোটি ডলার, এবং যুদ্ধের সর্বমোট ব্যয় ছিল ২৭ হাজার কোটি ডলার। ধন-সম্পত্তি নাশের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সার্বিয়া, রুমানিয়া, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি প্রভৃতি রাষ্ট্র।
  • (২) পোল্যান্ডের লেখক সিয়েনকিউইং ক্ষোভের সঙ্গে লিখছেন যে, আমাদের দেশকে ইউরোপের রণক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়ে তার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে। ফ্রান্সে আট হাজার বর্গমাইল কৃষিক্ষেত্র এবং পাঁচ লক্ষ গৃহাদি ধ্বংস হয়। ইউরোপে সম্পদের ধ্বংসলীলা চরম আকার ধারণ করে।

রাজনৈতিক পরিবর্তন

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ইউরোপের মানচিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনে এবং ইউরোপের মানচিত্র নতুনভাবে অঙ্কিত হয়। যেমন –

(১) চারটি বৃহৎ সাম্রাজ্যের ধ্বংস

যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে চারটি প্রাচীন ও বৃহৎ সাম্রাজ্য এবং রাজবংশের পতন ঘটে। এই সাম্রাজ্যগুলি হল রাশিয়া, জার্মানি, অস্ট্রো-হাঙ্গেরি ও তুরস্ক। এই সাম্রাজ্যগুলিতে যথাক্রমে রোমানভ, হোহেনজোলার্ন, হ্যাপসবার্গ ও অটোমান বংশ রাজত্ব করত।

(২) নতুন রাষ্ট্রের উদ্ভব

এইসব সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের উপর গড়ে ওঠে বেশ কিছু নতুন রাষ্ট্র, অথবা কিছু পুরোনো রাষ্ট্র পুনর্গঠিত হয়। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল পোল্যান্ড, বোহেমিয়া, রুমানিয়া, লিথুয়ানিয়া, চেকোশ্লোভাকিয়া, যুগোশ্লাভিয়া প্রভৃতি। রুমানিয়ার আয়তন প্রায় দ্বিগুণ হয়।

(৩) জাতীয়তাবাদের জয়

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম ফল হল জাতীয়তাবাদী ভাবধারার বিস্তার। নেপোলিয়ন -এর যুদ্ধের অবসানে ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ভিয়েনা সম্মেলন -এ সমবেত নেতৃমণ্ডলী জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে সমূলে উৎপাটন করতে সচেষ্ট ছিলেন। অপরদিকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানে ভার্সাই সম্মেলন বা প্যারিসের শান্তি সম্মেলনে (১৯১৯ খ্রিঃ) জাতীয়তাবাদকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

(৪) জাতীয় রাষ্ট্র গঠন

বহুজাতি ও ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত বৃহৎ সাম্রাজ্যগুলিকে ভেঙে এক জাতিগোষ্ঠী ও এক ভাষাভাষী মানুষদের নিয়ে জাতীয় রাষ্ট্র গঠিত হতে থাকে। এই নীতি অনুসারে,

  • (ক) পূর্বতন রুশ সাম্রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চারটি নতুন রাষ্ট্র জন্ম নেয় – ফিনল্যান্ড, এস্টোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়া।
  • (খ) জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও রাশিয়া কর্তৃক অধিকৃত পোল্যান্ডের অঞ্চলগুলিকে নিয়ে পুনরায় পোল্যান্ড রাষ্ট্র গঠিত হয়। এইভাবে দীর্ঘ ১২৪ বছর পর ইউরোপে পোল্যান্ডের পুনরাবির্ভাব ঘটে।
  • (গ) বোহেমিয়া ও মোরাভিয়াকে যুক্ত করে চেকোশ্লোভাকিয়া এবং অস্ট্রিয়ার স্লাভ জাতি-অধ্যুষিত বসনিয়া, হারজেগোভিনা ও অন্যান্য কয়েকটি অঞ্চল সার্বিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে গঠিত হয় স্লাভ-প্রধান রাষ্ট্র যুগোশ্লাভিয়া।
  • (ঘ) ট্রানসিলভানিয়াকে অস্ট্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে রুমানিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
  • (ঙ) ফ্রান্সকে আলসাস-লোরেন এবং ডেনমার্ককে ডেন-অধ্যুষিত স্লেজউইগ ফেরত দেওয়ায় তাদের দীর্ঘ-লালিত জাতীয় কামনা পূর্ণ হয়।
  • (চ) আয়ারল্যান্ড, চীন, মিশর, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া-য় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তীব্রতর হয়ে ওঠে।

(৫) গণতন্ত্রের প্রসার

জাতীয়তাবাদের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ভাবধারারও প্রসার ঘটে। পোল্যান্ড, রুমানিয়া, চেকোশ্লোভাকিয়া, যুগোশ্লাভিয়া, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, জার্মানি, গ্রিস, এস্টোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া প্রভৃতি দেশে প্রজাতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপে পাঁচটি প্রজাতন্ত্র ছিল। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে তার সংখ্যা দাঁড়ায় ষোলোটিতে। অধ্যাপক ডেভিড টমসন বলেন যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে গণতন্ত্রই জয়যুক্ত হয়। রাশিয়াতে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

(৬) একনায়কতন্ত্রের উদ্ভব

বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে সঙ্গেই ইউরোপের রাষ্ট্রগুলি খাদ্যাভাব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব প্রভৃতি বহুবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়। গণতান্ত্রিক পথে এইসব সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ক্রমে একনায়কতন্ত্রের উদ্ভব হয়। জার্মানি, ইতালি, রাশিয়া, তুরস্ক, স্পেন প্রভৃতি দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যক্তিবিশেষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।

(৭) ইঙ্গ-ফরাসি প্রাধান্য নাশ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ রাজনৈতিক শক্তিসাম্যকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দেয়। বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স ছিল বিশ্বের দুই শক্তিধর দেশ। জার্মানি ছিল ইউরোপের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি। যুদ্ধের অবসানে এই পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়। ইঙ্গ-ফরাসি পক্ষ যুদ্ধে জয়যুক্ত হলেও তাদের প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এর ফলে তারা তাদের পূর্ব-গৌরব ও ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই স্থান দখল করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বলশেভিক রাশিয়া।

(৮) ফ্রান্সের নিরাপত্তা ভীতি

বিশ্বযুদ্ধে জয়ী হলেও ফ্রান্স সর্বদাই জার্মানি সম্পর্কে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত। তার আশঙ্কা ছিল যে, জার্মানি তার পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য যে কোনও সময় ফ্রান্সের উপর আক্রমণ হানতে পারে। এই কারণে ফ্রান্স একটি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। এর ফলে ইউরোপীয় রাজনীতি নানাভাবে প্রভাবিত হতে থাকে। পারস্পরিক সন্দেহ, বিদ্বেষ এবং পারস্পরিক জোট গঠন ইউরোপীয় রাজনীতিকে নতুন স্তরে পৌঁছে দেয়।

(৯) আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রসার

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছিল মিত্রপক্ষীয় শক্তিগুলির একটি যৌথ উদ্যোগ। এই যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিকতাবোধ বৃদ্ধি পায়। মার্কিন রাষ্ট্রপতি উইলসনের চোদ্দোদফা নীতি -র উপর ভিত্তি করে লিগ অব নেশনস্’ বা ‘জাতিসঙ্ঘ‘ গঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা। তাছাড়া ভীত-সন্ত্রস্ত ইউরোপ এই সময় থেকে নিরস্ত্রীকরণ ও যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে নজর দিতে শুরু করে।

অর্থনৈতিক পরিবর্তন

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে সারা পৃথিবীতেই কম-বেশি আর্থিক মন্দা দেখা দেয়। বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তি দ্বারা জার্মানিকে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয় যে, জার্মানির অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়। মুদ্রাস্ফীতি তীব্র আকার ধারণ করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। এইভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানবনির্মিত দুর্ভিক্ষের জন্ম হয়।

সামাজিক পরিবর্তন

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সামাজিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটায়। যেমন –

(১) নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি

নারীমুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বযুদ্ধের ভূমিকা ছিল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধক্ষেত্রে অগণিত যুবকের মৃত্যু ঘটে এবং অসংখ্য যুবক যুদ্ধে নিযুক্ত হয়। এর ফলে কর্মক্ষম যুবকের অভাবে বিভিন্ন দেশে মেয়েরা কলকারখানা, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও অন্যান্য কাজে নিযুক্ত হয়। এর ফলে মেয়েদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং তারা পুরুষদের সমান মর্যাদা দাবি করতে থাকে।

(২) শ্রমিক শ্রেণির গুরুত্ব

যুদ্ধের সময় শ্রমিক শ্রেণি নিজেদের শক্তি সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। তারাই কলকারখানায় যুদ্ধের অস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি উৎপাদন করত। তারা বুঝতে পারে যে জাতীয় জীবনে তাদের ভূমিকা নেহাত কম নয়। যুদ্ধের পরে তারা নিজেদের জন্য নানা ধরনের অধিকার দাবি করতে থাকে এবং সরকারও সেই সব দাবি মেনে নেয়।

উপসংহার :- যুদ্ধ মানেই ধ্বংস ও ক্ষতি৷ এই ধ্বংস ও ক্ষতির কারণে অনেকে শিক্ষা নিলেও পরাজিত শক্তির মধ্যে প্রতিহিংসার আগুন সুপ্ত ভাবে থেকেই যায়৷ যার ফলে পরবর্তীতে আবারো সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দেয়। বাস্তবেও দেখা যায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে জার্মানির এই প্রতিহিংসাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ -এর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷

(FAQ) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল কত?

১৯১৪-১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ।

২. প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিবাদমান জোট দুটির নাম কি?

ত্রিশক্তি মৈত্রী বা ট্রিপল অ্যালায়েন্স ও ত্রিশক্তি চুক্তি বা ত্রিশক্তি আঁতাত।

৩. ত্রিশক্তি মৈত্রী জোটের প্রধান দেশ গুলির নাম কি?

জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ইতালি।

৪. ত্রিশক্তি চুক্তি জোটের প্রধান দেশ গুলির নাম কি?

ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া।

Leave a Reply

Translate »