অস্ট্রিয়া

অস্ট্রিয়া দেশটি প্রসঙ্গে সীমা, রাজধানী, শহর, জাতীয় রাষ্ট্রের উদ্ভব, জার্মানির অন্তর্ভুক্ত, স্বাধীনতা, ইতিহাস, ভৌগোলিক অঞ্চল, অর্থনীতি, সরকার ব্যবস্থা, ধর্ম ও ভাষা সম্পর্কে জানবো।

অস্ট্রিয়া

দেশ অস্ট্রিয়া
রাজধানী ভিয়েনা
ভাষা অস্ট্রিয় জার্মান
রাষ্ট্রপতি আলেক্সান্ডার ভ্যান ডার বেলেন
চ্যান্সেলর আলেকজান্ডার শেলানবুর্খ
অস্ট্রিয়া

ভূমিকা :- পশ্চিম ইউরোপ -এর একটি রাষ্ট্র হল অস্ট্রিয়া। অস্ট্রিয়া মূলত আল্পস পর্বতমালার উপরে অবস্থিত। দেশটির তিন-চতুর্থাংশ এলাকাই পর্বতময়।

সীমা

স্থলবেষ্টিত এই দেশের উত্তরে জার্মানিচেক প্রজাতন্ত্র, পূর্বে স্লোভাকিয়াহাঙ্গেরি, দক্ষিণে স্লোভেনিয়া ও ইতালি, এবং পশ্চিমে সুইজারল্যান্ড ও লিশ্‌টেন্‌ষ্টাইন।

রাজধানী

অতীতে অস্ট্রিয়া হ্যাপসবার্গ রাজাদের অধীনস্থ একটি বিস্তৃত শক্তিশালী সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র ছিল। ভিয়েনা ছিল সেই সাম্রাজ্যের রাজকীয় রাজধানী। ভিয়েনা এখনও বিশ্বের অন্যতম প্রধান শহর হিসেবে আদৃত। এর রাজকীয় রূপ, অসাধারণ স্থাপত্য, সঙ্গীত ও নাট্যকলা জগদ্বিখ্যাত। ভিয়েনা বর্তমানে অস্ট্রিয়ার বৃহত্তম শহর ও রাজধানী।

শহর

অস্ট্রিয়ার পাঁচটি প্রধান শহর হল ভিয়েনা, গ্রাৎস, লিনৎস, জালৎসবুর্গ এবং ইন্স‌ব্রুক। ভিয়েনা অস্ট্রিয়ার রাজধানী ও বৃহত্তম শহর। এটি অস্ট্রিয়ার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র। ভিয়েনা শহরটি দানিউব নদীর দুই তীরে অবস্থিত।

জাতিরাষ্ট্রের উদ্ভব

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে অস্ট্রিয়ার অধীনস্থ বহুজাতিক সাম্রাজ্য ভেঙে যায় এবং তার স্থানে একাধিক জাতিরাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। অস্ট্রিয়া নিজে একটি ক্ষুদ্র স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

জার্মানির অন্তর্ভুক্ত

যে সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি ভিয়েনাকে সামাজিক গণতন্ত্রের মডেল হিসেবে গড়ে তুলেছিল, ১৯৩৪ সালে তাদের পতন ঘটে এবং ডানপন্থী স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৯ সালে নাৎসি জার্মানি অস্ট্রিয়াকে নিজেদের সাথে সংযুক্ত করে নেয়।

অস্ট্রিয়ার স্বাধীনতা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ -এ জার্মানির পরাজয়ের পর মিত্রশক্তি অস্ট্রিয়া দখল করে। ১৯৫৫ সালে অস্ট্রিয়া আবার স্বাধীন হয় এবং তারপর থেকে দেশটির অভাবনীয় অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে।

ইতিহাস

৯৭৬ সালে অস্ট্রিয়ার ইতিহাস শুরু হয়। ঐ বছর লিওপোল্ড ফন বাবেনবের্গ বর্তমান অস্ট্রীয় এলাকার বেশির ভাগ অংশের শাসকে পরিণত হন। ১২৭৬ সালে রাজা প্রথম রুডলফ হ্যাপসবার্গ বংশের প্রথম রাজা হিসেবে অস্ট্রিয়ার শাসক হন।

ভৌগোলিক অঞ্চল

অস্ট্রিয়াকে তিনটি অসম ভৌগোলিক অঞ্চলে ভাগ করা যায়। এদের মধ্যে বৃহত্তম অংশটি হল আল্পস পর্বতমালার অপেক্ষাকৃত নবীন পাহাড়গুলি। এদের পূর্বে আছে পানোনীয় সমভূমি, এবং দানিউব নদীর উত্তরে আছে বোহেমীয় অরণ্য নামের একটি পুরানো কিন্তু অপেক্ষাকৃত নিচু গ্রানাইট পাথরে নির্মিত পার্বত্য অঞ্চল।

অর্থনীতি

অস্ট্রিয়ার অর্থনীতি হল একটি সামাজিক বাজার অর্থনীতি। এর গঠন প্রতিবেশী জার্মানির অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মতন। এখন অস্ট্রিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের চতুর্থ ধনী দেশ। মধ্য ইউরোপে অবস্থিত বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন সদস্যরাষ্ট্রগুলির প্রবেশদ্বার হিসেবে অস্ট্রিয়া গুরুত্ব লাভ করেছে।

সরকার ব্যবস্থা

বর্তমানে অস্ট্রিয়া একটি সংসদীয় গণতন্ত্র। এখানে ৯টি ফেডারেল রাজ্য রয়েছে। এটি ইউরোপের ৬টি রাষ্ট্রের অন্যতম যারা স্থায়ীভাবে নিরপেক্ষতা ঘোষণা করেছে। অস্ট্রিয়া ১৯৫৫ সাল থেকে জাতিসংঘ -এর এবং ১৯৯৫ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।

ধর্ম

অস্ট্রিয়াতে প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের মধ্যে রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্ম প্রধান। অস্ট্রিয়াতে মুসলিম ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, বর্তমানে এরা জনসংখ্যার ৪.২%। এছাড়াও অস্ট্রিয়াতে স্বল্পসংখ্যক হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও ইহুদীবাস করেন।

ভাষা

অস্ট্রিয়াতে মূলত জার্মান ভাষার একটি পরিবর্তিত রূপ ব্যবহৃত হয়, তার নাম অস্ট্রীয় জার্মান। এছাড়াও অস্ট্রিয়ায় অনেকগুলি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজস্ব ভাষায় কথা বলে থাকে। যেমন ক্রোয়েশীয়, স্লোভেনীয়, হাঙ্গেরীয়, চেক, স্লোভাক এবং জিপসি ভাষাসমূহ।

উপসংহার :- বর্তমানে অস্ট্রিয়া দেশটি একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। রপ্তানি ও পর্যটন শিল্প দেশটির আয়ের বড় উৎস। ভিয়েনার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং অস্ট্রিয়ার অসাধারণ সৌন্দর্যময় পার্বত্য ভূদৃশ্যাবলীর টানে এখানে বহু পর্যটক বেড়াতে আসেন।

(FAQ) অস্ট্রিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. অস্ট্রিয়ার রাজধানীর নাম কি?

ভিয়েনা।

২. অস্ট্রিয়ার ভাষা কি?

অস্ট্রিয় জার্মান।

৩. অস্ট্রিয়ার বর্তমান রাষ্ট্রপতি কে?

আলেক্সান্ডার ভ্যান ডার বেলেন।

৪. অস্ট্রিয়ার বর্তমান চ্যান্সেলর কে?

আলেকজান্ডার শেলানবুর্খ।

Leave a Reply

Translate »