জার্মানি

স্বাধীন দেশ জার্মানি প্রসঙ্গে অবস্থান, সীমা, বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি, নদনদী, ঐতিহাসিক দিক, রাজনৈতিক দিক, ভৌগোলিক দিক, পরিবেশ, প্রাণী বৈচিত্র্য, অর্থনৈতিক দিক, বৈদেশিক সম্পর্ক, সামরিক দিক, ভাষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃত সম্পর্কে জানবো।

ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত জার্মানি দেশটি প্রসঙ্গে জার্মানির পূর্ব নাম, জার্মানির অবস্থান, জার্মানির সীমা, জার্মানির বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি, জার্মানির নদনদী, পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি, ঐক্যবদ্ধ জার্মানি, দুই জার্মানির একত্রীকরণ, ঐক্যবদ্ধ জার্মানির রাজধানী, আধুনিক জার্মানির স্রষ্টা, জার্মানির ইতিহাস, জার্মানির রাজনৈতিক দিক, জার্মানির ভৌগোলিক দিক, জার্মানির পরিবেশ, জার্মানির প্রাণী বৈচিত্র্য, জার্মানির অর্থনৈতিক দিক, জার্মানির যোগাযোগ ব্যবস্থা, জার্মানির সামরিক দিক, জার্মানির ভাষা, জার্মানির খেলাধুলা ও জার্মানির সংস্কৃতি।

ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত জার্মানি দেশ

ঐতিহাসিক স্থানজার্মানি
রাজধানীবার্লিন
সরকারি ভাষাজার্মান
রাষ্ট্রপতিফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টিনমিয়ার
চ্যান্সেলরওলাফ শলৎস
জার্মানি

ভূমিকা:- ইউরোপ -এর অন্যতম প্রধান শিল্পোন্নত দেশ জার্মানি, সরকারিভাবে সংযুক্ত প্রজাতন্ত্রী জার্মানি। ১৬টি রাজ্য নিয়ে গঠিত জার্মানি একটি সংযুক্ত ইউনিয়ন, যা মধ্য ইউরোপ ও পশ্চিম ইউরোপের একটি অন্যতম দেশ।

জার্মানির অবস্থান

জার্মানি দেশটি উত্তর সীমান্তে উত্তর সাগর ও বাল্টিক সাগরের মাঝখানে এবং দক্ষিণে আল্পস পর্বতমালার মাঝখানে অবস্থিত।

জার্মানির সীমা

ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত জার্মানির পূর্ব সীমান্তে পোল্যান্ডচেক প্রজাতন্ত্র, পশ্চিম সীমান্তে ফ্রান্স, লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডস, উত্তর সীমান্তে ডেনমার্ক এবং দক্ষিণ সীমান্তে অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড অবস্থিত।

জার্মানির বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি

উত্তরে উত্তর সাগর ও বাল্টিক সাগরের উপকূলীয় নিম্নভূমি থেকে মধ্যভাগের ঢেউ খেলানো পাহাড় ও নদী উপত্যকা এবং তারও দক্ষিণে ঘন অরণ্যাবৃত পর্বত ও বরফাবৃত আল্পস পর্বতমালা জার্মানির ভূ-প্রকৃতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে।

জার্মানির নদ-নদী

জার্মানির মধ্য দিয়ে ইউরোপের অনেকগুলি প্রধান প্রধান নদী যেমন রাইন, দানিউব, এলব প্রবাহিত হয়েছে এবং দেশটিকে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করতে সাহায্য করেছে।

পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি

  • (১) ১৯৪৫ সালে ইংল্যান্ড, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন জার্মানিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ -এ পরাজিত করে দেশটিকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করে। ব্রিটিশ, ফরাসি, মার্কিন ও সোভিয়েত সেনারা এর একেকটি অঞ্চলের দায়িত্বে ছিল।
  • (২) ১৯৪০-এর দশকের শেষে সোভিয়েত রাশিয়া এবং পশ্চিমা শক্তিগুলির মধ্যে মিত্রতার সম্পর্ক ভেঙে গেলে সোভিয়েত অঞ্চলটি জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র তথা পূর্ব জার্মানিতে পরিণত হয়। পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত বাকী তিন অঞ্চল একত্রিত হয়ে পশ্চিম জার্মানি গঠন করে।
  • (৩) জার্মানির ঐতিহাসিক রাজধানী বার্লিন পূর্ব জার্মানির অনেক অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিল, তা সত্ত্বেও এটিকেও দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। কিন্তু বহু লক্ষ পূর্ব জার্মান অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক পশ্চিম জার্মানিতে অভিবাসী হওয়া শুরু করলে ১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানি সরকার বার্লিনে একটি প্রাচীর তুলে দেয় এবং দেশের সীমান্ত জোরদার করে।

ঐক্যবদ্ধ জার্মানি

১৯৮৯ সালে পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের বাসিন্দারা বার্লিন প্রাচীর ভেঙে ফেলে। এই ঘটনাটিকে পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদের পতন ও জার্মানির পুনঃএকত্রীকরণের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ৩রা অক্টোবর দুই জার্মানি একত্রিত হয়ে জার্মান ফেডারেল প্রজাতন্ত্র গঠন করে।

জার্মানির ঐতিহাসিক দিক

  • (১) সুপ্রাচীন নর্ডীয় ব্রোঞ্জ যুগ অথবা প্রাক-রোমান লৌহ যুগ -এ জার্মানিতে আদি জাতিগোষ্ঠীগুলোর বসবাস শুরু হয়েছিল বলে মনে করা হয়। দক্ষিণ স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং উত্তর জার্মানি থেকে এই গোষ্ঠীগুলো দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে বসতি স্থাপন শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে।
  • (২) এই সম্প্রসারণের ফলে তারা গলের কেল্টীয় গোষ্ঠী এবং পূর্ব ইউরোপের ইরানীয়, বাল্টিক ও স্লাভিক গোষ্ঠীগুলোর সান্নিধ্যে আসে। এখনো পর্যন্ত যা জানা গেছে তা হল ঐ জাতিগুলির সাথে রোমান সাম্রাজ্যের কিছু লিখিত যোগাযোগের দলিল প্রমাণাদির মাধ্যমে। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় এই তথ্যগুলির অনেকাংশই উদঘাটিত হয়েছে।
  • (৩) অগাস্টাসের রাজত্বকালে রোমান জেনারেল পুবলিয়াস কুইঙ্কটিলিয়াস ভ্যারাস জার্মানিয়াতে আগ্রাসন চালানো শুরু করে। এই আগ্রাসন চলাকালেই জার্মানির গোষ্ঠীগুলো রোমানদের যুদ্ধকৌশল সম্বন্ধে জানতে পারে। এই গোষ্ঠীগুলো নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই রোমান যুদ্ধ কৌশলের অনেকাংশ রপ্ত করতে সক্ষম হয়।
  • (৪)  ৯ খ্রিষ্টাব্দে টেউটোবুর্গ বনের যুদ্ধে জার্মানির চেরুস্কান নেতা আরমিনিউস, রোমান জেনারেল ভ্যারাসের নেতৃত্বে পরিচালিত এক সৈন্যদলকে পরাজিত করে। এর ফলে আধুনিক জার্মানি তথা রাইন এবং দানিয়ুব রোমান সাম্রাজ্যের বাইরেই থেকে যায়।
  • (৫) বর্তমান জার্মানি অঞ্চলটি ৮৪৩ অব্দে ক্যারোলিঞ্জিয়ান সাম্রাজ্য -এর বিভাজনের ফলে সৃষ্টি হয়। সাম্রাজ্যটিতে ফ্রান্সও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর বহু শতাব্দী ধরে জার্মানি ছিল দুর্বলভাবে একত্রিত জমিদারিভিত্তিক কতগুলি দেশের সমষ্টি। ষোড়শ শতকের পর থেকে জার্মান রাষ্ট্রগুলি ইউরোপের যুদ্ধ ও ধর্মীয় সংঘাতে ক্রমশ বেশি করে জড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
  • (৬) উনিশ শতকের শুরুতে ফ্রান্স জার্মান রাষ্ট্রগুলি দখল করলে জাতিগতভাবে একত্রিত জার্মানির জন্য জনমত প্রবল হয় এবং ১৮১৫ সালে প্রাশিয়ার নেতৃত্বে জার্মান রাষ্ট্রগুলি একটি কনফেডারেশন গঠন করে, যা ১৮৬৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
  • (৭) ১৮৭১ সালে অটোফন বিসমার্ক -এর অধীনে একত্রিত হবার পর জার্মানিতে দ্রুত শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মানি ইউরোপে আধিপত্য স্থাপনের চেষ্টা চালালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ -এর সূত্রপাত হয়। ১৯১৮ সালে যুদ্ধে জার্মানির পরাজয় ঘটলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
  • (৮) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়ার ফলে নাৎসি পার্টির আবির্ভাব ঘটে। নাৎসি পার্টি ১৯৩০-এর দশকে আডলফ হিটলারের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে। ১৯৩৯ সালে জার্মানির আগ্রাসনের ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
  • (৯) ১৯৪৫ সালে ইংল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন জার্মানিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত করে দেশটিকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করে। ব্রিটিশ, ফরাসি, মার্কিন ও সোভিয়েত সেনারা এর একেকটি অঞ্চলের দায়িত্বে ছিল।
  • (১০) ১৯৪০-এর দশকের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পশ্চিমা শক্তিগুলির মধ্যে মিত্রতার সম্পর্ক ভেঙে গেলে সোভিয়েত অঞ্চলটি জার্মান গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র তথা পূর্ব জার্মানিতে পরিণত হয়। পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত বাকী তিন অঞ্চল একত্রিত হয়ে পশ্চিম জার্মানি গঠন করে।
  • (১১) জার্মানির ঐতিহাসিক রাজধানী বার্লিন পূর্ব জার্মানির অনেক অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিল, তা সত্ত্বেও এটিকেও দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। কিন্তু বহু লক্ষ পূর্ব জার্মান অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক পশ্চিম জার্মানিতে অভিবাসী হওয়া শুরু করলে ১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানি সরকার বার্লিনে একটি প্রাচীর তুলে দেয় এবং দেশের সীমান্ত জোরদার করে।
  • (১২) ১৯৮৯ সালে পূর্ব ও পশ্চিম বার্লিনের বাসিন্দারা বার্লিন প্রাচীর ভেঙে ফেলে। এই ঘটনাটিকে পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদের পতন ও জার্মানির পুনঃএকত্রীকরণের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ৩রা অক্টোবর দুই জার্মানি একত্রিত হয়ে জার্মান ফেডারেল প্রজাতন্ত্র গঠন করে।

জার্মানির রাজনৈতিক দিক

  • (১) ফেডারেল, সংসদীয়, প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হল জার্মানি। ১৯৪৯ সালের প্রণীত সংবিধানের কাঠামো অনুযায়ী জার্মানির রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। জার্মানির সংবিধান মূলত ফেডারেল জার্মানির মূল আইন বা গ্রুন্ডগেজেটস নামে পরিচিত।
  • (২) সংবিধান প্রনেতারা তাদের এই ইচ্ছা প্রকাশ করেছে যে যখন জার্মানি আবার একটি রাষ্ট্র হিসেবে পুনঃএকত্রিত হবে তখন এই সংবিধান একটি উপযুক্ত সংবিধান দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। সংবিধানের সংস্কারের জন্য সংসদের উভয় সভার দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্টাতার দরকার হয়। সংবিধানের মৌলিকনীতি গুলোর মধ্যে জনগনের আত্মমর্যাদার নিশ্চয়তা, ক্ষমতার বিভাজন, ফেডারেল অবকাঠামো এবং আইনের চিরস্থায়ী ধারা সমুহ বিদ্যমান।
  • (৩) রাষ্ট্রপতি জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি বুনডেসটাগ ও প্রত্যেক রাষ্ট্রের সমসংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত সম্মিলিত সভার দ্বারা নির্বাচিত হন। জার্মানির সরকার ব্যবস্থায় সরকারের প্রধান হল চ্যান্সেলর বর্তমানে অ্যান্জেলা মারকেল যিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রীর মত বিশেষ ক্ষমতা পেয়ে থাকেন।
  • (৪) ফেডারেল আইন তৈরির ক্ষমতা থাকে বুনডেসটাগ ও বুনডেসরাট নামে সংসদের দুইটি সভার মধ্যে, যারা মিলিত ভাবে একটি অদ্বিতীয় আইন প্রনয়নকারী পরিষদ তৈরি করে। বুনডেসটাগ সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয় অপরদিকে বুনডেসরাট হল ষোলটি ফেডারেল রাষ্ট্রের সরকারের প্রতিনিধি। প্রত্যেকটি রাষ্ট্রের সরকার তাদের প্রেরিত প্রতিনিধি নিয়োগ ও অপসরনের ক্ষমতা রাখে।
  • (৫) ১৯৪৯ সাল থেকে জার্মানির প্রধান রাজনৈতিক দল হল খ্রিষ্টান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন ও সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জার্মানি। তাছাড়াও মুক্ত গণতান্ত্রিক দল নামে একটি ছোট রাজনৈতিক দল রয়েছে।

ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত জার্মানির ভৌগোলিক দিক

  • (১) জার্মানির মোট আয়তন ৩,৫৭,০২২ বর্গকিমি। আয়তনের বিচারে জার্মানি ইউরোপের মধ্যে সপ্তম এবং বিশ্বের মধ্যে ৬৩ তম দেশ। জার্মানির সীমন্তবর্তী প্রতিবেশী দেশ গুলি হল উত্তরে ডেনমার্ক, পূর্বে পোল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণে অষ্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ পশ্চিমে ফ্রান্স ও লুক্সেমবার্গ এবং উত্তর পশ্চিমে বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ড।
  • (২) মধ্য ইউরোপের একটি বড় রাষ্ট্র জার্মানি। দেশটি দক্ষিণে আল্পস পর্বতমালা থেকে উত্তরে ইউরোপীয় সমভূমি হয়ে উত্তর সাগর ও বাল্টিক সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। আল্পস পর্বতমালাতে অবস্থিত ২,৯৬২ মিটার উঁচু ৎসুগষ্পিৎসে জার্মানির সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।
  • (৩) জার্মানির মধ্যভাগে আছে অরণ্যাবৃত উচ্চভূমি এবং উত্তরে আছে নিম্ন সমতলভূমি। এই নিম্নভূমি দিয়ে ইউরোপের কিছু প্রধান নদী বয়ে গেছে, যাদের মধ্যে আছে রাইন, দানিউব, এবং এলব নদী। বোডেন্‌জে দেশের বৃহত্তম হ্রদ। কেন্দ্রীয় অবস্থানের কারণে ইউরোপের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে জার্মানির সাথেই সীমান্তবর্তী অন্য দেশের সংখ্যা সর্বোচ্চ।

জার্মানির পরিবেশ

  • (১) পরিবেশ সচেতন জাতি হিসেবে জার্মানি সারা বিশ্বে পরিচিত। বেশির ভাগ জার্মানরাই বিশ্ব উষ্ণায়নের ব্যাপারে সচেতন। এই রাষ্ট্রটি কিয়োটো প্রোটোকল চরমভাবে মেনে চলে তাছাড়াও ক্ষতিকর গ্যাসের অল্প নির্গমন নিশ্চিত করে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে।
  • (২) জার্মান সরকার বিপুল হারে দূষন রোধের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং দেশটির সামগ্রিক দূষন দিন দিন কমছে। যদিও কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নিঃসরনের হার ইউরোপের অন্য সকল দেশের চেয়ে বেশি কিন্তু অস্ট্রেলিয়া,কানাডা,সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক কম।

জার্মানির প্রাণীবৈচিত্র্য

  • (১) উদ্ভিদতাত্ত্বিক ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে জার্মানি বোরিয়াল জগতের অন্তর্গত সারকামবোরিয়াল রিজিওনের আটলান্টিক ইউরোপিয়ান ও সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান এই দুটি অঞ্চলে বিভক্ত।
  • (২) জার্মানি অঞ্চলকে দুটি বাস্তু অঞ্চলে ভাগ করা যেতে পারে, ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান পার্বত্য মিশ্র বনভুমি অঞ্চল এবং উত্তরপূর্ব আটলান্টিক মহীসোপান অঞ্চল। জার্মানিতে চাষাবাদযোগ্য কৃষিজমির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ, স্থায়ী চারণভুমি ১৫ শতাংশ এবং বনভূমির পরিমাণ ৩১ শতাংশ। সাধারণত মধ্য ইউরোপের প্রাণী এবং উদ্ভিদই জার্মানিতে দেখা যায়।
  • (৩) জার্মানির মোট বনভূমির এক তৃতীয়াংশ জুড়ে আছে বীচগাছ (মসৃণ কাণ্ড ও পত্রবিশিষ্ট একজাতীয় লম্বা গাছ), ওকগাছ এবং অন্যান্য পর্ণমোচী বৃক্ষ। সরলাকৃতির বৃক্ষসমূহ পাওয়া যায় উচ্চপার্বত্য ভূমিতে এবং বেলে মাটিতে পাইন আর লার্চ গাছের আধিক্য আছে। বিভিন্ন ফুল, ফার্ণ, ফাঞ্জাই ও মসের বহু প্রজাতি জার্মানিতে পাওয়া যায়।
  • (৪) উত্তরসাগর এবং নদীগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যায়। হরিণ, বন্য শুয়োর, শিয়াল, ব্যাজার, খরগোশ এবং ভোঁদড় দেখতে পাওয়া যায়। হেমন্ত এবং বসন্তে বহু অতিথিপাখি জার্মানিতে আসে। ওয়াডেন সী ন্যাশনাল পার্ক, জাসমুন্ড ন্যাশনাল পার্ক, ফরপোমার্ণ লেগুন এরিয়া ন্যাশনাল পার্ক, মুইরিস ন্যাশনাল পার্ক, লোয়ার অডার ভ্যালী ন্যাশনাল পার্ক, হার্জ ন্যাশনাল পার্ক, স্যাক্সন সুইজারল্যান্ড ন্যাশনাল পার্ক এবং ব্যাভারিয়ান ফরেস্ট ন্যাশনাল পার্ক সমূহ জার্মান ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে অন্যতম।
  • (৫) জুওলগিক্যাল গার্ডেন, পাখিশালা, একুরিয়াম ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষন পার্কের জন্য জার্মানি সুপরিচিত। জার্মানিতেই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি চিড়িয়াখানা ও বন্যপ্রাণীর পার্ক আছে, যার সংখ্যা ৪০০। বার্লিনের জুওলজিকাল গার্ডেন জার্মানির সবচেয়ে প্রাচীন চিড়িয়াখানা এবং বিশ্বের একক বৃহত্তম প্রানীসংগ্রহশালা।

ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত জার্মানির অর্থনীতিক দিক

  • (১) যোগ্যতাসম্পন্ন শ্রমিক, উন্নত অবকাঠামো, মূলধনের বৃহৎ মজুত, দুর্নীতির নিম্নহার ও উচ্চ উদ্ভাবনীক্ষমতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন সোশ্যাল মার্কেট ইকোনমি জার্মানিতে বিদ্যমান। ৩.৫ ট্রিলিয়ন জিডিপি নিয়ে জার্মানি ইউরোপের বৃহত্তম ও বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিক অবস্থানে রয়েছে।
  • (২) শিল্পায়নের শুরু থেকেই জার্মানি বিশ্ব অর্থনীতির চালক, উদ্ভাবক এবং সুবিধাভোগী। ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, জি৮, জি২০ এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য জার্মানি ২০০৩ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বিশ্বের রপ্তানীকারক দেশগুলির তালিকায় শীর্ষে ছিল।
  • (৩) ২০০৯ সালে জার্মানি বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানীকারক দেশ ও তৃতীয় শীর্ষ আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়। রপ্তানীযোগ্য পণ্যের বেশিরভাগই প্রকৌশলসংক্রান্ত, বিশেষকরে যন্ত্রপাতি, গাড়ি, রাসায়নিক দ্রব্যাদি এবং ধাতু। বিশ্বে বায়ুমিল ও সৌরশক্তি প্রযুক্তির শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক দেশ জার্মানি।
  • (৪) হ্যানোভার, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং বার্লিনের মতো বড় শহরগুলিতে বৃহত্তম বাণিজ্যমেলা ও বাণিজ্যসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ইউরোপীয়ান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংহতির প্রবক্তা জার্মানি। ইইউ (EU) ভূক্ত দেশসমূহের মধ্যে লিখিত বাণিজ্যিকচুক্তি ও ইইউ একক বাজার আইনের আওতায় জার্মানির বাণিজ্য নীতি পরিচালিত হয়।
  • (৫) ২০০২ সালের জানুয়ারিতে জার্মানিই ইউরোপের অভিন্ন মুদ্রা ইউরো চালু করে। ফ্রাঙ্কফুর্টের ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক কর্তৃক এর আর্থিকনীতি নির্ধারিত হয়। একত্রীকরণের দুইদশক পরে জীবনযাত্রার মান ও মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে প্রাক্তন পশ্চিম জার্মানির স্টেটসমূহ পুর্ব জার্মানির স্টেটগুলোর চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এগিয়ে আছে।
  • (৬) পুর্বজার্মান অর্থনীতির আধুনিকীকরণ ও বিশেষায়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে গ্ৰহণ করা হয়েছে এবং প্রতি বছর পশ্চিম জার্মানি থেকে পুর্ব জার্মানিতে প্রায় ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমান অর্থ স্থানান্তরিত হয়।
  • (৭) ২০০৯ সালে এঙ্গেলা মার্কেলের নেতৃত্বাধীন জার্মান সরকার ৫০ বিলিয়ন ইউরো (৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এর একটি অর্থনীতি চাঙ্গাকরণ পরিকল্পনা অনুমোদন করে, যার উদ্দেশ্য ছিল কিছু ক্ষেত্রকে নিম্নগামীতার হাত থেকে রক্ষা করা ও ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের হার রোধ করা।

জার্মানির কর্পোরেশন

  • (১) ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কর্তৃক নির্বাচিত ২০১০ সালের রাজস্বের ভিত্তিতে বিশ্ব স্টকমার্কেটের তালিকাভূক্ত সেরা ৫০০ কর্পোরেশনের ৩৭টির প্রধান কার্যালয় জার্মানিতে অবস্থিত। সুপরিচিত বৈশ্বিক জার্মান ব্রান্ডগুলো হলো বিএমডব্লিও, ভক্সওয়াগন, এডিডাস, মার্সিডিস বেঞ্জ, অডি, পোরশে, ডিএইচএল, টিমোবাইল, লুফথানসা, এসএপি, নিভিয়া ইত্যাদি।
  • (২) জার্মানি মূলত উচ্চবিশেষায়িত ক্ষুদ্র ও মাঝারিধরনের এন্টারপ্রাইজের জন্য সুপরিচিত। প্রায় ১০০০ প্রধানত পারিবারিক ব্যবসা কোম্পানিগুলি তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক বাজারে শীর্ষস্থান দখল করে আছে। এরা মুলত হিডেন চ্যাম্পিয়ন নামে পরিচিত।

জার্মানির যোগাযোগ ব্যবস্থা

  • (১) ইউরোপের কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় পরিবহনখাতের গুরুত্বের দিক দিয়েও জার্মানি কেন্দ্রে অবস্থিত। জার্মানির বহুমুখী ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা এরই পরিচয় বহন করে। বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম মোটরওয়ে জার্মানিতে অবস্থিত যা স্থানীয়ভাবে অটোবান নামে পরিচিত।
  • (২) উচ্চগতিসম্পন্ন রেলের একটি বহুকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে জার্মানি। আন্তঃনগর এক্সপ্রেস জার্মানির সর্বাধিক অগ্রসর সার্ভিস, যা নগর অতিক্রম করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সাথেও যোগাযোগ স্থাপন করেছে। রেলের সর্বোচ্চগতি ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ৩০ মিনিট, এক ঘণ্টা বা ২ ঘণ্টা ব্যবধানে সার্ভিস পাওয়া যায়। জার্মানির বৃহত্তম বিমানবন্দর ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও মিউনিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত জার্মানির বৈদেশিক সম্পর্ক

  • (১) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে জার্মানি সবসময় নেতৃত্বপুর্ণ অবদান রেখে আসছে এবং দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে ফ্রান্সের সাথে কঠিন সন্ধি বজায় রেখেছে।
  • (২) ১৯৮০ এর দশকের শেষের দিকে বা ১৯৯০ দশকের প্রথম দিকে খ্রিষ্টান গণতন্ত্র পন্থী হেলমুট কোল ও সমাজতান্ত্রিক এফ. মিটেরান্ডের শাসন আমলে এই সন্ধি কার্যত ভেঙ্গে যায়। জার্মানি ইউরোপের সেই সব দেশের মধ্যে অন্যতম যারা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে অধিকতর রাজনৈতিক ঐক্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদার করতে চায়।
  • (৩) নিকট ভবিষ্যতের ইতিহাস এবং বৈদেশিক শক্তির আগ্রাসনের কারণে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে ফেডারেল জার্মান প্রজাতন্ত্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কে তুলনামূলক ভাবে কম অংশ গ্রহণ করেছে।

জার্মানির সামরিক দিক

  • (১) সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী ও কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সেবা দ্বারা জার্মানির সামরিক বাহিনী গঠিত। ১৮ বছরেরর পুরুষদের জন্য সামরিক বাহিনীর সেবা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তারা বছরে অন্তত নয় মাস দায়িত্ব পালন করে।
  • (২) সামরিক খাতে ২০০৩ সালে দেশটির জিডিপির ১.৫% খরচ হয়। বিগত ১০০ বছর ধরে এই দেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামরিক বাজেট করে থাকছে। যুদ্ধ ব্যতীত অন্য সময় সামরিক বাহিনীর সেনাপতি থাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। জার্মানির সংবিধান শুধুমাত্র আত্মরক্ষার জন্য।
  • (৩) জার্মান সামরিক বাহিনীতে ২,০০,৫০০ পেশাদার সৈনিক, ১৮-২৫ বছরের সাময়িক ৫৫,০০০ সেনা সদস্য, যারা বছরে অন্তত নয় মাস দায়িত্ব পালন করে এবং যে কোনো সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকে ২,৫০০ সংরক্ষিত সেনা।
  • (৪) আত্মরক্ষার অথবা যুদ্ধের জন্য সবসময় প্রায় ৩,০০,০০০ সংরক্ষিত সৈনিক সব সময় পাওয়া যায়। যদিও ২০০১ সাল থেকে সামরিক বাহিনীর সকল কাজে মেয়েদের অবাধ অংশ গ্রহণ চালু রয়েছে তারপরও তাদের জন্য সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক নয়।
  • (৫) বর্তমানে ১৪৫০০ জন মহিলা সেনা কর্মরত আছে। এই পর্যন্ত দুই জন মহিলা চিকিৎসা কর্মকর্তাকে জেনারেল পদমর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। ইউরোফাইটার টাইফুন বিমান বাহিনীর প্রধান যুদ্ধবিমান। এটি এফ-১৮ বা ডেসল্ট রাফাল এর সমগোত্রীয়।

ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত জার্মানির ভাষা

  • (১) ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে জনবহুল দেশ জার্মানি। সারা পৃথিবীতে জার্মানি ১৫তম জনবহুল দেশ। এখানে প্রতি বর্গকিমিতে ২২৯.৪ জন অধিবাসী বাস করে। জার্মান ভাষা জার্মানির সরকারি ভাষা। এছাড়া অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে আরও অনেকগুলি ভাষা প্রচলিত। এদের মধ্যে আরবি, গ্রিক, ইতালীয়, কুর্দি এবং তুর্কি ভাষা উল্লেখযোগ্য।
  • (২) লুসাটিয়া অঞ্চলে সার্বীয় ভাষা এবং দক্ষিণ শ্লেসভিগ অঞ্চলে ডেনীয় ভাষা আঞ্চলিক সরকারি মর্যাদা পেয়েছে। উপকূলীয় দ্বীপগুলিতে ফ্রিজীয় ভাষা প্রচলিত। জার্মানির পূর্ব সীমান্তে পোলীয় ভাষা এবং উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে ওলন্দাজ ভাষা প্রচলিত। এখানে অনির্দিষ্ট সংখ্যক রোমান ভাষাভাষী মানুষও বাস করে।

জার্মানির খেলাধুলা

  • (১) জার্মানদের জাতীয় খেলা ফুটবল, আর ফুটবল খেলার সবচেয়ে বড় আসর ফিফা। বিশ্বকাপে জার্মানি চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এছাড়াও ক্লাব ফুটবলে জার্মান দল বায়ার্ন মিউনিখ তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
  • (২) খেলাধুলার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জার্মানিরা সবসময় তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে আসছে। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরে ৫ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট ২০১৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ২০১৬ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সর্বমোট পদক তালিকায় তাদের সপ্তম স্থানে অবস্থান।

জার্মানির সংস্কৃতি

  • (১) জার্মান ভাষায় জার্মানিকে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে “ডাস লাণ্ড ড্যার ডিখটার উন্ড ডেনকার”। এর অর্থ হল “কবি ও চিন্তাবিদদের দেশ”। শুরু থেকেই জার্মান সংস্কৃতি ইউরোপের তৎকালীন সব ক্ষেত্রে প্রভাবিত হয়ে এসেছে এবং এই প্রভাবে ধর্ম ও ধর্ম নিরপেক্ষতা দুটা দিকই ছিল। এই জন্যে জার্মান সংস্কৃতিকে ইউরোপের উচ্চ সংস্কৃতি থেকে আলাদা করে চিহ্নিত করা মুশকিল।
  • (২) ইতিহাসের কিছু উল্লেখযোগ্য মনীষী, যেমন ভোল্‌ফগাংক্‌ আমাডেয়ুস মোৎসার্ট, ফ্রানৎস কাফকা, কার্ল মার্কস, ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস এবং পাউল কেলান যদিও বা আধুনিক অর্থে জার্মান নাগরিক ছিলেন না, কিন্তু তাদের ঐতিহাসিক অবস্থান, কাজ ও সামাজিক গুরুত্ব বুঝতে হলে অবশ্যই তাদের দেখতে হবে জার্মান সংস্কৃতির দৃষ্টিকোণ থেকে।

উপসংহার:- জার্মানির ইতিহাস জটিল এবং সংস্কৃতি সমৃদ্ধ। ১৮৭১ সালের আগে জার্মানি কোনো একক রাষ্ট্র ছিল না। ১৮১৫ থেকে ১৮৬৭ পর্যন্ত জার্মানি একটি কনফেডারেসি এবং ১৮০৬ সালের আগে এটি অনেকগুলি স্বতন্ত্র ও আলাদা রাজ্যের সমষ্টি ছিল।


প্রিয় পাঠক/পাঠিকা আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের এই “জার্মানি” পোস্টটি পড়ার জন্য। এই ভাবেই adhunikitihas.com ওয়েবসাইটের পাশে থাকুন। যে কোনো প্রশ্ন উত্তর জানতে এই ওয়েবসাইট টি ফলো করুণ এবং নিজেকে তথ্য সমৃদ্ধ করে তুলুন।

সবশেষে আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ যদি এই পোস্টটি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে Comment ও Share করে দিবেন, (ধন্যবাদ)।

(FAQ) জার্মানি সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. বার্লিন প্রাচীর কোন দেশে অবস্থিত?

জার্মানি।

২. জার্মানির রাজধানীর নাম কি?

বার্লিন।

৩. জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর কে?

ওলাফ শলৎস।

৪. জার্মানির বর্তমান রাষ্ট্রপতি কে?

ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টিনমিয়ার।

অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থানগুলি

Leave a Comment