লৌহ যুগ

আজ লৌহ যুগ কাকে বলে, এই যুগের বৈশিষ্ট্য, সময়কাল, লোহার ব্যবহারের ফলে সমাজের পরিবর্তন, ভারতে এই যুগের সূচনা ও বিস্তার সম্পর্কে জানবো।

লৌহ যুগ

বৈশিষ্ট্যলোহার ব্যবহার প্রচলিত
প্রথম শুরু স্ক্যান্ডিনেভিয়ায়
ভারতে সময়কাল১২০০ – ৩০০ খ্রিস্টপূর্ব
লৌহ যুগ নেইচীনে
লৌহ যুগ

ভূমিকা :- লৌহ যুগ হলো মানব সভ্যতার প্রাগৈতিহাসিক যুগপ্রায় ঐতিহাসিক যুগ -এর চূড়ান্ত রূপ। এর আগের যুগ হল পুরা প্রস্তর যুগ, মধ্য প্রস্তর যুগ, নব্য প্রস্তর যুগ, তাম্র যুগ এবং ব্রোঞ্জ যুগ।

সময়কাল

এই যুগের সময়কাল বিবেচনাধীন অঞ্চলের উপর নির্ভর করে। এই সময়কাল প্রত্নতাত্ত্বিক নিয়ম দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা হয়।

সংজ্ঞা

প্রাগৈতিহাসিক যুগের যে সময়কালে কোন এলাকার ধাতব অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি মূলত লোহা দ্বারা তৈরি হত সেই সময়কালকে প্রত্নতত্ববিদ্যায় লৌহযুগ বলা হয়ে থাকে।

মানবসমাজে পরিবর্তন

লোহার ব্যবহার শুরুর সাথে সাথে মানবসমাজে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়, যার মধ্যে কৃষিব্যবস্থা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং শিল্পকলা অন্যতম।

পরিবর্তন সময়

  • (১) প্রাচীন নিকট প্রাচ্যে খ্রিষ্টপূর্ব দ্বাদশ শতকে ব্রোঞ্জ যুগের পতনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রূপান্তর ঘটেছিল।
  • (২) এই প্রযুক্তি শীঘ্রই সমগ্র ভূমধ্যসাগরীয় অববাহিকা অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
  • (৩) মধ্য এশিয়া, পূর্ব ইউরোপ এবং মধ্য ইউরোপে এর বিস্তার কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল এবং উত্তর ইউরোপে এটি প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ শতকের কাছাকাছি সময়ে বিস্তার লাভ করেছিল।

লৌহ যুগের সমাপ্তি

ইতিহাস লিখনধারা আবিষ্কৃত হওয়ার মাধ্যমে লৌহ যুগের সমাপ্তি হয়।

  • (১) প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য থেকে লৌহ যুগের স্পষ্ট সমাপ্তি লক্ষ্য করা যায়নি। তবে প্রাচীন নিকট প্রাচ্যের ক্ষেত্রে ৫৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আচেমেনিড সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাকে ঐতিহ্যগতভাবে এখনও লৌহ যুগের সমাপ্তি ধরে নেওয়া হয়।
  • (২) এর পরবর্তী তারিখগুলি হেরোডোটাসের তথ্যের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক হিসাবে বিবেচিত হয়। যদিও এর অনেক আগের (ব্রোঞ্জ যুগের) যথেষ্ট লিখিত তথ্য পরবর্তীতে পাওয়া গেছে।
  • (৩) মধ্য ও পশ্চিম ইউরোপে খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর রোমান বিষয়গুলিকে লৌহ যুগের সমাপ্তির চিহ্ন হিসাবে ধরা হয়।
  • (৪) স্ক্যান্ডিনেভিয়ার জার্মানিক লৌহ যুগের সমাপ্তি ধরা হয় ৮০০ খ্রিস্টাব্দে ভাইকিং যুগের শুরুর সময়কে।

ভারতে লৌহ যুগ

ভারতীয় উপমহাদেশে লৌহ যুগের সূচনা ধরা হয় লোহার কাজ করা ধূসর মাটির পাত্র সংস্কৃতি দিয়ে। ভারতে লৌহযুগের সময়কাল আনুমানিক ১২০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে।

ভারতে লৌহ যুগের বিস্তার

সাম্প্রতিক অনুমান থেকে জানা যায় যে, খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চদশ শতক থেকে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মৌর্য সম্রাট অশোক -এর রাজত্ব পর্যন্ত ভারতে লৌহ যুগ বিস্তৃত ছিল।

এশিয়ায়

দক্ষিণ, পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রত্নতত্ত্বে লৌহ যুগ শব্দটির ব্যবহার পশ্চিম ইউরেশিয়ার তুলনায় সাম্প্রতিক এবং কম ব্যবহৃত।

চীনে লৌহ যুগ

চীনে লৌহের ব্যবহারের আগে লিখিত ইতিহাস শুরু হয়েছিল। তাই এই যুগ তেমন ব্যবহৃত হয় না।

আফ্রিকায় লৌহ যুগ

সুদান অঞ্চল এবং সাহারা-নিম্ন আফ্রিকায় কোনো ব্রোঞ্জ যুগ নেই। তবে “লৌহ যুগ” শব্দটি কখনও কখনও লোহার কাজের অনুশীলনকারী প্রাথমিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন – নাইজেরিয়ার নক সংস্কৃতি।

লৌহ যুগের সূচনা

ক্রিশ্চিয়ান জার্গেনসেন থমসনের তথ্য অনুসারে ১৮৩০ এর দশকে প্রত্নতাত্ত্বিক যুগ হিসাবে এই যুগ প্রথম স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় শুরু হয়েছিল।

ভারতে ধাতুবিদ্যার ইতিহাস

ভারতের ধাতুবিদ্যার ইতিহাস খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে আরম্ভ হয়।

ভারতে লোহা ব্যবহারের প্রমাণ

বর্তমান উত্তর প্রদেশের অন্তর্গত মলহার, দাদুপুর, রাজা নালা কাটিলা ও লাহোরাদেওয়া ইত্যাদি পুরাতাত্ত্বিক স্থানে খ্রীষ্টপূর্ব ১৮০০-১২০০ অব্দে লোহা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ভারতে লৌহ যুগের সমাধিস্থল

হায়দ্রাবাদের পুরাতাত্ত্বিক খননস্থলে লৌহ যুগের এক সমাধিস্থল পাওয়া গেছে।

ভারতে লোহার বহুল বিকাশ

খ্রীষ্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দের আরম্ভে ভারতে লোহার বহুল বিকাশ হয়েছিল।

ভারতে লৌহ কর্ম কেন্দ্র

পূর্ব ভারতে খ্রীষ্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দেরর একটি লৌহকর্ম কেন্দ্র পাওয়া গেছে।

দক্ষিণ ভারতে লোহার আবির্ভাব

দক্ষিণ ভারতে খ্রীষ্টপূর্ব দ্বাদশ থেকে একাদশ সহস্রাব্দের মধ্যে লোহার আবির্ভাব ঘটে।

উপনিষদে ধাতুবিদ্যা

ভারতীয় উপনিষদসমূহে ধাতুবিদ্যার উল্লেখ আছে। মৌর্য যুগে ধাতুবিদ্যা প্রসারলাভ করে।

তীখা উৎপাদন

খ্রীষ্টপূর্ব ৩০০ থেকে খ্রীষ্টিয় ২০০ সালের মধ্যে দক্ষিণ ভারতে উন্নতমানের তীখা উৎপাদন করা হয়।

(FAQ) লৌহ যুগ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য ?

১. লোহার আবিষ্কার প্রথম কোথায় হয় ?

এশিয়া মাইনরে।

২. লোহার ব্যবহার কোন যুগে প্রথম দেখা যায়?

প্রাগৈতিহাসিক যুগে।

৩. ভারতে লোহার ব্যবহার কোন যুগে প্রথম দেখা যায়?

বৈদিক যুগে।

Leave a Reply

Translate »