চীন

স্বাধীন দেশ গণপ্রজাতান্ত্রী চীন প্রসঙ্গে অবস্থান, নামকরণ, সীমা, জনসংখ্যা ও রাজধানী, আয়তন, গণপ্রজাতান্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠা, শাসনাধীন অঞ্চল, প্রধান প্রধান নগর, ঐতিহাসিক দিক, রাজনৈতিক দিক, ভৌগোলিক দিক, অর্থনৈতিক দিক, সামরিক বাহিনী, জলবায়ু, পরিবহন ব্যবস্থা, ভাষা ও জাতীয় পতাকা সম্পর্কে জানবো।

চীন

দেশ চীন
রাজধানী বেইজিং
ভাষা চীনা
বৃহত্তম নগরী সাংহাই
রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং
প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং
চীন

ভূমিকা :- পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র চীন, যার সাংবিধানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী চীন বা সংক্ষেপে গণচীন। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দেশটি শাসন করে। চীন বিশ্বের একটি বৃহৎ শক্তি এবং এশিয়ার মহাদেশের একটি প্রধান আঞ্চলিক শক্তি।

অবস্থান

চীন দেশটি এশিয়া মহদেশের পূর্ব অঞ্চলে এবং প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত।

নামকরণ

চীনারা তাদের দেশকে চুংকুও নামে ডাকে। এর অর্থ “মধ্যদেশ” বা “মধ্যবর্তী রাজ্য”। “চীন” নামটি বিদেশীদের দেওয়া। এই নামটি সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের চিন রাজবংশের নামের বিকৃত রূপ।

সীমা

বোহাই উপসাগর, পীতসাগর, পূর্ব চীন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরের সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণ করেছে। চীনের উত্তরে মঙ্গোলিয়া; উত্তর পূর্বে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া; পূর্বে চীন সাগর; দক্ষিণে ভিয়েতনাম, লাওস, মায়ানমার, ভারত, ভুটান, নেপাল; দক্ষিণ পশ্চিমে পাকিস্তান; পশ্চিমে আফগানিস্তান, তাজাকিস্তান, কির্গিজিস্তান ও কাজাকিস্তান। এছাড়াও চীনের পূর্বে পীত সাগরের পাশে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান; দক্ষিণ চীন সাগরের উল্টো দিকে আছে ফিলিপাইন।

জনসংখ্যা ও রাজধানী

প্রায় ১৫০ কোটি জনসংখ্যার দেশ চীন বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্র। বেইজিং শহর এই দেশের রাজধানী।

আয়তন

চীনের আয়তন প্রায় ৯৬ লক্ষ বর্গকিমি। স্থলভূমির আয়তনের দিক থেকে এটি বিশ্বের তৃতীয় বা চতুর্থ বৃহত্তম রাষ্ট্র। সামগ্রিক আয়তনের বিচারে ও পরিমাপের পদ্ধতিভেদে এটি বিশ্বের তৃতীয় বা চতুর্থ বৃহত্তম এলাকা।

গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠা

১৯১২ সালে সর্বশেষ রাজবংশ চিন রাজবংশের পতন ঘটে ও চীন প্রজাতন্ত্র স্থাপিত হয়। এই প্রজাতন্ত্র ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত চীনের মূল ভূখণ্ড শাসন করে। চীনের সাম্যবাদী দল ১৯৪৯ সালের ১লা অক্টোবর বেইজিং শহরে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠা করে।

শাসনাধীন অঞ্চল

চীনের শাসনের আওতায় আছে ২২টি প্রদেশ, পাঁচটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল, চারটি কেন্দ্রশাসিত পৌরসভা (বেইজিং, থিয়েনচিন, সাংহাই এবং ছুংছিং), এবং দুইটি প্রায়-স্বায়ত্বশাসিত বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল (হংকং এবং মাকাউ)। এছাড়াও চীন তাইওয়ানের ওপরে সার্বভৌমত্ব দাবী করে আসছে।

প্রধান প্রধান নগর

দেশটির প্রধান প্রধান নগর অঞ্চলের মধ্যে সাংহাই, কুয়াংচৌ, বেইজিং, ছোংছিং, শেনচেন, থিয়েনচিন ও হংকং বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

ঐতিহাসিক দিক

বহু শতাব্দী ধরে, বিশেষ করে সপ্তম শতক থেকে চতর্দশ শতক পর্যন্ত চীন ছিল বিশ্বের সবচেয়ে অগ্রসর সভ্যতা। কাগজ, ছাপাখানা, বারুদ, চীনামাটি, রেশম এবং দিকনির্ণয়কারী কম্পাস সবই চীনে প্রথম উদ্ভাবিত হয় এবং সেখান থেকে বিশ্বের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। যার ব্যবহার পৃথিবীর যে কোনো স্থানে দেখতে পাওয়া যায়।

রাজনৈতিক দিক

গণপ্রজাতান্ত্রী চিনের রাজনীতি একটি একদলীয় সমাজতান্ত্রিক প্রজাতান্ত্রিক কাঠামোয় সংঘটিত হয়। দেশের বর্তমান সংবিধানটি ১৯৫৪ সালে প্রথম গৃহীত হয়। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দেশটির রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। এই দেশের ৭ কোটিরও বেশি লোক কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য।

ভৌগোলিক দিক

চীন দেশটির ভূমিরূপ বিশাল ও বৈচিত্র্যময়। অনুর্বর উত্তরাংশে অরণ্য স্টেপ তৃণভূমি এবং গোবি ও তাকলা মাকান মরুভূমি যেমন আছে, তেমনি আর্দ্র দক্ষিণাংশে আছে উপক্রান্তীয় অরণ্যসমূহ। হিমালয় ও কারাকোরাম পর্বতমালা, পামির মালভূমি ও থিয়েন শান পর্বতমালা চীনকে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়া থেকে ভৌগলিকভাবে আলাদা করেছে।

নদনদী

বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং ও বিশ্বের ষষ্ঠ দীর্ঘতম নদী পীত তিব্বতের মালভূমি থেকে উত্‌সারিত হয়ে পূর্বের জনবহুল অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগরে পড়েছে।

অর্থনৈতিক দিক

১৯৭৮ সালের অর্থনৈতিক সংস্কারের অবতারণার পর থেকে চীন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান প্রধান অর্থনীতিগুলির একটিতে পরিণত হয়েছে। চীন বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানিকারক ও দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক রাষ্ট্র।

সদস্য

গণপ্রজাতন্ত্রী চীন জাতিসংঘের একটি স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র। ১৯৭১ সালে চীন প্রজাতন্ত্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে। এছাড়াও চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, ব্রিক্‌স, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মায়ানমার ফোরাম এবং জি-২০ -এর সদস্য।

সামরিক বাহিনী

বর্তমানে চীন বিশ্বের দ্বিতীয় সামরিক শক্তি হলেও ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধ ছাড়া অপর কোনো উল্লেখযোগ্য বৃহৎ আকারের যুদ্ধে জড়িত হয়নি। পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) চীনের ও তার শাসক রাজনৈতিক দল কমিউনিস্ট পার্টির সামরিক বাহিনী।

জলবায়ু

  • (১) দেশটির বেশিরভাগ অংশ উত্তর নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে অবস্থিত, যা স্বতন্ত্র ঋতু এবং একটি মহাদেশীয় মৌসুমী জলবায়ু দ্বারা চিহ্নিত। সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সাইবেরিয়া এবং মঙ্গোলীয় মালভূমি থেকে শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাস বয়ে যায়, যার ফলে ঠান্ডা ও শুষ্ক শীত হয়।
  • (২) উত্তর ও দক্ষিণ চীনের তাপমাত্রার মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যায়। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উষ্ণ এবং আর্দ্র বায়ু সাগর থেকে পূর্ব ও দক্ষিণে প্রবাহিত হয়, যার ফলে সামগ্রিক উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। উত্তর ও দক্ষিণ চীনের মধ্যে তাপমাত্রার সামান্য পার্থক্য হয়।

পরিবহন ব্যবস্থা

১৯৮০-র দশকের শুরু থেকে চীনের পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন ও পরিবর্ধন ঘটেছে। নিত্যনতুন বিমানবন্দর, সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের প্রকল্পসমূহ আগামী দশকগুলিতে চীনের শ্রমবাজারে বিপুল পরিমাণে কাজের সৃষ্টি করবে।

ভাষা

চীনের সবচেয়ে বেশি কথিত ভাষা চৈনিক-তিব্বতি ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও চীনা ভাষার ভেতরে একাধিক প্রধান দল আছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কথিত ভাষাদলগুলি হল ম্যান্ডারিন চীনা ভাষা, ইউয়ে ভাষা, মিন চীনা ভাষা, সিয়াং চীনা ভাষা, গান চীনা ভাষা, এবং হাক্কা চীনা ভাষা।

জাতীয় পতাকা

চীনের জাতীয় পতাকা হল পাঁচটি তারকাখচিত একটি লাল পতাকা। পতাকার দৈর্ঘ্য ও উচ্চতার অনুপাত হল ৩:২। জাতীয় পতাকার লাল রঙ বিপ্লবের নিদর্শন। পতাকাতে পাঁচটি হলুদ রঙের পাঁচ-কোনা তারকা আছে, যাদের মধ্যে একটি বড় ও মূল তারকা। চারটি ছোট তারকার প্রত্যেকটির একটি কোনা মূল তারকার কেন্দ্রস্থলের দিকে মুখ করে আছে।

উপসংহার :- ১৯৪৯ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর চীনা জনগণের রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের জাতীয় সঙ্গীত তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বীরবাহিনীর অগ্রযাত্রার গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

(FAQ) চীন দেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. গণপ্রজাতন্ত্রী চীন গঠিত হয় কখন?

১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে।

২. চীনের রাজধানীর নাম কি?

বেইজিং।

৩. চীনের বর্তমান রাষ্ট্রপতি কে?

শি জিনপিং।

৪. চীনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নাম কি?

লি কেকিয়াং।

Leave a Reply

Translate »