মধ্য প্রস্তর যুগ

মধ্য প্রস্তর যুগ -এর সময়কাল, উল্লেখযোগ্য মানুষ, উল্লেখযোগ্য হাতিয়ার, সমাজ, জীবিকা, বাসস্থান, পোশাক, ভাষার উদ্ভব সম্পর্কে জানবো ।

মধ্য প্রস্তর যুগ

সময়কালআনুমানিক ১৫০০০-১০০০০ খ্রিস্টপূর্ব
বৈশিষ্ট্যহাতিয়ারের ক্ষুদ্র আকৃতি
উল্লেখযোগ্য হাতিয়ারতিরধনুক, হারপুন, বড়শি প্রভৃতি।
প্রামাণ্য স্থানভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট
মধ্য প্রস্তর যুগ

ভূমিকা :- ইতিহাসের প্রাচীন যুগকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- প্রাগৈতিহাসিক যুগপ্রায় ঐতিহাসিক যুগ এবং ঐতিহাসিক যুগ। প্রাগৈতিহাসিক যুগের তিনটি ভাগের অন্যতম হল মধ্য প্রস্তর যুগ।

প্রস্তর যুগ

যে সময়কালে মানুষ বিভিন্ন ধরনের পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করে খাদ্য সংগ্রহ করত সেই সময়কালকে প্রস্তর যুগ বলা হয়।

প্রস্তর যুগের শ্রেনীবিভাগ

বিভিন্ন প্রত্নতত্ত্ববিদ পাথরে নির্মিত হাতিয়ারের ক্রমোন্নতি লক্ষ্য করে প্রস্তর যুগকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন –

মধ্য প্রস্তর যুগ

খাদ্যসংগ্রহকারী প্রাচীন প্রস্তর যুগ এবং খাদ্য উৎপাদনকারী নব্য প্রস্তর যুগের মধ্যবর্তী সময়কাল মধ্য প্রস্তর যুগ নামে চিহ্নিত হয়।

প্রেক্ষাপট
  • (১) প্লেইস্টোসিন যুগের শেষদিকে চতুর্থ অর্থাৎ সর্বশেষ বরফের যুগের অবসানের পর ভূপ্রকৃতিতে বড়ো ধরনের পরিবর্তন আসে। এসময় বরফের আস্তরণ গলে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠে জলস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়।
  • (২) ইউরোপের তুন্দ্রা অঞ্চল বনভূমিতে ছেয়ে যায়। নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ মাঠঘাটগুলি মরুভূমিতে পরিণত হয়।
  • (৩) নতুন এই আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে না পেরে এ যুগে বেশ কিছু প্রাণী ও কিছু কিছু মানব প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে। বেঁচে থাকা মানব প্রজাতিগুলি এই সময় নতুন সংস্কৃতির জন্ম দেয়।
সময়কাল

এই যুগের সময়সীমা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম। তবে সাধারণভাবে মনে করা হয় যে, খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০০০০ অব্দ পর্যন্ত মধ্য প্রস্তর যুগ বিস্তৃত ছিল।

পাথরের হাতিয়ার

এই যুগের মানুষ হাতিয়ার তৈরিতে আরও দক্ষতার পরিচয় দেয়। এই যুগের পাথরের হাতিয়ারগুলি পূর্ববর্তী যুগের চেয়ে উন্নত ও আকারে ক্ষুদ্র হয়।

অন্যান্য হাতিয়ার

পাথর ছাড়াও জীবজন্তুর হাড়, দাঁত প্রভৃতি দিয়ে হাতিয়ার তৈরি এসময় আরও উন্নত হয়।

প্রধান অস্ত্র

এই যুগের মানুষের প্রধান অস্ত্র ছিল তিরধনুক, হারপুন, বড়শি প্রভৃতি।

ক্ষুদ্র প্রস্তর যুগ

হাতিয়ারের ক্ষুদ্র আকারের জন্য এই যুগকে ক্ষুদ্র প্রস্তর যুগ (Microlithic Age) নামেও অভিহিত করা হয়।

জীবিকা

মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল পশুশিকার ও ফলমূল সংগ্রহ।

  • (১) বড়ো পশু শিকারের পাশাপাশি তারা লাল হরিণ, বনবিড়াল, নেউল প্রভৃতি পশুও শিকার করত।
  • (২) যারা নদী ও সমুদ্রের উপকূলে বসবাস করত তারা সেখান থেকে মাছ ও শামুক সংগ্রহ করত।
  • (৩) এই সময় তারা কোনো কোনো পশুকে পোষ মানাতেও শিখেছিল।
জীবনযাত্রা প্রণালী

এই যুগের মানুষের জীবনযাত্রা প্রণালী ছিল অর্ধযাযাবর প্রকৃতির।

পোশাক-পরিচ্ছদ

মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষ গাছের ছাল ও পশুর চামড়া দিয়ে আরও উন্নত মানের পোশাক পরে জীবন অতিবাহিত করত। শীতকালে মোটা পোশাক পরে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেত।

বাসগৃহ

পূর্ববর্তী যুগের বাসগৃহের থেকে কিছুটা উন্নত মানের ঘর করে তারা বসবাস করত।

যানবাহন

বরফের ওপর দিয়ে চলার জন্য মধ্য প্রস্তর যুগের আদিম মানুষ স্লেজগাড়ির ব্যবহারও জানত। এই গাড়ি টানার কাজে তারা কুকুরকে কাজে লাগাত। তারা জলপথে যাতায়াতের উদ্দেশ্যে গাছের গুঁড়ি খোদাই করে নৌকা বানাত।

চিত্রকলা

মধ্য প্রস্তর যুগে মানুষ চিত্রকলায় কিছুটা অগ্রগতি ঘটিয়েছিল।

  • (১) নিত্যদিনের ব্যবহার্য সামগ্রী এবং বিভিন্ন হাতিয়ার ছিল এ যুগের চিত্রকলার বিষয়বস্তু।
  • (২) জ্যামিতিক আকারের ত্রিকোণ, চতুষ্কোণ, বৃত্তাকার চিত্র এসময় আঁকা হত।
  • (৩) আবার মানুষ এবং পশুর চিত্রও পাওয়া গেছে সুইডেন, ফিনল্যান্ড, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের বিভিন্ন প্রাচীন গুহায়।
অস্তিত্বের নিদর্শন

উত্তর ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে এবং ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাটের বিভিন্ন স্থানে মধ্য প্রস্তর যুগের বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া যায়।

(FAQ) মধ্য প্রস্তর যুগ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষের প্রধান অস্ত্র বা হাতিয়ার কি ছিল?

তিরধনুক, হারপুন, বড়শি প্রভৃতি।

২. মধ্য প্রস্তর যুগের একটি কেন্দ্রের নাম লেখ।

ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন স্থানে মধ্য প্রস্তর যুগের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Translate »