প্রাগৈতিহাসিক যুগ

প্রাক্-ইতিহাস বা প্রাগৈতিহাসিক যুগ কাকে বলে? প্রাগৈতিহাসিক যুগ কি? এই প্রাগৈতিহাসিক কথাটির ব্যবহার কখন করা হয়? প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলতে কোন সময়কে বোঝায় প্রভৃতি আলোচনা করা হল ।

Table of Contents

প্রাগৈতিহাসিক যুগ কাকে বলে ?

ইতিহাস হল মানুষের অতীত ঘটনা, জীবনধারা ও কার্যাবলির বিবরণ। ইতিহাস বলতে মূলত লিখিত ইতিহাসকেই বোঝানো হয়ে থাকে। কিন্তু মানুষের লিখতে শেখার আগেও ইতিহাস বর্তমান, যাকে প্রাগৈতিহাসিক যুগ আখ্যা দেওয়া হয়।

প্রাক্-ইতিহাস বা প্রাগৈতিহাসিক যুগ কি ?

ইতিহাস হল মানুষের অতীত ঘটনা ও কার্যাবলীর অধ্যয়ন। আর ইতিহাস বলতে মূলত লিখিত ইতিহাসকেই বোঝানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ ইতিহাসের সূচনা হয়েছে তখন থেকে, যখন থেকে মানুষ লিখতে শিখেছে। কিন্তু তার আগেও পৃথিবীর বুকে মানুষের অস্তিত্ব ছিল। সেই সময়কেই বলা হয় প্রাগৈতিহাসিক যুগ। অর্থাৎ মানব সংস্কৃতির প্রারম্ভ কাল থেকে শুরু করে লিখিত উপাদানের প্রাপ্তি কালের মধ্যবর্তী সময়কালকেই বলা হয় প্রাগৈতিহাসিক যুগ। এক কথায় যে যুগের কোনো লিখিত ঐতিহাসিক উপাদান পাওয়া যায় না সেই যুগের নাম প্রাগৈতিহাসিক যুগ।

প্রাক্-ইতিহাস বা প্রাগৈতিহাসিক কথাটির ব্যবহার কখন করা হয় ?

ফরাসি প্রত্নতত্ত্ববিদ পল তুর্নাল দক্ষিণ ফ্রান্সের গুহায় প্রাপ্ত প্রাচীন নিদর্শন গুলির বিবরণ দিতে গিয়ে ১৮৩০ – এর দশকে সর্বপ্রথম প্রাক্-ইতিহাস কথাটি ব্যবহার করেন। এই কথাটি ইংরেজি ভাষায় প্রথম ব্যবহার করেন ড্যানিয়েল উইলসন ১৮৫১ খ্রিস্টাব্দে।

প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলতে কোন সময়কে বোঝায়

প্রত্নতত্ত্ববিদগণ মিশর থেকে এমন কিছু লিখিত দলিল আবিষ্কার করেছেন, যেগুলির সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব ৩,২০০ অব্দ। এর থেকে প্রাচীন লিখিত দলিল কোথাও আর পাওয়া যায়নি। সুতরাং আমরা ধরে নিতে পারি যে, ইতিহাসের সূত্রপাত হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ৩,২০০ অব্দেই। এর ঠিক আগে পর্যন্ত, অর্থাৎ পৃথিবীপৃষ্ঠে আধুনিক মানুষের আগমন থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৩,২০০ অব্দ পর্যন্ত পুরো সময়কাল হল প্রাগৈতিহাসিক যুগ। অন্য ভাবেও বলা যায় যে, পৃথিবীতে মানবজাতির আগমনের পরের মোট ৪১ ভাগের ৪০ ভাগ সময়কালই প্রাগৈতিহাস, আর বাকি ১ ভাগ ইতিহাস।

তাহলে বোঝায় যায় যে, ইতিহাসের সূচনার আগেও এই পৃথিবীর বুকে মানুষের সাথে কত কিছুই না ঘটে গেছে। তারা কত সুখ-দুঃখ প্রত্যক্ষ করেছে, কত প্রাকৃতিক বিপর্যয় সহ্য করতে হয়েছে, কতশত সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন লক্ষ্য করেছে, আবার কত সভ্যতাকে কালের গহ্বরে হারিয়ে যেতে দেখেছে চিরতরে।

প্রাগৈতিহাসিক যুগের উপাদানগুলি কি কি ?

বর্তমানে প্রাগৈতিহাসিক যুগের অনেক ঘটনা সম্পর্কে আমরাও জানতে পেরেছি। ইতিহাস রচনার আগের সময়কার ইতিহাস জানতে হলে প্রাচীন নমুনা সমূহ প্রধান উপাদান। কোথাও প্রাগৈতিহাসিক যুগের ইতিহাস লেখা না হলেও, সেই সময়ের ইতিহাস জানতে সাহায্য করে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ ও শিল্প নিদর্শনগুলি। প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের ব্যবহৃত হাতিয়ার, বাসস্থান, মৃৎশিল্প, গৃহস্থালির জিনিসপত্র অর্থাৎ শুধু মাত্র প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানই আমাদের ভরসা।

প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রাণী

আমরা প্রাগৈতিহাসিক যুগের বিশেষ বিবরণ পাই না। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ভিত্তিতে বলা যায় যে, মানব জাতির বিবর্তন -এ এই যুগে মানুষ বলতে গুহা মানব আর জন্তু বলতে ডাইনোসরদের উদাহরণ দেওয়া যায়।

প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষের উপস্থিতির প্রমাণ

বর্তমান মহারাষ্ট্রের বরি ( Bori ) থেকে পাওয়া এক সংবেদনে বলা হয়েছে যে ভারতে প্রায় ৯৪ লক্ষ বছর আগে মানুষের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা গিয়েছে।

 প্রাগৈতিহাসিক যুগের বিভাজন

প্রথম আবির্ভাবে অর্থাৎ ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মানুষ কেবলমাত্র পাথরের তৈরি অস্ত্রশস্ত্র বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করত । সেই দিক থেকেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ-এর সময়কালকে তিনটি উপবিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।

যথা— প্রাচীন প্রস্তর যুগ, মধ্য প্রস্তর যুগ এবং নব্য প্রস্তর যুগ

(১) প্রাচীন প্রস্তরযুগ

প্রাচীন বা পুরাপ্রস্তর যুগ হল প্রস্তর যুগের সর্বপ্রথম সময়কাল। এই সময় মানুষ তাদের বিভিন্ন কাজের জন্য শুধু পাথর অথবা পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করত। গাঙ্গেয় ও সিন্ধু উপত্যকা ছাড়া ভারতের সর্বত্র প্রাচীন প্রস্তর যুগ বিস্তারলাভ করেছিল বলে মনে করা হয়।

প্রাচীন প্রস্তরযুগের বৈশিষ্ট্য
  • (ক) এই যুগের মানুষেরা ছিল খাদ্য সংগ্রহকারী।
  • (খ) বন্য ফলমূল সংগ্রহ এবং শিকার করে আনা পশুর মাংস খেয়ে তারা জীবনধারণ করত।
  • (গ) এই সময়ে মানুষ পাথরের তৈরি গুহায় বাস করত।
  • (ঘ) তারা এবড়াে খেবড়াে অর্থাৎ অমসৃণ পাথর অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করত।
  • (ঙ) কৃষিকাজ ,আগুনের ব্যবহার ও কোনাে রকম বাসনপত্র তৈরির ধারণা তাদের ছিল না।
  • (চ) প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষেরা ছিল আফ্রিকার কাফির সম্প্রদায়ের অন্তভুক্ত।
প্রাচীন প্রস্তর যুগের উপবিভাগ

পাথরের তৈরি বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রের প্রকৃতি ও জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে এই যুগের তিনটি উপবিভাগ লক্ষ্য করা যায়। যেমন – প্রাচীন বা নিম্নতর , মধ্য এবং উচ্চতর প্রস্তর যুগ ।

(ক) নিম্ন পুরা প্রস্তর যুগ

প্রাচীন প্রস্তর যুগের প্রথম ভাগকে বলা হয় নিম্ন পুরাপ্রস্তর যুগ। সাধারণত হোমো সেপিয়েন্স এর উদ্ভবের আগেই শুরু হয় এই যুগ। এই সময়কালে মানব জাতির হোমো হাবিলিস প্রজাতির অস্তিত্ব ছিল বলে মনে করা হয়। নিম্ন পুরাপ্রস্তর যুগে মানুষের দ্বারা আগুনের নিয়ন্ত্রণের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় নি। সব থেকে বেশি সমর্থিত মত হল, হোমো ইরেক্টাস প্রজাতি আজ থেকে প্রায় ৭৯০,০০০ থেকে ৬৯০,০০০ বছর পূর্বে প্রথম আগুনের ব্যবহার শিখে। আগুনের ব্যবহার জানার ফলে মানবজাতি রান্না করা শিখে, উষ্ণতা লাভ করে, এবং রাতে আলোকের উজ্জ্বলতা লাভ করে।

(খ) মধ্য পুরা প্রস্তর যুগ

দুই লক্ষ বছর পূর্বে প্রাথমিক হোমো সেপিয়েন্স এর উদ্ভব হলে সূত্রপাত হয় মধ্য পুরাপ্রস্তরযুগের। এই সয়  শারীরিক পরিবর্তনসমূহ লক্ষ্য করা যায়। মধ্য পুরা প্রস্তরযুগেই মানুষের আগুনের ব্যবহারের প্রথম স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। পদ্ধতিগতভাবে মৃতদেহ সৎকার, সংগীত, প্রাথমিক শিল্পকলা, উন্নত বহুমুখী পাথরের সরঞ্জাম হল মধ্য পুরাপ্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্য।

(গ) উচ্চ পুরা প্রস্তর যুগ

এই পর্বটি প্লাইস্টোসিনের শেষ পর্যায়গুলির সাথে মিলে যায়। পাথরের হাতিয়ার তৈরির উদ্ভাবনগুলি পরিবর্তিত হয়। পরিবেশে শিকারী সংগ্রহকারীদের অভিযোজন প্রতিফলিত। এই পর্যায়ে পাথরের সবচেয়ে গভীর বিকাশ, ফলক তৈরির কৌশলে দেখা যায়। এই সময় আমরা দীর্ঘ সমান্তরাল পার্শ্বযুক্ত ব্লেডের প্রমাণ খুঁজে পাই। এই সময় কুকুরের অস্তিত্ব ছিল বলে মনে করা হয়। এই সংস্কৃতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হাড়-সরঞ্জামের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার। কিছু সরঞ্জাম যেমন – হারপুন সূঁচ ইত্যাদি আজ স্বীকৃত হয়েছে। আফগানিস্তানের সাংঘাভ গুহা উচ্চ পুরাপ্রস্তর যুগের সংস্কৃতির প্রমাণ দেয়। বোলান এবং সন উপত্যকায় উচ্চ প্রস্তর-প্রস্তর যুগের বেশ কিছু স্থানের সন্ধান পাওয়া গেছে।

প্রাচীন প্রস্তর যুগের সময়কাল

পূর্ব আফ্রিকায় মানুষের উৎপত্তি ঘটার প্রায় ১২ লক্ষ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরে ১০০০০০ থেকে শুরু করে প্রায় ৪০০০০ খ্রিষ্টপূর্ব পর্যন্ত সময়কাল ধরে চলতে থাকে প্রাচীন প্রস্তর যুগের ঐতিহাসিক ধারা।

প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষ

পিকিং মানব, জাভা মানব, আটলানথ্রোপাস মানব (আলজেরিয়া), ওলডুভাই মানব (তাঞ্জানিয়া), নিয়ানডারথাল মানব সহ বিভিন্ন শাখার হোমো ইরেক্টাস অর্থাৎ প্রায় মানুষেরা প্রাচীন প্রস্তর যুগের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রাচীন প্রস্তর যুগের হাতিয়ার

এই সময় মানুষ বিভিন্ন ধরনের পাথর ও হাড়ের তৈরি হাতিয়ার ব্যবহার করত। দক্ষিণ আফ্রিকার অস্ট্রালোপিথেকাস নামে পরিচিত মানবগোষ্ঠী সর্বপ্রথম পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার শুরু করে। এই যুগের মানুষ প্রকৃতি থেকে যেমন পাথর পেত তেমনি ব্যবহার করত – কোনো পরিবর্তন না করেই। একই হাতিয়ার দিয়ে তারা মাংস কাটা, গাছ কাটা, শিকার করা – প্রায় সব কাজ করত। প্রথম প্রথম এই হাতিয়ার ‘হাত-কুঠার’ (Hand-Axe) নামে পরিচিত ছিল। পরে তারা পাথরের বল্লম, ছুরি, ছুঁচ, হারপুন, প্রভৃতি হাতিয়ার তৈরির কৌশল আয়ত্ব করে। তবে এই যুগের সব হাতিয়ার ছিল অমসৃণ ও বৃহদাকার। এই যুগের শেষ দিকে মানুষ তিরধনুক আবিষ্কার করেছিল বলে জানা যায়।

প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষের জীবিকা

পশু শিকার করে আর মাংস সংগ্রহ করা প্রাচীন প্রস্তর যুগে মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল । প্রথম দিকে ছোটো ছোটো প্রাণী শিকার করলেও পরবর্তীকালে তারা দলবদ্ধ ভাবে ম্যামথ, বাইসন, বলগা হরিণ, প্রভৃতি বড়ো বড়ো পশু শিকারে দক্ষ হয়ে উঠেছিল। তাছাড়া বনে জঙ্গলে ঘুরে তারা গাছের ফলমূল সংগ্রহ করতে, পাখির ডিম সংগ্রহ করত, মাছও ধরত। এই যুগের মানুষ আগুনের ব্যবহার জানত না বলে মাংস কাঁচাই খেত।

প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষের বাসস্থান

আদিম মানুষ প্রাচীন প্রস্তর যুগের প্রথম দিকে খোলা আকাশের নীচে বাস করত। পরে পাহাড়ের ঝুলন্ত পাথরের নীচে বা গুহার ভিতরে তারা বসবাস শুরু করে। আরো পরবর্তীতে গাছের ডাল পালা, লতাপাতা, পশুর চামড়া, প্রভৃতি দিয়ে তারা বাসস্থান বানাতে শুরু করে।

প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষের পোশাক

প্রথম দিকে মানুষ কোনো রকম পোশাক পরিধান করত না। তবে পরবর্তীতে তারা গাছের ছাল বা পশুর চামড়া পরিধান করত।

প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষের সমাজ জীবন

এই সময় থেকেই মানুষ দলবদ্ধভাবে বসবাস শুরু করে। এইভাবে দলবদ্ধ হয়ে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহের ফলে আদিম মানুষের মধ্যে সামাজিক ধারণা গড়ে উঠেছিল বলে মনে করা হয়। দলবদ্ধভাবে বসবাসের দুটি প্রধান কারণ হল –

(ক) শিকার

বড়ো বড়ো প্রাণী, যেমন – ম্যামথ, বাইসন, বলগা হরিণ প্রভৃতি শিকার করতে গেলে দলগত শক্তির প্রয়োজন।

(খ) পশুর আক্রমণ

আবার বসতি এলাকায় হিংস্র পশুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্যও দলবদ্ধভাবে বসবাস করতে হত।

প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষের মাতৃতান্ত্রিক সমাজ

এই প্রাচীন প্রস্তর যুগের সমাজ ছিল মাতৃতান্ত্রিক। পরিবারে ও সমাজ জীবনে পুরুষদের থেকে নারীদের প্রাধান্য অনেক বেশি ছিল। মোটামুটি নব্যপ্রস্তর যুগ পর্যন্ত নারীদের এই প্রাধান্য অব্যাহত ছিল।

প্রাচীন প্রস্তর যুগের অস্তিত্বের নিদর্শন

আফ্রিকার গ্রে রিফট উপত্যকায়, ইউরোপের বেশ কিছু অংশে, ভারতে পাঞ্জাবের সোয়ান নদী উপত্যকায় ও মাদ্রাজে প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষের অস্তিত্ব ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। আশ্চর্যজনক ভাবে এই যুগে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের মানুষ গুলি আলাদা হলেও তাদের হাতিয়ার গুলিতে অদ্ভুত মিল পরিলক্ষিত হয়।

প্রাচীন প্রস্তর যুগের গুরুত্ব

প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষ শক্ত পাথরের তৈরি ছােটো বড়ো নানারকম হাতিয়ার ব্যবহার করত। এই পাথর গুলি আসলে ছিল স্ফটিক বা Quartzite। এগুলি ছিল খুব উজ্জ্বল ধরনের। এই কারণে প্রাচীন প্রস্তর যুগের মানুষদের বলা হত স্ফটিক মানুষ বা Quartzite Men।  এই যুগের শেষের দিকে আধুনিক মানুষের বা Homo Sapiens এর আবির্ভাব ঘটেছিল। তাছাড়া এই সময় মানুষ আগুনের নিয়ন্ত্রণ কৌশল আয়ত্ব করেছিল বলেও জানা যায়।

(২) মধ্য প্রস্তর যুগ

খাদ্য সংগ্রহকারী প্রাচীন প্রস্তর যুগ এবং খাদ্য উৎপাদনকারী নব্য প্রস্তর যুগের মধ্যবর্তী সময়কালকে মধ্য প্রস্তর যুগ নামে চিহ্নিত করা হয়।

মধ্য প্রস্তর যুগের প্রেক্ষাপট

প্লেইস্টোসিন যুগের শেষদিকে চতুর্থ বা সর্বশেষ বরফের যুগের সমাপ্তির পর ভূপ্রকৃতিতে বিরাট পরিবর্তন আসে। এই সময়ে বরফের আস্তরন গলে সুমুদ্রে জলস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। ইউরোপের তুন্দ্রা অঞ্চল বনভূমিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। নিকট প্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ন মাঠ মরুভূমিতে পরিণত হয়। নতুন এই আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে না পেরে এই যুগে বেশ কিছু প্রাণী ও কিছু কিছু মানব প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর জীবিত মানব প্রজাতিগুলি এই সময় নতুন সংস্কৃতির জন্ম দেয়।

মধ্য প্রস্তর যুগের সময়কাল

এই মধ্য প্রস্তর যুগের সময় সময়সীমা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন। তবে সাধারনভাবে খ্রিস্টপূর্ব 15000 অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব 10000 অব্দ পর্যন্ত মধ্য প্রস্তর যুগের অস্তিত্ব ছিল বলে মনে করা হয়।

মধ্য প্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্য
  • (ক) মধ্য প্রস্তর যুগে জলবায়ু ছিল উষ্ণ ও শুষ্ক। এই আবহাওয়া জন্তু জানােয়ার ও উদ্ভিদকুলের বসবাসের পক্ষে সহায়ক হয়েছিল।
  • (খ) এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল সূক্ষ্ম ফলা বিশিষ্ট পাথরের বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রশস্ত্রের আবিষ্কার ।
  • (গ) এই যুগের মানুষেরা শিকার করে, মাছ ধরে ও ফলমূল সংগ্রহ করে জীবন অতিবাহিত করত।
  • (ঘ) এই যুগেই মানুষ বিভিন্ন প্রাণীদের গৃহে পালন করতে শুরু করে।
  • (ঙ) এই যুগের শেষের দিকে চাষাবাদের সূত্রপাত এই সময়ের আর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
মধ্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ার

মানুষ মধ্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ার তৈরিতে বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিল। এই যুগের হাতিয়ার পূর্ববর্তী যুগের হাতিয়ারের থেকে অনেক উন্নত ও আকারে ক্ষুদ্র হয়। এই সময় পাথর ছাড়াও জীবজন্তুর হাড়, দাঁত প্রভৃতি দিয়ে হাতিয়ার তৈরি করার ফলে তা আরো উন্নত হয়। এই যুগের মানুষদের প্রধান অস্ত্র ছিল তিরধনুক, হারপুন, বড়শি প্রভৃতি। হাতিয়ারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকৃতির জন্য এই যুগকে ক্ষুদ্র প্রস্তর যুগ নামেও অভিহিত করা হয়।

মধ্য প্রস্তর যুগের জীবিকা

পশুশিকার ও ফলমূল সংগ্রহ করা ছিল মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষদের প্রধান জীবিকা । বড়ো বড়ো পশু শিকারের পাশাপাশি লাল হরিণ, বনবিড়াল, নেউল প্রভৃতি পশুও তারা শিকার করত। নদী ও সুমুদ্রের উপকূলে বসবাসরত মানব প্রজাতি নদী ও সমুদ্র থেকে মাছ ও শামুক সংগ্রহ করত। এই যুগে মানুষ কোনো কোনো পশুকে পোষ মানাতেও শিখেছিল বলে মনে করা হয়।

মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষের জীবনযাপন

এই মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষের জীবনযাত্রা প্রণালী ছিল অর্ধযাযাবর প্রকৃতির। কোনো একটি স্থানে কিছু দিন অতিবাহিত করার পর তারা অন্যত্র চলে যেত।

মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষের যানবাহন

আদিম মানুষ মধ্য প্রস্তর যুগে বরফের ওপর দিয়ে চলার জন্য স্লেজগাড়ির ব্যবহার জানত বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। তারা এই গাড়ি টানার কাজে কুকুরকে কাজে লাগাত। জলপথে যাতাযাতের উদ্দেশ্যে তারা গাছের গুঁড়ি খোদাই করে নৌকা বানাত।

মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষের চিত্রকলা

মানব প্রজাতি মধ্য প্রস্তর যুগে চিত্রকলায় বেশ কিছুটা অগ্রগতি ঘটিয়েছিল। এই যুগের চিত্রকলার বিষয়বস্তু ছিল নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী এবং বিভিন্ন হাতিয়ার। জ্যামিতিক আকারের ত্রিকোণ, চতুষ্কোণ, বৃত্তাকার চিত্র এই সময়কালে আঁকা হত। আবার সুইডেন, ফিনল্যান্ড, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের বিভিন্ন প্রাচীন গুহায় মানুষ এবং পশুর চিত্রও পাওয়া গেছে।

মধ্য প্রস্তর যুগের অস্তিত্বের নিদর্শন

আধুনিক কালে উত্তর ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে এবং ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাটের বিভিন্ন অঞ্চলে মধ্য প্রস্তর যুগের বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া গেছে।

মধ্য প্রস্তর যুগের গুরুত্ব

মধ্য প্রস্তর যুগের প্রধান গুরুত্ব এই যে, এই সময় মানুষ পূর্ব যুগের তুলনায় আরো বেশি দক্ষ হয়ে ওঠে।

এই সময় মানুষ পশুদের পোষ মানাতে শুরু করে। আর তাছাড়া এই যুগের শেষের দিকে কৃষিকাজ শুরু হয়েছিল বলে অল্প বিস্তর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

(৩) নব্যপ্রস্তর যুগ

প্রস্তর যুগের শেষ পর্যায় হল নতুন পাথর বা নব্য প্রস্তর যুগ (Neolithic Age)।

মধ্য প্রস্তর যুগের শেষের দিক থেকে পৃথিবীর আবহাওয়া অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। এই অনুকূল পরিবেশে মানুষের জীবনযাত্রায় উল্লেখযােগ্য সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটে।

নব্যপ্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্য
  • (ক) নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষেরা অধিকতর সুন্দর ও মসৃণ উজ্জ্বল পাথরের অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল।
  • (খ) এই যুগের মানুষেরা ফলমূল, রাগি, দানা শস্য, ছােলা প্রভৃতির চাষ করত।
  • (গ) এই সময় মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখে।
  • (ঘ) চাকার আবিষ্কার নব্যপ্রস্তর যুগের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
  • (ঙ) নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষ যাযাবর জীবন পরিত্যাগ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
নব্যপ্রস্তর যুগের সময়কাল

মধ্য প্রস্তর যুগের পরবর্তী নব্যপ্রস্তর যুগের সময়সীমা আনুমানিক খ্রি.পূ. ১০০০০ -৫০০০ অব্দ পর্যন্ত। তবে ভারতে নব্যপ্রস্তর যুগের সূচনা হয় অনেক পরে, ৬০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।

বালুচিস্তানের মেহেরগড় সভ্যতায় এই নব্যপ্রস্তর যুগের সূচনা হয় বলে ঐতিহাসিক ডি. পি. আগরওয়াল অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষের হাতিয়ার

নব্যপ্রস্তর যুগের হাতিয়ার গুলি যথেষ্ট তীক্ষ্ণ, মসৃণ ও উন্নত হয়ে ওঠে। এই সময় মাটি খুঁড়ে বীজ বপন বা আগাছা পরিষ্কারের জন্য নতুন নতুন যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন ঘটে।

কাস্তে, কুলো, হামানদিস্তা, শিলনোড়া, জাঁতা, হাতুড়ি, বাটালি, নেহাই প্রভৃতি বিভিন্ন যন্ত্রপাতির উদ্ভব নব্যপ্রস্তর যুগেই হয়।

নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের জীবিকা

নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষেরা বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত। তাদের জীবিকা নির্বাহের দিকগুলি হল –

(ক) পশুপালন

নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষ কৃষিকাজের প্রয়োজনে পশুপালনের কৌশল আয়ত্ত করে। কুকুর, ভেড়া, গােরু, গাধা, হাতি প্রভৃতি পশুকে তারা পােষ মানাতে শুরু করে।

খাদ্যের জোগান ছাড়াও গৃহপালিত পশুকে তারা পরিবহণের কাজেও ব্যবহার করতে শুরু করে।

এই সময় দক্ষিণ এশিয়ায় হাতি ও মহিষ এবং জর্ডনে কুকুর ও ছাগল প্রতিপালন করা শুরু হয়।

(খ) কৃষির সূচনা

মানুষ নব্য প্রস্তর যুগে কৃষিকাজের কৌশল আবিষ্কার করে। ফলে খাদ্য সংগ্রহকারি থেকে মানুষ খাদ্য উৎপাদনকারিতে পরিনত হয়। কৃষির আবিষ্কার মানুষের অসহায় অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়।

নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের স্থায়ী বসতি নির্মাণ

এই নব্য প্রস্তর যুগের শেষ দিকে মানুষ স্থায়ী বাসস্থান  নির্মাণ করতে শুরু করে। এর ফলে মানুষের দীর্ঘ দিনের যাযাবর জীবনের অবসান ঘটে। গাছের ডালপালা, লতাপাতা ও ঘাস দিয়ে তারা কুটির বানাতে থাকে। সুইজারল্যান্ডের আদিম অধিবাসীরা হ্রদের মধ্যে খুঁটি পুঁতে তার ওপর মাচা বেঁধে বসবাস করত এমন নিদর্শনও পাওয়া গেছে।

নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের সমাজ জীবন

পূর্ব যুগের সমাজকাঠামাে এই যুগে আরও উন্নত হয়। পরিবারগুলি আরও সুসংঘবদ্ধ হয়ে ওঠে। এই সময় সমাজে বিনিময়প্রথার উদ্ভব ঘটে এবং শ্রম বিভাজন ব্যবস্থা চালু হয়।

নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের আগুনের ব্যবহার

পাথর ভাঙতে গিয়ে নব্য প্রস্তর যুগেই মানুষ প্রথম আগুন জ্বালানাের কৌশল আবিষ্কার করে। এরপর তারা কাঁচা মাংস আগুনে পুড়িয়ে নিয়ে বা সেদ্ধ করে খেতে শুরু করল।

গুহার মুখে আগুন জ্বালিয়ে রেখে তারা হিংস্র বন্য জীবজন্তুদের তাড়াতে শিখল এবং শীতের হাত থেকে নিজেদেরকে রক্ষাও করতে পারল।

নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের চাকার আবিষ্কার

এই নব্য প্রস্তর যুগে এক অভাবনীয় আবিষ্কার হল ‘চাকা’। চাকার আবিষ্কারের ফলে মৃৎপাত্র উৎপাদনে বিরাট পরিবর্তন আসে। তাছাড়া চাকাকে কাজে লাগিয়ে যানবাহন তৈরির ধারণাও সৃষ্টি হয়।

নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের শিল্প

নব্যপ্রস্তর যুগে বিভিন্ন ধরনের শিল্পের অগ্ৰগতি লক্ষ্য করা যায়। যেমন –

(ক) বস্ত্রবয়ন শিল্প

নব্য প্রস্তর যুগেই বস্ত্রবয়ন শিল্পের সূচনা ঘটেছিল। শনের আঁশ থেকে তৈরি সুতাে দিয়ে এই যুগের কারিগররা লিনেন কাপড় বুনতে শেখে৷ এই সময় মেসোপটেমিয়ার কারিগররা ভেড়ার লােম দিয়ে পশমি কাপড় বানাতে শেখে।

(খ) মৃৎশিল্প

মৃৎশিল্পে নব্য প্রস্তর যুগে অভাবনীয় উন্নতি ঘটে। চাকাকে কাজে লাগিয়ে কম সময়ে অনেক বেশি সংখ্যক মাটির পাত্র উৎপাদন হতে থাকে।

তাছাড়া এই সময় মাটির তৈরি পাত্রকে পুড়িয়ে শক্ত করার কৌশলও আবিষ্কৃত হয়। পাত্রগুলির গায়ে নানা ধরনের নকশা এবং রং করার কৌশলও শুরু হয়।

নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের ভাষার উন্নয়ন

এই নব্য প্রস্তর যুগে মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক ও বিনিময় প্রথার ব্যাপকতার ফলে ভাব বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা প্রবল হয়। এরই ফলশ্রুতিতে ভাষার উন্নয়ন ঘটে।

নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের ধর্মবিশ্বাস 

মনে করা হয় নব্য প্রস্তর যুগের মানুষ পাথর কেটে দেবীমূর্তি তৈরি করতে শিখেছিল ৷ মেসােপটেমিয়ার ইউবেইদ নামক স্থানে এবং ইজিয়ান সভ্যতার ক্রীটে এই ধরনের কিছু মূর্তির নিদর্শন পাওয়া গেছে।

নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের রাষ্ট্র ব্যবস্থার সূচনা

নব্যপ্রস্তর যুগে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলে কোনো গোষ্ঠীর নেতা বা দলপতির পদটি স্থায়ীত্ব লাভ করে। উর্বর কৃষিজমি দখল ও অন্যান্য কারণে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হত। এই সংঘর্ষে জয়লাভের জন্য দলনেতারা তাদের গোষ্ঠীর সদস্যদের ওপর বিভিন্ন নিয়মকানুন চাপিয়ে দিত। আর এই ভাবেই একটি প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠে। তাই নব্যপ্রস্তর যুগেই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠার একটি পটভূমি তৈরি হয়েছিল বলাই যায়।

নব্য প্রস্তর যুগের বিপ্লব

নব্যপ্রস্তর যুগে কৃষি সহ বিভিন্ন বিষয়ে যেসব অগ্ৰগতি ঘটেছিল সেগুলির গভীর বিশ্লেষণ করে বিখ্যাত ঐতিহাসিক গর্ডন চাইল্ড সেগুলিকে সেই সময়ের মানুষের অগ্রগতির স্বাভাবিক ধারা বলে মানতে পারেননি। পূর্বের যুগ গুলির তুলনায় নব্য প্রস্তর যুগে অনেক কম সময়ে যে অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছিল ঐতিহাসিক গর্ডন চাইল্ড তাকে ‘নব্যপ্রস্তর যুগের বিপ্লব’ বলে অভিহিত করেছেন।

নব্য প্রস্তর যুগের অস্তিত্বের নিদর্শন

ভারতের মেহেরগড় সভ্যতা নব্যপ্রস্তর যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। তাছাড়া ইরাকের জারমো ও হাসুনা, জর্ডনের জেরিকে, দক্ষিণ মেসোপটেমিয়া, আনাতোলিয়া মালভূমি, সুইজারল্যান্ড, বর্তমান পাকিস্তানের বালুচিস্তান, ভারতের বিহার, ওড়িশা ও দাক্ষিণাত্যের বিভিন্ন স্থানে নব্যপ্রস্তর যুগের সংস্কৃতির বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া গেছে।

নব্য প্রস্তর যুগের গুরুত্ব

আমাদের প্রাচীন যুগের ইতিহাসে নব্যপ্রস্তর যুগের বিশেষ গুরুত্ব আছে। এই যুগে হাতিয়ারের অভাবনীয় উন্নতি, কৃষির উন্নতি, পশুপালন, পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি, প্রযুক্তির অগ্ৰগতি, ভাষার বিকাশ, শিল্পের অভাবনীয় উন্নতি পরিলক্ষিত হয়।

উপসংহার :- ইতিহাস হল এক আলোকবর্তিকা যা অতীতের অন্ধকারাচ্ছন্ন পথকে আলোকিত করে, মিথ্যা থেকে সত্যকে পৃথক করতে শেখায় এবং মৃত্যু স্তূপের মধ্যে জীবনের অনুসন্ধান করে। তাই ইতিহাস হল মানুষের কথা, জীবনের কথা।

(FAQ) প্রাগৈতিহাসিক যুগ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য ?

১. ‘প্রাক্-ইতিহাস’ শব্দটির অর্থ কি?

প্রাক-ইতিহাস বা প্রাগৈতিহাসিক যুগ (ইংরেজি: Prehistory) লিখিত ইতিহাসের পূর্ববর্তী কালসমূহের ইতিহাসকে বোঝায়। ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দের সময়কালে পরিভাষাটি লিখিত ইতিহাসের পূর্ববর্তী ইতিহাস নির্দেশ করতে ফ্রান্সে ব্যবহার হওয়া শুরু হয়।

২. প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলতে কোন সময়কে বোঝায়?

ইতিহাসের সূচনা লগ্নের পূর্বের সময়কে প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলে। অর্থাৎ যে সময়টাতে মনুষ্য জাতির কোন ধারণা নেই, কিন্তু সে সময়টার অস্তিত্ব একসময় ছিল।

৩. প্রাগৈতিহাসিক যুগের ইতিহাসের প্রধান উপাদান কি?

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

৪. প্রাগৈতিহাসিক যুগ কাকে বলে?

মানব সংস্কৃতির সূচনাকাল থেকে শুরু করে লিখিত উপাদানের প্রাপ্তি কালের মধ্যবর্তী সময়কালকে প্রাগৈতিহাসিক যুগ বলা হয়।

৫. নব্যপ্রস্তর যুগের বিপ্লব কথাটি প্রথম উদ্ভাবন করেন?

গর্ডন চাইল্ড ।

Leave a Reply

Translate »