ইউরোপ

ইউরোপ মহাদেশ প্রসঙ্গে অবস্থান, নামকরণ, এশিয়া ও ইউরোপ পৃথক, পরিসীমা, আয়তন, জনসংখ্যা, বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম দেশ, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির জন্মস্থান, একত্রীকরণ, উপনিবেশ, শিল্প বিপ্লব, বিশ্ব যুদ্ধ ও ঠাণ্ডা লড়াই সম্পর্কে জানবো।

ইউরোপ

মহাদেশ ইউরোপ
বৃহত্তম দেশ রাশিয়া
ক্ষুদ্রতম দেশ ভাটিকান সিটি
মুদ্রা ইউরো
বিখ্যাত যুদ্ধ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
ইউরোপ

ভূমিকা :- বৃহত্তর ইউরেশিয়া মহাদেশীয় ভূখণ্ডের পশ্চিমের উপদ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি মহাদেশ হল ইউরোপ। পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ ইউরোপ। এশিয়া সপ্ত মহাদেশের মধ্যে বৃহত্তম।

অবস্থান

ইউরেশিয়া মহাদেশীয় ভূখণ্ডের পশ্চিমে ইউরোপ মহাদেশটি অবস্থিত। এটি মূলত ইউরেশিয়া ভূ-খণ্ডের উত্তর-পশ্চিম উপদ্বীপীয় অংশ।

নামকরণ

ভাষাবিজ্ঞানীদের অনেকেই দাবি করেন ইউরোপ শব্দটি প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে আগত। মূল শব্দ Eurys এর অর্থ প্রশস্ত এবং Ops এর অর্থ মুখ বা চোখ। সেজন্য ইউরোপকে প্রশস্ত মুখমণ্ডল হিসাবে ধারণা করাটা অযৌক্তিক হবে না। মূলত এরকম নামের প্রধান কারণ ইউরোপের সুবিশাল উপকূল। একপাশে কার্থেজ এবং অন্যপাশে ফিনিশীয়া, বাকি অংশ যেন পুরোটাই ইউরোপ।

এশিয়া ও ইউরোপ পৃথক

সাধারণভাবে ইউরাল ও ককেসাস পর্বতমালা, ইউরাল নদী, কাস্পিয়ান, কৃষ্ণ সাগরের জলবিভাজিকা এবং কৃষ্ণ ও এজিয়ান সাগর সংযোগকারী জলপথ ইউরোপকে এশিয়া মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে। 

পরিসীমা

ইউরোপের উত্তরে উত্তর মহাসাগর, পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্বে কৃষ্ণ সাগর ও সংযুক্ত জলপথ রয়েছে।

আয়তন

পৃথিবীতে সাতটি মহাদেশ থাকলেও আয়তনের দিক থেকে ইউরোপ মহাদেশ ৬ নম্বরে অবস্থিত। ইউরোপের আয়তন ৩৯,৯৭,৯২৯ বর্গ মাইল বা ১,০৩,৫৪,৬৩৬ বর্গকিলোমিটার।

জনসংখ্যা

৭৪০ মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যা বা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১% নিয়ে ইউরোপ এশিয়া এবং আফ্রিকার পর তৃতীয় সবচেয়ে জনবহুল মহাদেশ। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মুদ্রা ইউরো।

বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম দেশ

ইউরোপের প্রায় ৫০টি দেশের মধ্যে, রাশিয়া মহাদেশের মোট আয়তনের ৪০% ভাগ নিয়ে এ পর্যন্ত আয়তন এবং জনসংখ্যা উভয়দিক থেকেই বৃহত্তম দেশ, অন্যদিকে ভ্যাটিকান সিটি আয়তনে ক্ষুদ্রতম দেশ।

পাশ্চাত্য সংস্কৃতির জন্মস্থান

ইউরোপ, বিশেষ করে প্রাচীন গ্রিস, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির জন্মস্থান। এটি পঞ্চদশ শতকের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে উপনিবেশবাদ শুরু হবার পর থেকে।

একত্রীকরণ

বর্তমান দিনে, ইউরোপীয় একত্রীকরণ প্রাথমিকভাবে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপ এবং মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের কমনওয়েলথভুক্ত স্বাধীন রাষ্ট্র এবং সাবেক সোভিয়েত অধিকাংশ দেশের মাঝে কাউন্সিল অব ইউরোপ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে।

উপনিবেশ

ষোড়শ থেকে বিশ শতকের মধ্যে, ইউরোপীয় দেশগুলি বিভিন্ন সময়ে আমেরিকা, অধিকাংশ আফ্রিকা, ওশিয়ানিয়া, এবং অপ্রতিরোধ্যভাবে অধিকাংশ এশিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

শিল্প বিপ্লব

শিল্প বিপ্লব, যা অষ্টাদশ শতকের শেষেভাগে গ্রেট ব্রিটেনে শুরু হয়, পশ্চিম ইউরোপ এবং অবশেষে বৃহত্তর বিশ্বে আমূল অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, এবং সামাজিক পরিবর্তন আনে।

বিশ্বযুদ্ধ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ – উভয় বিশ্বযুদ্ধ মূলত ইউরোপকে কেন্দ্র করে হয়, যার ফলে মধ্য বিংশ শতকে বৈশ্বিক বিষয়াবলীতে পশ্চিম ইউরোপের আধিপত্যের অবসান ঘটে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের প্রাধান্য বিস্তার করে।

ঠাণ্ডা লড়াই

ঠাণ্ডা লড়াই বা স্নায়ুযুদ্ধের সময় ইউরোপ পশ্চিমে ন্যাটো ও পূর্বে ওয়ারশ চুক্তি দ্বারা বিভক্ত ছিল। কাউন্সিল অব ইউরোপ এবং পশ্চিম ইউরোপে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপীয় একীকরণে ফলে গঠিত হয়। ১৯৮৯ সালের বিপ্লব ও ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে উভয় সংগঠন পূর্বদিকে বিস্তৃত হয়েছে।

উপসংহার :- ইউরোপের সংস্কৃতি একটি ধারাবাহিক সংস্কৃতির অধিক্রমণ হিসাবে বর্ণনা করা যেতে পারে। সাংস্কৃতিক মিশ্রণ মহাদেশ জুড়ে বিদ্যমান। সাংস্কৃতিক উদ্ভাবন এবং আন্দোলন, কখনও কখনও একে অপরের সঙ্গে মতভেদ হয়। সুতরাং সাধারণ সংস্কৃতি বা অভিন্ন মূল্যবোধের ব্যাপারটি বেশ জটিল।

(FAQ) ইউরোপ মহাদেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. ইউরোপ মহাদেশের বৃহত্তম দেশ কোনটি?

রাশিয়া।

২. ইউরোপ মহাদেশের ক্ষুদ্রতম দেশ কোনটি?

ভাটিকান সিটি।

৩. প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন মহাদেশে সংঘটিত হয়?

ইউরোপ মহাদেশে।

৪. ইউরোপ মহাদেশের কোন দেশে প্রথম শিল্প বিপ্লব ঘটে?

ইংল্যান্ড।

Leave a Reply

Translate »