স্পেন

স্পেন দেশের অবস্থান, সীমা, আয়তন, জনসংখ্যা, রাজধানী ও শহর, ইতিহাস, ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, অর্থনৈতিক দিক, পর্যটন, রাজনৈতিক দিক, ভাষা, খেলাধুলা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানবো।

স্পেন

দেশ স্পেন
রাজধানী মাদ্রিদ
ভাষা স্পেনীয়
প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ
রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ
স্পেন

ভূমিকা :- ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র স্পেন বা স্পেন রাজ্য। শাসনব্যবস্থার ধরন অনুযায়ী দেশটি একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজতন্ত্র।

অবস্থান

এটি আইবেরীয় উপদ্বীপের প্রায় ৮৫% অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত। উপদ্বীপটির অবশিষ্ট অংশে স্পেনের ক্ষুদ্রতর প্রতিবেশী রাষ্ট্র পর্তুগাল এবং ব্রিটিশ প্রশাসনিক অঞ্চল জিব্রাল্টার অবস্থিত।

সীমা

স্পেনের উত্তর সীমানায় আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বাহু বিস্কায়া উপসাগর অবস্থিত। উত্তর-পূর্ব সীমানায় পিরিনীয় পর্বতমালা স্পেনের সঙ্গে ফ্রান্স ও অতিক্ষুদ্র রাষ্ট্র অ্যান্ডোরার একটি প্রাকৃতিক সীমানা গঠন করেছে। পূর্ব দিকে ভূমধ্যসাগর, দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিমে পর্তুগাল ও আটলান্টিক মহাসাগর স্পেনের অবশিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করেছে। স্পেনের সর্বদক্ষিণ বিন্দুটি মরক্কোর দিকে মুখ করে অবস্থিত ও দেশ দুটি সরু জিব্রাল্টার প্রণালী দ্বারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই স্পেন ইউরোপের সাথে আফ্রিকার সঙ্গমস্থলে অবস্থিত।

আয়তন

স্পেনের আয়তন ৫ লক্ষ বর্গকিমিরও বেশি। আয়তনের বিচারে রাশিয়া, ইউক্রেন ও ফ্রান্সের পরে স্পেন ইউরোপের চতুর্থ বৃহত্তম এবং দক্ষিণ ইউরোপের বৃহত্তম দেশ।

জনসংখ্যা

স্পেনের জনসংখ্যা ৮ কোটিরও বেশি। এরা মূলত কাস্তিলীয় স্পেনীয় জাতের মানুষ।

রাজধানী ও শহর

স্পেনের বৃহত্তম নগর ও রাজধানী হল মাদ্রিদ। বার্সেলোনা, বালেন্সিয়া, সেবিইয়া, বিলবাও এবং মালাগা অন্যান্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর।

ইতিহাস

  • (১) কেল্ট ও আইবেরিয়রা ছিল স্পেনের প্রথম দিকের আধিবাসী। এক দীর্ঘমেয়াদী ও প্রবল যুদ্ধের পর আইবেরিয় উপদ্বীপ রোমান রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পরিচিত হয় হিসপিনিয়া নামে। মধ্যযুগে শুরু হয় মুসলিম শাসন অবসানের জন্য উত্তরের খ্রিস্টান রাজ্যসমূহের অত্যন্ত দীর্ঘকালীন প্রক্রিয়া। অবশেষে সফল হয় খ্রিস্টানরা।
  • (২) ১৪৯২ সালে কলম্বাস যখন অজানা দ্বীপ আমেরিকায় পৌঁছান তখন মুসলিম শাসনের শেষ চিহ্নটুকু নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। নতুন সাম্রাজ্য স্পেনকে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজ্যে পরিণত করে। ষোড়শ শতাব্দী থেকে সপ্তদশ শতাব্দীর অর্ধভাগ পর্যন্ত স্পেন ছিল পৃথিবীর অন্যতম প্রধান পরাশক্তি।
  • (৩) ঊনবিংশ শতাব্দিতে ফরাসিদের আক্রমণ দেশটিতে ভীষণ বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করে। বিংশ শতাব্দীতে এক ধ্বংসাত্বক গৃহ যুদ্ধ ও পরবর্তীকালে স্বৈর শাসনের ফলে দেশে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করে যদিও তা শেষ হয় অর্থনৈতিক গতিশীলতার মধ্য দিয়ে।
  • (৪) ১৯৭৮ সালে দেশটিতে গণতন্ত্র ফিরে আসে। এক সাংস্কৃতিক নবজাগরণ ও অর্থনৈতিক উন্নতির পর ১৯৮৬ সালে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়।

ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য

স্পেন ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ একটি দেশ। স্পেনের গ্রামাঞ্চল আকর্ষণীয় দুর্গবেষ্টিত প্রাসাদ, প্রাচীন জল সংগ্রহের নালা এবং প্রাচীন ধ্বংসাবশেষে পরিপূর্ণ। এখানকার নগরগুলি সন্দেহাতীতভাবে আধুনিক। আন্দালুসিয়া অঞ্চলের রাজধানী সেবিইয়া তার সঙ্গীতের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপনের জন্য বিখ্যাত।

কলম্বাস

১৪৯২ সালে অভিযাত্রী নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নেতৃত্বে স্পেনের রাজার রণপোতসমূহ আমেরিকা মহাদেশে পদার্পণ করে। এরপরে প্রায় ৩০০ বছর ধরে স্পেনীয় অভিযাত্রী এবং যোদ্ধারা বিশ্বের আনাচে কানাচে ভ্রমণ করে এবং স্পেনীয় রাজার জন্য বিশাল আয়তনের ভূখণ্ড অধিকার করে।

স্পেনের গৃহযুদ্ধ

বিংশ শতাব্দীতে ১৯৩৬ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত মতাদর্শের সংঘাতের উপর ভিত্তি করে সংঘটিত স্পেনের গৃহযুদ্ধ দেশটিকে আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কেন্দ্রে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু যুদ্ধশেষে স্বৈরশাসক ফ্রানসিস্কো ফ্রাংকোর চার দশকব্যাপী শাসনের সময়ে স্পেন আরও বেশি একাকী হয়ে পড়ে।

অর্থনৈতিক দিক

অর্থনৈতিক উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক দেরিতে স্পেনে আধুনিকতার আগমন ঘটে। ১৯৬০-এর দশকের আগে পর্যন্ত স্পেনের সমস্ত শিল্পকারখানাগুলি উত্তরের কাতালুনিয়া ও বাস্ক অঞ্চলগুলিতে সীমাবদ্ধ ছিল। তখন থেকে স্পেনের অর্থনীতি দ্রুত প্রবৃদ্ধি লাভ করেছে। বিশেষ করে হালকা শিল্পগুলি স্পেনকে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে।

পর্যটন

স্পেনের পর্যটন খাতও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক স্পেনে বেড়াতে আসেন এবং এখানকার রৌদ্রোজ্জ্বল জলবায়ু, সমুদ্রসৈকত এবং ঐতিহাসিক শহরগুলিতে ভ্রমণ করেন।

শিল্পী ও শিল্পকলা

স্পেনের সাংস্কৃতিক ও শিল্পকলাগত ঐতিহ্য গভীর। ঐতিহাসিকভাবে স্পেনের মূল সাংস্কৃতিক অবদান দুইটি ক্ষেত্রে অধিক পরিলক্ষিত হয় – চিত্রকলা ও সাহিত্য। সাম্প্রতিককালে ঐ দুই ক্ষেত্রে নিজের উপস্থিতি বজায় রেখে স্পেন চলচ্চিত্র নির্মাণ, স্থাপত্য এবং সঙ্গীতে অনেক বড় মাপের শিল্পী ও শিল্পকলা বিশ্বকে উপহার দিয়েছে।

রাজনৈতিক দিক

স্পেনের রাজনীতি একটি সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের কাঠামোতে পরিচালিত হয়। স্পেনের রাজা হলেন রাষ্ট্রপ্রধান এবং রাষ্ট্রপতি হলেন একটি বহুদলীয় ব্যবস্থাতে সরকারি নেতা। কেন্দ্রীয় আইন প্রণয়ন ক্ষমতা সংসদের দুইটি কক্ষের হাতে ন্যস্ত। বিচার বিভাগ নির্বাহী ও আইন প্রণয়নকারী বিভাগ থেকে স্বাধীন।

ভাষা

স্পেনের সরকারী ভাষা কাস্তিলীয় স্পেনীয় ভাষা। এছাড়া স্পেনে বাস্ক, আস্তুরীয়, কাতালান ও গালিসীয় ভাষাভাষীও রয়েছে। দেশের ৯৬% নাগরিক ক্যাথলিক খ্রিস্টান।

খেলাধুলা

স্পেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। স্পেন ফিফা বিশ্বকাপও জিতেছে।

যোগাযোগ

ইউরোপের বৃহত্তম বিমানবন্দর এই দেশেই রয়েছে। এর নিকটবর্তী ট্রেজন বিমানঘাঁটিতে ইউরোপের দীর্ঘতম রানওয়ে অবস্থিত।

উপসংহার :- স্পেনের প্রস্তরনির্মিত দুর্গপ্রাসাদ, বরফাবৃত পর্বতমালা, বিশালাকার সৌধ এবং আধুনিক ও পরিশীলিত নগরগুলির গল্প মুখে মুখে ফেরে। দেশটি তাই পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যস্থল।

(FAQ) স্পেন দেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. স্পেনের রাজধানীর নাম কি?

মাদ্রিদ।

২. স্পেনের প্রধান ভাষা কি?

স্পেনীয়।

৩. স্পেনের বর্তমান রাজা কে?

ষষ্ঠ ফিলিপ।

৪. স্পেনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নাম কি?

পেড্রো সানচেজ।

Leave a Reply

Translate »