মানব জাতির বিবর্তন

মানব জাতির বিবর্তন -এর বিভিন্ন পর্যায় -এর বৈশিষ্ট্য উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ গুলি আলোচনা করা হল । এই প্রসঙ্গে মানব জাতির ইতিহাস ও মানব জাতির বিবর্তন (pdf) ছবি দেওয়া হল । মানব সমাজ বিবর্তনের ধাপ কয়টি ও মানুষের উৎপত্তি কোথা থেকে হয়েছে তা আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরা হল ।

Table of Contents

মানব জাতির বিবর্তন -এর বিভিন্ন পর্যায়

হোমো হাবিলিসদক্ষ মানুষ
হোমো ইরেক্টাসদন্ডায়মান মানুষ
হোমো স্যাপিয়েন্সবুদ্ধিমান মানুষ
হোমো স্যাপিয়েন্স স্যাপিয়েন্সআধুনিক মানুষ
মানব জাতির বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়

মানব জাতির বিবর্তন -এর ধাপ

ভূমিকা :- ইতিহাসের ধারা খুবই প্রাচীন। ক্রম বিবর্তনের ধারায় প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে প্রায় ঐতিহাসিক যুগ এবং সবশেষে ঐতিহাসিক যুগ -এ আমরা পদার্পণ করেছি। মানব প্রজাতিও তার ব্যতিক্রম নয়।

মানব জাতির বিবর্তন -এর প্রথম ধাপ – এপ

মানুষের সঙ্গে সর্বাধিক মিল রয়েছে এমন যেসব প্রাণী বর্তমানে পৃথিবীতে টিকে আছে তারা সাধারণভাবে নরবানর বা এপ নামে পরিচিত।

এপ – শ্রেনিবিভাগ

বিভিন্ন ধরনের প্রাচীন নরবানর বা এপ পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে গেলেও বর্তমানে চার ধরনের এপ পৃথিবীতে টিকে আছে। এগুলি হল – গোরিলা, শিম্পাঞ্জি, ওরাং ওটাং এবং গিবন।  

গ্রেট এপ

গেরিলা শিম্পাঞ্জি এবং ওরাং ওটাংকে গ্রেট এপ বলা হয়।

লিটল এপ

গিবনকে লিটল এপ বলা হয়।

মানব প্রজাতি ও বিভিন্ন এপ – এর সৃষ্টি

মনে করা হয় যে, কোনো এক সাধারণ আদি প্রজাতি থেকে মানব প্রজাতি ও বিভিন্ন এপ-এর সৃষ্টি হয়েছিল।

আধুনিক মানুষের আবির্ভাব বিতর্ক ও মানব জাতির ইতিহাস ও বিবর্তন

তবে অতীতের কোন প্রজাতি থেকে বিবর্তনের ধারায় আধুনিক মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে তা নিয়ে বিভিন্ন বিজ্ঞানী বিভিন্ন অভিমত পোষণ করেন।

  • (১) কেউ ইজিপ্টোপিথেকাসকে, কেউ রামাপিথেকাস কেনিয়াপিথেকাসকে, আবার কেউ অন্য কোনো প্রজাতিকে আধুনিক মানুষের পূর্বসূরি বলে চিহ্নিত করেছেন।
  • (২) লুই লিকি মনে করেন কেনিয়াপিথেকাস বা রামাপিথেকাস থেকেই মানুষের উৎপতি ঘটেছে।  
  • (৩) ফিলিপ টোবিয়াস অক্টোলোপিথেকাসকে এবং অস্ট্রালোপিথেকাস এফারেনসিসকে টিম হোয়াইট ও জোহানসন আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষ বলে উল্লেখ করেছেন।

আধুনিক মানব জাতির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রজাতি বা পর্যায়

আধুনিক মানুষের পূর্ব পুরুষের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রজাতি ও বিবর্তনের পর্যায় সম্পর্কে আলোচনা করা হল –

আধুনিক মানব বিবর্তনের ইজিপ্টোপিথেকাস পর্যায়

  • (১) কোনো সাধারণ প্রজাতি থেকে পৃথক ধারায় দীর্ঘ বিবর্তনের ফলে মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের এপ বা নরবানরের আবির্ভাব ঘটেছিল। মানুষ ও বিভিন্ন নরবানরের সাধারণ এই পূর্বপুরুষকে ইজিপ্টোপিথেকাস নামে অভিহিত করা হয়।
  • (২) মিশরে অলিগোসিন যুগের ইজিপ্টোপিথেকাসের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। গবেষক এলউইন সাইম ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে ইজিপ্টোপিথেকাসের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন।
  • (৩) আজ থেকে অন্তত ৩ কোটি বছর পূর্বে সেই সাধারণ প্রজাতি থেকে উদ্ভূত হয়ে মানুষ ও বনমানুষের শাখা পৃথক ধারায় বিবর্তিত হতে শুরু করেছিল।
  • (৪) আফ্রিকায় এবং মিশরের ফায়ুম অঞ্চলে ইজিপ্টোপিথেকাসের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। অবশ্য জীবাশ্ম বলতে শুধু দাঁত ও চোয়ালের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে, মস্তিষ্ক ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়া যায় নি।

আধুনিক মানব বিবর্তনের ড্রায়োপিথেকাস পর্যায়

  • (১) আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, ইউরোপে এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রায় ২ কোটি বছর বা তারও আগেকার, বিশেষ করে মায়োসিন যুগের আদিম মানুষের এক ধরনের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। এই প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে ‘ড্রায়োপিথেকাস’।
  • (২) ড্রায়োপিথেকাসের বিভিন্ন শাখাপ্রশাখা ছিল। এর মধ্যে প্রধান দুটি শাখা ছিল— গোরিলা, শিম্পাঞ্জি, ওরাং ওটাং নামে এপ-এর শাখা এবং মানব শাখা।
  • (৩) ডায়োপিথেকাস প্রজাতি গাছে বসবাস করত। এদের দাঁতের কিছু কিছু বিষয়ের সঙ্গে মানুষের দাঁতের কিছু মিল খুঁজে পাওয়া গেছে।

আধুনিক মানব বিবর্তনের রামাপিথেকাস পর্যায় 

প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে বসবাসকারী রামাপিথেকাস -কে মানব পরিবারের প্রথম সদস্য বলে মনে করা হয়।

(১) ভারতে প্রাপ্ত নিদর্শন

হিমালয় পর্বতের পশ্চিম ভাগ এবং শিবালিক পার্বত্য অঞ্চল থেকে এদের জীবাশ্মের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে। রামায়ণ -এর বিভিন্ন চরিত্র অনুসারে রামাপিথেকাস, ব্রামাপিথেকাস, শ্রীবপিথেকাস প্রভৃতি নামকরণের পর রামাপিথেকাস পাঞ্চাবিকাস নামটি চলিত হয়েছে।

(২) অস্তিত্ব

রামাপিথেকাস অন্তত ৬০ থেকে ৭০ লক্ষ বছর পৃথিবীতে টিকেছিল।

(৩) অন্যান্য স্থানে প্রাপ্ত নিদর্শন

  • (ক) পরবর্তীকালে পূর্ব আফ্রিকা, বর্তমান পাকিস্তান এবং হাঙ্গেরি থেকেও রামাপিথেকাসের জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে।
  • (খ) আফ্রিকার কেনিয়ায় প্রাপ্ত কেনিয়াপিথেকাস উইকারি নামে নিদর্শনটি পাঞ্জাবে প্রাপ্ত নিদর্শনটির তুলনায় অধিকতর প্রাচীন। তাই মনে করা হয় যে, কেনিয়াপিথেকাস থেকেই পাঞ্জাবিকাসের উদ্ভব ঘটেছে।

(৪) বৈশিষ্ট্য

রামাপিথেকাস প্রজাতির দাঁতের সারি ও গঠন থেকে অনুমান করা হয় যে, এরা আমিষ ও নিরামিষ ভিন্ন ধরনের খাদ্যই গ্রহণ করত। তারা দু-পায়ে দেহের রক্ষা করতে অভ্যস্ত ছিল বলে মনে করা হয়।

আধুনিক মানব বিবর্তনের অস্ট্রালোপিথেকাস পর্যায় 

আজ থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ্য বছর আগে অর্থাৎ প্লায়োসিন যুগের শেষ দিকে মানব পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অস্ট্রালোপিথেকাস গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়। রামাপিথেকাসের তুলনায় এই প্রজাতির সঙ্গেই মানুষের অনেক বেশি সাদৃশ্য লক্ষ করা গিয়েছিল।

(১) ইথিওপিয়ায় প্রাপ্ত নিদর্শন

আফ্রিকার ইথিওপিয়া অঞ্চলে প্রাপ্ত এই প্রাণীর জীবাশ্মের প্রজাতিটি অস্ট্রালোপিথেকাস আফ্রিকানাস নামে পরিচিত। প্রথমে ইথিওপিয়ায় এই শ্রেণির একটি শিশুকন্যার পূর্ণাঙ্গ জীবাশ্ম পাওয়া গেছে যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘লুসি’।

(২) অন্যান্য নিদর্শন

  • (ক) পরবর্তীকালে ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এই প্রজাতির বহু জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে।
  • (খ) অস্ট্রালোপিথেকাসরা হাতিয়ার তৈরি ও ব্যবহার করত বলেও কিছু কিছু প্রমাণ পাওয়া যায়। তারা পাথর, পশুর হাড় ও শিংকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। এদের মাথার খুলির আয়তন ছিল ৫৪০ সি.সি. থেকে ৫৫০ সি.সি.।

আধুনিক মানব বিবর্তনের হোমো হাবিলিস পর্যায়

অস্ট্রালোপিথেকাস আফ্রিকানাস প্রজাতি থেকে পরবর্তীকালে হোমো হাবিলিস নামে মানব-পরিবারের উদ্ভব ঘটে।

  • (১) হোমো হাবিলিস কথার অর্থ হল ‘দক্ষ মানুষ। এই প্রজাতি শিকারে দক্ষ ছিল। অস্ত্রচালনা বা লাঠি চালনার কাজে তারা বর্তমান কালের মানুষের মতো হাত ও বাহু ব্যবহার করত।
  • (২) হোমো হাবিলিসদের উদ্ভব ঘটেছিল আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর আগে এবং প্রায় ১০ লক্ষ বছর আগে পর্যন্ত এদের অস্তিত্ব ছিল। এই প্রাণীর সঙ্গে মানুষের বহু সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
  • (৩) সর্বপ্রথম ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে লিকি দম্পতি (এল. এস. বি. লিপি ও তাঁর স্ত্রী মেরি লিপি) ও তাদের পুত্র জোনাথান হোমো হাবিলিসের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেন।
  • (৪) হোমো হাবিলিসদের মাথার খুলির আয়তন ছিল ৬৬০ সি.সি.। এদের দাঁতের গঠন, পায়ের তলার অস্থি প্রভৃতি বিষয়ে মানুষের সঙ্গে যথেষ্ট মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

আধুনিক মানব বিবর্তনের হোমো ইরেক্টাস পর্যায়

হোমো হাবিলিস থেকে পরবর্তীকালে হোমো ইরেক্টাস নামে মানব প্রজাতির আবির্ভাব ঘটে।

(১) দণ্ডায়মান মানব

হোমো ইরেক্টাস কথার অর্থ হল ‘দণ্ডায়মান মানুষ’। হোমো ইরেক্টাসকেই আধুনিক মানব প্রজাতির প্রত্যক্ষ পূর্বসূরি হিসেবে গণ্য করা হয়।

(২) উদ্ভব ও অস্তিত্ব

হোমো ইরেক্টাসদের উদ্ভব ঘটেছিল আজ থেকে প্রায় ১০ লক্ষ বছর আগে এবং এদের অস্তিত্ব ছিল প্রায় ১ লক্ষ বছর আগে পর্যন্ত।

(৩) জাভা মানব

  • (ক) ড. ইউজিন ডুবয়েস নামে জনৈক ডাচ গবেষক ১৮৯০-৯২ খ্রিস্টাব্দে ইন্দোনেশিয়ার জাভায় সর্বপ্রথম হোমো ইরেক্টাসের জীবাশ্ম আবিষ্কার করেন। তিনি এর নামকরণ করেন “পিথেকানথ্রোপাস ইরেক্টাস’। এরা জাভা মানব নামেও পরিচিত।
  • (খ) জাভা মানবদের মাথার খুলির আয়তন ছিল ১০০০ থেকে ১৯০০ সি.সি., যা আধুনিক মানবের মাথার আয়তনের প্রায় সমান।

(৪) অন্যান্য নিদর্শন

পরবর্তীকালে আফ্রিকার চাদ, মরক্কো, কেনিয়া, প্রভৃতি স্থানে এবং রাশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে এই প্রজাতির জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে।

আধুনিক মানব বিবর্তনের সিনানথ্রোপাস পর্যায়

  • (ক) নৃবিজ্ঞানী পেই ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে চিনের পিকিং (বর্তমান বেজিং) থেকে ৫৪ কিলোমিটার দূরে চাউখাউ ভিয়েন অঞ্চলের গুড়া থেকে হোমো ইরেক্টাসের সমসাময়িক মানব-জীবাশ্ম আবিষ্কার করেন। এদের নাম দেওয়া হয়েছে সিনানথ্রোপাস। সাধারণভাবে এরা পিকিং মানব নামে পরিচিত।
  • (খ) এরা আগুনের ব্যবহার জানত এবং পাথরের হাতিয়ার ব্যবহার করে দলবদ্ধভাবে শিকারে বের হত। লি তিয়ান ইউনান ও অন্যান্যদের প্রচেষ্টায় ১৯৮৯-৯০ খ্রিস্টাব্দে চিনের পিকিং-এর অদুরে একই ধরনের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে যা বর্তমানে হোমো ইরেক্টাস পেকিনেনসিস নামে পরিচিত।
  • (গ) পশ্চিম ইউরোপের জার্মানির হাইডেলবার্গের কাছাকাছি মাউয়ার নামক স্থানে মাটি থেকে ষাট ফুট নীচে এসময়ের মানুষের দাঁত ও চোয়ালের জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে (১৯০৭ খ্রি.)। এরা পিথেকানথ্রোপাস হাইডেলবার্গেনসিস’ বা সাধারণভাবে হাইডেলবার্গ মানব নামে পরিচিত।
  •  (ঘ) এছাড়া জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ আন্তজে জাস্টাস ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে জর্জিয়াস হোমো ইরেক্টাসের ফসিল আবিষ্কার করেন।

আধুনিক মানব বিবর্তনের হোমো স্যাপিয়েন্স নিয়ানডারথালেনসিস পর্যায়

  • (ক) হোমো ইরেক্টাস থেকেই বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান আধুনিক মানব হোমো স্যাপিয়েন্স এর উদ্ভব ঘটেছে। ‘হোমো স্যাপিয়েন্স’ কথার অর্থ হল বুদ্ধিমান মানুষ।
  • (খ) প্রায় দেড় থেকে দুই বছরের প্রাচীন হোমো স্যাপিয়েন্সের প্রথম জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরের নিকটবর্তী নিয়ানডার উপত্যকায়। এই প্রজাতি নাম হল হোমো স্যাপিয়েন্স নিয়ানডারথালেনসিস মানব বা নিয়ানডারথাল মানব।
  • (গ) পরবর্তীকালে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে নিয়ানডারথাল মানবের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে আধুনিক মানুষের সঙ্গে নিয়ানডারথাল মানবের খুবই সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
  • (ঘ) এদের মাথার খুলির আয়তন ছিল প্রায় ১৪০০ সি.সি.। এরা সোজা হয়ে হাঁটতে পারত, পাথরের বিভিন্ন হাতিয়ার ব্যবহার করত এবং আগুনে ব্যবহার জানত।

হোমো স্যাপিয়েন্স স্যাপিয়েন্স

  • (ক) অবশ্য নিয়ানডার প্রজাতির মধ্যে কিছু আদিম ও অনুন্নত বৈশিষ্ট্যের অস্তিত্ব থাকায় বর্তমান কালের আধুনিক মানবকে হোমে স্যাপিয়েন্স স্যাপিয়েন্স নামে অভিহিত করা হয়।
  • (খ) প্লেইস্টোসিন যুগের শেষদিকে অর্থাৎ প্রায় ৭০ থেকে ৪০ হাজার বছর পূর্বে এই প্রজাতির উৎপত্তি ঘটেছে। হোমো স্যাপিয়েন্স স্যাপিয়েন্স প্রজাতি মানুষের জীবাশ্ম উত্তর আফ্রিকা, ইজরায়েল, ফ্রান্স প্রভৃতি স্থানে আবিষ্কৃত হয়েছে।

রোডেশীয় মানব

  • (ক) ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর রোডেশিয়ায় আদিম মানবের কিছু হাড়গোড় পাওয়া গেছে। এরা রোডেশীয় মানব নামে পরিচিত।
  • (খ) এদের মস্তিষ্ক নিয়ানডারথাল মানবের মস্তিষ্কের চেয়েও উন্নত ছিল। এদের মাথার খুলির আয়তন আধুনি ইউরোপীয়দের চেয়েও বড়ো ছিল।
  • (গ) ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের ক্রোমেনিয়ান অঞ্চলে পাহাড়ের গুহায় এই প্রজাতির মানুষের জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে। এরা ক্রোমেনিয়ান বা ক্রো-ম্যাগনন মানব নামে পরিচিত। ২৫ থেকে ৪০ হাজার বছর আগে এরা পৃথিবীতে বিরাজ করত।

উপসংহার :- এইভাবে বিভিন্ন বিবর্তনের ধারায় আদিম মানুষ বর্তমান কালের আধুনিক মানুষে পরিণত হয়েছে।

১. মানব সমাজ বিবর্তনের ধাপ কয়টি ?

১০ টি ।

২. মানুষের উৎপত্তি কোথা থেকে ?

আফ্রিকা ।

৩. মানব বিবর্তন বলতে কি বোঝ ?

মানব বিবর্তন হলো এমনই একটি প্রক্রিয়া যা জন্মগতভাবে আধুনিক মানুষের জীবপ্রক্রিয়াকে উত্থান এর দিকে পরিচালিত করে।

Leave a Reply

Translate »