ক্লুনির মঠ

ক্লুনির মঠ প্রসঙ্গে ক্লুনি মঠ কর্তৃক মঠজীবনবাদের আদর্শ প্রতিষ্ঠা, ক্লুনির মঠ প্রতিষ্ঠা, ক্লুনির মঠের প্রথম ধর্মগুরু, ক্লুনির মঠ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য, পোপের উপর ক্লুনির মঠের দায়িত্ব প্রদান, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত ক্লুনির মঠ, ক্লুনির সংস্কার আন্দোলন, ক্লুনির মঠের পরিচয়, ক্লুনির মঠের বিস্তার লাভ, ক্লুনির মঠের বিখ্যাত ব্যক্তি, ক্লুনির মঠের বিখ্যাত অ্যাবট সেন্ট অডো ও ওডিলো সম্পর্কে জানবো।

ক্লুনির মঠ

ঐতিহাসিক ঘটনাক্লুনির মঠ
অবস্থানবার্গান্ডি
প্রতিষ্ঠাকাল৯১০ খ্রি
প্রতিষ্ঠাতাঅ্যাকুইটেনের ডিউক উইলিয়াম
উদ্দেশ্যধর্মসংস্কার
ক্লুনির মঠ

ভূমিকা :- দশম শতক থেকেই মধ্যযুগের ইউরোপে ধর্মীয় সংস্কার দেখা যায়। পশ্চিম ইউরোপের মঠগুলি নতুনভাবে ধর্মীয় ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছিল। ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনে বেশ কিছু মঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রণী ছিল বার্গান্ডির মঠ ক্লুনি।

ক্লুনি মঠ কর্তৃক মঠজীবনবাদের আদর্শ প্রতিষ্ঠা

দশম এবং একাদশ শতকে বার্গান্ডির ক্লুনি প্রতিষ্ঠিত মঠ থেকে মঠ জীবনযাত্রার কিছু আদর্শ প্রচার করা হয়েছিল। ক্লুনি মঠবাসীদের জীবনে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা আনতে চেয়েছিলেন। জীবনকে সহজ-সরল ও শুদ্ধ করে তোলার প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। সেন্ট বেনেডিক্ট যে মঠজীবনবাদের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ক্লুনি তাকেই পুনরায় ফিরিয়ে এনেছিলেন।

ক্লুনির মঠ প্রতিষ্ঠা

৯১০ খ্রিস্টাব্দে ক্লুনির মঠ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অ্যাকুইটেনের ডিউক উইলিয়াম। এই মঠটি ফ্রান্সের বার্গান্ডি প্রদেশে অবস্থিত ছিল।

ক্লুনির মঠের প্রথম ধর্মগুরু

এই মঠটির প্রথম ধর্মগুরু বা অ্যাবট ছিলেন সেন্ট বার্নো ও অডো। এর পর ক্লুনি নিজেই অ্যাবট -এর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

ক্লুনির মঠ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য

অ্যাকুইটেনের ডিউক উইলিয়াম মঠটিকে সামন্তদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত রাখতে চেয়েছিলেন। আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে ঈশ্বরে নিবেদিত প্রাণ মঠবাসীরা যাতে দুর্নীতি ও অন্যায় কাজ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখতে পারে – সেটাই ছিল ক্লুনির মঠ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য।

পোপের উপর ক্লুনির মঠের দায়িত্ব প্রদান

ধর্মীয় পরিবেশে মঠটি যাতে ধর্মের মাধ্যমে ধর্মীয় আদর্শকে তুলে ধরতে পারে তার জন্য ডিউক উইলিয়াম ক্লুনির মঠটির দায়িত্ব পোপের উপর দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত ক্লুনির মঠ

অ্যাবট নির্বাচনের ক্ষেত্রে ক্লুনির ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল ক্লুনি মঠকে সমস্ত রকম রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে চেয়েছিলেন। রোম থেকে বহু দূরে বার্গান্ডিতে লোয়ার ও সোন নদীর মাঝামাঝি অঞ্চলে অবস্থিত ক্লুনির মঠের উপর জার্মান সম্রাট এবং ফরাসী সম্রাটের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা তিনি বাতিল করেছিলেন।

স্বাধীন ভাবে ক্লুনির মঠের অ্যাবট নির্বাচন

ক্লুনি তাঁর মঠবাসী ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের অ্যাবট নির্বাচন করার অধিকার দিয়েছিলেন। স্থানীয় বিশপ ও শাসকবৃন্দ যাতে মঠের উপর প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করতে না পারে তার ব্যবস্থা করেছিলেন।

ক্লুনির সংস্কার আন্দোলন

ক্লুনি এইভাবে মঠের স্বতন্ত্রতা ও শুদ্ধতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন। ক্লুনির এই প্রচেষ্টা এক নতুন রকমের সংস্কার আন্দোলনের রূপ নিয়েছিল। একেই ক্লুনির সংস্কার আন্দোলন বলা হয়।

ক্লুনির মঠের পরিচয়

দশম শতক থেকেই মধ্যযুগের ইউরোপে ধর্মীয় সংস্কার দেখা যায়। পশ্চিম ইউরোপের মঠগুলি নতুনভাবে ধর্মীয় ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছিল। ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনে বেশ কিছু মঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। এদের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রণী ছিল বার্গান্ডির মঠ ক্লুনি। এছাড়া Metz এর কাছে অবস্থিত মঠ Gorze, Namur এর কাছে অবস্থিত Brogne প্রভৃতি মঠও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

ক্লুনির মঠের বিস্তার লাভ

দ্বাদশ শতকে ইউরোপে বার্গান্ডি, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, লোরেন, ইতালি, জার্মানি সহ ইউরোপের বহু অঞ্চলে ক্লুনির মঠ বিস্তার লাভ করেছিল। একাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়কালে ক্লুনির অধীনে ব্রিটেন, ইতালি ও স্পেনে ১০০টি মঠ এবং ফ্রান্স ও বার্গান্ডিতে ৮০০-রও বেশী মঠ ছিল।

ক্লুনির মঠের ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি

এই ক্লুনির মঠের উল্লেখযোগ্য ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা হলেন সেন্ট বার্নো, অডো, ওডিলো, মোয়োলাস প্রমুখ।

ক্লুনির মঠের উল্লেখযোগ্য পদ

ক্লুনির মঠের একটি উল্লেখযোগ্য পদের নাম হল ‘আরকিম্যানরাইট’। কয়েকটি মঠের প্রধানকে ‘আরকিম্যানরাইট’ উপাধি দেওয়া হত। যারা মঠের ভূ-সম্পত্তি দেখাশোনা করত তাদের “অ্যাডভোকেট” বলা হত।

ক্লুনির মঠের বিখ্যাত অ্যাবট সেন্ট অডো

  • (১) ইতালির ভূস্বামী অ্যালবেরিক “Prince of Rome” রূপে নিজেকে অভিহিত করেছিলেন। তিনি ক্লুনির মঠের বিখ্যাত অ্যাবট সেন্ট অডোকে মঠ সংস্কার আন্দোলনে ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছিলেন। অ্যালবেরিক সেন্ট অডোকে রোম ও তার সন্নিহিত অঞ্চলের সমস্ত মঠের “আরকিম্যানরাইট” পদাভিষিক্ত করেছিলেন।
  • (২) সেন্ট অডো সেন্ট বেনেডিক্ট এর নির্দেশ “আলস্যই আত্মার ক্ষতিসাধন করে” তা মনে রেখেছিলেন। ক্লুনির মঠের অ্যাবট সেন্ট অডোর পুণ্য প্রভাবে প্রভাবিত মঠগুলি হল সারলাত, সেন্ট অ্যাগনেস, সেন্ট লরেন্স, সেন্ট মেরী। এইভাবে ইউরোপের বহু মঠ ক্লুনি ও তার অ্যাবটদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল এবং মঠজীবনধারার আদর্শকে গ্রহণ করেছিল।

ক্লুনির মঠের বিখ্যাত অ্যাবট ওডিলো

দ্বাদশ শতকের ইউরোপে ক্লুনির মঠের একজন বিখ্যাত অ্যাবট ছিলেন ওডিলো। ওডিলো ক্লুনির মঠগুলিকে ক্ষমতাশালী জমিদার, আর্চ বিশপ ও প্রভাবশালী বিশপদের থেকে মুক্ত রাখতে পেরেছিলেন। ওডিলো উপাসনার ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ, ধর্মশাস্ত্রের চর্চা ও শিল্পস্থাপত্যকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মহিমা বাড়ানোর কাজে যথেষ্ট কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।

ক্লুনির সংস্কার হুমবার্টের অনুপ্রেরণা

লোরেনের মঠবাসী ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের মধ্যে হুমবার্ট ছিলেন উল্লেখযোগ্য। ক্লুনির সংস্কারের অনুপ্রেরণায় তিনি তার সংস্কারকে অনুসরণ করেছিলেন। হুমবার্ট মঠের সংস্কারের ক্ষেত্রে স্মরণীয় অবদান রেখেছিলেন।

উপসংহার :- সাধারণ ব্যক্তিদের সন্তুষ্টির জন্য ও মৃত ব্যক্তিদের আত্মার মুক্তি কামনায় প্রত্যেক বছর ২রা নভেম্বর ক্লুনির প্রত্যেকটি মঠে একটি বাৎসরিক প্রার্থনা দিবস পালনের প্রথা প্রচলিত হয়েছিল। এই দিনটি “All Souls Day” নামে পরিচিত। এই প্রার্থনা অনুষ্ঠানই পরবর্তী সময়কালে চার্চের পালনীয় কর্তব্যে পরিণত হয়েছিল।

(FAQ) ক্লুনির মঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. ক্লুনির মঠ প্রতিষ্ঠা করেন কে?

অ্যাকুইটেনের ডিউক উইলিয়াম।

২. ক্লুনির মঠ প্রতিষ্ঠিত হয় কখন?

৯১০ খ্রিস্টাব্দে।

৩. ক্লুনির মঠ কোথায় অবস্থিত?

বার্গাণ্ডিতে।

৪. ক্লুনির মঠের বিখ্যাত অ্যাবট কে ছিলেন?

সেন্ট অডো।

অন্যান্য ঐতিহাসিক ঘটনাগুলি

Leave a Comment