সিসেরোর রাষ্ট্র দর্শন

সিসেরোর রাষ্ট্র দর্শন প্রসঙ্গে আইন তত্ত্ব, রাষ্ট্রনীতি বিষয়ক গ্রন্থ, আইনবিধি, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, আদর্শ রাষ্ট্র, সাম্য নীতি, সরকার, বিশ্ব নাগরিকত্ব, জনকল্যাণ, তার সমালোচনা ও অবদান সম্পর্কে জানব।

সিসেরোর রাষ্ট্র দর্শন

ঐতিহাসিক ঘটনাসিসেরোর রাষ্ট্রচিন্তা
গ্ৰন্থThe Republic, The Laws
সভ্যতাপ্রাচীন রোমান সভ্যতা
প্যাট্রিসিয়ানঅভিজাত শ্রেণি
প্লেবিয়ানসাধারণ প্রজা
‘res populi’জনগণের সম্পত্তি
কমনওয়েলথরাষ্ট্র সমবায়
সিসেরোর রাষ্ট্র দর্শন

ভূমিকা :- সুদূর অতীতে গ্রিক সভ্যতার কালেই পাশ্চাত্য রাষ্ট্রচিন্তার বিকাশ ঘটেছিল। গ্রিসের পণ্ডিত প্লেটো, অ্যারিস্টট্ল, পলিবিয়াস প্রমুখ তাঁদের সময়কালে রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে যথেষ্ট চর্চা করেছিলেন। তাঁদের রাষ্ট্রনীতিচর্চা পরবর্তীকালে পাশ্চাত্যের বহু রাষ্ট্রনীতিবিদের রাষ্ট্রনীতিচর্চাকে প্রভাবিত করেছে। প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার উত্তরসূরি হিসেবে পাশ্চাত্য জগতে রোমান সভ্যতার উত্থান ঘটে। প্রাচীন কালে রোমান সভ্যতায় মার্ক তুল্লি সিসেরো আইন ও রাষ্ট্রনীতি চর্চায় বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।

রোমান রাষ্ট্রচিন্তা ও সিসেরো

প্রাচীন রোমান রাষ্ট্রনীতি ও আইন বিষয়ক চর্চায় বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন সে যুগের শ্রেষ্ঠ রোমান বাগ্মী ও চিন্তাবিদ মার্ক তুল্লি সিসেরো (১০৬-৪৩ খ্রিস্টপূর্ব)। তাঁর রাষ্ট্রচিন্তা প্রাচীন গ্রিক দর্শনের দ্বারা, বিশেষ করে প্লেটো, অ্যারিস্টট্ল, পলিবিয়াস প্রমুখের রাষ্ট্রচিন্তার দ্বারা অনেকাংশে প্রভাবিত হয়েছে। সিসেরোর আবির্ভাবকালে রোমের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছিল।

রোমের নাগরিকদের বিভাগ

রোমের প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নাগরিকরা মূলত দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল – রাষ্ট্রীয় অধিকারভোগী প্যাট্রিসিয়ান বা অভিজাত শ্রেণি এবং রাষ্ট্রীয় অধিকার-বঞ্চিত প্লেবিয়ান বা সাধারণ প্রজা। রাষ্ট্রীয় অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে প্যাট্রিসিয়ানদের সঙ্গে প্লেবিয়ানদের বিরোধ চলছিল। এই প্রেক্ষাপটে সিসেরো তাঁর লেখনীর দ্বারা রোমে এক আদর্শ প্রজাতান্ত্রিক শাসন চালু করার প্রয়োজনের কথা সকলের সামনে তুলে ধরেন।

সিসেরোর রাষ্ট্রদর্শন

এক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক গুলি হল –

(১) আইনতত্ত্ব

সিসেরো ছিলেন একজন প্রখ্যাত রোমান আইনজ্ঞ। তাঁর রাষ্ট্রতত্ত্ব, বিশেষভাবে তাঁর আইনতত্ত্ব প্রাচীন রোমান সভ্যতায় প্রায় সর্বজনীনভাবে গৃহীত হয়েছিল। সিসেরোর পরবর্তীকালেও রোমান সাম্রাজ্য তথা পাশ্চাত্য রাষ্ট্রব্যবস্থায় দীর্ঘকাল তাঁর চিন্তাধারার প্রভাব অক্ষুণ্ণ ছিল। তাঁর তত্ত্ব প্রাচীন যুগ ছাড়িয়ে মধ্যযুগের বিভিন্ন দেশের আইনকেও প্রভাবিত করেছে।

(২) রাষ্ট্রনীতি বিষয়ক গ্রন্থ

তবে আইনের আলোচনার পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্র, সরকার, ন্যায়বিচার, সাম্য প্রভৃতি বিভিন্ন রাষ্ট্রনৈতিক বিষয় সম্পর্কে তাঁর গ্রন্থগুলিতে আলোচনা করেছেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল – ‘De Republica’ (The Republic), De Legibus’ (The Laws) এবং ‘De Offices’ । সিসেরোর গ্রন্থগুলির বক্তব্য ছিল ‘সংগ্রহমূলক’ এবং তিনি নিজেও তা স্বীকার করতেন। এই গ্রন্থগুলিতে সিসেরোর রাষ্ট্রদর্শন প্রকাশিত হয়েছে।

সিসেরোর আলোচিত আইনবিধি

সিসেরোর রাষ্ট্রনৈতিক তত্ত্বের মূল বিষয় ছিল আইনবিধি। তিনি মূলত দুই প্রকার আইনের কথা বলেছেন – প্রাকৃতিক আইন এবং রাষ্ট্রীয় আইন।

(ক) প্রাকৃতিক আইন

  • (১) যে আইনবিধির সহায়তায় ঈশ্বর এই বিশ্বজগৎ শাসন করে চলেছেন তাই হল প্রাকৃতিক আইন। এক কথায়, প্রাকৃতিক জগতের সাধারণ নিয়মকানুনগুলিই হল প্রাকৃতিক আইন। সিসেরোর মতে, “যেসব যুক্তি প্রকৃতির আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ তা-ই হল প্রকৃত আইন। এই আইন সর্বজনীন, অপরিবর্তনীয় এবং চিরন্তন।”
  • (২) নুড়ি পাথর আকাশের দিকে ছুঁড়লেও প্রাকৃতিক নিয়ম বা আইনের জন্যই তা মাটির দিকে নেমে আসে। কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ ছাড়াই প্রাকৃতিক আইনগুলি সর্বদা মান্য করা হয়। সিসেরোর মতে, দৈব নির্দেশে পৃথিবী পরিচালিত হচ্ছে এবং এই নির্দেশ থেকেই প্রাকৃতিক আইন পৃথিবীর সর্বত্র প্রকাশ পাচ্ছে। তাই প্রাকৃতিক আইন হল সর্বজনীন। এই আইনের প্রতি ব্যক্তির চূড়ান্ত আনুগত্য তথা মান্য করার মানসিকতা থাকা উচিত।

(খ) রাষ্ট্রীয় আইন

রাষ্ট্রীয় আইনগুলি হল মনুষ্যসৃষ্ট। ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণের উদ্দেশ্যেই রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগ করা হয়। তাই ব্যক্তির উচিত হল প্রাকৃতিক আইনের পরই রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা। সিসেরোর মতে প্রাকৃতিক আইনের চরিত্র উপলব্ধি করে রাষ্ট্রীয় আইন রচনা করলে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা থাকবে না।

ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা বিষয়ে সিসেরোর ব্যাখ্যা

  • (১) প্লেটোর ‘Republica’ গ্রন্থের আদর্শে প্রভাবিত হয়ে সিসেরো তাঁর ‘De Republica’ গ্রন্থের অনেকটা অংশ জুড়ে ন্যায় ও ন্যায়বিচার সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তৎকালীন রোমান রাষ্ট্র-পরিচালনার প্রয়োজনে অন্যায়-অবিচারের পথ গ্রহণ করা হত।
  • (২) কিন্তু সিসেরো রোমান রাষ্ট্রের এই নীতির বিরোধিতা করে ন্যায়পরায়ণতা ও ন্যায়বিচারকে জাতির মেরুদণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ন্যায়নীতি হল প্রকৃতির দান। অধিকার ও ন্যায়নীতি প্রাকৃতিক আইনের অংশ। আবার মানুষও প্রকৃতির অংশ।
  • (৩) সেই হিসেবেই মানুষ প্রাকৃতিক আইনের অধিকার ও ন্যায়নীতি সম্পর্কে সচেতন। ন্যায়বিচারের অভাবেই সমাজে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা না হলে কখনও কল্যাণকামী আইন প্রণয়ন ও সুসংহত সমাজের প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

সিসেরোর মতে আদর্শ রাষ্ট্র

সিসেরো তাঁর ‘De Republica’ গ্রন্থে ‘আদর্শ রাষ্ট্র’ ব্যবস্থার ধারণা দিয়েছেন।

(১) বাস্তববাদী দৃষ্টিভশি

তবে প্লেটো যেমন ভাববাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা ব্যাখ্যা করেছেন সিসেরো তা করেন নি। সিসেরো বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তাঁর আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা ব্যাখ্যা করেছেন।

(২) রাষ্ট্র প্রাকৃতিক প্রতিষ্ঠান

তাঁর মতে, একাকিত্ব, ভয়ভীতি, সন্ত্রাস প্রভৃতি থেকে মুক্তি পেতে নয়, মানুষের সহজাত ইচ্ছা এবং সামাজিক প্রবণতা থেকেই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। তাই রাষ্ট্র কোনোভাবেই কৃত্রিম প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রতিষ্ঠান।

(৩) রাষ্ট্র জনগণের সম্পত্তি

সিসেরো রাষ্ট্রকে একটি ‘res populi’ বা জনগণের সম্পত্তি বলে উল্লেখ করেছেন এবং সকলের কল্যাণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রে সকলের অংশগ্রহণকে সমর্থন করেছেন।

সিসেরোর ব্যাখ্যায় সাম্যনীতি

এক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক গুলি হল –

(১) সাম্যনীতির অপরিহার্যতা

সিসেরো তার রাষ্ট্রচিন্তায় সাম্যনীতিকে মানবজীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনের এক অপরিহার্য নৈতিক শর্ত বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁর মতে, প্রাকৃতিক আইনেও সাম্যের নীতি বর্তমান। শিক্ষা-সংস্কৃতি, আর্থিক শক্তি, শারীরিক গঠন প্রভৃতি বিষয়ে মানুষে মানুষে পার্থক্য থাকলেও সকল মানুষই প্রকৃতিগতভাবে সমান।

(২) অসাম্যের বিরোধিতা

কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু মানুষ সমাজে অসাম্য সৃষ্টি করে। এর ফলে প্রাকৃতিক আইনকেই অস্বীকার করা হয়। সামগ্রিকভাবে জনগণের হাত থেকেই রাষ্ট্রের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়। এজন্য কিছু মানুষ প্রভুত্ব করবে এবং কিছু মানুষ ক্রীতদাসের জীবন যাপন করবে – এই বিষয় সিসেরো সমর্থন করেন নি।

সিসেরোর ব্যাখ্যায় সরকার

  • (১) পূর্বতন চিন্তাবিদ পলিবিয়াসের অনুকরণে সিসেরো তিন প্রকার সরকারের উল্লেখ করেছেন – রাজতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র এবং গণতন্ত্র। অ্যারিস্টলের মত অনুসরণ করে সিসেরো বলেছেন যে, একজনের শাসন হল রাজতন্ত্র, কয়েকজনের শাসন হল অভিজাততন্ত্র এবং বহুজনের বা রাষ্ট্রের সকলের শাসন হল গণতন্ত্র।
  • (২) তাঁর মতে, উক্ত যে-কোনো সরকারই যখন-তখন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। এজন্য উক্ত তিন ধরনের সরকারের গুণাবলির সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা কোনো সরকার হবে শ্রেষ্ঠ সরকার। এরূপ মিশ্র সরকার ন্যায়, সাম্য ও কল্যাণকামী আদর্শ গ্রহণে সক্ষম বলে সিসেরো মনে করতেন। তাঁর মতে, রোমান সংবিধান হল মিশ্র সরকারের অন্যতম উদাহরণ।

সিসেরোর আলোচিত বিশ্বনাগরিকত্ব

সিসেরো বিশ্বজনীন আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সমগ্র বিশ্বকে একটি মাত্র রাষ্ট্রে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ে একটি রাষ্ট্র-সমবায় বা ‘কমনওয়েলথ’ গড়ে তোলার আদর্শ প্রচার করেন। তাঁর মতে, সমগ্র বিশ্ব জুড়ে একটি মাত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে সকল মানুষ এই রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ভোগ করবে। এই রাষ্ট্রে ধনী-দরিদ্র সকলেই আইনের কাছ থেকে সমান অধিকার লাভ করবে এবং সকলেই প্রাকৃতিক আইন মেনে চলবে। ফলে বিশ্বনাগরিকের উদ্ভব ঘটবে।

সিসেরোর আলোচনায় জনকল্যাণ

সিসেরো জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর মতে, আইনসংগতভাবে গঠিত সমাজ-সংগঠনের মূল লক্ষ্যই হওয়া উচিত সমাজের কল্যাণসাধন করা। মানুষের নিজের কল্যাণের প্রয়োজনে বিবর্তনের পথ ধরে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। মানবকল্যাণের জন্য রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতা, সাম্য, প্রাকৃতিক আইন প্রভৃতির প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।

সিসেরোর সমালোচনা

রাষ্ট্রচিন্তার জগতে সিসেরোর অবদান সম্পর্কে বিভিন্ন সমালোচনা করা হয়। যেমন –

(১) সামান্য অবদান

কোনো কোনো সমালোচক মনে করেন যে রাষ্ট্রচিন্তায় সিসেরোর মৌলিকত্ব এবং অবদান সামান্যই ছিল। তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের রাষ্ট্রচিন্তাকে অনুকরণ করে রোমান ব্যবস্থার সঙ্গে একে সম্পর্কযুক্ত করেছিলেন মাত্র।

(২) মৌলিকতার অভাব

স্যাবাইন বলেছেন যে, সিসেরোর রাষ্ট্রচিন্তায় মৌলিকত্ব কিছুই নেই। তিনি পলিবিয়াসের অনুকরণে রাষ্ট্রে তিন ধরনের শাসনব্যবস্থার কথা বলেছেন। প্লেটো ও স্টয়িক (ভোগসুখবাদী) দার্শনিকদের ন্যায়বিচার ও প্রাকৃতিক আইনের ধারণা গ্রহণ করে তিনি এই আইনগুলি রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রয়োগের কথা বলেছেন।

(৩) অবাস্তবিক

ডানিং বলেছেন যে, পুরোনো রোমান নীতি ও পদ্ধতিগুলি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সিসেরোর উদ্দেশ্য মহৎ হলেও তা তৎকালীন রোমের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবসম্মত ছিল না।

সিসেরো অবদান

বিভিন্ন সমালোচনা সত্ত্বেও রাষ্ট্রনীতিতে সিসেরোর অবদানকে অস্বীকার করা যায় না। যেমন  –

(১) অমরত্ব দান

অধ্যাপক ম্যাক্সের মতে, সিসেরোর রাষ্ট্রদর্শনে মৌলিকত্ব না থাকলেও এই রাষ্ট্রদর্শনের বিভিন্ন বিষয়গুলিকে তিনি অমরত্ব দান করেছিলেন যা তাঁর পূর্বসূরি মূল রাষ্ট্রচিন্তাবিদরা পারেন নি।

(২) আইন রচনায় প্রভাব

অধ্যাপক গেটেল বলেছেন যে, রোমে সাম্প্রদায়িক দলাদলি এবং স্বদেশপ্রেমের অবনতিকালে সিসেরোর ন্যায়বিচার ও প্রাকৃতিক আইনের ধারণা রোমান আইন রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল।

(৩) কমনওয়েলথের ধারণার গুরুত্ব

সিসেরোর রাষ্ট্রচিন্তা বহু শতাব্দী ধরে পাশ্চাত্য জগৎকে পরিচালিত করেছিল। তাঁর রাষ্ট্র-সমবায় বা কমনওয়েলথ গঠনের ধারণা বর্তমানকালে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ (U.N.O.) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রূপায়িত হয়েছে বলে মনে করা যেতে পারে।

(৪) প্রাকৃতিক আইনের গুরুত্ব

সিসেরো প্রাকৃতিক আইনের ধারণাকে যে উচ্চতায় স্থাপন করেছিলেন তার ফলেই পরবর্তীকালের রোমান আইনজীবী ও ধর্মযাজকগণ প্রাকৃতিক আইনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তিনিই গ্রিসের প্রাকৃতিক আইনের ধারণাকে রোমের রাষ্ট্রনীতিতে প্রতিফলিত করেন।

উপসংহার :- সবশেষে বলা যায় যে, তিনি রোমান জাতিকে গ্রিক সভ্যতার আলোকে উদ্ভাসিত করে তাদের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।

(FAQ) মহাপ্রজাপতি গৌতমী সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. সিসেরো কে ছিলেন?

প্রাচীন রোমান সভ্যতার আইনবিদ ও রাষ্ট্রনীতিবিদ।

২. সিসেরোর দুটি গ্ৰন্থের নাম লেখ।

‘De Republica’ (The Republic), De Legibus’ (The Laws)

৩. রাষ্ট্র সমবায় বা কমনওয়েলথ গড়ে তোলার আদর্শ প্রচার করেন কে?

মার্ক তুল্লি সিসেরো।

অন্যান্য ঐতিহাসিক ঘটনাগুলি

Leave a Comment