টমাস ক্রমওয়েল

টমাস ক্রমওয়েল প্রসঙ্গে তার প্রথম জীবন, উত্থান, টিউডর বিপ্লব, সংস্কার পার্লামেন্ট ও ক্রমওয়েলের ধর্মসংস্কার, এ্যাক্ট অফ সুপ্রিমেসি পাস, মঠের প্রাধান্য ধ্বংস, পার্লামেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি, তার পরিণতি ও তার সংস্কারের ফলাফল সম্পর্কে জানবো।

টমাস ক্রমওয়েল

ঐতিহাসিক চরিত্রটমাস ক্রমওয়েল
দেশইংল্যান্ড
পেশামন্ত্রী
রাজাঅষ্টম হেনরি
অ্যাক্ট অফ সুপ্রিমেসি১৫৩৪ খ্রি
বৈপ্লবিক পরিবর্তনটিউডর বিপ্লব
প্রাণদণ্ড১৫৪০ খ্রি
টমাস ক্রমওয়েল

ভূমিকা :- ইংল্যান্ডে টিউডর বংশের শাসনকালে টমাস ক্রমওয়েল একজন মন্ত্রী হিসেবে সে দেশের রাষ্ট্রনীতিতে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

টমাস ক্রমওয়েলের প্রথম জীবন

  • (১) টমাস ক্রমওয়েল ছিলেন এক কর্মকারের পুত্র। প্রথম জীবনে তিনি সৈনিক হিসেবে ইতালির যুদ্ধে যোগ দেন। ইতালিতে বসবাসের কালে তিনি নির্মমভাবে স্বৈরাচারী ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টি স্বচক্ষে দেখেন। এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তাঁর পরবর্তী জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে।
  • (২) পরবর্তীকালে ইংল্যান্ডে ফিরে তিনি আইন অধ্যয়ন করেন এবং মন্ত্রী উলসির অধীনে চাকুরি গ্রহণ করেন। তিনি অর্থলগ্নীর ব্যাবসা করে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হন এবং ইংল্যান্ডের হাউস অফ কমন্স-এর সদস্যপদ লাভ করেন। পরবর্তীকালে উলসির পতনের পর ক্রমওয়েল মন্ত্রীপদ লাভ করেন।

টমাস ক্রমওয়েলের উত্থান

  • (১) সপ্তম হেনরির আমলে ইংল্যান্ডে রাজতন্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী রাজা অষ্টম হেনরির আমলে (১৫০৯-১৫৪৭ খ্রি.) মন্ত্রী টমাস ক্রমওয়েল ইংল্যান্ডের শাসনতান্ত্রিক বিষয়গুলি নিয়ে নানা পরীক্ষানিরীক্ষা করেন। ক্রমওয়েল ছিলেন ইংল্যান্ডের যাজক শ্রেণিবহির্ভূত প্রথম শক্তিশালী মন্ত্রী।
  • (২) তিনি পূর্বতন মন্ত্রী কার্ডিনাল উলসির সহায়তায় প্রতিমন্ত্রীপদ লাভ করেন। ক্রমওয়েলের পূর্বতন মন্ত্রী ক্যাথোলিক ধর্মাবলম্বী কার্ডিনাল উলসি ছিলেন ইংল্যান্ডের যাজক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত সর্বশেষ শক্তিশালী মন্ত্রী। তিনি ইউরোপের বিভিন্ন রোমান ক্যাথোলিক রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালান।
  • (৩) তিনি ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরি ও রানি ক্যাথারিনের মধ্যে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ফ্রান্সের রাজকুমারীর সঙ্গে অষ্টম হেনরির বিবাহের পরিকল্পনা করেন। অবশ্য শেষপর্যন্ত উলসির সমস্ত পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। কিন্তু উলসির উত্তরসুরি মন্ত্রী টমাস ক্রমওয়েল রাজনীতির অধিকাংশ উদ্যোগেই সাফল্য পান।

টিউডর বিপ্লব ও টমাস ক্রমওয়েল

টমাস ক্রমওয়েল রাজনীতির নানা দুর্গম পথ পেরিয়ে শক্তিশালী মন্ত্রীপদ লাভ করেন। ইংল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় ক্ষেত্রে টমাস ক্রমওয়েল উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাঁর নীতি ছিল বহুক্ষেত্রে পূর্বতন মন্ত্রী কার্ডিনাল উলসির বিপরীত। যেমন –

(১) ক্যাথোলিক চার্চের ক্ষমতা ধ্বংস

তিনি উলসির বিপরীত পদক্ষেপ নিয়ে ইংল্যান্ডে ধর্মসংস্কার আন্দোলনকে কার্যকরী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। তিনি ইংল্যান্ডের চার্চের ক্ষমতা ধ্বংস করে রাজার ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন, রাজা অষ্টম হেনরি ও ক্যাথারিনের বিবাহ-বিচ্ছেদ সম্পন্ন করেন, ক্যাথোলিক দেশের পরিবর্তে প্রোটেস্টান্ট দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন ইত্যাদি।

(২) জাতীয় চার্চ প্রতিষ্ঠা

তিনি ছিলেন মনেপ্রাণে রাজতন্ত্রের অনুরাগী ও রাজার সমর্থক। ইংল্যান্ডের রাজার ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বিশেষ করে ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে উলসির মৃত্যুদণ্ডের পরবর্তী এক দশকে ক্রমওয়েলের নেতৃত্বে টিউডর বংশের রাজা অষ্টম হেনরির আমলে ইংল্যান্ডে বেশ কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। রোমান চার্চের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ইংল্যান্ডে ‘জাতীয় চার্চ’ গড়ে তোলা হয় এবং দেশে ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠিত হয়। অনেকে এইসব পরিবর্তনকে ‘টিউডর বিপ্লব’ বলে অভিহিত করেছেন।

সংস্কার পার্লামেন্ট ও ক্রমওয়েলের ধর্মসংস্কার

ইংল্যান্ডের ধর্মসংস্কারে টমাস ক্রমওয়েল বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি সংস্কার পার্লামেন্টের দ্বারা ইংল্যান্ডের ধর্মসংস্কার আন্দোলনকে সফল ‘জনগণের বিপ্লব’-এ পরিণত করেন।

(১) পোপের প্রাধান্য বাতিল

পার্লামেন্টের আইনের সহায়তায় ইংল্যান্ডের চার্চে পোপের প্রাধান্য বাতিল করে তিনি রাজার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করলে রাজার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

(৩) রাজার ক্ষমতা বৃদ্ধি

প্রকৃতপক্ষে সংস্কার পার্লামেন্টের সময়ই ইংল্যান্ডের রাজা সর্বাধিক ক্ষমতার অধিকারী হন। রাজা চার্চের যাবতীয় সম্পত্তি হস্তগত করলে তাঁর আর্থিক শক্তিও বৃদ্ধি পায়।

(৪) গ্রেট বাইবেল সংস্করণ প্রকাশ

ইংরেজিতে অনূদিত এবং বিদেশে মুদ্রিত যেসব বাইবেল গোপনে ইংল্যান্ডে আনা হয়েছিল তা ধ্বংস করে ক্রমওয়েল বাইবেলের ইংরেজি অনুবাদের জন্য মাইলস কভারডাল কে উৎসাহিত করেন। ‘গ্রেট বাইবেল’ নামে পরিচিত এই বাইবেল ১৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থ ইংল্যান্ডের প্রতিটি চার্চে রাখা হয় এবং ব্যক্তিগতভাবেও জনগণকে এই বাইবেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়।

টমাস ক্রমওয়েলের অ্যাক্ট অফ সুপ্রিমেসি

এই আইনের বিভিন্ন দিক গুলি হল –

(১) রাজার নিয়ন্ত্রণে চার্চ

টমাস ক্রমওয়েল ভাইকার জেনারেল বা মুখ্য ধর্মীয় আধিকারিকের পদে নিযুক্ত হয়ে ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে ‘অ্যাক্ট অফ সুপ্রিমেসি’ নামে একটি আইন পাস করেন। এর দ্বারা তিনি ইংল্যান্ডে সব চার্চকে রাজার নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেন।

(২) ছোটো মঠ বাজেয়াপ্ত

তিনি ইংল্যান্ডের যাজকদের অ্যাক্ট অফ সুপ্রিমেসি-র সপক্ষে প্রচারের নির্দেশ দেন এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইংল্যান্ডের ছোটো ছোটো মঠগুলি বাজেয়াপ্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরপর তিনি বড়ো মঠগুলির ওপর রাষ্ট্রের আধিপত্য স্থাপন করেন।

(৩) প্রাণদণ্ড

ক্রমওয়েল কর্তৃক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও যাজকদের ক্ষমতা ধ্বংসের নীতি এবং অ্যাক্ট অফ সুপ্রিমেসি আইনের প্রতিবাদ করলে সে যুগের দুই বিখ্যাত পণ্ডিত স্যার টমাস মুর ও ফিশারকে ক্রমওয়েল প্রাণদণ্ড দেন।

টমাস ক্রমওয়েল কর্তৃক মঠের প্রাধান্য ধ্বংস

এক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক গুলি হল –

(১) বিদ্রোহের সূচনা

ছোটো মঠগুলি ধ্বংস করতে ক্রমওয়েল যে নীতি নেন তার বিরুদ্ধে ১৫৩৬ খ্রিস্টাব্দে উত্তর ইংল্যান্ডে পিলগ্রিমেস অফ গ্রেস’ নামে এক বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। যাজক শ্রেণির সঙ্গে স্থানীয় ভূস্বামীরা যোগদানের ফলে বিদ্রোহ ব্যাপক আকার ধারণ করে।

(২) বিদ্রোহ দমন

টমাস ক্রমওয়েল কঠোর হাতে এই বিদ্রোহ দমন করেন। বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে লর্ড ডার্সি, লর্ড হুসে-সহ কয়েকটি মঠের অ্যাবট এবং বিদ্রোহী নেতাদের প্রাণদণ্ড অথবা কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

(৩) মঠের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

এভাবে ইংল্যান্ডের ছোটোবড়ো সব ধরনের মঠের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজা অষ্টম হেনরি অধিকাংশ মঠের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের অধীনে আনেন। ফলে রাজকোশ ফুলে ফেঁপে ওঠে। অষ্টম হেনরির ক্ষমতা ও অর্থ উভয়েরই তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। টমাস ক্রমওয়েলের নীতির দ্বারা রাজার উভয় আকাঙ্ক্ষাই চরিতার্থ হয়।

টমাস ক্রমওয়েল পার্লামেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধি

এক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক গুলি হল –

(১) রাজার ক্ষমতা বৃদ্ধি

ক্রমওয়েল রাজতন্ত্রের সম্মান বৃদ্ধির পাশাপাশি ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টকে শক্তিশালী করে তোলেন। তিনি প্রথমে রাজা অষ্টম হেনরিকে যাবতীয় ক্ষমতার অধিকারী করে তাঁকে সন্তুষ্ট করেন।

(২) পার্লামেন্টকে বিভিন্ন অধিকার দান

এরপর তিনি রাজাকে দিয়েই ঘোষণা করান যে, রাজার সার্বভৌম ক্ষমতা পার্লামেন্টের হাতেই নিহিত। ক্রমওয়েল পার্লামেন্টের সদস্যদের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, গ্রেপ্তারের হাত থেকে মুক্ত থাকা, সদস্য নির্বাচনে বিতর্কের সৃষ্টি হলে তাতে হস্তক্ষেপ করা প্রভৃতির অধিকার দেন।

(৩) নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের পটভূমি

এভাবে ক্রমওয়েল ভবিষ্যৎ ইংল্যান্ডের সীমাবদ্ধ রাজতন্ত্র এবং পার্লামেন্টের সুদৃঢ় ক্ষমতার কাঠামোটি গড়ে তোলেন। এর পরিণতিতে পরবর্তী স্টুয়ার্ট যুগে ইংল্যান্ডে রাজার ক্ষমতা আরও হ্রাস পায় এবং পার্লামেন্টের ক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হয়। ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দে গৌরবময় বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্র সেখানে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রে পরিণত হয়।

টমাস ক্রমওয়েলের পরিণতি

শেষ পর্যন্ত টমাস ক্রমওয়েলের জীবনেও নিয়তির পরিহাস দেখা যায়।

(১) ব্যর্থতা

শেষদিকে ক্রমওয়েল পরপর কয়েকটি কাজের পদক্ষেপ নিয়ে ব্যর্থ হন। পরবর্তীকালে টমাস ক্রমওয়েলের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডে নানা অসন্তোষ দেখা দেয়। তাঁর বৈদেশিক নীতির বিরুদ্ধে নানা ক্ষোভ জমতে থাকে।

(২) বিবাহে ভাঙন

তাঁর উদ্যোগে রাজা অষ্টম হেনরি অ্যান নামক রাজকুমারীকে বিবাহ করলেও শীঘ্রই এই বিবাহ ভেঙে যায়। ফলে অপমানিত অষ্টম হেনরি মন্ত্রী ক্রমওয়েলের ওপর ক্ষুদ্র হন।

(৩) বিরোধ

তাঁর সংস্কার আন্দোলনের গতিরোধ করার উদেশ্যে রাজা অষ্টম হেনরি, অভিজাত দলের নেতা নরফোকের ডিউক এবং লন্ডন ও উইনচেস্টারের বিশপরা চেষ্টা শুরু করেন। ফলে টমাস ক্রমওয়েলের সঙ্গে তাদের বিরোধ বাধে এবং ক্রমওয়েলের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে।

(৪) প্রাণদণ্ড

শেষপর্যন্ত ক্রমওয়েল রাজদ্রোহের অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হন।

(৫) নিজের তৈরি আইনের শিকার

প্রসঙ্গত বলা দরকার যে, তাঁর পূর্বতন মন্ত্রী উলসির জীবনেও একই পরিণতি ঘটেছিল। উলসি এবং টমাস ক্রমওয়েলের উদ্দেশ্য ও নীতি সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী হলেও নিয়তির পরিহাসে উভয়ের জীবনের শেষ পরিণতিতে অদ্ভুত মিল দেখা যায়। যে ‘অ্যাক্ট অব অ্যাটেণ্ডার’ আইনের দ্বারা অভিযুক্ত করে ক্রমওয়েলের মুণ্ডুচ্ছেদ করা হয় সেই আইনটি একদা ক্রমওয়েলই তৈরি করেছিলেন রাজার হাত শক্ত করার উদ্দেশ্যে।

ক্রমওয়েলের সংস্কারের ফলাফল

টমাস ক্রমওয়েলের রাজনৈতিক পদক্ষেপের বিভিন্ন ফলাফল লক্ষ্য করা যায়। যেমন –

(১) পোপ-বিরোধিতা

তাঁর নীতির ফলে ইংল্যান্ডের সমাজ ও রাজনীতিতে নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। ইংল্যান্ডের অভিজাত টিউডর সম্প্রদায় এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি পোপ-বিরোধী দলের স্থায়ী সমর্থকে পরিণত হয়।

(২) ধর্মকর থেকে মুক্তি

ছোটো মঠগুলি ধ্বংস হওয়ায় ইংল্যান্ডের দরিদ্ররা অতিরিক্ত ধর্মকর প্রদানের হাত থেকে মুক্তি পায়।

(৩) বেকারত্ব

অবশ্য ছোটো মঠগুলির বিলুপ্তি ঘটলে এইসব মঠের কাজে নিযুক্ত থাকা বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়ে। তাদের জীবনে গভীর অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়।

(৪) নতুন জমিদার শ্রেণি

মঠের বাজেয়াপ্ত করা বিপুল সম্পত্তি রাজা তাঁর অনুগত লোকেদের মধ্যে বিলি করার ফলে নতুন জমিদার শ্রেণির উদ্ভব ঘটে।

(৫) বেষ্টনী প্রথা

জমিদারদের কৃষিজমিগুলি বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে তা ঘিরে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এভাবে ইংল্যান্ডে জমিতে বেষ্টনী প্রথা বা Enclosure System চালু হতে থাকে। এসব জমিকে ঘিরে এখানে পশুপালন শুরু হলে ইংল্যান্ডে পশুপালন ও পশম শিল্পের দ্রুত উন্নতি ঘটে।

উপসংহার :- ইংল্যান্ডের আধুনিক শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর বিকাশে টমাস ক্রমওয়েলের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি একদিকে যেমন ইংল্যান্ডের রাজার ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন অপরদিকে তেমনি পার্লামেন্টকে বিভিন্ন অধিকার দান করে শাসনতান্ত্রিক ক্ষেত্রে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর অসংখ্য ব্যর্থতা সত্ত্বেও এ কথা স্বীকার করতে বাধা নেই যে, ইংল্যান্ডে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাঁর নীতির ফলেই।

(FAQ) টমাস ক্রমওয়েল সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. অ্যাক্ট অফ সুপ্রিমেসি কে কখন পাশ করেন?

টমাস ক্রমওয়েল ১৫৩৪ খ্রিস্টাব্দে।

২. টমাস ক্রমওয়েল কার রাজত্বকালে মন্ত্রী ছিলেন?

 ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরি।

৩. ইংল্যান্ডে গৌরবময় বিপ্লব সংঘটিত হয় কখন?

১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দে।

৪. টমাস ক্রমওয়েল প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হন কখন?

১৫৪০ খ্রিস্টাব্দে।

Leave a Comment