ত্রিশক্তি চুক্তি বা ত্রিশক্তি আঁতাত

১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত ত্রিশক্তি চুক্তি বা ত্রিশক্তি আঁতাত প্রসঙ্গে ফ্রান্সের ক্ষোভ, ফ্রান্সকে মিত্রহীন করা, বিসমার্কের পদচ্যুতি, জার্মান বিরোধী শক্তি জোট, রি ইনসিওরেন্স চুক্তি বাতিল, রাশিয়ার ক্ষোভ, ফরাসি সাহায্য, সামরিক চুক্তি, সামরিক চুক্তির শর্ত, ইঙ্গ-ফরাসি মৈত্রীর কারণে হিসেবে ইংল্যান্ডের ভীতি, ইংল্যান্ড রাশিয়া বিরোধ, জার্মানির প্রত্যাখ্যান, ইঙ্গ-জাপ চুক্তি, ইঙ্গ-রুশ কনভেনশন গড়ে ওঠার কারণ হিসেবে ইঙ্গ-জাপ চুক্তি, ইংল্যান্ডের রুশ ভীতি হ্রাস, মিত্রতা স্থাপনের আগ্ৰহ, জার্মান ভীতি, ফ্রান্সের মধ্যস্থতা, চুক্তি স্বাক্ষর ও ত্রিশক্তি আঁতাত গঠন সম্পর্কে জানবো।

Table of Contents

ত্রিশক্তি চুক্তি বা ত্রিশক্তি আঁতাত

ঘটনা ত্রিশক্তি আঁতাত গঠন
সময়কাল ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ
স্বাক্ষরকারী ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া
বিরোধী জোট ত্রিশক্তি মৈত্রী
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
ত্রিশক্তি চুক্তি বা ত্রিশক্তি আঁতাত

ভূমিকা:- একদিকে বিসমার্ক -এর উদ্যোগে জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইতালির মধ্যে ত্রিশক্তি মৈত্রী গড়ে ওঠে, অন্যদিকে ত্রিশক্তি মৈত্রীর বিরোধী শক্তি জোট হিসেবে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে ত্রিশক্তি চুক্তি গড়ে ওঠে। এইভাবে দুটি পরস্পর বিরোধী শক্তি জোটের উদ্ভবে ইউরোপীয় রাজনীতি জটিলতা রূপ ধারণ করে।

ফ্রান্সের ক্ষোভ

১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে প্রাশিয়ার বিরুদ্ধে সেডানের যুদ্ধ -এ ফ্রান্সের পরাজয় ফ্রান্সের কাছে জাতীয় অপমান বলে প্রতিভাত হয়। শিল্পসমৃদ্ধ আলসাস-লোরেন অঞ্চল হস্তচ্যুত হওয়ায় ফ্রান্স প্রবলভাবে ক্ষুব্ধ হয়। এর প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য ফ্রান্সের তৎপর হওয়া অতি স্বাভাবিক ছিল।

ফ্রান্সকে মিত্রহীন করা

এই অবস্থায় ঐক্যবদ্ধ জার্মানির চ্যান্সেলার বিসমার্ক ফ্রান্সকে ইউরোপে মিত্রহীন করে রাখার উদ্দেশ্যে এক মৈত্রী ব্যবস্থা গড়ে তোলেন – তার নাম ত্রিশক্তি মৈত্রী। বিসমার্ক যতদিন জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন, ততদিন ইউরোপে ফ্রান্সকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার নীতি সফল হয়।

বিসমার্কের পদচ্যুতি

দীর্ঘ দুই দশক পর নব-নিযুক্ত জার্মান সম্রাট কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়মের সঙ্গে বৈদেশিক নীতির প্রশ্নে তাঁর গুরুতর মতপার্থক্য হয় এবং এর ফলে ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে বিসমার্ক পদচ্যুত হন।

জার্মান বিরোধী শক্তি জোট

সম্রাট দ্বিতীয় উইলিয়ম বিসমার্কের শাস্তিবাদী নীতি বাতিল করে বিশ্ব-রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সাম্রাজ্য বিস্তারের নীতি গ্রহণ করলে বিসমার্ক-প্রবর্তিত মৈত্রী-ব্যবস্থায় ফাটল ধরে এবং ইউরোপে জার্মানি-বিরোধী শক্তিজোটের উদ্ভব হতে থাকে।

রি-ইনসিওরেন্স চুক্তি বাতিল

ফ্রান্সকে কোণঠাসা করে রাখার উদ্দেশ্যে বিসমার্ক রাশিয়ার সঙ্গে রি-ইনসিওরেন্স চুক্তি নামে এক গোপন চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুভালভ এই চুক্তি নবীকরণের আবেদন জানালে জার্মান সম্রাট এই প্রস্তাব বাতিল করে দেন।

রাশিয়ার ক্ষোভ

তিনি এই মৈত্রী উপেক্ষা করে বলকান অঞ্চলে অস্ট্রিয়ার সম্প্রসারণকে সমর্থন জানান। এর ফলে রাশিয়া ক্ষুব্ধ হয় এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই ফ্রান্স ও রাশিয়ার মৈত্রীর পথ প্রশস্ত হয়।

ফরাসি সাহায্য

এই সময় নানা কারণে রাশিয়ার পক্ষে ফরাসি সাহায্যের প্রয়োজনও ছিল। যেমন –

  • (১) ফ্রান্স রাশিয়াকে প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেয়।
  • (২) রেলপথ নির্মাণ ও শিল্পোন্নয়নের জন্য রাশিয়া ফরাসি ঋণের মুখাপেক্ষী ছিল।
  • (৩) বলকান অঞ্চলে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সংঘর্ষের কারণেও রাশিয়ার পক্ষে ফরাসি তৈরী প্রয়োজনীয় ছিল।

সামরিক চুক্তি

নিজ নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করে ফ্রান্সও রুশ মৈত্রীতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া ও ফ্রান্সের মধ্যে একটি গোপন সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

সামরিক চুক্তির শর্ত

এই চুক্তি অনুসারে স্থির হয় যে, জার্মানি ও ইতালি যুগ্মভাবে বা এককভাবে ফ্রান্স আক্রমণ করলে রাশিয়া ফ্রান্সকে সেনা দিয়ে সাহায্য করবে। অপরদিকে, জার্মানি বা অস্ট্রিয়া এককভাবে বা যুগ্মভাবে রাশিয়া আক্রমণ করলে ফান্স রাশিয়াকে সাহায্য করবে।

ফ্রান্সের নিঃসঙ্গতার অবসান

১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই জানুয়ারি এই চুক্তি অনুমোদিত হয়। এই চুক্তির ফলে রুশ-জার্মান রি-ইনসিওরেন্স চুক্তি বাতিল হয়ে যায়, জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইতালির ত্রিশক্তি মৈত্রীর বিরুদ্ধে প্রথম শক্তিজোট গড়ে ওঠে এবং ফ্রান্সের দীর্ঘ নিঃসঙ্গতার অবসান ঘটে।

ইঙ্গ-ফরাসি মৈত্রী

এই সময় ইঙ্গ- ফরাসি মৈত্রী স্থাপনের পিছনে বেশ কিছু কারণ ছিল। যেমন –

(১) ইংল্যান্ডের নিঃসঙ্গতার নীতি শিথিল

ইতি মধ্যে ইউরোপীয় রাজনীতির জটিলতার ফলে ইংল্যান্ডের ‘নিঃসঙ্গতা’-র নীতি ক্রমশ শিথিল হয়ে আসছিল।

(২) ইংল্যান্ডের ভীতি

জার্মানির বিশ্ব সাম্রাজ্য স্থাপনের ঘোষণা, নৌশক্তি বৃদ্ধি, উপনিবেশ স্থাপন ইংল্যান্ডের মনে ভীতির সঞ্চার করে। ইংল্যান্ড মানে করে যে জার্মান আক্রমণে একদিন ইংল্যান্ডের নৌশক্তি, ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।

(৩) ইংল্যান্ড-রাশিয়া বিরোধ

আফগানিস্তান, তিব্বত, পারস্য ও মাঞ্চুরিয়া নিয়ে ইংল্যান্ডের সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধ ছিল।

(৪) ইংল্যান্ড-ফ্রান্স বিরোধ

মিশর ও মরক্কো নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে ইংল্যান্ডের বিরোধ ছিল। এই অবস্থায় ইংল্যান্ডের অনেকেই ফ্রাঙ্কো-রুশ জোটের বিরুদ্ধে ইঙ্গ-জার্মান জোট গঠনের দ্বারা শক্তিসাম্য রক্ষার কথা বলেন।

(৫) জার্মানির প্রত্যাখ্যান

ব্রিটিশ মন্ত্রী চেম্বারলেইন এবং ব্রিটিশ কূটনীতিক লর্ড হলডেন অন্তত তিনবার কাইজারের কাছে মিত্রতার প্রস্তাব পাঠান। কাইজার তাদের আবেদনে কোনও সাড়া না দিলে তাঁরা হতাশ হন। ব্রিটিশ সরকার উপলব্ধি করে যে, ইংল্যান্ডের ‘গৌরবময় বিচ্ছিন্নতা’ ক্রমে ‘ভয়ঙ্কর বিচ্ছিন্নতা’-য় পরিণত হতে চলেছে।

(৬) ইঙ্গ-জাপান চুক্তি

দূর প্রাচ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ইংল্যান্ডের বিবাদ ছিল। দূর প্রাচ্যের এই রুশ বিরোধিতা মোকাবিলার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ড ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ার শত্রু জাপানের সঙ্গে ইঙ্গ-জাপান মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির দ্বারা ইংল্যান্ড জাপানকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে প্রয়াসী হয়।

(৭) ফ্রান্সের উপলব্ধি

ইতিমধ্যে নবনিযুক্ত ফরাসি বিদেশমন্ত্রী থিওফিল ডেলক্যাসে উপলব্ধি করেন যে, একই সঙ্গে ইংল্যান্ড ও জার্মানির বিরুদ্ধাচারণ করা ফ্রান্সের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য বিস্তার এবং আলসাস-লোরেন অঞ্চল পুনরুদ্ধারের জন্য ইংল্যান্ডের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে নেওয়া উচিত।

(৮) ফ্রান্সের প্রকৃত শত্রু জার্মানি

তিনি স্পষ্টই বলেন যে, ফ্রান্সের সঙ্গে ইংল্যান্ডের বিরোধের বিষয়গুলি গুরুত্বহীন এবং জার্মানির সঙ্গে তার বিরোধ হল মৌলিক। ফ্রান্সের প্রকৃত শত্রু ইংল্যান্ড নয়, জার্মানি। তিনি জার্মানির বিরুদ্ধে জোট গঠনের পক্ষে জোর সওয়াল করেন।

(৯) দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক

এই ব্যাপারে ইংল্যান্ডের আগ্রহও কম ছিল না। ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড-রাজ সপ্তম এডওয়ার্ড ফ্রান্স ভ্রমণে গেলে বিপুল সম্বর্ধনা লাভ করেন। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতিও ইংল্যান্ড ভ্রমণে যান। দুই রাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ইঙ্গ-ফরাসি চুক্তি স্বাক্ষর

১৯০৪ খ্রিস্টাব্দের ৮ই এপ্রিল ইঙ্গ-ফরাসি চুক্তি বা আঁতাত কর্ডিয়েল গড়ে ওঠে।

চুক্তির শর্ত

এই চুক্তি অনুসারে স্থির হয় যে,

  • (১) উভয় দেশ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সব বিরোধ মিটিয়ে নেবে।
  • (২) ফ্রান্স মিশরে ইংল্যান্ডের সার্বভৌম অধিকার মেনে নেয় এবং বিনিময়ে ইংল্যান্ড মরক্কোয় ফ্রান্সের আধিপত্য স্বীকার করে। এইভাবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে।

ইঙ্গ-রুশ কনভেনশন

এই সময় ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার মধ্যে মিত্রতা স্থাপন বা ইঙ্গ-রুশ কনভেনশন গড়ে ওঠে। কারণ –

(১) ইঙ্গ-জাপান চুক্তি

ফ্রান্স ও রাশিয়া এবং ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড চুক্তিবদ্ধ হলেও রাশিয়ার সঙ্গে ইংল্যান্ডের সম্পর্ক ভালো ছিল না। আফগানিস্তান, পারস্য, তিব্বত ও মাঞ্চুরিয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিবাদ ছিল। দূর প্রাচ্যে রুশ অগ্রগতিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে ইঙ্গ-জাপান মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

(২) ইংল্যান্ডের রুশ ভীতি হ্রাস

ইতিমধ্যে ১৯০৪-১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে রুশ-জাপান যুদ্ধে রাশিয়া ছোটো দেশ জাপানের কাছে পরাজিত হলে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে রাশিয়ার মর্যাদা যথেষ্ট হ্রাস পায়। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ায় বিপ্লব শুরু হয়। এর ফলে রাশিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে। দূর প্রাচ্যে রুশ অগ্রগতির সম্ভাবনা দূর হয় এবং ইংল্যান্ডের রুশ-ভীতি কমে যায়।

(৩) মিত্রতা স্থাপনের আগ্ৰহ

দূর প্রাচ্যে পরাজিত হওয়ার পর রাশিয়া পুনরায় বলকান অঞ্চলে সম্প্রসারণের নীতি গ্রহণ করে। এর ফলে এই অঞ্চলে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার সঙ্গে তার বিরোধের সম্ভাবনা দেখা দেয়। এই কারণে রাশিয়া ইংল্যান্ডের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপনে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

(৪) ইংল্যান্ডের উপলব্ধি

এই সময় ইংল্যান্ডও রুশ মৈত্রীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। ইংল্যান্ড বুঝতে পারে যে, তার সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের প্রতিবন্ধক রাশিয়া নয়, জার্মানি।

(৫) জার্মান ভীতি

এই সময় জার্মানি মধ্য প্রাচ্যে তার প্রভাব বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হয় এবং এই উদ্দেশ্যে বার্লিন-বাগদাদ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করে। জার্মানির এই উদ্যোগকে ইংল্যান্ড ও রাশিয়ার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হয় নি। উভয় দেশেই এই জার্মান-বিদ্বেষ বা ভীতি দুই দেশকে কাছাকাছি আসতে সাহায্য করে।

(৬) ফ্রান্সের মধ্যস্থতা

ফ্রান্স ছিল দুই দেশের মিত্র। এই অবস্থায়, ফরাসি বিদেশমন্ত্রী ডেলক্যাসে মধ্যস্থের ভূমিকা নেন।

চুক্তি স্বাক্ষর

১৯০৭ খ্রিস্টাব্দের ৩১শে আগস্ট ইস-রুশ কনভেনশন বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর দ্বারা উভয় দেশ আফগানিস্তান ও তিব্বতের স্বাধীনতা রক্ষায় সম্মত হয়। উভয় দেশই পারস্যের স্বাধীনতা এবং সেখানে বিভিন্ন জাতির বাণিজ্যিক অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। স্থির হয় যে, দুই দেশ সেখানে নিজ নিজ প্রভাব বলয় স্থির করে নেবে।

ত্রিশক্তি আঁতাত গঠন

এইভাবে ইঙ্গ-ফরাসি আন্তরিক চুক্তি এবং ইঙ্গ-রুশ কনভেনশন -এর মাধ্যমে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়া কাছাকাছি আসে এবং এর ফলে ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে গড়ে ওঠে ত্রিশক্তি চুক্তি বা ত্রিশক্তি আঁতাত।

উপসংহার:- ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে ত্রিশক্তি মৈত্রী গঠিত হওয়ার পঁচিশ বছর পর ত্রিশক্তি আঁতাত গঠিত হয়। একদিকে থাকে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ইতালি এবং সহযোগী কিছু রাষ্ট্র। অপরদিকে ছিল ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়া। এইভাবে সমগ্র ইউরোপ দুটি মেরুতে বিভক্ত হয়ে যায় এবং শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।

(FAQ) ত্রিশক্তি চুক্তি বা ত্রিশক্তি আঁতাত সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. কখন কাদের মধ্যে ত্রিশক্তি আঁতাত গড়ে ওঠে?

১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়া।

২. কখন কাদের মধ্যে ত্রিশক্তি মৈত্রী গড়ে ওঠে?

১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইতালি।

৩. ইঙ্গ-রুশ কনভেনশন গড়ে ওঠে কখন?

১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে।

৪. ত্রিশক্তি মৈত্রী ও ত্রিশক্তি চুক্তি গঠনের আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কি ছিল?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।

Leave a Reply

Translate »