জনশ্রুতি

জনশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রথম জনশ্রুতির সৃষ্টি, বংশ পরম্পরায় জনশ্রুতির বিস্তার, বৈচিত্র্য, অতিরঞ্জন, জনশ্রুতির কাহিনী সংগ্ৰহ, ভারতের জনশ্রুতির কাহিনী, দুটি ধারা, জনশ্রুতির প্রকারভেদ ও তার উদাহরণ সম্পর্কে জানবো।

জনশ্রুতি

ঐতিহাসিক বিষয়জনশ্রুতি
প্রথম সংগ্ৰহজার্মানি
পৌরাণিক কাহিনীকালিদাসের কাহিনী
কিংবদন্তিরামচন্দ্র, হারকিউলিস
লোককথাসাত ভাই চম্পা
স্মৃতিকথাজীবনের জলসাঘরে
মৌখিক ঐতিহ্যক্ষুদিরামের ফাঁসি
জনশ্রুতি

ভূমিকা :- আদিম যুগে শিকারি, খাদ্য সংগ্রাহক ও পশুপালক মানুষের জীবনে নিরাপত্তার অভাব ও ব্যস্ততা ছিল অনেক বেশি পরবর্তীকালে কৃষিসভ্যতার উন্মেষ ঘটলে মানুষ অবসর যাপনের কিছুটা সময় লাভ করে। এই অবসর যাপনের সময় মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সৃষ্টির প্রেরণায় বিভিন্ন জনশ্রুতির কাহিনি সৃষ্টি করে।

জনশ্রুতি

যাচাই করা যথার্থ ঐতিহাসিক তথ্য ও সন-তারিখের ভিত্তিতে ইতিহাস রচিত হয়। ঐতিহাসিক বিবরণের তথ্য ও সন-তারিখের ক্ষেত্রে যথার্থতার প্রমাণ না থাকলে তা হয় জনশ্রুতি। সমুদ্র পিছনের ঢেউ যেমন কখনও সামনের ঢেউকে ধরতে পারে না, তেমনি কালস্রোত অতিক্রম করে অতীতের ফেলে আসা দিনগুলি কখনও বর্তমানে এসে পৌঁছোতে পারে না।

প্রথম জনশ্রুতির সৃষ্টি

কৃষিজীবী গ্রামসমাজেই প্রথম জনশ্রুতির সৃষ্টি হয় বলে সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীগণ জানিয়েছেন।

বংশ পরম্পরায় জনশ্রুতির বিস্তার

আদিম মানব সমাজে একান্নবর্তী কৃষক পরিবারে নারী অর্থাৎ ঠাকুমা-দিদিমা-পিসিমা-মাসিমা প্রমুখ তাদের নাতি নাতনি শিশু-কিশোর-কিশোরীকে বিভিন্ন জনশ্রুতির কাহিনিগুলি গল্পাকারে শোনাতেন। এভাবে অতীতের জনশ্রুতির কাহিনিগুলি বংশ পরম্পরার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে চলে আসে

জনশ্রুতির বৈচিত্র্য

জনশ্রুতিগুলি পৌরাণিক কাহিনি, কিংবদন্তি, লোককথা, স্মৃতিকথা, মৌখিক ঐতিহ্য প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। জনশ্রুতিগুলির মাধ্যমে সেই সমাজের অদূর বা সুদূর অতীতের জনপদ, সমাজ, ধর্ম, প্রেম প্রভৃতি বিভিন্ন ঘটনা বা কাহিনির বিবরণ বর্তমান সময়ে এসে পৌঁছোয়।

জনশ্রুতিতে অতিরঞ্জনের ঘনঘটা

দিন যত এগিয়ে চলে, মানবসমাজের স্মৃতি যত ঝাপসা হয়, জনশ্রুতিগুলিতে ততই কল্প-কাহিনির সংমিশ্রণ ঘটে। তাই অতীতের জনশ্রুতিগুলির মধ্যে কিছু কিছু যথার্থ ঐতিহাসিক তথ্য থাকলেও এগুলি বহু ক্ষেত্রে নানা কাল্পনিক, মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত বিবরণে পূর্ণ থাকতে পারে।

জার্মানিতে জনশ্রুতির কাহিনি সংগ্রহ

মুখে মুখে বংশপরম্পরায় চলে আসা জনশ্রুতির কাহিনিগুলি সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে উনিশ শতকের শুরুতে জার্মানিতে প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেকব গ্রিম ও উইলহেম গ্রিম নামে দুই ভাই জার্মানির কৃষকদের জনশ্রুতি ও লোককথার বিভিন্ন কাহিনি সংগ্রহ করে ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে ‘Kinder Und Hausemarchen নামে একটি সংকলন প্রকাশ করেন।

ভারতে জনশ্রুতির কাহিনি সংগ্রহ

১৮১২ খ্রিস্টাব্দে ভারতে খ্রিস্টান পাদ্রী উইলিয়াম কেরি ইতিহাসমালা নামে একটি সংকলন গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এটি আসলে বাংলা ভাষায় প্রচলিত অতীতের কল্পকথার দেড়শো ঘটনার একটি সংকলন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জনশ্রুতির কাহিনী সংগ্ৰহ

পরবর্তীকালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জনশ্রুতির কাহিনিগুলি সংগ্রহ করে প্রকাশ করার তোড়জোড় দেখা দেয়। পরবর্তীকালে হানস্ খ্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন, ডি. এ. ম্যাকেনজি, লালবিহারী দে, কে. এল. পাসকার, জর্জ ফ্রেজার, শোভনা দেবী, ম্যাককুলোচ প্রমুখ গবেষক প্রচুর ঐতিহাসিক জনশ্রুতি সংগ্রহ করে প্রকাশ করেন।

জনশ্রুতি বা মৌখিক ইতিহাসের প্রসার

  • (১) বিভিন্ন মানবসমাজে প্রচলিত অসংখ্য জনশ্রুতিতে যে সব ঐতিহাসিক কাহিনি পাওয়া যায়। তার খবর সেই সমাজের বাইরে কেউ জানত না।
  • (২) অষ্টাদশ শতকে ইউরোপের বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্থানে উপনিবেশ গড়ে তুললে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সেসব উপনিবেশের যোগসূত্র গড়ে ওঠে।
  • (২) ঔপনিবেশিক সরকারি প্রশাসক ও খ্রিস্টান মিশনারিরা দলে দলে উপনিবেশগুলিতে প্রবেশ করে এবং সেখানকার জনশ্রুতিগুলি সম্পর্কে ক্রমশ জানতে পারে। তারা জনশ্রুতির কাহিনিগুলি বহির্বিশ্বে পৌঁছে দেয়।
  • (৩) এরপর ইউরোপের বিভিন্ন গবেষক ও নৃবিজ্ঞানীগণ উপনিবেশগুলিতে আসেন। তাদের সংগ্রহ করা জনশ্রুতিগুলি সারা বিশ্বে পৌঁছে যায়।

জনশ্রুতির দুটি ধারা

অতীতের কোনো কাহিনির উৎপত্তির বিচারে জনশ্রুতি গুলির প্রধান দুটি ধারা হল –

  • (ক) মানুষের দেখা ঘটনার বিবরণ
  • (খ) মানুষের না-দেখা ঘটনার বিবরণ

(ক) মানুষের দেখা ঘটনার বিবরণ

  • (১) কিছু কিছু ঘটনা আছে যেগুলি সমকালীন সময়ে কোনো জনগোষ্ঠীর মানুষ সচক্ষে দেখেছেন এবং সেসব ঘটনার বিবরণ পরবর্তীকালে বংশপরম্পরায় প্রবাহিত হয়ে বর্তমান সময়ের সেই জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে এসে পৌঁছেছে। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়ে সেসব ঘটনার নানা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, কল্প-কাহিনির সংযোজন প্রভৃতি ঘটতে পারে।
  • (২) উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাংলার নবাব সিরাজদৌল্লার সময়ের বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ কিংবদন্তি বা মৌখিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে বর্তমানকালেও মুরশিদাবাদ সহ বাংলার বিভিন্ন জেলায় প্রচলিত রয়েছে। এগুলির মধ্যে কিছু বিবরণে অনেক সত্য ঘটনা রয়েছে, আবার কিছু বিবরণে রয়েছে নানা কল্প-কাহিনি, অতিরঞ্জন ইত্যাদি।

(খ) মানুষের না-দেখা ঘটনার বিবরণ

  • (১) কিছু ঘটনা আছে যেগুলি সমকালীন সময়ে মানুষ সচক্ষে না-দেখা সত্ত্বেও নানা কাল্পনিক কাহিনির মাধ্যমে বংশপরম্পরায় প্রবাহিত হয়ে বর্তমান সময়ে এসে পৌঁছেছে। এই ধরনের ঘটনার সম্পূর্ণটাই মানুষের কল্পিত কাহিনি।
  • (২) উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, পৃথিবী সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকে পৃথিবীর সমগ্র ভার অর্পিত হয়েছিল একটি কচ্ছপের পিঠে। কচ্ছপটি সামান্য নড়াচড়ার ফলে পৃথিবী নড়ে ওঠে ও ভূমিকম্প হয়।

জনশ্রুতির প্রকারভেদ

কোনো মানবসমাজে প্রচলিত বিভিন্ন জনশ্রুতিগুলিকে প্রধান কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা – পৌরাণিক কাহিনি, কিংবদন্তি, লোককথা, স্মৃতিকথা, মৌখিক ঐতিহ্য।

পৌরাণিক কাহিনী

প্রাচীনকালের বিভিন্ন ধর্মগ্ৰন্থে অসংখ্য পৌরাণিক কাহিনীর উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন –

(১) বাইবেলের পৌরাণিক কাহিনি

খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে উল্লিখিত একটি উল্লেখযোগ্য পৌরাণিক কাহিনি হল প্রবল বন্যায় পৃথিবীর স্থলভাগ ডুবে গেলে বিভিন্ন প্রাণীর একজোড়া করে প্রতিনিধি নোয়া-র নৌকায় আশ্রয় নেয়। এই প্রাণীদের থেকেই পরে আবার পৃথিবীতে জীবজগতের প্রসার ঘটে।

(২) হিন্দু পুরাণের কাহিনি

প্রাচীন হিন্দু পুরাণের একটি জনপ্রিয় কাহিনি হল মহাকবি কালিদাসের কাহিনি। প্রথম জীবনে মূর্খ কালিদাস গাছের ডালে বসে সেই ডালের গোড়া কাটছিলেন। পরবর্তীকালে দেবী সরস্বতীর বর পেয়ে তিনি মহাকবি হন এবং সংস্কৃত ভাষায় অসাধারণ কয়েকটি কাব্য রচনা করেন।

(৩) রোমের গৌরাণিক কাহিনি

প্রাচীন রোমানগণ তাঁদের পূর্বতন গ্রিক সভ্যতার পৌরাণিক কাহিনিগুলি উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেন। রোমের পৌরাণিক কাহিনিগুলি মূলত রোমুলাসের জীবনকাহিনি, রোম নগরী ও রোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা করে। রোমান পুরাণে তাঁদের ধর্মে বিভিন্ন দেবতা সম্পর্কে বিশদ আলোচনা রয়েছে।

কিংবদন্তি

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অসংখ্য কিংবদন্তি চরিত্র ও ঘটনাবলি ছড়িয়ে রয়েছে। যেমন –

(১) রামচন্দ্র

প্রাচীন ভারতের মহাকাব্য রামায়ণে উল্লিখিত রামচন্দ্র একটি গুরুত্বপূর্ণ কিংবদন্তি চরিত্র। রামচন্দ্র সম্পর্কে প্রচলিত কিংবদন্তি ঘটনাগুলির মধ্যে অন্যতম হল রাজসিংহাসন ছেড়ে পত্নী সীতা ও ভ্রাতা লক্ষণকে সঙ্গে নিয়ে চোদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যাত্রা, লঙ্কার রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয় করে পত্নী সীতাকে উদ্ধার, বনবাস থেকে ফিরে অযোধ্যার সিংহাসন লাভ প্রভৃতি।

(২) শ্রীকৃষ্ণ

মহাভারতে উল্লিখিত শ্রীকৃষ্ণ চরিত্রটিও অন্যতম একটি কিংবদন্তি চরিত্র। শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে কিংবদন্তি ঘটনাগুলির মধ্যে অন্যতম হল কংসের কারাগারে শ্রীকৃষ্ণের জন্মলাভ, কংসকে হত্যা, অসংখ্য গোপিনীকে নিয়ে কৃষ্ণের লীলা, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুনের রথের সারথি হিসেবে কৃষ্ণের ভূমিকা, যুদ্ধক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক অর্জুনকে গীতার শ্লোক শোনানো প্রভৃতি।

(৩) হারকিউলিস

প্রাচীন গ্রিসের অন্যতম কিংবদন্তি চরিত্র হলেন হারকিউলিস। হারকিউলিস ছিলেন উত্তর আফ্রিকার একজন শক্তিশালী যোদ্ধা ও সুদক্ষ সেনাপতি।

(৪) বিক্রমাদিত্য

কিংবদন্তির বিক্রমাদিত্য ছিলেন সুশাসক, দক্ষ বিচারক, সাহসী এবং বীর। তাঁর ‘নবরত্ন সভা’ ছিল। এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কালিদাস। উজ্জয়িনী ও পাটলিপুত্র দুটোই ছিল তাঁর রাজধানী। তিনি শকদের পরাজিত করে শকারি উপাধি গ্রহণ করেন এবং বিক্রম সম্বৎ প্রবর্তন করেন। অনেক ঐতিহাসিকই গুপ্তসম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সঙ্গে কিংবদন্তির বিক্রমাদিত্যের মিল খুঁজে পান।

লোককথা

বিভিন্ন দেশের সমাজে বিভিন্ন লোককথার গল্পগাথা রয়েছে। যেমন –

(১) সাত ভাই চম্পা

দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে ঠাকুরমার ঝুলি নামক বাংলার লোককথার গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এই বইয়ের একটি জনপ্রিয় গল্প হল সাত ভাই চম্পা।

(২) আলিবাবা ও চল্লিশ চোর

আরব্য রজনির একটি উল্লেখযোগ্য লোককথা হল আলিবাবা ও চল্লিশ চোর।

(৩) লখিন্দরের জীবনপ্রাপ্তি

গ্রাম বাংলায় প্রচলিত উল্লেখযোগ্য লোককথার গল্প হল বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি। সর্পদংশনে লখিন্দরের মৃত্যু হলে স্ত্রী বেহুলা স্বর্গে গিয়ে স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে আনেন।

(৪) টম থাম্ব ও দৈত্য

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে টম থাম্ব ও দৈত্যের লোককথাটি প্রচলিত রয়েছে। টম থাম্বের কাহিনি হল রিচার্ড জনসন কর্তৃক প্রকাশিত (১৬২১ খ্রি.) ইংরেজি ভাষায় মুদ্রিত প্রথম লোককথার গল্প।

স্মৃতিকথা

বর্তমান সময়ে স্মৃতিকথার বিভিন্ন উদাহরণ রয়েছে। যেমন –

(১) মণিকুলা সেনের স্মৃতিকথা

১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মুসলিম লিগের উদ্যোগে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রসঙ্গে মণিকুন্তলা সেন রচনা করেন তাঁর স্মৃতিকথা ‘সেদিনের কথা’।

(২) আশালতা সরকারের স্মৃতিকথা

ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের মানসিকতা ও বিপ্লবী কাহিনী নিয়ে আশালতা সরকারের রচনা করেন ‘আমি সূর্য সেনের শিষ্যা’ নামে স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ।

(৩) নারায়ণ সান্যালের স্মৃতিকথা

সাহিত্যিক নারায়ণ সান্যালের লেখা ‘আমি নেতাজীকে দেখেছি’ একটি স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ। এই গ্রন্থে তিনি প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনা প্রকাশ করেছেন।

(৪) মান্না দে’র স্মৃতিকথা

প্রয়াত সঙ্গীত শিল্পী মান্না দে’র বাংলায় লেখা আত্মজীবনী জীবনের জলসাঘরে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এটি পরে ইংরেজিতে ‘মেমরিজ কাম অ্যালাইভ’, হিন্দিতে ‘ইয়াদেন জি উঠি’ নামে প্রকাশিত হয়।

মৌখিক ঐতিহ্য

ইতিহাসের উপাদান হিসেবে মৌখিক ঐতিহ্যের বেশ কিছু উদাহরণ দেওয়া যায়। যেমন –

(১) নীলকরদের অত্যাচারের ইতিহাস

বাংলার নীলচাষিদের ওপর ইংরেজ নীলকর সাহেবদের তীব্র অত্যাচার ও নির্যাতনের কাহিনি লোকের মুখে মুখে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

(২) ক্ষুদিরামের ফাঁসি

অত্যাচারী ব্রিটিশ সরকার ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিপ্লবী ক্ষুদিরামকে ফাঁসি দেয়। ক্ষুদিরামের মৃত্যুর পর অজ্ঞাতপরিচয় গীতিকারের লেখা ‘একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি’ গানটি গ্রামবাংলার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

উপসংহার :- ইতিহাসের উপাদান হিসেবে জনশ্রুতি গুলির গুরুত্ব অপরিসীম। তবে জনশ্রুতির কাহিনী থেকে সচেতন ভাবে সঠিক তথ্য খুঁজে নিয়ে ইতিহাস রচনায় প্রবৃত্ত হওয়া উচিত।

(FAQ) জনশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. জনশ্রুতি সংগ্ৰহের কাজ প্রথম কোন দেশে শুরু হয়?

জার্মানি।

২. ভারতের একটি জনশ্রুতি মূলক রচনার নাম কর?

উইলিয়াম কেরির ‘ইতিহাসমালা’।

৩. একটি পৌরাণিক কাহিনীর উল্লেখ কর।

হিন্দু পুরাণের মহাকবি কালিদাসের কাহিনী।

৪. একটি কিংবদন্তি চরিত্রের উদাহরণ দাও।

হারকিউলিস।

৫. একটি লোককথার উদাহরণ দাও।

আলিবাবা ও চল্লিশ চোর।

৬. একটি স্মৃতিকথার উদাহরণ দাও।

মান্ন দে -র ‘জীবনের জলসাঘরে’।

Leave a Comment