সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কার্যাবলী

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কার্যাবলী প্রসঙ্গে নানা বিতর্ক, সবচেয়ে বড়ো সাফল্য, সাফল্যের বিভিন্ন দিক হিসেবে ইরান থেকে রুশ সেনা অপসারণ, গ্ৰিসে শান্তি প্রতিষ্ঠা, পোল্যান্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বার্লিন সমস্যা সমাধান, সুয়েজ সংকটের সমাধান, জাতিপুঞ্জের ব্যার্থতা হিসেবে ভারত-পাক সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ, চীনের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণে ব্যর্থ, আমেরিকার সক্রিয়তা ও অর্থনৈতিক সমস্যা সম্পর্কে জানবো।

Table of Contents

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কার্যাবলী

বিষয় সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কার্যাবলী
প্রতিষ্ঠা ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ
উদ্দেশ্য বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা
প্রেক্ষাপট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘ
প্রেক্ষাপট প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কার্যাবলী

ভূমিকা :- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানে রণক্লান্ত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আগামী প্রজন্মকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা এবং মানব সমাজের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয়।

নানা বিতর্ক

এই প্রতিষ্ঠানের কর্মপদ্ধতি এবং সফলতা-বিফলতা নিয়ে পণ্ডিত, ঐতিহাসিক ও রাজনীতিজ্ঞদের মধ্যে নানা মত প্রচলিত আছে। নানা বিতর্ক সত্ত্বেও এই কথা স্বীকার করতেই হবে যে, কোনও প্রতিষ্ঠানই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয় এবং নানা ব্যর্থতা সত্ত্বেও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কাজ মোটামুটি সন্তোষজনক।

সবচেয়ে বড় সাফল্য

জাতিপুঞ্জের সবচেয়ে বড়ো সাফল্য এটিই যে, ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে জাতিসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার মাত্র ২০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হলেও, জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠার এতকাল পরেও কিন্তু নতুন কোনও বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয় নি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ-পরিস্থিতির সূচনা হলেও জাতিপুঞ্জ তা কৃতিত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করেছে।

সদস্য সংখ্যা

১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ৫১টি দেশ নিয়ে যে প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু, আজ তার সদস্য সংখ্যা ২০০ বেশি। অর্থাৎ জাতিপুঞ্জের প্রভাব আজ উত্তরোত্তর বৃদ্ধির পথে এবং তা কোনোভাবেই খর্ব করা সম্ভব নয়।

কার্যাবলী

জাতিপুঞ্জের কার্যাবলীর মধ্যেই তার সাফল্য ও ব্যর্থতা নিহিত রয়েছে। নীচে এগুলি আলোচনা করা হল। –

(ক) সাফল্য

একাধিক ক্ষেত্রে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ সাফল্যের সাথে তার কাজ করে চলেছে। যেমন –

(১) ইরান থেকে রুশ সেনা অপসারণ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কালে এক চুক্তি অনুসারে ইরানে রুশ সেনা মোতায়েন করা হয়। যুদ্ধশেষে রাশিয়া সেই সেনা অপসারণ না করে ইরানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে। এর প্রতিবাদে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই জানুয়ারি ইরান জাতিপুঞ্জে অভিযোগ জানায়। শেষ পর্যন্ত জাতিপুঞ্জের হস্তক্ষেপে দুই রাষ্ট্রের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ইরান থেকে রুশ সেনা অপসারিত হয়।

(২) ইঙ্গ-ফরাসি সেনা প্রত্যাহার

স্বাধীনতা স্বীকৃত হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়া ও লেবাননে ইঙ্গ-ফরাসি সেনা মোতায়েন করা হয়। যুদ্ধান্তে ইঙ্গ-ফরাসি সেনাদল সিরিয়া ও লেবানন থেকে সেনা সরতে না চাইলে, ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই দুই রাষ্ট্র জাতিপুঞ্জে অভিযোগ জানায় এবং শেষ পর্যন্ত সেনাদল প্রত্যাহৃত হয়।

(৩) গ্ৰিসে শান্তি প্রতিষ্ঠা

গ্রিসে রাজতন্ত্রীদের সঙ্গে কমিউনিস্টদের বিরোধ চলছিল। গ্রিক সরকারের আহ্বানে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী গ্রিসে প্রবেশ করলে ১৯৪৬ সালের জানুয়ারি মাসে রাশিয়া জাতিপুঞ্জে অভিযোগ জানায় যে, ব্রিটিশ সরকার গ্রিসের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে। গ্রিস রাশিয়ার বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ জানায় যে, কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলি গ্রিসের সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য করছে। জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভা কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলিকে গ্রিসে সাহায্য প্রেরণ বন্ধ করতে বলে। এর ফলে গ্রিসে শান্তি ফিরে আসে।

(৪) ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা
  • (i) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে জাপান ইন্দোনেশিয়া দখল করে। ইন্দোনেশিয়া ছিল হল্যান্ডের উপনিবেশ। যুদ্ধের পর জাপান ইন্দোনেশিয়া ত্যাগ করলে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয়তাবাদীরা সেখানে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
  • (ii) হল্যান্ড ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা মানতে রাজি ছিল না। ফলে দু’পক্ষে সংঘর্ষ শুরু হয়। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভারত নিরাপত্তা পরিষদের কাছে এই বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার আবেদন পাঠালে নিরাপত্তা পরিষদ একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটির উদ্যোগে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে দু’পক্ষে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
  • (iii) কিছুদিন পরই হল্যান্ড এই চুক্তি অস্বীকার করে ইন্দোনেশিয়ার প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ হানে। এই অবস্থায় নিরাপত্তা পরিষদ হল্যান্ডকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার এবং ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসের মধ্যে ইন্দোনেশিয়াকে ক্ষমতা হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়। হেগ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুসারে ওলন্দাজ সরকার ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা মেনে নেয় (১৯৫০ খ্রিঃ)।
(৫) লিবিয়া, ইরিত্রিয়া ও সোমালিল্যান্ডের ভবিষ্যত নির্ধারণ

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর আফ্রিকাতে ইতালির ছেড়ে যাওয়া তিনটি উপনিবেশ – লিবিয়া, ইরিত্রিয়া ও সোমালিল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা মতপার্থক্য দেখা দেয়। অনেকে এগুলিকে জাতিপুঞ্জের অছি করার পরামর্শ দেন। বৃহৎ শক্তিগুলি এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভা তিনটি উপনিবেশের জন্য তিনরকম ব্যবস্থা করে। যথা –

  • (i) লিবিয়াতে জাতিপুঞ্জের তত্ত্বাবধানে একজন কমিশনারের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং স্থির হয় যে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে এই শাসনের অবসান ঘটিয়ে লিবিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
  • (ii) এ ছাড়াও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়ার সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
  • (iii) সোমালিল্যান্ড-কে ১০ বছরের জন্য অছির তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।
(৬) পোল্যাণ্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠা
  • (i) ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে পোল্যান্ড নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ জানায় যে, স্পেন -এর ফ্রাঙ্কো সরকার পোল্যান্ডের শান্তি ও নিরাপত্তা বিপন্ন করে তুলেছে। পোল্যান্ড প্রস্তাব দেয়, জাতিপুঞ্জের সব সদস্য যেন স্পেনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে।
  • (ii) জাতিপুঞ্জ স্পেনের ব্যাপারে তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি নিয়োগ করে। এই কমিটি পোল্যান্ডের অভিযোগ মানতে অস্বীকার করে। পোল্যান্ড এই ব্যাপারে পুনরায় অভিযোগ জানালে, নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভায় উপস্থাপন করে।
  • (iii) ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ সভা আন্তর্জাতিক সমস্ত বিষয় থেকে স্পেনকে বাদ দেয় এবং সব সদস্য-রাষ্ট্রকে স্পেনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেয়। ইতিমধ্যে স্পেনে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হলে সাধারণ সভা তার নির্দেশ প্রত্যাহার করে।
(৭) আলবেনিয়ার সার্বভৌমত্ব
  • (i) ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে আলবেনিয়ার অন্তর্গত কর্ফু প্রণালীতে ‘মাইন’-এ আঘাত লেগে ব্রিটেনের দুটি যুদ্ধজাহাজ প্রচণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৪৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। আলবেনিয়ার প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ব্রিটেন কর্ফু প্রণালী পরীক্ষা করে দেখে যে, সেখানে অনেকগুলি নতুন মাইন পাতা আছে।
  • (ii) এই অবস্থায় ব্রিটেন আলবেনিয়ার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা-সহ জাহাজ ও মানুষের মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে। আলবেনিয়া বিষয়টিকে আমল না দিলে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারিতে ব্রিটেন জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপন করে।
  • (iii) আলবেনিয়া বলে যে, মাইনের ব্যাপারটি তার অজ্ঞাত, তবে কর্ফু প্রণালী পরীক্ষা করে ব্রিটেন আলবেনিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানের জন্য জাতিপুঞ্জ একটি কমিটি নিয়োগ করে। নিরাপত্তা পরিষদে আলবেনিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘ভেটো’ প্রয়োগ করে।
  • (iv) শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে ওঠে। সেখানে অধিকাংশ বিচারকই আলবেনিয়াকে দায়ী করে ব্রিটেনকে ক্ষতিপুরণের পরিমাণ ঠিক করে দেয়। তবে সব বিচারপতিই একমত হন যে, ব্রিটেন আলবেনিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে।
(৮) চেকোশ্লোভাকিয়ার সমস্যা সমাধান
  • (i) ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে চেকোশ্লোভাকিয়ায় সোভিয়েত উদ্যোগে কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে জাতিপুঞ্জে চেকোশ্লোভাকিয়ার প্রতিনিধি পাপানেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে জাতিপুঞ্জের মহাসচিবের কাছে এক পত্র দেন।
  • (ii) মার্চ মাসে চিলি এইসব অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য নিরাপত্তা পরিষদকে অনুরোধ জানায়। ইতিমধ্যে পাপানেকের স্থানে চেকোশ্লোভাকিয়ার অন্য প্রতিনিধি জাতিপুঞ্জে নিযুক্ত হন। তা সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদ এই নিয়ে আলোচনা করতে উদ্যোগী হয়।
  • (iii) তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইউক্রেন এবং চেকোশ্লোভাকিয়ার সরকার বিষয়টি চেকোশ্লোভাকিয়ার অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে অভিহিত করে আলোচনায় বাধা দেয়।
  • (iv) বাধা সত্ত্বেও পাপানেকের অভিযোগগুলি নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব উঠলে সোভিয়েত রাশিয়া ‘ভেটো’ প্রদান করে। তবে এইসব আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে চেকোশ্লোভাকিয়ায় কমিউনিস্ট শাসন সম্পর্কে অনেক কথা প্রকাশিত হয়।
(৯) বার্লিন সমস্যার সমাধান
  • (i) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে সোভিয়েত রাশিয়া ও পশ্চিমি শক্তিবর্গ বার্লিন তথা জার্মানি দখল করে। জার্মানির মতো বার্লিনও দ্বিধাবিভক্ত হয়, কিন্তু বার্লিন ছিল সোভিয়েত-অধিকৃত পূর্ব জার্মানির মধ্যে। পশ্চিম বার্লিনে যেতে হলে সোভিয়েত-অধিকৃত ভূখণ্ডের উপর দিয়ে যেতে হত।
  • (ii) ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে সোভিয়েত ইউনিয়ন বার্লিনে প্রবেশের সব পথ বন্ধ করে দেয়। পশ্চিমি শক্তিবর্গ বিমান পথে বার্লিনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে থাকে। ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স – এই তিন পশ্চিমি শক্তি বিষয়টি জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করে।
  • (iii) সোভিয়েত ইউনিয়নের আপত্তি সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে এবং বার্লিন অবরোধ ও বার্লিনের মুদ্রাব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তাব গ্রহণে উদ্যোগী হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘ভেটো’ প্রয়োগে প্রস্তাব পাস হয় না।
  • (iv) এরপর সাধারণ সভা চার বৃহৎ শক্তি – ব্রিটেন, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত রাশিয়াকে সমস্যা সমাধানের জন্য উদ্যোগী হতে অনুরোধ করে। দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা ও জাতিপুঞ্জের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত বার্লিন সমস্যার সমাধান হয়।
(১০) কোরিয়া সমস্যার সমাধান

১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। রাশিয়া, আমেরিকাচীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে জাতিপুঞ্জে আলোচনা হয় এবং জাতিপুঞ্জ কোরিয়ায় সেনা পাঠায়। শেষ পর্যন্ত জাতিপুঞ্জের হস্তক্ষেপে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে এক চুক্তির দ্বারা উভয় অঞ্চলের মধ্যে শান্তি ফিরে এলেও কোরিয়া সমস্যার সমাধান আজও হয় নি।

(১১) সুয়েজ সংকটের সমাধান

১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে মিশরের প্রেসিডেন্ট নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করলে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স যৌথভাবে মিশর আক্রমণ করে। ইজরায়েলও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে এই নিয়ে জোর বিতর্ক চলে। জাতিপুঞ্জের সেনাবাহিনী শান্তিরক্ষার জন্য মিশরে আসে। জাতিপুঞ্জের তৎপরতায় এই অঞ্চলে শান্তি স্থাপিত হয়।

(১২) প্যালেস্টাইন সমস্যা সমাধান

প্যালেস্টাইন সমস্যা জাতিপুঞ্জকে নানাভাবে বিব্রত করেছে এবং বৃহৎ শক্তিবর্গের যোগদানে এই সমস্যা জটিলতর রূপ ধারণ করেছে। ইজরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ক্রমাগত ইজরায়েলের সঙ্গে আরব রাষ্ট্রগুলির সংঘর্ষ চলেছে। দু’পক্ষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিপুঞ্জের ভূমিকা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ।

(১৩) কঙ্গোতে শান্তি প্রতিষ্ঠা
  • (i) ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে জুন বেলজিয়াম তার উপনিবেশ কঙ্গো থেকে চলে যায় এবং কঙ্গো স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর সেখানে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং সেনাবাহিনী বিদ্রোহ ঘোষণা করে।
  • (ii) এই অবস্থায় ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের ১১ই জুলাই কঙ্গোর অন্তর্ভুক্ত কাতাংগা প্রদেশ শোম্বে-র নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। কঙ্গোতে চরম নৈরাজ্য দেখা দেয়। কঙ্গোতে বসবাসকারী ইউরোপীয়দের রক্ষার উদ্দেশ্যে বেলজিয়াম কঙ্গোতে ফিরে আসে।
  • (iii) বিদ্রোহী নেতা শোম্বে বেলজিয়ামের সাহায্য প্রার্থনা করলে বেলজিয়াম তাঁকে নানাভাবে সাহায্য করতে থাকে। এই অবস্থায় কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী পেট্রিস লুমুম্বা এবং রাষ্ট্রপতি কাশাবুবু ১২ই জুলাই ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।
  • (iv) ২০শে জুলাই নিরাপত্তা পরিষদ বেলজিয়ামকে কঙ্গো থেকে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় এবং এশিয়া ও ইউরোপ -এর কয়েকটি দেশের কাছে সামরিক সাহায্যের আবেদন জানায়। বেলজিয়াম কাতাংগা বাদে সমগ্র কঙ্গো থেকে সেনা প্রত্যাহার করে।
  • (v) জাতিপুঞ্জের বাহিনী কঙ্গোয় প্রবেশ করতে বাধ্য হয়। নানা বাগবিতণ্ডা ও যথেচ্ছ রক্তপাতের পর ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে শোম্বে কঙ্গো সরকারের সঙ্গে এক চুক্তিতে আবদ্ধ হন এবং পৃথক কাতাংগা রাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাহার করেন।
  • (vi) ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের বাহিনী কঙ্গো ত্যাগ করে। কঙ্গোর ঘটনা জাতিপুঞ্জের কাছে একটি বিরাট সামরিক চ্যালেঞ্জ ছিল। এই সময় জাতিপুঞ্জ কঙ্গোকে নানাভাবে সাহায্যের মাধ্যমে তার স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
(১৪) মরক্কো ও টিউনিশিয়ার স্বাধীনতা

বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে জাতিপুঞ্জের মধ্যস্থতায় ফ্রান্সের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে মরক্কো ও টিউনিশিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে। জাতিপুঞ্জের হস্তক্ষেপে ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ গায়েনা স্বাধীনতা লাভ করে এবং পরে টোগোল্যান্ড-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।

(১৫) শান্তি রক্ষা বাহিনী

১৯৮১ সালে আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা হয় জাতিপুঞ্জের মাধ্যমে।  তাছাড়া আশির দশকে নামিবিয়া সমস্যা, ইরাক-ইরান যুদ্ধ, আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সেনা অপসারণ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কাম্পুচিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে জাতিপুঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। নামিবিয়ায় জাতিপুঞ্জের শান্তিরক্ষা বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

(১৬) মধ্য আমেরিকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা

মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিপুঞ্জ বাহিনীর ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চার দশকব্যাপী গৃহযুদ্ধের ফলে গুয়াতেমালায় দেড় লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। মার্কিন হস্তক্ষেপের ফলে অবস্থা জটিলতর হয়ে পড়ে। জাতিপুঞ্জের মহাসচিব বুত্রোস ঘালির উদ্যোগে দীর্ঘ দু’বছর আলাপ-আলোচনার পর ১৯৯৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বর গুয়াতেমালার রাষ্ট্রপ্রধান এবং বামপন্থী বিদ্রোহী নেতাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

(১৭) যুদ্ধাস্ত্র সংকোচনে ভূমিকা

কেবল যুদ্ধ বন্ধ করাই নয় – যুদ্ধাস্ত্র সংকোচনের ক্ষেত্রেও জাতিপুঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছে। জাতিপুঞ্জের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে পারমাণবিক শক্তি কমিশন, নিরস্ত্রীকরণ কমিশন, পারমাণবিক অস্ত্র প্রসাররোধ চুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র সীমিতকরণ চুক্তি প্রভৃতি নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

(১৮) বিভিন্ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা

কেবল রাজনৈতিক কার্যকলাপই নয়, জাতিপুঞ্জের উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন সংস্থা – বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), কৃষি ও খাদ্য সংস্থা (FAO), আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থা (ILO), সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (UNESCO) প্রভৃতি নানা সংস্থার উদ্যোগে বিশ্বের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কল্যাণসাধনের উদ্দেশ্যে কর্মপ্রয়াস চলেছে।

(১৯) বিভিন্ন সংস্কারে ভূমিকা

নিরক্ষরতা দূরীকরণ, বর্ণবৈষম্য রোধ, মাদক বর্জন প্রভৃতি ক্ষেত্রেও জাতিপুঞ্জের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। যেমন –

  • (i) ইউনাইটেড নেশনস্ ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস্ এমার্জেন্সি ফান্ড (UNICEF) বিশ্বের কয়েক কোটি শিশুকে সাহায্য করছে। অনুন্নত দেশগুলির শিশুদের স্বাস্থ্য, খাদ্য, চিকিৎসা, তাদের লালনপালন করা, ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা, শিক্ষা দেওয়ার মতো বিষয়গুলি এই দপ্তরের অধীন।
  • (ii) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যরক্ষা, বিশেষ করে ম্যালেরিয়া, ক্ষয় রোগ, কুষ্ঠ, বসন্ত প্রভৃতি রোগ নিবারণের জন্য অর্থ, ওষুধ ও চিকিৎসক দিয়ে সাহায্য করছে।
  • (iii) নিরক্ষরতা দূরীকরণ, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, পাঠ্যপুস্তক রচনা, উচ্চশিক্ষার জন্য বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন, পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, মূল্যবান গ্রন্থ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ প্রভৃতি কাজে UNESCO-র ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
  • (iv) বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য জাতিপুঞ্জের সঙ্গে কয়েকটি অর্থনৈতিক সংস্থা যুক্ত আছে। আন্তর্জাতিক ব্যাংক সদস্য-রাষ্ট্রের সরকার বা সরকারি সংস্থাকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ঋণ দিয়ে সাহায্য করে। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন-এর কাজে ভারত এই সংস্থা থেকে যথেষ্ট সাহায্য পায়। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অর্থ কর্পোরেশন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার প্রভৃতির কথা বলা যায়।
  • (v) মানবাধিকার রক্ষায় ‘Commission of Human Rights এবং নারীর মর্যাদা রক্ষায় ‘Commission on Status of Women’-এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
(২০) দৃঢ় স্থায়ীত্ব

জাতিপুঞ্জের বড়ো কৃতিত্ব এই যে, এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটি পৃথিবীতে এখনও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হতে দেয় নি। লিগ ভেঙে গিয়েছিল – জাতিপুঞ্জ কিন্তু আজও টিকে আছে। সুতরাং বর্তমান বিশ্ব তার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে।

(খ) ব্যর্থতা

বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, যে সব সমস্যায় সোভিয়েত রাশিয়া বা আমেরিকা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, জাতিপুঞ্জ সেইসব ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থেকেছে। এই প্রসঙ্গে বার্লিন ও কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত সংকট, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের মধ্যে বিবাদ, হাঙ্গেরির সংকট, চেকোশ্লোভাকিয়ার সংকট এবং পাক-ভারত বিবাদ প্রভৃতির কথা বলা যেতে পারে।

(১) চেকোস্লোভাকিয়ায় ব্যর্থ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চেকোশ্লোভাকিয়াতে রুশ প্রভাব বিস্তৃত হয় এবং রাশিয়া নানাভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে থাকে। চেকোশ্লোভাকিয়া এই ব্যাপারে জাতিপুঞ্জে অভিযোগ জানায়, কিন্তু রাশিয়ার বাধাদানের ফলে কোনও প্রতিকার হয় নি।

(২) ভারত-পাক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ
  • (i) ভারতের স্বাধীনতা লাভের পরই (১৯৪৭ খ্রিঃ) পাকিস্তান ভারতের কাশ্মীর দখলের চেষ্টা করে এবং এই উদ্দেশ্যে ওই অঞ্চলে হানাদার বাহিনী পাঠিয়ে কাশ্মীরের একাংশ দখল করে। ভারত জাতিপুঞ্জে আবেদন জানায়। সেই থেকে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে একাধিকবার পাক-ভারত যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে।
  • (ii) ভারত বারবার জাতিপুঞ্জে আবেদন জানিয়েছে এবং জাতিপুঞ্জ একের পর এক তদন্ত কমিশন নিযুক্ত করেছে, কিন্তু কোনও গঠনমূলক সমাধানসূত্র আজও খুঁজে পাওয়া যায় নি। পাক-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে কাশ্মীর সমস্যা আজও একটি জ্বলন্ত প্রশ্ন।
(৩) চীনের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণে ব্যর্থ

এশীয় ভূখণ্ডে যে সব সমস্যায় চিন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত সেইসব ক্ষেত্রেও জাতিপুঞ্জ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে নি। উদাহরণ হিসেবে চিন-রাশিয়া সীমান্ত বিরোধ, চিনের তিব্বত দখল, ভারত-চিন যুদ্ধ, ভিয়েতনাম সমস্যা প্রভৃতির কথা বলা যায়। আসলে জাতিপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ায় এইসব দেশের ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জ পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে।

(৪) বর্ণবৈষম্যের ক্ষেত্রে অসফলতা

বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামেও জাতিপুঞ্জ সর্বদা সফল হয় নি। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে ভারত জাতিপুঞ্জে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের বিরুদ্ধে সেখানকার ভারতীয়দের উপর নানা অত্যাচারের অভিযোগ জানায়। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার জানায় যে, এটি তার দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় – এখানে কারও হস্তক্ষেপের অধিকার নেই। জাতিপুঞ্জ এক্ষেত্রেও সদর্থক কোনও ভূমিকা নেয় নি।

(৫) আমেরিকার সক্রিয়তা

বর্তমানে জাতিপুঞ্জকে নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হতে হচ্ছে। আগে পৃথিবী ছিল দ্বিমেরুবিশিষ্ট। সোভিয়েত ইউনিয়নে ভাঙনের পর বর্তমানে বিশ্ব একমেরুবিশিষ্ট। মার্কিন আধিপত্যবাদ আজ সারা বিশ্বকে গ্রাস করেছে। নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই সব – অন্য চার সদস্য নীরব দর্শকমাত্র। ১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় থেকে ‘বিশ্বশান্তি’-র নামে নিজ স্বার্থে যুদ্ধ করেছে আমেরিকা আর সৈন্য ও রসদ জুগিয়েছে জাতিপুঞ্জ।

(৬) আর্থিক ও কর্মী সমস্যা

জাতিপুঞ্জের আর্থিক সংকট প্রবল। জাতিপুঞ্জ চলে মার্কিন অর্থে। আর্থিক দিক থেকে জাতিপুঞ্জ সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার উপর নির্ভরশীল। জাতিপুঞ্জের কর্মীসংখ্যা একটি বিরাট সমস্যা। বর্তমানে এর কর্মীসংখ্যা ৫৩ হাজার। বছরে বেতন দিতে ব্যয় হয় ১০ বিলিয়ন ডলার। এই বোঝা বহন করা সত্যিই দুরূহ।

উপসংহার :- নানা ত্রুটি ও ব্যর্থতা সত্ত্বেও বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিপুঞ্জের ভূমিকাকে অস্বীকার করা যায় না। দিন দিন এর সদস্য সংখ্যা ও কর্মের পরিধি বিস্তৃততর হচ্ছে। আশা করা যায় যে, নতুন পৃথিবী গড়ার কাজে এই সংস্থা পথ-নির্দেশকের কাজ করবে।

(FAQ) সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কার্যাবলী সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয় কবে?

২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে।

২. কি উদ্দেশ্যে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয়?

আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠা।

৩. কোন যুদ্ধের ভয়াবহতার প্রেক্ষাপটে জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয়?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

৪. কয়টি সংস্থা নিয়ে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গঠিত হয়?

৬ টি।

৫. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রথম মহাসচিব কে ছিলেন?

ট্রিগভি লি।

৬. সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের বর্তমান মহাসচিবের নাম কি?

বান কি মুন।

Leave a Reply

Translate »