বিক্রমাদিত্য ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত

বিক্রমাদিত্য ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত প্রসঙ্গে রাজধানী, হিউয়েন সাঙের বিবরণ, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজধানী, নবরত্ন সভা, বিক্রম সম্বত, কালিদাস ও বরাহমিহির এবং রঘুবংশের কাহিনী সম্পর্কে জানবো।

বিক্রমাদিত্য ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত

রাজা বিক্রমাদিত্য ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
রাজধানী উজ্জয়িনী
রাজা দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
সাম্রাজ্য গুপ্ত সাম্রাজ্য
উপাধি শকারি
বিক্রমাদিত্য ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত

ভূমিকা :- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তকে অনেকে কিংবদন্তীর বিক্রমাদিত্য বলে মনে করেন। কিংবদন্তীর বিক্রমাদিত্যের উপাধি ছিল “শকারি” এবং তাঁর রাজসভায় নবরত্ন ছিলেন। যেহেতু দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত শক রাজাকে পরাস্ত করেন এবং কালিদাস তাঁর সময় জীবিত ছিলেন এজন্য অনেকে বলেন যে, পরে তাকে নিয়ে যে কিংবদন্তী গড়ে ওঠে তা থেকে বিক্রমাদিত্যের কাহিনী বা কিংবদন্তী সৃষ্টি হয়।

রাজধানী

কিংবদন্তীর বিক্রমাদিত্যের রাজধানী ছিল উজ্জয়িনী, আর দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত থাকতেন পাটলিপুত্রে। এখন কোনো কোনো গবেষক মনে করেন যে, গুপ্তবংশের রাজধানী প্রয়াগ বা এলাহাবাদের কাছাকাছি স্থানে ছিল; পাটলিপুত্রে ছিল না। কারণ, গুপ্ত সম্রাটদের আদি যুগের স্বর্ণমুদ্রা প্রথম চন্দ্রগুপ্তের স্বর্ণমুদ্রা এখানে পাওয়া যায়নি।

হিউয়েন সাঙের বিবরণ

হিউয়েন সাং গুপ্তযুগের কিছু পরে ভারতে আসেন। তখন পাটলিপুত্র ধ্বংসস্তূপে ও জঙ্গলে আকীর্ণ ছিল।

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজধানী

পণ্ডিত পরমার্থ অযোধ্যাকে গুপ্ত সম্রাট স্কন্দগুপ্তের বাসস্থান বলেছেন। উদয়গিরি লিপিতে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের মন্ত্রী বীরসেন নিজেকে পাটলিপুত্রের অধিবাসী বা পাটলিপুত্রে বলেছেন। রাজধানীর অধিবাসী হলে তিনি সে কথা বলতেন। যাই হোক, শকারি বিক্রমাদিত্যের রাজধানী উজ্জয়িনী দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজধানী ছিল না।

নবরত্ন সভা

নবরত্নের সকল রত্ন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সময় জীবিত ছিলেন না। এঁদের মধ্যে মাত্র কয়েকজন ছিলেন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সমকালীন।

বিক্রম সম্বত

বিক্রমাদিত্য বিক্রম সম্বত প্রবর্তন করেন। দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত কোন সম্বত প্রবর্তন করেননি।

কালিদাস ও বরাহমিহির

কালিদাস সম্ভবতঃ সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বের শেষদিকে ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে জীবিত ছিলেন। কিন্তু নবরত্নের অন্যতম রত্ন বরাহমিহির তার সমকালীন ছিলেন না।

রঘুবংশের কাহিনী

কালিদাসের রঘুবংশ মহাকাব্যে রঘুর দিগ্বিজয়ের কাহিনী স্বর্গত পণ্ডিত অশোক শাস্ত্রীর মতে ছিল আসলে সমুদ্রগুপ্তের ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের বাজাজয়ের বর্ণনা। যেহেতু রঘুবংশে শক যুদ্ধের কথা নেই সেহেতু এই মহাকাব্য শক যুদ্ধের আগে ৪০০ খ্রী: রচিত হয় বলে মনে করা হয়।

উপসংহার :- বিক্রমাদিত্যের কিংবদন্তী জন-মানসে পরবর্তীযুগে একাধারে সমুদ্রগুপ্তের দিগ্বিজয়, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সংস্কৃতি প্রয়াস ও স্কন্দগুপ্তের হূণ বিজয়কে মিশ্রিত করে গড়ে ওঠে বলে মনে করা হয়।

(FAQ) বিক্রমাদিত্য ও দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. কিংবদন্তির বিক্রমাদিত্য কে ছিলেন?

উজ্জয়িনী।

২. নবরত্ন সভা কার রাজসভায় ছিল?

কিংবদন্তির বিক্রমাদিত্য।

৩. শকারি কার উপাধি ছিল?

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।

৪. কোন গুপ্ত রাজা শকদের পরাজিত করেন?

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।

Leave a Reply

Translate »