প্রথম চন্দ্রগুপ্ত

গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্ত প্রসঙ্গে সিংহাসনে আরোহণ, ক্ষমতা বিস্তার, মগধ জয়, রাজ্য জয়, কুমার দেবীকে বিবাহ, মুদ্রার প্রমান, এ্যালানের অভিমত, আলতেকরের অভিমত ও লিচ্ছবি বিবাহের গুরুত্ব সম্পর্কে জানবো।

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত

রাজা প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
সাম্রাজ্য গুপ্ত সাম্রাজ্য
প্রতিষ্ঠাতা শ্রীগুপ্ত
ভারতের নেপোলিয়ন সমুদ্রগুপ্ত
শকারি দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
প্রথম চন্দ্রগুপ্ত

ভূমিকা :- গুপ্ত মহারাজা শ্রীগুপ্তের পৌত্র এবং ঘটোৎকচগুপ্তের পুত্র ছিলেন প্রথম চন্দ্রগুপ্ত। তিনিই ছিলেন প্রথম সার্বভৌম গুপ্ত সম্রাট। তিনি ৩১৯-৩৩৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন।

সিংহাসনে আরোহণ

এ্যালান গুপ্ত মুদ্রার কালানুক্রম ধরে এবং পুরাণের বংশলিপি থেকে প্রমাণ করেছেন যে, ঘটোৎকচ গুপ্তের পর তাঁর পুত্র প্রথম চন্দ্রগুপ্ত সিংহাসনে বসেন।

ক্ষমতা বিস্তার

তাঁর সময় থেকেই প্রকৃতপক্ষে গুপ্ত বংশের সাম্রাজ্য বিস্তার আরম্ভ হয়। প্রাশিয়ার ইতিহাসে গ্রেট ইলেক্টর ফ্রেডারিক উইলিয়ামের মত গুপ্ত রাজ্য যা ছিল একটি নিতান্তই আঞ্চলিক রাজ্য, তাকে এক সাম্রাজ্যের দ্বারদেশে তিনি পৌঁছে দেন। প্রথম চন্দ্রগুপ্তের মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ তাঁর ক্ষমতা বিস্তারের প্রমাণ দেয়।

মগধ জয়

  • (১) ডঃ এস চ্যাটার্জীর মতে, শক মুরণ্ডদের উৎখাত করে তিনি মগধ জয়ের পর মহারাজাধিরাজ এই বিজয়সূচক উপাধি নেন। তবে এ সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।
  • (২) এই সময় মগধে কারা রাজত্ব করত এতে দুরকম মত আছে। কারও কারও মতে, মগধে শক মুরণ্ডরা রাজত্ব করত। কৌমুদি মহোৎসব নাটকের বিবরণ অনুসারে অনেকে মনে করেন যে, সুন্দর বর্মন নামে এক রাজা মগধে রাজত্ব করতেন।

রাজ্য জয়

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত প্রতিবেশী কোশল রাজ্যের মঘ বা মাঘ বংশকে উৎখাত করেন। তিনি কোশল ও কোশাম্বী অধিকার করে তাঁর রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন। ডঃ আর জি. বসাকের মতে, প্রথম চন্দ্রগুপ্ত পুণ্ড্রবর্ধন বা উত্তর বাংলা জয় করেছিলেন। তবে এই মতের বিরুদ্ধে অনেকে যুক্তি দেখিয়েছেন। উত্তরপ্রদেশ ও মগধ প্রথম চন্দ্রগুপ্ত নিশ্চিতভাবে জয় করেন। এ সম্পর্কে পুরাণের প্রমাণও পাওয়া যায়।

কুমার দেবীকে বিবাহ

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত লিচ্ছবি কন্যা কুমারদেবীকে বিবাহ করে তার রাজ্য ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন বলে অধিকাংশ ঐতিহাসিক মনে করেন। এ্যালান কয়েকটি মুদ্রা আবিষ্কার করেছেন যার এক পিঠে আছে প্রথম চন্দ্রগুপ্ত ও মহাদেবী কুমারদেবীর প্রতিকৃতি, অপর পিঠে ধনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সিংহাসনা লক্ষ্মীর প্রতিকৃতি।

মুদ্রার প্রমান

প্রথম চন্দ্রগুপ্তের মুদ্রায় “লিবায়” কথাটি খোদিত আছে। সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন এই বিবাহজাত সন্তান। তিনি নিজ মুদ্রায় নিজেকে ‘লিচ্ছবি দৌহিত্র’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। সুতরাং প্রথম চন্দ্রগুপ্তের লিচ্ছবি বিবাহ যে গুপ্তবংশের সৌভাগ্য এনে দেয় তা এই সকল মুদ্রা থেকে প্রমাণ হয়।

এ্যালান -এর অভিমত

ঐতিহাসিক এ্যালান বলেছেন যে, গুপ্তবংশে প্রাচীন রাজরক্ত ও আভিজাত্য ছিল না। লিচ্ছবি বিবাহ দ্বারা চন্দ্রগুপ্ত বংশমর্যাদা, রাজরক্ত নিজ বংশে প্রবাহিত করেন। ডঃ মজুমদার এই মত গ্রহণ করেননি।

আলতেকারের অভিমত

ডঃ আলতেকারের অভিমতটি বেশীর ভাগ পণ্ডিত মেনে নিয়েছেন। তিনি বলছেন যে, কুমারদেবী লিচ্ছবি রাজ্যের উত্তরাধিকার এই বিবাহের ফলে গুপ্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন। এর জন্যই মুদ্রায় চন্দ্রগুপ্ত ও কুমারদেবীর নাম ও প্রতিকৃতি ছাপা হয়।

লিচ্ছবি বিবাহের গুরুত্ব

শেষ পর্যন্ত এই বিবাহের ফলে লিচ্ছবি রাজ্য গুপ্ত রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। অধুনা ডঃ গয়াল বলেছেন যে, লিচ্ছবি রাজ্যের অধিকার পেয়ে গুপ্ত সম্রাটরা বিহারের লোহার খনির ওপর অধিকার পান। তার ফলে তাদের ক্ষমতা অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

উপসংহার :- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজ্য উত্তরপ্রদেশের পূর্বভাগ, বিহার এবং পশ্চিম বাংলা নিয়ে বিস্তৃত ছিল। তিনি মৃত্যুর আগে তাঁর অন্যতম পুত্র সমুদ্রগুপ্তকে যোগ্যতম বিবেচনা করে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী নির্বাচন করেন।

(FAQ) প্রথম চন্দ্রগুপ্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. গুপ্ত বংশের প্রথম সার্বভৌম রাজা কে ছিলেন?

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।

২. গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

শ্রীগুপ্ত।

৩. কার মুদ্রায় লক্ষ্মীর প্রতিকৃতি দেখা যায়?

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।

৪. প্রথম চন্দ্রগুপ্তের পর কে গুপ্ত বংশের রাজা হন?

সমুদ্র গুপ্ত।

Leave a Reply

Translate »