সুকুমার রায়

সুকুমার রায় প্রসঙ্গে সুকুমার রায়ের জন্ম, সুকুমার রায়ের পিতামাতা, সুকুমার রায়ের পারিবারিক ইতিহাস, সুকুমার রায়ের ছদ্মনাম, সুকুমার রায়ের ছেলেবেলা, সুকুমার রায়ের শিক্ষাজীবন।

বিশেষ ছাত্ররূপে ভর্তি সুকুমার রায়, সুকুমার রায়ের বিবাহ, ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সদস্য সুকুমার রায়, সুকুমার রায় কর্তৃক ইউ রায় অ্যান্ড সন্স-এর দায়িত্ব গ্রহণ, সুকুমার রায়ের উদ্যোগে মানডে ক্লাব গঠন, সুকুমার রায়ের সাহিত্যিক প্রতিভার উন্মেষ, সন্দেশ পত্রিকায় সুকুমার রায়ের লেখালেখি, সুকুমার রায়ের কর্মজীবন, ব্রাহ্ম সমাজের নেতা সুকুমার রায়, সুকুমার রায় কর্তৃক রবীন্দ্রনাথকে সহযোগিতা, সুকুমার রায়ের রচনার বৈশিষ্ট্য, জনপ্রিয় লেখক সুকুমার রায়, সুকুমার রায়ের প্রবন্ধ, সুকুমার রায়ের কাব্যগ্ৰন্থ, সুকুমার রায়ের চিত্রচর্চা, সুকুমার রায়ের অজানা কিছু তথ্য, সুকুমার রায়ের কৃতিত্ব, সুকুমার রায়ের শেষ জীবন ও সুকুমার রায়ের মৃত্যু।

শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায়

ঐতিহাসিক চরিত্রসুকুমার রায়
জন্ম৩০ অক্টোবর ১৮৮৭ খ্রি
জন্মস্থানকলকাতা, ভারত
পিতাউপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
মাতাবিধুমুখী দেবী
দাম্পত্য সঙ্গীসুপ্রভা দেবী
পেশাসাহিত্যিক
পুত্রসত্যজিৎ রায়
সময়কালবাংলার নবজারণ
মৃত্যু১০ সেপ্টেম্বর ১৯২৩ খ্রি

ভূমিকা :- হাস্যরস ও ব্যঙ্গের যুগপৎ সম্মিলন যাঁর লেখায় লক্ষ্য করা যায় তিনি হলেন বাংলা শিশুসাহিত্যে অপরাজেয় শিল্পী সুকুমার রায়। বাংলা সাহিত্যে শিশু-কিশোরদের জন্য অমর সাহিত্য রচনায় সুকুমার রায়ের জুড়ি মেলা ভার। শিশুদের মনের অন্তঃস্থলে প্রবেশের এমন সহজ, স্বচ্ছন্দ অধিকারী সুকুমার রায় ছাড়া আর কে বা আছে? শিশু মননের উদ্ভট, অবাস্তব জগতে প্রবেশ করে বিচিত্র খেয়ালখুশিতে ভরিয়ে তুলেছেন সৃষ্টিসম্ভারকে। সুকুমার রায় একজন বাঙালি শিশুসাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে “ননসেন্স রাইমের” প্রবর্তক হলেন সুকুমার রায়। বাংলা সাহিত্যের আকাশে তিনি একাধারে লেখক, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক ও নাট্যকার।

সুকুমার রায়ের জন্ম

বাংলা শিশু সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনাকার সুকুমার রায়ের জন্ম হয় ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দের ৩০ শে অক্টোবর কলকাতায়।

সুকুমার রায়ের পিতামাতা

সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছিলেন শিশু সাহিতিক, সংগীতজ্ঞ, চিত্রশিল্পী ও যন্ত্রকুশলী। তাঁর মা বিধুমুখী দেবী ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে।

সুকুমার রায়ের পারিবারিক ইতিহাস

রায় পরিবারের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে তাঁদের পূর্বপুরুষ শ্রী রামসুন্দর দেও বা দেব অধুনা পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাকদহ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন৷ ভাগ্য অণ্বেষণে তিনি পৈতৃক গ্রাম ত্যাগ করে পূর্ববঙ্গের শেরপুরে গমন করেন৷ সেখানে শেরপুরের জমিদার বাড়িতে তাঁর সাক্ষাৎ হয় যশোদলের জমিদার রাজা গুণীচন্দ্রের সাথে৷ রাজা গুণীচন্দ্র রামসুন্দরের সুন্দর চেহারা ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দেখে মুগ্ধ হন এবং রামসুন্দরকে তাঁর সাথে তাঁর জমিদারিতে নিয়ে যান৷ যশোদলে জমিজমা, ঘরবাড়ি দিয়ে তিনি রামসুন্দরকে তাঁর জামাতা বানান৷ সেই থেকেই রামসুন্দর যশোদলে বসবাস শুরু করেন৷ তাঁর বংশধররা সেখান থেকে সরে গিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলায় মসূয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন৷

সুকুমার রায়ের ছেলেবেলা

কবি সুকুমার রায় পিতার কাছ থেকেই উত্তরাধিকার সূত্রে সাহিত্যের প্রতিভা লাভ করেছিলেন। অল্প বয়স থেকেই তিনি মুখে মুখে ছড়া তৈরি করতে পারতেন। ছবি আঁকারও হাতেখড়ি হয়েছিল বাবা উপেন্দ্র কিশোরের কাছেই। তিনি আঁকার সঙ্গে ফটোগ্রাফির চর্চাও শুরু করেছিলেন ছেলেবেলা থেকেই।

সুকুমার রায়ের ছদ্মনাম

সন্দেশে লেখার গােড়ার দিকে সুকুমার ছদ্মনাম গ্রহণ করেছিলেন। উহ্যনাম পন্ডিত ছিল তার ছদ্মনাম। জীবনের শেষ পর্বে আবার কিছু লেখা লিখেছিলেন উহ্যনাম পন্ডিত নামে।

সুকুমার রায়ের শিক্ষাজীবন

কবি সাহিত্যিক সুকুমার রায় গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা লাভের পর কলকাতার সিটি স্কুলে পড়াশুনা শুরু করেন। এরপর রসায়নে অনার্স সহ বি.এস.সি পাশ করেন প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে। এরপর ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে ফটোগ্রাফি আর মুদ্রণ শিল্পে উচ্চতর শিক্ষালাভের জন্য গুরুপ্রসন্ন ঘোষ স্কলারশিপ নিয়ে ইংল্যান্ডে যান। স্কুলে পাঠরত অবস্থাতেই ছোটদের হাসির নাটক লেখা ও অভিনয় শুরু করেন তিনি। বন্ধুদের নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ননসেন্স ক্লাব। এই ক্লাবের মুখপত্রের নাম ছিল সাড়ে বত্রিশ ভাজা। বিলেত যাবার আগে শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ও অবনীন্দ্রনাথের সঙ্গে গোড়ায় গলদ নাটকে অভিনয় করেন সুকুমার রায়।

বিশেষ ছাত্ররূপে ভর্তি সুকুমার রায়

পিতা উপেন্দ্রকিশােরের যােগাযােগ ছিল লন্ডনের পেনরােজ পত্রিকার সঙ্গে। বিলেত বাসের সময় এই পত্রিকার সম্পাদক মিস্টার গম্বেল-এর সহযােগিতা পেয়েছিলেন তিনি। তারই চিঠি নিয়ে সুকুমার রায় লন্ডনের L.C.C.School of Photo Engraving and Lithography তে বিশেষ ছাত্ররুপে ভর্তি হন।

সুকুমার রায়ের বিবাহ

১৯১৯ সালে সুপ্রভা দাসের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সুকুমার রায়। তার পুত্র সন্তানের নাম সত্যজিৎ রায়।

ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সদস্য সুকুমার রায়

লন্ডনে থাকার সময় সুকুমার রায় রয়েল ফটোগ্রাফিক সােসাইটির সদস্য নির্বাচিত হন। তার পূর্বে একমাত্র স্যার যতীন্দ্রমােহন ঠাকুর এই সম্মান পেয়েছিলেন।

সুকুমার রায় কর্তৃক ইউ রায় অ্যান্ড সন্স -এর দায়িত্ব গ্ৰহণ

কবি সুকুমার রায় দেশে ফিরে আসেন এবং পিতার প্রতিষ্ঠিত ইউ রায় অ্যান্ড সন্স -এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

সুকুমার রায়ের উদ্যোগে মানডে ক্লাব গঠন

কবি সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের উদ্যোগে গড়ে ওঠে মানডে ক্লাব। এই ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কালিদাস নাগ, অতুলপ্রসাদ সেন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, প্রশান্তচন্দ্র মহালনবীশ, প্রভাত গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ বিদ্বজনেরা। তিনি ছিলেন এই ক্লাবের মধ্যমণি। এই ক্লাবের আলোচনা চক্রে প্লেটো থেকে শুরু করে বঙ্কিমচন্দ্র, বৈষ্ণব কবিতা, রবীন্দ্রকাব্য পর্যন্ত আলােচনা হত।

সুকুমার রায়ের সাহিত্যিক প্রতিভার উন্মেষ

ছাত্রাবস্থায় শিবনাথ শাস্ত্রীর ‘মুকুল’ পত্রিকায় সুকুমার রায়ের প্রতিভার প্রথম প্রকাশ ঘটে। কলেজ ছাড়ার অব্যবহিত পরেই তাঁর দ্বারা ননসেন্স ক্লাব প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর প্রতিভা বিচ্ছুরিত হয়। ক্লাবের নামকরণেই সূচিত হয় তাঁর প্রতিভা কোন দিকে যাবে। ক্লাব পত্রিকায় তাঁর লেখা ‘বত্রিশ ভাজার পাতা’ কাব্যরসের আভাষ ছিল। সংঘ বন্ধুদের অভিনয়ের জন্য রচিত হল ‘ঝালাপালা’ ও ‘লক্ষ্মণের শক্তিশেলে’র মত রঙ্গরসাক্তক নাটক। তাঁর স্বকীয় হাস্যরস প্রথম নাটক মহাকাব্যের চরিত্রে রং- তামাসা মাখানো হয়েছে।

সন্দেশ পত্রিকায় সুকুমার রায়ের লেখালেখি

কিশোরদের জন্য প্রকাশিত পত্রিকা সন্দেশের প্রতিটি সংখ্যাতেই সুকুমার নানা বিষয়ে লিখতেন, ছবি আঁকতেন। শিশু-কিশােরদের উপযােগী বিজ্ঞান বিষয়ক সাহিত্য রচনাতেও তিনি পারদর্শী ছিলেন। লন্ডনে দুবছর ছিলেন সুকুমার । সেখান থেকে নিয়মিত ভাবে গল্প, কবিতা ও আঁকা ছবি পাঠাতেন পিতা উপেন্দ্রকিশােরের সম্পাদিত সন্দেশ পত্রিকার জন্য। এভাবেই তিনি সন্দেশের পাঠক পাঠিকাদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন ।

সুকুমার রায়ের কর্মজীবন

সুকুমার রায়ের স্বল্পস্থায়ী জীবনে তার প্রতিভার শ্রেষ্ঠ বিকাশ লক্ষ্য করা যায়। সুকুমার রায় ফটোগ্রাফিক সােসাইটি লাইব্রেরিতে নিয়মিত পড়াশােনা করতেন। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে তিনি ম্যাঞ্চেস্টারের স্কুল অব টেকনােলজিতে বিশেষ ছাত্ররূপে স্টুডিও ও লেবরেটরির কাজ শিখেছিলেন। পড়াশােনার কাজের ফাঁকেই সুকুমার প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে যােগাযােগ রাখতেন। এই সুযােগে লন্ডন প্রবাসী অনেক বিখ্যাত বাঙালীর সাথে তার পরিচয় হয়। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ২০ শে ডিসেম্বর উপেন্দ্রকিশােরের মৃত্যু হলে সুকুমার তার ভাই সুবিনয়ের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হন।

ব্রাহ্মসমাজের নেতা সুকুমার রায়

সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্ম ছাড়াও সুকুমার ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের সংস্কারপন্থী গোষ্ঠির এক তরুণ নেতা। রাজা রামমোহন রায় প্রবর্তিত একেশ্বরবাদী, অদ্বৈতে বিশ্বাসী হিন্দুধর্মের এক শাখা হল ব্রাহ্মসমাজ। সুকুমার রায় ‘অতীতের কথা’ নামক একটি কাব্য রচনা করেছিলেন, যা ব্রাহ্ম সমাজের ইতিহাসকে সরল ভাষায় ব্যক্ত করে ছোটদের মধ্যে ব্রাহ্ম সমাজের মতাদর্শের উপস্থপনা করার লক্ষ্যে এই কাব্যটি একটি পুস্তিকার আকারে প্রকাশ করা হয়।

সুকুমার রায় কর্তৃক রবীন্দ্রনাথকে সহযোগিতা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতাঞ্জলির পান্ডুলিপি নিয়ে লন্ডনে এলে সুকুমার রায় তাকে নানাভাবে সহযােগিতা করেছিলেন।

সুকুমার রায়ের রচনার বৈশিষ্ট্য

সুকুমারের গল্প ও কবিতার মধ্যে আছে উচ্ছল কৌতুক রসের সঙ্গে সূক্ষ্ম সমাজ চেতনার সংমিশ্রণ৷ সুকুমার রায় তার লেখা ও ছবির মাধ্যমে বাংলা দেশের শিশুচিত্ত জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। সন্দেশ পত্রিকায় লেখার গোড়ার দিকে সুকুমার রায় ছদ্মনাম গ্রহণ করেছিলেন। উহ্য নাম পণ্ডিত ছিল তার ছদ্মনাম। পরবর্তীতে স্বনামেই লেখেন গল্প, কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ। আবার জীবনের শেষ পর্বে অবশ্য কিছু লেখা লিখেছিলেন উহ্যনাম পণ্ডিত নামে।

জনপ্রিয় লেখক সুকুমার রায়

সুকুমার রায় যদি আবোল তাবলের ৪৫টি ছড়া ব্যতীত অন্য কিছু লিখতেন, তাহলেও তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যে কোনো লেখকের মতোই জনপ্রিয় ছিলেন। এমনকি আবোল তাবোলের প্রথম প্রকাশের প্রায় আশি বছর পরেও, এমন একজন শিক্ষিত বাঙালি খুঁজে পাওয়া বিরল হবে, যিনি এই কবিতাগুলি আবৃত্তি করে তার জীবন শুরু করেন নি। আবোল তাবোল ছাড়াও তার অন্যান্য জনপ্রিয় রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হ-য-ব-র-ল, পাগলা দাশু, খাই খাই, বহুরূপী ইত্যাদি।

সুকুমার রায়ের প্রবন্ধ

East West Society-র আহ্বানে সুকুমার রায় নিজের লেখা প্রবন্ধ The Spirit of Rabindranath পাঠ করেন। এই প্রবন্ধের সঙ্গে কবির অনেকগুলি কবিতার অনুবাদ ছিল। পরবর্তীতে প্রবন্ধটি Quest পত্রিকায় ছাপা হয়।

সুকুমার রায়ের কাব্যগ্রন্থ

শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের লেখা প্রথম কবিতা আবোল তাবোল, ১৯২৩ সালে, ইউ রায় এন্ড সন্স থেকে প্রকাশিত হয়। আবোল-তাবোল শুধু আমাদের বাংলাতে নয় গোটা বিশ্বে এই কবিতার নাম পরিচিত। সুকুমার রায়ের আরো একটি প্রচলিত রচনা হল হ য ব র ল। এটি বাংলা সাহিত্যের ননসেন্স ধারার একটি শ্রেষ্ঠ রচনা। তার বিখ্যাত সব কবিতা সমূহ হল আবোল তাবোল, খিচুড়ি, কাঠ বু্ড়ো, গোঁফ চুরি, সৎপাত্র, গানের গুঁতো, খুড়োর কল, লড়াই ক্ষ্যাপা, সাবধান, ছায়াবাজী, কুমড়োপটাশ, প্যাঁচা আর প্যাঁচানী, কাতুকুতু বুড়ো, বুড়ীর বাড়ি, হাতুড়ে, কিম্ভূত, চোর ধরা, ভাল রে ভাল !, অবাক কাণ্ড, বাবুরাম সাপুড়ে, বোম্বাগড়ের রাজা শব্দকল্পদ্রুম্ !, নেড়া বেলতলায় যায় কবার?, বুঝিয়ে বলা, হুঁকো মুখো হ্যাংলা, একুশে আইন, দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম্ !, গল্প বলা, নারদ ! নারদ !, কি মুস্কিল !, ডানপিটে, আহ্লাদী, রামগরুড়ের ছানা, ভূতুড়ে খেলা, হাত গণনা, গন্ধ বিচার হুলোর গান, কাঁদুনে, ভয় পেয়োনা, ট্যাঁশ গরু, নোট বই ঠিকানা, পালোয়ান, বিজ্ঞান শিক্ষা, ফসকে গেল !, আবোল তাবোল, ছড়ার পাতা।

সুকুমার রায়ের চিত্রচর্চা

তাঁর সমস্ত রচনার মতোই-ছবিগুলিও অসামান্য। এই ছবিগুলিও বাংলা চিত্রকলা চর্চার ক্ষেত্রে অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে।

সুকুমার রায়ের অজানা কিছু তথ্য

শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একজন কাছের বন্ধু। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার এবং শিল্পী সত্যজিৎ রায়ের পিতা হলেন সুকুমার রায়। সুকুমার রায় ছিলেন সংস্কারবাদী দল ব্রাহ্ম সমাজের তরুন নেতা। তাঁর পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছিলেন সন্দেশ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম সম্পাদক। সুকুমার রায় ছিলেন ‘Monday Club’-এর আহ্বায়ক।

সুকুমার রায়ের কৃতিত্ব

শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের সাহিত্যে ইংরেজি সাহিত্যের বিশেষ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বিশেষত এডওয়ার্ড লিয়র এবং লিউই ক্যারলের স্পষ্ট প্রভাব অনেকেই আবিষ্কার করেছেন। বিদেশে বহুদিন লেখাপড়ার সুবাদে বহু বিদেশি সাহিত্যিকের রচনার সঙ্গে সুপরিচিত ছিলেন। লিয়রের তুলনায় লিউই ক্যারলের সাহিত্যিক প্রভাব বেশি লক্ষ করা যায় সুকুমার সাহিত্যে। এই প্রভাব যে-কোনো গুণী লেখকদের মধ্যে পড়ে থাকে। এডওয়ার্ড লিয়রের ‘লিমেরিক’ এবং লিউই ক্যারলের ‘Alice in Wonderland’ সুকুমার পড়েছিলেন, আত্মস্থ করেছিলেন ঠিকই কিন্তু তাঁর ‘আবোল তাবোল’ কিংবা ‘হ-য-ব-র-ল’ গ্রন্থ দুটি বাংলার সোঁদামাটি গল্পযুক্ত। সুতরাং অনুকরণ নয়, প্রেরণা পেয়েছিলেন সুকুমার রায় বিদেশি সাহিত্যিকদের।

সুকুমার রায়ের শেষ জীবন

এরপরেই সুকুমার রায় আক্রান্ত হন কালাজ্বরে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সংগ্রাম করেছেন রোগের সঙ্গে। অসুস্থ অবস্থাতেও তিনি অনর্গল লিখেছেন, ছবি এঁকেছেন। এই সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসে তাকে গান শোনাতেন। তাকে ধর্মকথা শোনাতেন পণ্ডিত ক্ষিতিমোহন সেন। কিন্তু জীবনের মেয়াদ ফুরিয়ে এসেছিল।

সুকুমার রায়ের মৃত্যু

বিখ্যাত শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে ১০ ই সেপ্টেম্বর পরলোক গমন করেন।

উপসংহার :- সুকুমার রায় মূলত শিশুদের জন্য লিখতেন তাই শিশুদের কাছে খুব প্রিয় ছিলেন তিনি। শিশুদের খুব ভালোবাসতেন সাহিত্যিক সুকুমার রায়। আজ তিনি বেঁচে না থাকলেও, তাঁর রচনার মাধ্যমে জীবিত আছেন। বাংলা সাহিত্যে শিশু ও কিশোর সাহিত্যিক বলতে স্বতঃই মনে পড়ে সুকুমার রায়ের নাম। তাঁর অবিমিশ্র হাস্যরসের ধারার সমগ্র বাংলা সাহিত্য অভিষিক্ত, সঞ্জীবিত। তাঁর সৃষ্ট ভাব সমাবেশের অভাবনীয় সংলগ্নতা চমৎকৃতি আনে। তাঁর হাস্যরসের জোয়ারে সমভাবে আবালবৃদ্ধ হাবুডুবু খায়। তাঁর লেখায় ছেলেদের সঙ্গে বড়রাও ছেলেবেলার স্বপ্নিল কল্পরাজ্যের সন্ধান পান। তাঁর স্বকীয় ও উৎকৃষ্ট ব্যঙ্গ রসিকতা তাকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে গৌরবের আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।


প্রিয় পাঠক/পাঠিকা আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সময় করে আমাদের এই “সুকুমার রায়” পোস্টটি পড়ার জন্য। এই ভাবেই adhunikitihas.com ওয়েবসাইটের পাশে থাকুন। যে কোনো প্রশ্ন উত্তর জানতে এই ওয়েবসাইট টি ফলো করুণ এবং নিজেকে তথ্য সমৃদ্ধ করে তুলুন।

সবশেষে আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ যদি এই পোস্টটি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে Comment ও Share করে দিবেন, (ধন্যবাদ)।

(FAQ) সুকুমার রায় সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. সুকুমার রায়ের পিতা কে?

উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী।

২. সুকুমার রায়ের মায়ের নাম কি

বিধুমুখী দেবী।

৩. সুকুমার রায়ের স্ত্রীর নাম কি

সুপ্রভা দেবী।

৪. সুকুমার রায় কিভাবে মারা যান?

লেশম্যানিয়াসিস রোগে ভুক্ত হয়ে মারা যান।

অন্যান্য ঐতিহাসিক চরিত্রগুলি

Leave a Comment