রামগুপ্ত

গুপ্ত সম্রাট রামগুপ্ত প্রসঙ্গে সিংহাসনে আরোহণ, রামগুপ্তের কাহিনী, রামগুপ্তের অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ ও ডঃ মজুমদারের মতের সমালোচনা সম্পর্কে জানবো।

রামগুপ্ত

রাজা রামগুপ্ত
সাম্রাজ্য গুপ্ত সাম্রাজ্য
পূর্বসূরি সমুদ্রগুপ্ত
উত্তরসূরি দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
রামগুপ্ত

ভূমিকা :- একদা মনে করা হত যে, সমুদ্রগুপ্তের পরেই তার পুত্র দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত মগধের সিংহাসনে বসেন। কিন্তু বিশাখদত্তের নাটক দেবীচন্দ্রগুপ্তমের আবিষ্কারের পর এই নাটকের তথ্য অনুসারে দেখা যায় যে, সমুদ্রগুপ্তের পর তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র রামগুপ্ত কিছুকাল সিংহাসনে বসেন।

সিংহাসনে আরোহণ

নাট্যর্পণ নামক গ্রন্থেও রামগুপ্তের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর ফলে এখন অধিকাংশ পণ্ডিত মনে করেন যে, সমুদ্রগুপ্তের পর রামগুপ্ত সিংহাসনে বসেন।

রামগুপ্তের কাহিনী

দেবীচন্দ্রগুপ্তম নাটকের প্রদত্ত বিবরণ হল, রামগুপ্ত সিংহাসনে বসার পর জনৈক শক রাজার দ্বারা আক্রান্ত হন। রামগুপ্ত যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে তাঁর রাণী ধ্রুবদেবীকে এই শক রাজার হাতে তুলে দেন। এতে রামগুপ্তের ছোট ভাই চন্দ্রগুপ্ত কুপিত হয়ে নারীর ছদ্মবেশে শক রাজাকে হত্যা করেন ও ধ্রুবদেবীকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি রামগুপ্তকে হত্যা করে তাঁর পত্নী ধ্রুবদেবীকে বিবাহ করেন।

রামগুপ্তের অস্তিত্ব সম্পর্কে সন্দেহ

ডঃ আর সি মজুমদার প্রমুখ ঐতিহাসিক রামগুপ্তের অস্তিত্ব এবং ওপরের কাহিনীর সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। যেমন –

  • (১) দেবীচন্দ্রগুপ্তম নাটকটি সমকালীন নয়, অন্ততঃ দুশতক পরে রচিত হয়। এর সমর্থনে উপযুক্ত শিলালিপি পাওয়া যায় নি।
  • (২) গুপ্ত শিলালিপিগুলিতে রামগুপ্তের কোনো উল্লেখ নেই।
  • (৩) জোষ্ঠ ভ্রাতার বিধবার সঙ্গে বিবাহ ভারতীয় সামাজিক রীতির বিরুদ্ধ।
  • (৪) সমুদ্রগুপ্তের পর গুপ্ত শক্তি এত হীনবল হতে পারে না যার ফলে শক রাজার হাতে এরূপ শোচনীয় পরাজয় হতে পারে। কারণ সমুদ্রগুপ্ত তাঁর সাম্রাজ্যকে অপ্রতিহত রেখে যান।

ডঃ মজুমদারের মতের সমালোচনা

অধুনা ডঃ মজুমদারের উপরোক্ত যুক্তিগুলি দুর্বল প্রমাণিত হচ্ছে। যেমন –

  • (১) জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার পত্নীকে বিবাহ করার প্রথা বৈদিক যুগে প্রচলিত ছিল। তবে এরূপ বিবাহ জনপ্রিয় না হলেও শাস্ত্রবিরোধী ছিল না।
  • (২) শিলালিপিতে, রাজশেখরের কাব্যমীমাংসা নামক রচনায় ও বাণের হর্ষচরিতে রামগুপ্তের উল্লেখ দেখা যায়।
  • (৩) সিলভ্যাঁলেভি প্রমুখ পণ্ডিতেরা রামগুপ্তকে ঐতিহাসিক ব্যক্তি ও সমুদ্রগুপ্তের উত্তরাধিকারী বলে মনে করেন। কারণ, লেভীর মতে, গুপ্ত শিলালিপিতে ইচ্ছা করেই রামগুপ্তের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তার কলঙ্কজনক কাজের জন্য।
  • (৪) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত শক-ক্ষত্ৰপ তৃতীয় রুদ্রসেনকে ধ্বংস করেন এ কথা নিশ্চিত। কিন্তু দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত তাঁর এত বড় কৃতিত্বের কথা তার নিজের শিলালিপিতে উল্লেখ করেন নি। ডঃ এস চ্যাটার্জী এখনো সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে রামগুপ্তের কলঙ্কজনক ঘটনাকে চাপা দেওয়ার জন্যই তিনি ইচ্ছা করে তার এই কৃতিত্বকে অনুল্লেখিত রাখেন।

উপসংহার :- অধুনা বিদিশায় রামগুপ্তের নামাঙ্কিত এবং তার বাণীর দ্বারা খোদিত লিপি পাওয়া গেছে। এতে “মহারাজাধিরাজ রামগুপ্ত” নাম খোদিত আছে। এই সকল যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে এখন রামগুপ্তকে ঐতিহাসিক ব্যক্তি বলে মনে করা হয়।

(FAQ) গুপ্ত সম্রাট রামগুপ্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. সমুদ্রগুপ্তের পর কে সিংহাসনে আরোহণ করেন?

রামগুপ্ত।

২. দেবীচন্দ্রগুপ্তম কার লেখা নাটক?

বিশাখদত্ত।

৩. রামগুপ্ত কোন রাজার কাছে পরাজিত হন?

শকরাজা।

৪. রামগুপ্তের পর কে সিংহাসনে আরোহণ করেন?

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।

Leave a Reply

Translate »