কুমার গুপ্ত

গুপ্ত সম্রাট কুমার গুপ্ত প্রসঙ্গে অশ্বমেধ যজ্ঞ, ব্যাঘ্রবল পরাক্রম উপাধি, দাক্ষিণাত্য জয়, বৈদেশিক আক্রমণ, সুশাসন, জনহিতকর কাজ, ধর্মসহিষ্ণুতা সম্পর্কে জানবো।

কুমার গুপ্ত

রাজা কুমার গুপ্ত
সাম্রাজ্য গুপ্ত সাম্রাজ্য
পূর্বসূরি দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
উত্তরসূরি স্কন্দগুপ্ত
কুমার গুপ্ত

ভূমিকা :- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের পর ৪১৫ খ্রিস্টাব্দে কুমারগুপ্ত পিতার সিংহাসনে বসেন। তার আমলের প্রায় ১৩টি শিলালিপি পাওয়া যায়। তিনি পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সাম্রাজ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখেন, তিনি এই সাম্রাজ্যের বিস্তৃতির কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি।

অশ্বমেধ যজ্ঞ

যদিও তিনি একটি অশ্বমেধ যজ্ঞের অনুষ্ঠান করেন, এই যজ্ঞ কোনো রাজ্য বিজয়ের পর অনুষ্ঠিত হয় কিনা তা জানা যায়নি।

ব্যাঘ্রবল পরাক্রম উপাধি

প্রথম কুমারগুপ্তের মুদ্রায় “ব্যাঘ্রবল পরাক্রম” উপাধি থাকার জন্য ড: রায়চৌধুরী অভিমত দিয়েছেন যে, তিনি ব্যাঘ্র শঙ্কুল নর্মদা অঞ্চল জয় করেন। এজন্য তিনি এই উপাধি নেন। অন্য কোন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা শিলালিপি না থাকায় অনেকে এই মত সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন।

দাক্ষিণাত্য জয়

অধুনা গবেষকদের মধ্যে কুমারগুপ্তের দাক্ষিণাত্য জয়কে সমর্থন করার প্রবণতা দেখা যায়। তাদের মতে,

  • (১) কুমারগুপ্তের মুদ্রা সাতারা জেলায় পাওয়া গেছে, যা তাঁর দাক্ষিণাত্যে প্রভাব বিস্তারের সাক্ষ্য দেয়।
  • (২) তার ১৩টি মুদ্রা বেরারের ইলিচপুরে পাওয়া গেছে।
  • (৩) সম্ভবত তিনি নর্মদা অঞ্চল বা দাক্ষিণাত্য জয় করে অশ্বমেধ যজ্ঞ অনুষ্ঠান করেন।
  • (৪) ডঃ গয়ালের মতে, নল রাজবংশের সঙ্গে জোট বেঁধে কুমারগুপ্ত বাকাটকদের আক্রমণ করেছিলেন।

বৈদেশিক আক্রমণ

  • (১) যদি কুমারগুপ্ত দাক্ষিণাত্য আক্রমণ করে থাকেন তার ফল তাঁর পক্ষে ভাল হয়নি। দক্ষিণে যুদ্ধে ব্যাপৃত থাকায় উত্তর-পশ্চিমে তার মুষ্টি অনেকটা শিথিল হয়। স্কন্দগুপ্তের আমলে হূণ আক্রমণ একথা প্রমাণ করে।
  • (২) নর্মদা অঞ্চলের উপজাতি পুষ্যমিত্রগণ, কুমারগুপ্তের আক্রমণের প্রতিশোধ নিতে তাঁর রাজ্যে পাল্টা আক্রমণ চালায়। পুরাণের মতে, নর্মদার মেকলা দেশে পুষ্যমিত্রগণ বসবাস করত। ভিটারি স্তম্ভলিপি হতে একথা জানা যায়।
  • (৩) অনেকে মনে করেন যে, বাকাটকরা পুষ্যমিত্রদের সঙ্গে যোগ দিয়ে এই আক্রমণ ঘটায়। বাকাটক রাজা নরেন্দ্র সেন তাঁর রাজ্য আক্রমণের প্রতিশোধ নিতে পুষ্যমিত্রদের সঙ্গে যোগ দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্য আক্রমণ করেন। অতীতে বাকাটকদের সঙ্গে গুপ্ত সম্রাটরা যে মৈত্রী রেখে চলতেন কুমারগুপ্ত তা নষ্ট করার জন্য ফল ভোগ করেন।
  • (৪) নর্মদা অঞ্চলে যে এই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা দারুণভাবে দেখা দিয়েছিল তার প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়। লোকে নিরাপত্তার অভাবে সোনা ও অলঙ্কার মাটির নীচে রাখত বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

সুশাসন

কুমারগুপ্তের রাজত্বের শেষ দিকে রাজনৈতিক গোলযোগ দেখা দিলেও, তাঁর কৃতিত্ব খাটো করে দেখা ঠিক হবে না। তার আমলে পূর্ববর্তী গুপ্ত সম্রাটদের মতই সুশাসন মোটামুটি বহাল ছিল। দামোদরপুর লিপি থেকে কুমারগুপ্তের আমলে শাসন ব্যবস্থার কথা জানা যায়।

জনহিতকর কাজ

তার আমলে বহু জনহিতকর কাজ হয়েছিল। ভিলসর লিপি থেকে জানা যায় যে, রাজ্যে বহু ‘সত্র’ স্থাপিত হয়েছিল। তিনি সত্রগুলি যাতে চালু থাকে সেজন্য অর্থ দান করেন।

ধর্মসহিষ্ণুতা

তার আমলে কার্তিকেয় ও শিবের উপাসনার জনপ্রিয়তা দেখা যায়। স্বয়ং কুমারগুপ্ত তাঁর বংশের ধারা অনুযায়ী বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি আনুগত্য “পরম ভাগবত” উপাধি দ্বারা জ্ঞাপন করেন। কিন্তু তিনি কার্তিকেয় বাহন ময়ূরকে তাঁর মুদ্রার প্রতীক হিসেবে নেন এবং নিজ পুত্রের নাম রাখেন “সুন্দ”। এ থেকে তাঁর কার্তিকেয় উপাসনার প্রতি আগ্রহও প্রকাশ পাচ্ছে। তিনি ভারতীয় সভ্যতার প্রথা অনুযায়ী ধর্ম-সহিষ্ণুতার আদর্শ নেন।

উপসংহার :- প্রায় ৪০ বছর তিনি সাম্রাজ্যের নিরবচ্ছিন্ন শান্তি অব্যাহত রাখেন। তিনি একটি স্থায়ী শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। উদার অথচ বলিষ্ঠ নীতির দ্বারা তিনি এই শাসন ব্যবস্থাকে মজবুত করেন। তবে তার মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই তার পুত্রদের মধ্যে সিংহাসন নিয়ে ভ্রাতৃযুদ্ধ হয় বলে মনে করা হয়।

(FAQ) কুমার গুপ্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের পর কে সিংহাসনে আরোহণ করেন?

কুমারগুপ্ত।

২. কুমারগুপ্ত কোন ধর্মের অনুরাগী ছিলেন?

বৈষ্ণব ধর্ম।

৩. কুমারগুপ্ত কি উপাধি ধারণ করেন?

পরমভাগবত।

৪. কুমারগুপ্তের মুদ্রার প্রতীক কি ছিল?

কার্তিকেয়।

৫. কুমারগুপ্তের পর কে সিংহাসনে আরোহণ করেন?

স্কন্দগুপ্ত।

Leave a Reply

Translate »