মৌর্য পরবর্তী যুগের অর্থনৈতিক অবস্থা

মৌর্য পরবর্তী যুগের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রসঙ্গে কৃষি, ভূমি রাজস্ব, বাণিজ্য, ভৃগুকচ্ছ বন্দরের উন্নতি, অন্তর্বাণিজ্য, চীন-ভারত বাণিজ্য, বণিক শ্রেণির প্রভাব, শিল্প ও নিগম সম্পর্কে জানবো।

মৌর্য পরবর্তী যুগের অর্থনৈতিক অবস্থা

বিষয় মৌর্য পরবর্তী যুগের অর্থনৈতিক অবস্থা
জীবিকা কৃষিকাজ
বন্দর ভৃগুকচ্ছ, তাম্রলিপ্ত
সুদর্শন হ্রদ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
প্রধান ফসল ধান, গম ও যব
মৌর্য পরবর্তী যুগের অর্থনৈতিক অবস্থা

ভূমিকা :- মৌর্য যুগের পরে ব্যাকট্রিয়, শক, কুষাণ যুগে ভারতের অর্থনীতিতে নানা পরিবর্তন ঘটেছিল। তবে এই সময়কালে বিশেষ করে কুষাণ রাজাদের সময়ে বাণিজ্যে অভাবনীয় সাফল্য লক্ষ্য করা যায়।

কৃষি

  • (১) তখনও পর্যন্ত বেশীর ভাগ লোকের জীবিকা ছিল কৃষি। ভারতীয় কৃষি প্রাচীন যুগে ছিল প্রধানত বৃষ্টিনির্ভর। বেশী বৃষ্টি হলে অথবা খরা হলে কৃষির ক্ষতি হত। তথাপি শক-কুষাণ যুগে জলসেচ ব্যবস্থার দিকে রাষ্ট্রের নজর দেওয়া হত।
  • (২) মহাক্ষত্ৰপ রুদ্রদামন তার গিরিনগর লিপিতে বলেছেন যে, সৌরাষ্ট্রে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের তৈরি জলসেচের জন্য সুদর্শন হ্রদের বাঁধ তিনি মেরামত করেন। কুষাণ যুগে জলসেচ ব্যবস্থার জন্য নানা ব্যবস্থা নেওয়া হত। উত্তর-পশ্চিম ভারতে ও ব্যাকট্রিয়ায় এখনও তার নিদর্শন দেখা যায়।
  • (৩) কৃষির জন্য উন্নত মানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হত। তক্ষশিলায় খননকার্যের ফলে এক উন্নত মানের কুঠার পাওয়া গেছে। এটি প্রথম খ্রিস্টাব্দে ব্যবহার করা হত। এখানে উন্নত মানের কোদাল, কাস্তে ও নিড়ানি পাওয়া গেছে।
  • (৪) খাদ্যশস্যের মধ্যে চাল, গম ও যব ছিল প্রধান উৎপন্ন দ্রব্য। তাছাড়া নানা রকম ডাল, সরিষা, লঙ্কা, ফল, পান প্রভৃতির চাষ হত। উদ্যান পালন বিদ্যারও বিশেষ উন্নতি হয়।
  • (৫) কুষাণ যুগে সেচখাল খোদাই করা হত। পেশোয়ার অঞ্চলে কুষাণ যুগের খালের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। কুষাণ যুগের লিপিগুলিতে জলসেচের জন্য কূপ খননের কথাও বলা হয়েছে। সেচের জন্য রাষ্ট্র থেকে অর্থ ব্যয় করা হত বলে মনে করা যায়।

ভূমি রাজস্ব

  • (১) শক-কুষাণ যুগে জমির রাজস্ব সম্ভবত আগের মতই ছিল। সরকারি সীতা জমি বা খাস জমি থেকে ফসলের ১/৩ অংশ এবং অন্যান্য স্থান থেকে ১/৬ হারে রাজস্ব ধার্য করা হত। এই ব্যাপারে শক-কুষাণ রাজারা ভারতীয় প্রথা মেনে নেন।
  • (২) কুষাণ সম্রাটরা তাদের সাম্রাজ্যের অঞ্চল সাধারণত অমাত্য, সচিব, ক্ষত্রপ উপাধিধারী শাসকদের দ্বারা শাসন করাতেন। তবে ধর্মশাস্ত্রগুলি এবং বৌদ্ধ সাহিত্য থেকে জানা যায় যে, সে যুগে সমাজে ‘কৃষিকার্য এবং কৃষিজাত অর্থকে বিশেষ সম্মান দেওয়া হত না। মনু ও বৃহস্পতি স্মৃতিতে কৃষিজাত অর্থকে সম্মানের আসন দেওয়া হয়নি।

বাণিজ্য

  • (১) মৌর্য পরবর্তী যুগে বিশেষত কুষাণ যুগে বাণিজ্যের বিশেষ বিস্তৃতি ঘটেছিল। ব্যাকট্রিয়ার পথে উত্তর-পশ্চিম ভারতের সঙ্গে মধ্য এশিয়ার যোগ স্থাপিত হলে এই পথে বাণিজ্য মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
  • (২) কুষাণ সাম্রাজ্য ছিল ভারতের গঙ্গা-যমুনা উপত্যকা থেকে ব্যাকট্রিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একদিকে ছিল গঙ্গা, অপর দিকে ইউফ্রেটিস নদী। এর মধ্যবর্তী অঞ্চলে এক ঐক্যবদ্ধ রাজশক্তি প্রতিষ্ঠিত হলে বাণিজ্য অসাধারণ ভাবে বৃদ্ধি পায়।
  • (৩) কুষাণ যুগে খোটান হয়ে কাম্পিয়ান সমুদ্রতীর পর্যন্ত ভারতীয় দ্রব্য রপ্তানি হত। পারস্যের সঙ্গে রোমের যুদ্ধ বাধলে চীনা রেশম পারস্যের পথে রোমে যেতে পারত না। চীনা দ্রব্য রেশম রাস্তা ধরে ব্যাকট্রিয়া হয়ে সিন্ধু বন্দরে বারবারিকামে চলে আসত। এখান থেকে রোমে চীনা রেশম রপ্তানি হত।
  • (৪) তাছাড়া ভারত থেকে লঙ্কা, মরিচ, মশলা, হীরা, চন্দন, মসলিন প্রভৃতি রপ্তানি হত। এজন্য রোমের সোনা বিপুল পরিমাণে ভারতে চলে আসত। রোমান পণ্ডিত প্লিনি এজন্য আক্ষেপ করেন।

ভৃগুকচ্ছ বন্দরের উন্নতি

  • (১) পশ্চিম ভারতে শক-ক্ষত্রপদের ক্ষমতা বাড়লে তাঁরা নিম্ন সিন্ধু অঞ্চল দখল করে নেন। ফলে সিন্ধু বন্দরের গুরুত্ব কমে যায়। তার স্থলে কচ্ছের বারিগাজা বা ভৃগুকচ্ছ বন্দরের উন্নতি ঘটে। বারিগাজা বন্দরে পশ্চিম এশিয়া, এমন কি আলেকজান্দ্রিয়া থেকে সরাসরি জাহাজ আসতে পারত।
  • (২) সিন্ধুর মশলা ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা রক্ষা করার জন্য সিন্ধু অঞ্চল থেকে কচ্ছ ও বোম্বাই অঞ্চলে চলে আসে। ইন্দ্ৰাগ্নিদত্ত নামে এক বণিকের লিপি থেকে একথা জানা যায়। চীনের রেশম সিন্ধু বন্দরে বারবারিকমের পরিবর্তে এখন বারিগাজা থেকে রপ্তানি হতে থাকে।
  • (৩) পেরিপ্লাসের মতে, ক্ষহরত শক-ক্ষত্রপরা বারিগাজা বন্দর নিয়ন্ত্রণ করতেন। খ্রিস্টিয় ৪৭ অব্দে হিপ্পলাস ভারত মহাসাগরে মৌসুমী বায়ুর গতিপথ আবিষ্কার করেন। এর ফলে ভৃগুকচ্ছ বন্দরের গুরুত্ব অসাধারণ ভাবে বৃদ্ধি পায়।
  • (৪) তিন বছরের কম সময়ে এখান থেকে জাহাজগুলি আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে পৌঁছাতে পারত। মৌসুমী বায়ুর গতিপথ আবিষ্কারের ফলে প্রতিদিন গড়ে একটি করে জাহাজ মিনার থেকে ভারতে আসতে থাকে। তাছাড়া পূর্ব-উপকূলে তাম্রলিপ্ত বন্দর বিখ্যাত ছিল।

অন্তর্বাণিজ্য

শক-কুষাণ যুগে ভারতের ভেতরেও বাণিজ্য চলত। ভারতের ভেতর তখন বহু বাণিজ্য পথ ছিল। এই পথগুলি সাধারণত নদী উপত্যকা ধরে চলত। তক্ষশীলা, পেশোয়ার, বারাণসী, মথুরা, পাটলিপুত্র, উজ্জয়িনী প্রভৃতি নগর ছিল বিখ্যাত বাণিজ্যকেন্দ্র। স্থলপথে ও আংশিক নদীপথে এই নগরগুলি সংযুক্ত ছিল। গঙ্গা ও সিন্ধু নদ ছিল প্রধান বাণিজ্য পথ।

দাক্ষিণাত্যে বাণিজ্য কেন্দ্র

  • (১) কুষাণ যুগে দাক্ষিণাত্যে খুবই বাণিজ্যের বিস্তার হয়েছিল। সাতবাহন যুগে দাক্ষিণাত্যে যে বাণিজ্যের সূচনা হয় তা এই সময় অব্যাহত ছিল। মৌসুমী বায়ুর গতিপথ আবিষ্কারের ফলে এই বায়ুতে পাল খাটিয়ে পশ্চিম এশিয়া ও আলেকজান্দ্রিয়া হতে বণিকরা দাক্ষিণাত্যে আসত।
  • (২) সুদূর দক্ষিণের উপকূলের নানা স্থানে যবন বণিকরা বসতি স্থাপন করেছিল। পন্ডিচেরীর কাছে আরিকামেডু নামে এক শিল্প নগরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এখানে রোমান বাণিজ্যের বিশেষ কেন্দ্র ছিল। রোমের জন্য এখানে শিল্পকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছিল। খনন করে এখানে বহু রোমান মুদ্রা পাওয়া গেছে। রোমান মুদ্রা ছাড়া রোমান কাচের দ্রব্য, রোমান পুতির মালা প্রভৃতি পাওয়া গেছে।
  • (৩) আরিকামেডুতে রোমের রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী মসলিন তৈরি হত। এছাড়া মুসিরিস মাদুরাই ও কাবেরীপত্তনমে বৈদেশিক বণিকদের বসবাসের জন্য আলাদা এলাকা চিহ্নিত ছিল। সঙ্গম যুগের সাহিত্যে দক্ষিণের বন্দরগুলিতে সমুদ্রগামী জাহাজগুলির কাব্যিক বর্ণনা এই যুগের বাণিজ্যের সাক্ষ্য দেয়।

চীন-ভারত বাণিজ্য

  • (১) শক-কুষাণ যুগে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য বিপুল পরিমাণে চলত। খ্রিস্টাব্দ আরম্ভ হওয়ার আগেই চীনের সঙ্গে ভারতের স্থলপথে ও জলপথে বাণিজ্য চলত। খ্রিস্ট পূর্ব ১২৭ অব্দে চীনের সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের হুয়াংচি বা কাঞ্চির বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল বলে অনুমান করা হয়।
  • (২) খ্রিস্ট পূর্ব প্রথম শতক থেকে ভারত-চীন বাণিজ্য নিশ্চিতভাবে স্থাপিত হয়। চীনা পট্ট বা চীনা রেশমের কাপড় ভারতে জনপ্রিয় ছিল। খ্রিস্টিয় প্রথম শতকে অর্থাৎ কুষাণ যুগে ভারত-চীন বাণিজ্যপথের কাছাকাছি নগরে বৌদ্ধ বণিকরা বাস করত। এর ফলে বাণিজ্য ও বৌদ্ধধর্ম চীনে প্রসার লাভ করে।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য

  • (১) চীনের সঙ্গে সমুদ্রপথে যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অর্থাৎ ব্রহ্ম, মালয়, সুমাত্রা, জাভা প্রভৃতি অঞ্চলে ভারতীয় বণিকরা বাণিজ্য বিস্তার করে। দক্ষিণ ভারতের কলিঙ্গ, দক্ষিণ ভারতের পশ্চিম উপকূলের বণিকরা মশলার সন্ধানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ঢুকে পড়ে।
  • (২) এই বাণিজ্যের ফলে বহু বিদেশী বণিক ভারতে বসবাস করে। ভারতীয় জাতিভেদ প্রথার কঠোরতার জন্য এই সকল বিদেশী বণিক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে। এইভাবে গ্রীক, শক, কুষাণরা বৌদ্ধধর্মের উদার ক্রোড়ে আশ্রয় নেয়।
  • (৩) যেহেতু গ্রীক-শক-কুষাণরা রাজনৈতিক ক্ষমতা অধিকার করে, ব্রাহ্মণরা তাদের অস্বীকার করতে পারেনি। এজন্য তাদের ব্রাত্য ক্ষত্রিয় বলে ঘোষণা করা হয়। সমাজের বহু শূদ্র ছিল শিল্পী ও কারিগর শ্রেণীর লোক। প্রচলিত অর্থনৈতিক অবস্থায় তাদের গুরুত্ব অস্বীকার করা না গেলেও জাতি বিন্যাসে তাদের উন্নতি হয়।
  • (৪) কোশাম্বী বলেন যে, কুষাণ যুগে উত্তর ভারতে ধনিক শ্রেণীর স্বার্থে বিলাসদ্রব্যের বাণিজ্য চলত। এজন্য তারা স্বর্ণমুদ্রা ব্যবহার করেন। পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের বাণিজ্য ছিল নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য নিয়ে। এজন্য রৌপ্য মুদ্রা ব্যবহার করা হত।

বণিকশ্রেণীর প্রভাব

শক-কুষাণ যুগে বাণিজ্যের বৃদ্ধির ফলে সমাজে বণিক শ্রেণীর প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়ে। সমাজে ধনবণ্টনে অসাম্য ঘটে। শ্রেষ্ঠী বা শেঠী বা চেটী শ্রেণী সমাজে প্রাধান্য পায়। কুষাণ সম্রাটরা বাণিজ্যের সুবিধার জন্য মুদ্রাকেন্দ্রিক অর্থনীতিকে জোর দিলে বণিকশ্রেণীর হাতে টাকাকডি বেশী থাকায় তারা ক্ষমতাশালী হয়। বিভিন্ন স্থানীয় পরিষদ ও নিগমগুলিতে শ্রেষ্ঠীদের প্রাধান্য স্থাপিত হয়।

শিল্প

বাণিজ্যের সঙ্গে শিল্পেরও প্রসার ঘটে। রেশম, সুতীবস্ত্র, হাতির দাঁতের কাজ, সোনা-রূপার অলঙ্কার খোদাই, লৌহ শিল্প, চামড়ার কাজ প্রভৃতি শিল্পের প্রসার ঘটে। মথুরা অঞ্চলে লাল বেলে পাথরের উপর সূক্ষ্ম খোদাইয়ের কাজ খুবই খ্যাতি পায়। তাছাড়া পাথর খোদাই প্রভৃতি শিল্পের বিস্তৃতি ঘটে।

নিগম

  • (১) বাণিজ্য ও শিল্পের সঙ্গে নিগম বা সঙ্ঘ স্থাপিত হয়। বণিক ও শিল্পীরা নিজ নিজ অঞ্চলে সঙ্ঘ বা নিগম গঠন করে। নিগমগুলির পরিচালনায় বিশেষ নিয়ম-কানুন ছিল। নতুন কোনো বণিক বা শিল্পী নিগমের সদস্য পদ না পাওয়া পর্যন্ত বাণিজ্য বা শিল্পের কাজ করতে পারত না।
  • (২) নিগমগুলি একচেটিয়া অধিকার স্থাপন করে। উৎপাদিত দ্রব্যের দাম নিগম থেকে স্থির করে দেওয়া হত। কোনো ব্যবসায়ীর পক্ষে তার কমে বা বেশী দামে বিক্রয় করা চলত না। মালের ওজন ও গুণ ঠিক রাখতে হত। নিগম শিল্পী ও বণিকদের প্রতিযোগিতার হাত থেকে রক্ষা করত।
  • (৩) কোনো কারিগর অসুস্থ হলে বা মারা পড়লে নিগম থেকে তার ব্যবস্থা করা হত। নিগমের সদস্যদের ব্যক্তিগত ব্যাপারেও নিগম হস্তক্ষেপ করত। বণিক নিগমগুলি বণিকদের স্বার্থ রক্ষা করত। এর ফলে ধনতন্ত্র প্রসার লাভ করে।
  • (৪) নাসিকের লিপি থেকে জানা যায় যে, নিগমগুলি আধুনিক ব্যাঙ্কের মত টাকা জমা রেখে সুদে টাকা খাটাত। ক্ষত্রপ নহপানের জামাতা ঋষভদত্ত নাসিকের নিগমে অর্থ মজুত রেখেছিলেন বলে জানা যায়। নিগম থেকে বণিকদের বাণিজ্যের জন্য সুদে টাকা ধার দেওয়া হত। সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য ঋণ নিলে ঝুঁকি বেশী থাকায় সুদ বেশী দিতে হত।
  • (৫) এই যুগে নাগরিক জীবনে, জনমত গঠনে ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিগম বা সঙ্ঘগুলির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নিগমের সদস্যের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা অনেক বেশী ছিল। উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গিল্ড ভাড়া করা শ্রমিক নিয়োগ করত। ক্রীতদাসদেরও নিয়োগ করা হত।

উপসংহার :- এই যুগের নিগম গুলির বিভিন্ন দানের পরিমাণ দেখলে নিগমগুলির বিরাট সম্পদের কথা বুঝা যায়। শস্য ব্যবসায়ীদের নিগম একটি ভাস্কর্য খচিত গুহা দান করে। বিদিশার হাতির দাঁতের কারিগররা একটি গুহা দান করে। ক্ষত্রপ নহপানের জামাতা ঋষভদত্ত নাসিক গুহা দান করেন।

(FAQ) মৌর্য পরবর্তী যুগের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. মৌর্য পরবর্তী যুগে বেশিরভাগ লোকের জীবিকা কি ছিল?

কৃষিকাজ।

২. কোন সাম্রাজ্যের শাসনকালে বাণিজ্যের প্রভূত উন্নতি ঘটে?

কুষাণ সাম্রাজ্য।

৩. মৌর্য পরবর্তী যুগে কোন বন্দরের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়?

কচ্ছের ভৃগুকচ্ছ বন্দর।

৪. মৌর্য পরবর্তীকালে বাংলার উল্লেখযোগ্য বন্দর কোনটি ছিল?

তাম্রলিপ্ত।

Leave a Reply

Translate »