গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন

গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন প্রসঙ্গে প্রথাসিদ্ধ ব্যাখ্যা, কারণ নির্ণয়ে সমস্যা, বিভিন্ন কারণ, যোগ্য শাসকের অভাব, গুপ্ত সম্রাট ও অভিজাতদের নৈতিক অবক্ষয়, নিষ্ক্রিয় নীতির অনুসরণ, সামন্তপ্রথার প্রভাব, শাসন ব্যবস্থার ত্রুটি, ভূমিদান ব্যবস্থার ত্রুটি, অর্থনৈতিক কারণ ও হূণ আক্রমণ সম্পর্কে জানবো।

গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন

বিষয় গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন
প্রতিষ্ঠাতা শ্রীগুপ্ত
শ্রেষ্ঠ রাজা সমুদ্রগুপ্ত
শকারি দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ভারতের নেপোলিয়ন সমুদ্রগুপ্ত
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন

ভূমিকা :- গুপ্ত সাম্রাজ্য ছিল প্রাচীন ভারতের শেষ সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য। তারপর হর্ষবর্ধন বা প্রতিহার রাজাদের অধীনে যে রাজ্য স্থাপিত হয় তার ব্যাপ্তি কেবলমাত্র উত্তর ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু গুপ্ত সাম্রাজ্য সমুদ্রগুপ্তের বাহুবলে উত্তর ভারতের বৃহদংশ এবং দক্ষিণের রাজাদের করদ বশ্যতা স্বীকৃতি নিয়ে সর্বভারতীয় চরিত্র ধারণ করেছিল।

পতনের কারণ

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে পশ্চিম ভারতে শক-ক্ষত্রপদের উৎখাতের ফলে এই সাম্রাজ্য আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। কেন এই সাম্রাজ্য ষষ্ঠ শতকের মাঝামাঝি ভেঙে পড়ে তা নিয়ে ঐতিহাসিকরা গবেষণা করেছেন।

প্রথাসিদ্ধ ব্যাখ্যা

অনেকে এই সাম্রাজ্যের ধ্বংসের জন্য একটি প্রথাসিদ্ধ ব্যাখ্যা দেন যে, কোনো সাম্রাজ্য চিরস্থায়ী হয়নি। মানুষের জন্ম-মৃত্যুর মতই সাম্রাজ্যের উত্থান, পতন আছে। এই ব্যাখ্যাটি সম্ভবত সাধারণীকরণ দোষে দুষ্ট। কারণ প্রতি সাম্রাজ্যের পতনের জন্য নিজস্ব স্বতন্ত্র কারণ থাকে। কোনো একটি কারণে সকল সাম্রাজ্যের পতন ঘটে না।

বিভিন্ন কারণ

ভারতের ইতিহাসে যে কোনো সাম্রাজ্যের ভাঙনের ক্ষেত্রে সর্বদাই কয়েকটি কারণকে স্থায়ীভাবে কাজ করতে দেখা যায়। এই কারণগুলি হল,

  • (১) রাজবংশের মধ্যে সিংহাসন নিয়ে বিরোধ,
  • (২) প্রদেশগুলিতে বিদ্রোহ,
  • (৩) আঞ্চলিকতা ও বিচ্ছিন্নতার প্রবণতা,
  • (৪) বৈদেশিক আক্রমণ প্রভৃতি।

কারণ নির্ণয়ে সমস্যা

কিন্তু প্রশ্ন হল যে, গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের জন্য এই কারণগুলির মধ্যে কোন্‌গুলি বিশেষ সক্রিয় ছিল? এই কারণগুলি ছাড়া আর কোনো বিশেষ কারণ ছিল কিনা? এই প্রশ্নগুলির উত্তরের মধ্যেই গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের প্রকৃত কারণ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। নতুবা একটি সাধারণীকরণ সূত্রের দ্বারা মূল প্রশ্ন অমীমাংসিত থাকবে।

যোগ্য শাসকের অভাব

  • (১) রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সর্বদাই রাজার যোগ্যতার ওপর ক্রিয়াশীল থাকে। অযোগ্য রাজার হাতে গুরুভার পড়লে সাম্রাজ্য ভেঙে পড়তে দেরী হয়নি। স্কন্দগুপ্তকে গুপ্তবংশের শেষ যোদ্ধা ও প্রধান সম্রাট বলে ধরলে, তার পরে যারা গুপ্ত সিংহাসনে বসেন তাদের মধ্যে প্রকৃতই যোগ্যতার অভাব ছিল।
  • (২) বুধগুপ্ত কোনক্রমে গুপ্ত সাম্রাজ্যের মূল অংশকে নিজ শাসনে রাখতে পেরেছিলেন। তবুও তাঁর আমলে সামন্ত রাজারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌম্য ক্ষমতা সূচক উপাধি গ্রহণ করতে আরম্ভ করে। বুধগুপ্ত তাদের দমন করতে পারেননি।
  • (৩) বুধগুপ্তের পর গুপ্ত সিংহাসনে কোনো যোগ্য শাসক না থাকায় সাম্রাজ্য রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। হূণ প্রভৃতি বৈদেশিক জাতির আক্রমণের সময় সমুদ্রগুপ্ত অথবা স্কন্দগুপ্তের মত যোদ্ধা ও রাজনীতিজ্ঞ সম্রাটের দরকার ছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে যারা গুপ্তবংশের সিংহাসনে এই সময় বসেন তারা তাদের এই সকল প্রখ্যাত পিতৃপুরুষের তুলনায় হীনবল ও যোগ্যতাহীন ছিলেন।

গুপ্ত সম্রাট ও অভিজাতদের নৈতিক অবক্ষয়

  • (১) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমল থেকে অপরিমিত সম্পদ আমদানীর ফলে গুপ্ত রাজসভায় বিলাস-বৈভবের প্রভাব বেড়ে যায়। উচ্চ অভিজাতশ্রেণী যাদের মধ্য থেকে শাসক, সেনাপতি ও সামন্তশ্রেণীর উদ্ভব হত তারাও এই বিলাসের স্রোতে পড়েছিল।
  • (২) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজসভায় সাহিত্য-শিল্পের চর্চা হয়ত খুবই হয়েছিল, সেই তুলনায় সমরনীতি, রাষ্ট্রনীতির চর্চা হয়নি। কুমারগুপ্তের আমলেও এই ধারা বহাল ছিল অনুমান করা যায়। কার্তিকের পুজো এবং পরিণত জীবনে সন্ন্যাস ধর্মের চর্চা অর্থাৎ যৌবনে ভোগবাদ ও বার্ধক্যে সন্ন্যাস ব্রত ছিল কুমারগুপ্তের আদর্শ। তার সন্ন্যাসী মূর্তিধারী মুদ্রা এর সাক্ষ্য দেয়।
  • (৩) এর ফলে সাম্রাজ্যের ক্ষাত্রশক্তি ভেঙে পড়ে। স্কন্দগুপ্ত কিছুকাল যুদ্ধ-বিগ্রহ দ্বারা গুপ্ত সাম্রাজ্যে যৌবনের খরতেজ ফিরাবার চেষ্টা করেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর পুরুগুপ্ত, নরসিংহ গুপ্ত প্রমুখ আবার ক্ষয়িষ্ণু নীতিকে আঁকড়ে ধরেন।

নিষ্ক্রিয় নীতির অনুসরণ

  • (১) ডঃ রায়চৌধুরীর মতে, গুপ্ত সম্রাটরা যথা তথাগত গুপ্ত, নরসিংহ গুপ্ত বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবে অহিংস নীতিকে গ্রহণ করেন। বৌদ্ধ পণ্ডিত পরমার্থের রচনা, আর্য-মঞ্জুশ্রী মূল কল্প প্রভৃতি হতে জানা যায় যে, তারা বৌদ্ধধর্মের প্রভাবে নিষ্ক্রিয়তা নীতিকেই সার করেন।
  • (২) গুপ্ত রাজসভা ও রাজ পরিবারে সমকালীন ক্ষয়িষ্ণু সভ্যতা ও অহিংস নীতির প্রভাব পড়েছিল এতে সন্দেহ নেই। এর ফলে সাম্রাজ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত-লৌহ নীতি তারা গ্রহণে অক্ষমতা দেখান।

সামন্ত প্রথার প্রভাব

  • (১) ডঃ আর এস শর্মা তার ইন্ডিয়ান ফিউডালিজম গ্রন্থে গুপ্তযুগের ভূমি পটলীগুলি উল্লেখ করে দেখিয়েছেন যে, গুপ্তযুগে সামন্ত প্রথার উদ্ভব হয়েছিল। কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের চতুর্থ সর্গে রঘুর দিগ্বিজয়ের পর বিশ্বজিৎ যজ্ঞ এবং সামন্ত নৃপতিদের দ্বারা সমস্ত প্রধান প্রভাব সম্রাটের চরণ বন্দনার কথা বলা হয়েছে।
  • (২) গুপ্তযুগের কবি কালিদাস তাঁর নিজের যুগের সামন্ত প্রথার চিত্র এতে তুলে ধরেছেন বলা চলে। সমুদ্রগুপ্ত দক্ষিণের রাজাদের কাছে বশ্যতা ও নিয়মিত কর নিতেন। সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে সামন্ত কথাটি ব্যবহার করা না হলেও, আসলে করদ রাজারা সামন্ত রাজা ছিলেন।
  • (৩) সমুদ্রগুপ্ত যে সামন্ত প্রথার প্রচলন করেন তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। স্কন্দগুপ্ত এই সামন্ত রাজাদের ক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে ফেলেন। কিন্তু তিনি মাত্র বারো বছর রাজত্ব করেন। তাঁর মৃত্যুর পর সামন্তদের ক্ষমতা বাড়ে। বুধগুপ্তের সামন্ত রাজারা তাঁকে অস্বীকার করে নিজ নামে ভূমিপট্টলী দান আরম্ভ করেন।
  • (৪) বৈন্যগুপ্তের গুণাইগড় লিপিতে ‘সামন্ত রাজা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। গুপ্ত সম্রাটরা কিছুটা উদাসীন শিথিল হয়ে পড়লে সেই সুযোগে সামন্ত রাজারা নিজ নিজ অঞ্চলে স্বাধীন শাসন স্থাপনের চেষ্টা চালায়। বুধগুপ্তের আমল থেকে সামন্ত বিদ্রোহ প্রবল হয়। ক্রমে তা গুপ্ত সাম্রাজ্যকে ধ্বংস করে ফেলে।
  • (৫) মালবে যশোধর্মণ হূর্ণ আন্দোলনের সুযোগে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। তিনি শেষ পর্যন্ত এক সার্বভৌম রাজায় পরিণত হন। গুজরাটের মৈত্রক, কনৌজের মৌখরী প্রভৃতি একই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে।

শাসন ব্যবস্থার ত্রুটি

  • (১) গুপ্ত শাসনব্যবস্থা অনেকাংশে এই সাম্রাজ্যের ভাঙনের জন্য দায়ী ছিল। গুপ্ত শাসনব্যবস্থায় শাসনকর্তার হাতে অনেক ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া হয়। গুপ্ত কর্মচারীরা নগদ বেতন অথবা জাগীর ভোগ করতেন তা সঠিক জানা যায়নি। খুব সম্ভব তাঁরা বেতনের বদলে জমি বা জাগীর ভোগ করতেন। এর ফলে তাঁরা প্রচুর ক্ষমতাশালী হয়ে পড়েন।
  • (২) কেন্দ্রে সম্রাট দুর্বল হয়ে পড়লে গুপ্ত প্রাদেশিক শাসনকর্তা ও সামন্তরা স্ব স্ব প্রধান হয়ে ওঠে। এরূপ কয়েকজন কর্মচারী ও সামন্ত ছিল সনকানিক মহারাজা, মহারাজা সুবন্ধু, পরিব্রাজক মহারাজা হস্তিন, যশোধর্মণ, দ্রোণ সিংহ প্রমুখ।

ভূমিদান ব্যবস্থার ত্রুটি

  • (১) গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের জন্য এই যুগের ভূমিদান ব্যবস্থার ত্রুটিও কাজ করেছিল। মৌর্য যুগে ব্রাহ্মণ বা অন্য কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে রাখা ভূমিদান করলেও, রাজা জমির ওপর শাসনের অধিকার ছাড়তেন না। জমির নীচের খনিজ সম্পদ ছিল রাজার সম্পত্তি। হস্তান্তরিত গ্রামের বিচার শাসন ছিল রাজার এক্তিয়ারে।
  • (২) গুপ্তযুগের ভূমি পট্টলীগুলি পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, রাজা ব্রাহ্মণদের নিঃস্বত্বভাবে গ্রামদান করতেন। ফলে যে ব্রাহ্মণ দান লাভ করতেন তিনি সেই গ্রামের শাসন, বিচার প্রভৃতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হতেন। এর ফলে গ্রামাঞ্চলে এক শ্রেণীর ব্রাহ্মণ অভিজাত ভূমি মালিক, শাসক শ্রেণীর সৃষ্টি হয়েছিল।
  • (৩) এরা প্রায় স্বাধীন রাজার মত অধিকার ভোগ করত। এর জন্য গুপ্ত সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, বুন্দেলখণ্ডের পরিব্রাজক মহারাজার নাম করা যেতে পারে।

অর্থনৈতিক কারণ

  • (১) ফা-হিয়েন বলেছেন যে, লোকে জিনিষ-পত্র কিনবার জন্য ও আদান-প্রদানের জন্য কড়ি ব্যবহার করত। এর থেকে গুপ্তযুগে রৌপ্য মুদ্রার অভাব প্রমাণিত হয়। খননকার্যের ফলে গুপ্ত স্বর্ণমুদ্রা বেশী পাওয়া গেলেও রৌপ্য মুদ্রা বেশী পাওয়া যায়নি। 
  • (২) স্বর্ণমুদ্রায় খাদের পরিমাণ স্কন্দগুপ্তের পর বাড়তে থাকে। এর থেকে সাম্রাজ্যে অর্থনৈতিক সঙ্কট ছিল বলে মনে হয়। দৈনন্দিন আদান-প্রদানের জন্য রৌপ্যমুদ্রার দরকার বেশী হত। কিন্তু গুপ্ত যুগে রৌপ্য মুদ্রার অভাব প্রমাণ করে যে, গুপ্তযুগে আভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের সঙ্কোচন ঘটেছিল।
  • (৩) বৈদেশিক বাণিজ্য হয়ত বেশ সফলতার সঙ্গে কিছুকাল চলত। কিন্তু আভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছিল। এর কারণ হিসেবে অনেকে বলেন যে, গুপ্তযুগের গ্রাম ও জনপদগুলিকে স্বয়ং-সম্পূর্ণ গণ্য করা হত। ফলে এই জনপদ ও গ্রামে প্রয়োজনের বেশী উৎপাদন করার ঝোঁক ছিল না।
  • (৪) উদ্বৃত্ত উৎপাদন না থাকলে রপ্তানি বাণিজ্য চলতে পারে না। ফলে গুপ্তযুগে আভ্যন্তরীণ মাল রপ্তানী তেমন হত না। হয়ত মুদ্রার অভাব বশত রপ্তানি ব্যাহত হত। যাই হোক, এর ফল হয় মারাত্মক। গুপ্ত রাজস্ব এর ফলে বেশ কমে যায়। সেনাদল রক্ষা করা কষ্টকর হয়।
  • (৫) শহরের লোক, সরকারী কর্মচারী, সেনাদলের জন্য খাদ্য ও অন্যান্য দ্রব্যের যোগান সহজ ছিল না। কারণ স্বয়ং-সম্পূর্ণ গ্রাম হতে বেশী উদ্বৃত্ত শহরে আসত না। যেটুকু অন্তর্বাণিজ্য ছিল তা হূণ আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়। এই অর্থনৈতিক সঙ্কট গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনকে ত্বরান্বিত করে বলে অনেকে মনে করেন।

বংশানুক্রমিক কর্মচারী নিয়োগ

গুপ্তযুগে গুরুত্বপূর্ণ সরকারী কর্মচারীদের পদগুলি ক্রমে বংশানুক্রমিক হয়ে যায়। এর ফলে যোগ্য লোক নিযুক্ত না হয়ে অযোগ্য, ক্ষমতালোভী, অপদার্থ লোকেরাও বংশাধিকার বলে পদ পেতে থাকে। বেশ কয়েকটি পরিবারের প্রভাব-প্রতিপত্তি বেড়ে যায়, যেমন বলভির মৈত্রক বংশ। ক্রমে কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্বলতার সুযোগে এই কর্মচারীরা বিদ্রোহের ধ্বজা উড়িয়ে দেয়।

হূণ আক্রমণ

  • (১) এই পরিস্থিতিতে গুপ্ত সাম্রাজ্যে বৈদেশিক আক্রমণ আরম্ভ হয়। যদিও সম্রাট স্কন্দগুপ্ত হূণ শক্তিকে পরাস্ত করেছিলেন, তার মৃত্যুর পর হূণরা পুনরায় গুপ্ত সাম্রাজ্যে হানা দেয়। তোরমান ও মিহিরকুলের নেতৃত্বে হূণরা কাশ্মীর, পাঞ্জাব হয়ে মালব, মধ্যপ্রদেশ অধিকার করে।
  • (২) মান্দাসোর লিপি থেকে জানা যায় যে, গুপ্ত সামন্ত যশোধর্মণ হূণদের হঠিয়ে দেন। কিন্তু যশোধর্মণের এই জয় চূড়ান্ত ছিল না। মিহিরকুল তাঁর শক্তি সংহত করে মগধের কাছ পর্যন্ত চলে আসেন। নরসিংহ গুপ্ত শেষ পর্যন্ত হূণদের চূড়ান্তভাবে পরাস্ত করেন।

উপসংহার :- হূণ আক্রমণের ফলে একদিকে কেন্দ্রীয় গুপ্তশক্তি ভেঙে পড়ে। সামন্ত রাজারা এই সুযোগে তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ব্যবসা-বাণিজ্য নষ্ট হয়। হূণ আক্রমণের পর গুপ্ত মুদ্রার মানের অবনতি গুপ্ত সম্রাটদের আর্থিক দুরবস্থার পরিচয় দেয়। এই সকল কারণে গুপ্ত সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়।

(FAQ) গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

শ্রীগুপ্ত।

২. গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রথম সার্বভৌম রাজা কে ছিলেন?

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত।

৩. গুপ্ত সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্রাট কে ছিলেন?

সমুদ্রগুপ্ত।

৪. লিচ্ছবি দৌহিত্র এবং ভারতের নেপোলিয়ন কাকে বলা হয়?

সমুদ্রগুপ্ত।

৫. শকারি কে ছিলেন?

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।

Leave a Reply

Translate »