বাল গঙ্গাধর তিলক

বাল গঙ্গাধর তিলক -এর জন্ম, পিতামাতা, শিক্ষা, কর্মজীবন, স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান, জাতীয়তাবাদী আদর্শ, স্বরাজ অর্জন, রাজনৈতিক ভাবধারার বিস্তার, চরমপন্থী ভাবধারার বিস্তারে ভূমিকা, গণপতি ও শিবাজী উৎসবের আয়োজন ও তার গুরুত্ব, ১৮৯৬-এর দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় ভূমিকা, প্লেগ মহামারী নিবারণে ভূমিকা, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে যোগদান, হোমরুল আন্দোলনের সূচনা, গ্ৰন্থ রচনা, সম্মাননা ও তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে জানবো।

Table of Contents

বাল গঙ্গাধর তিলক

জন্ম২৩ জুলাই ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দ
পরিচিতিদেশপ্রেমিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী
অবদানহোমরুল আন্দোলন -এর প্রধান নেতা
মৃত্যু১ আগস্ট ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ
বাল গঙ্গাধর তিলক

ভূমিকা :- সুবক্তা, সুলেখক, ভারতীয় দর্শনে সুপণ্ডিত, পুণার চিৎপাবন ব্রাহ্মণ বংশের সন্তান বাল গঙ্গাধর তিলক ছিলেন ভারতীয় চরমপন্থী রাজনীতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা ও পথিকৃৎ।

চরমপন্থার আবির্ভাব

ভারতীয় মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে চরমপন্থী নেতৃবৃন্দের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। জাতীয় জীবনের এক বিশেষ মুহূর্তে নরমপন্থী পরিচালিত জাতীয় কংগ্রেস যখন আবেদন নিবেদন নীতি অনুসরণে ব্যস্ত, তখন এক বলিষ্ঠ নীতি ও আত্মদানের শপথ নিয়ে চরমপন্থী জাতীয়তাবাদীরা রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে আবির্ভূত হয়ে এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।

উল্লেখযোগ্য চরমপন্থী নেতৃত্ব

তাঁদের দেশপ্রেম, স্বরাজ-সাধনা, বলিষ্ঠ নীতি ও আত্মদানের আদর্শ যুগ যুগ ধরে দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করবে। এই সব চরমপন্থী নেতৃবৃন্দের মধ্যে মহারাষ্ট্রের তিলক, পাঞ্জাবের লালা লাজপৎ রায়, বাংলার বিপিনচন্দ্র পাল ও অরবিন্দ ঘোষ বিশেষ উল্লেখযোগ্য ছিলেন।

জন্ম

১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুলাই মহারাষ্ট্রের রত্নগিরিতে বাল গঙ্গাধর তিলক জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বড় হয়েছেন আরব সাগরের উপকূলে একটি গ্রামে।

পিতা

তাঁর পিতা গঙ্গাধর রামচন্দ্র তিলক পেশায় শিক্ষক ছিলেন। বাল গঙ্গাধর তিলকের যখন ১৬ বছর বয়স তখন তার বাবার মৃত্যু হয়।

শিক্ষা

  • (১) সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অসাধারণ। বাল্যে তিনি তাঁর সংস্কৃতজ্ঞ পিতার কাছে সংস্কৃতের পাঠ গ্রহণ করেন।
  • (২) ছেলেবেলা থেকেই মহারাষ্ট্রের প্রাচীন ইতিহাস ও সিপাহি বিদ্রোহ -এর ঘটনাবলী সম্পর্কে তাঁর মনে প্রবল আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
  • (৩) ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে আইনের স্নাতক হওয়ার পর তিনি মহারাষ্ট্রের জনজীবনে প্রবেশ করেন।

কর্মজীবন

তিলকের কর্মজীবন শুরু হয় পুণের একটি বেসরকারি স্কুলে গণিতের শিক্ষক হিসেবে। সহকর্মীদের সাথে মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে তিনি চাকরি ছেড়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন।

স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা

১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ‘পুণা নিউ ইংলিশ স্কুল’, ১৮৮৪ খ্রিস্টাব্দে ‘ডেকান এডুকেশন সোসাইটি’ এবং ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ‘ফার্গুসন কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন।

জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান

দেশের মুক্তিসাধনের উদ্দেশ্যে ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু নরমপন্থী নিয়ন্ত্রণাধীন জাতীয় কংগ্রেসের কার্যকলাপ তাঁকে খুশি করতে পারে নি।

তিলকের নিজস্ব অভিমত

  • (১) তিনি লিখেছেন যে, “বছরে শুধু একবার ব্যাঙের মতো ডাক দিয়ে আমরা কখনোই কোনও সফলতা অর্জন করতে পারব না।”
  • (২) ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি লেখেন যে, “বিগত বারো বছর ধরে ভাঙ্গা-গলায় আমরা চিৎকার করছি যে, সরকার আমাদের কথা শুনুন, কিন্তু ডাঁশের (এক ধরনের মাছি) আওয়াজ ছাড়া সরকার আমাদের চিৎকারকে আর কিছু মনে করে নি।”

জাতীয়তাবাদী আদর্শ

তাঁর জাতীয়তাবাদী আদর্শের মূল ভিত্তিই ছিল ভিক্ষানীতি বর্জন ও আত্মশক্তির বলে স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা। প্রাচীন হিন্দুধর্ম ও ইতিহাসের নামে তিনি জাতিকে আহ্বান জানান।

স্বরাজ অর্জন

স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনিই প্রথম ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামের প্রয়োজন উপলব্ধি করেন। তিনিই সর্বপ্রথম ঘোষণা করেন যে, “স্বরাজ আমাদের জন্মগত অধিকার এবং আমরা তা অর্জন করব।”

মূল শক্তি জনগণ

তিনি মনে করতেন যে, রাজনীতিকে মুষ্টিমেয় উচ্চশিক্ষিত মানুষের বৈঠকখানায় আবদ্ধ রাখলে চলবে না—জনগণই মূল শক্তি।

রাজনৈতিক ভাবধারার বিস্তার

জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক ভাবধারা বিস্তার করে জনগণের সাহায্যেই জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম পরিচালিত করতে হবে। এই কারণে তিনি শ্রমিক কৃষকদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ছড়িয়ে দিতে প্রয়াসী হন।

সীতারামাইয়া-র অভিমত

ডঃ পট্টভি সীতারামাইয়া মন্তব্য করেন—“যেক্ষেত্রে গোখলের স্থান ছিল আইনসভায়, সেক্ষেত্রে তিলক প্রতি গ্রামের মণ্ডপে স্থান পান।”

চরমপন্থী ভাবধারা বিস্তার

চরমপন্থী ভাবধারা বিস্তারের উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।যেমন –

(১) পত্রিকা প্রকাশ

তিনি ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে মারাঠি ভাষায় ‘কেশরী‘ এবং ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজি ভাষায় ‘মারহাট্টা’ নামে দু’টি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এই পত্রিকা দু’টি মারফৎ তিনি দেশবাসীর সামনে ইংরেজদের শোষণের স্বরূপ তুলে ধরেন।

(২) জাতির প্রতি আহ্বান

তিনি জাতিকে বিদেশির হস্তে বিপন্ন হিন্দুধর্মকে রক্ষা ও পতনোন্মুখ হিন্দু সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানান। এইভাবে তিনি মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ছড়িয়ে দেন।

(৩) গণপতি ও শিবাজী উৎসব

ধর্ম ও ইতিহাসের নামে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্রে ‘গণপতি উৎসব’ ও ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে ‘শিবাজি উৎসব’-এর প্রবর্তন করেন।

গণপতি উৎসবের গুরুত্ব

মহারাষ্ট্রে চরমপন্থী ভাবধারা বিস্তারে গণপতি উৎসবের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-

(১) সার্বজনীন উৎসব

গণেশ বা গণপতি মহারাষ্ট্রের প্রাচীন দেবতা এবং গণেশ পূজা একটি প্রাচীন পারিবারিক অনুষ্ঠান। তিলকের উদ্যোগে এই প্রাচীন পারিবারিক উৎসব একটি সার্বজনীন জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়।

(২) উৎসব উপলক্ষে সভা সমিতি

এই উৎসব উপলক্ষ্যে স্বদেশী সভা, সমিতি, বক্তৃতা, শোভাযাত্রা, মেলা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে তিনি মহারাষ্ট্রের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা বিস্তার করে তাদের ঐক্যবদ্ধ করেন।

শিবাজি উৎসবের গুরুত্ব

  • (১) শিবাজির রাজধানী রায়গড়ে শিবাজির স্মৃতিসৌধের ভগ্নদশাকে উপলক্ষ্য করে সকল ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই মার্চ তিলক প্রথম ‘শিবাজি উৎসবের’ সূচনা করেন।
  • (২) এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সভা, সমিতি, শোভাযাত্রা, যাত্রানুষ্ঠান, দেশাত্মবোধক সংগীতের অনুষ্ঠান চলতে থাকে। মোগল রাজশক্তির বিরুদ্ধে শিবাজির অতুলনীয় শৌর্য-বীর্যকে স্মরণ করে বৈপ্লবিক সংগ্রামের প্রতিমূর্তি হিসেবে শুরু হয় শিবাজির নব-মূল্যায়ন।
  • (৩) অচিরেই ‘শিবাজি উৎসব’ মহারাষ্ট্রবাসীর হৃদয় জয় করে এবং তা সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। এই উৎসব শুধু মহারাষ্ট্র নয়, সমগ্র ভারতকে অনুপ্রাণিত করে।
  • (৪) সমসাময়িক যুগের চরমপন্থী জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দের কাছে শিবাজি ছিলেন এক মহত্তর আদর্শ – সমুন্নত চিন্তাধারা ও বৈপ্লবিক সংগ্রামের প্রতিমূর্তি।
  • (৫) ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার বলেন যে, “ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বিকাশে শিবাজি উৎসবের সূচনা তিলকের এক স্মরণীয় অবদান। তিনি সঠিকভাবেই উপলব্ধি করেছিলেন যে, শিবাজির নামে তিনি সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সংহত করতে পারবেন।”

সকল শ্রেণীর মানুষের উদ্দীপনা

গণপতি ও শিবাজি উৎসবকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে যে ব্যাপক উদ্দীপনার সঞ্চার হয় সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

উৎসবের সমালোচনা

কিছু মানুষ তিলক-প্রবর্তিত এই উৎসব দু’টির সমালোচনা করতে থাকেন। যেমন –

  • (১) মহাদেব গোবিন্দ রাণাডে-র নেতৃত্বে কিছু প্রগতিশীল ও উদারপন্থী হিন্দু ‘গণপতি’ উৎসবের মতো একটি প্রাচীনপন্থী কুসংস্কারাচ্ছন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে বাড়াবাড়ি অপছন্দ করেন।
  • (২) প্রাচীনপন্থী কিছু কংগ্রেস নেতাও এই উৎসব আয়োজনের মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আক্রমণের ইঙ্গিত পান।

তিলকের অভিমত

তিলক এই সব অভিযোগ নস্যাৎ করে বলেন যে, প্রাচীন গ্রিস ও রোমের অলিম্পিয়া’ ও ‘পাইথিয়ান’উৎসব যেমন গ্রিস ও রোমের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ঐক্য সম্পাদনে সাহায্য করেছিল, তেমনি এই উৎসব দু’টিও ভারতের শিক্ষিত-অশিক্ষিত সকল সম্প্রদায়কে একত্রিত করে ভারতের জাতীয় সংহতি বৃদ্ধি করবে।

১৮৯৬-এর দুর্ভিক্ষমোকাবিলায় ভূমিকা

  • (১) ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্রে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে সরকার ঔদাসীন্যের নীতি গ্রহণ করে। তিলক সরকারের কাছে অনুরোধ করেন যাতে সরকার দুর্ভিক্ষ নিবারণ আইন’-এ যে সব ব্যবস্থার কথা উল্লিখিত আছে, তা গ্রহণ করে।
  • (২) ‘দুর্ভিক্ষ নিবারণ আইনের ধারাগুলি ব্যাখ্যা করে তিনি প্রচার-পুস্তিকা রচনা করেন এবং জনগণের মধ্যে তা বিলি করেন।
  • (৩) কেশরী পত্রিকা মারফৎ জনসাধারণের কাছে তিনি খাজনা বয়কটের আবেদন জানান। তিনি বলেন যে, “মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও কী আপনারা সাহসী হবেন না?”
  • (৪) বলা বাহুল্য, তাঁর প্রচারে কাজ হয়, জনগণ সচেতন হয়ে ওঠে এবং সরকার বিব্রত বোধ করে।

প্লেগ নিবারণে ভূমিকা

  • (১) ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে পুণা শহরে প্লেগের ব্যাপক মহামারী দেখা দেয়। প্লেগ নিবারণের নামে সরকারি কর্মচারী ও সেনাদল জনগণের ওপর প্রবল অত্যাচার শুরু করে।
  • (২) প্লেগ-কর্মচারীদের হাতে নারীর শ্লীলতা ও দেব-মন্দিরের পবিত্রতা লঙ্ঘিত হয়। মহারাষ্ট্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তিলক তাঁর পত্রিকা ও বক্তৃতাদি মারফৎ সরকারি নীতির বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে থাকেন।
  • (৩) তিনি ‘মারহাট্টা’ পত্রিকায় লেখেন যে, “পুণা শহরে তাণ্ডবকারী প্লেগ-কর্মীদের চেয়ে প্লেগ নামক মহামারী অনেক মঙ্গলজনক।”
  • (৪) ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের শিবাজি উৎসবের দশদিনের মধ্যেই পুণার প্লেগ কমিশনার মিঃ র‍্যাণ্ড (Rand) ও তাঁর সহকারী মিঃ আয়ার্স্ট (Ayerst) চাপেকর ভ্রাতৃদ্বয়ের হাতে নিহত হন।
  • (৫) এই হত্যাকাণ্ডের উস্কানিদাতা হিসেবে তিলককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি আঠারো মাস সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তাঁর কারাদণ্ডে সারা দেশ স্তম্ভিত হয়ে যায়।
  • (৬) তাঁর কারাদণ্ডের প্রতিবাদে পুণায় সপ্তাহব্যাপী সর্বাত্মক ধর্মঘট পালিত হয়। দোকান-বাজার সব বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্ররা ক্লাস বয়কট করে। কারখানার শ্রমিকরা ছয়দিন ধর্মঘট পালন করে। নিরাপরাধ তিলকের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে জাতীয় কংগ্রেস ধিক্কার জানায়।

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে যোগদান

  • (১) ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন শুরু হলে তিলক তাতে সর্বান্তঃকরণে যোগদান করেন এবং বিভিন্ন জনসভা এবং ‘কেশরী’ ও ‘মারহাট্টা’ পত্রিকার মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের সর্বত্র ‘স্বদেশী’-র বার্তা ছড়িয়ে দেন।
  • (২) সমাজের নিম্নস্তরের মানুষ ও শ্রমিককৃষকদের মধ্যেও এই আদর্শ সম্প্রসারিত হয়। তিনি বলছেন “বয়কট ও নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ আমাদের অস্ত্র। আমরা কারও ওপর বলপ্রয়োগের পক্ষপাতী নই।”
  • (৩) ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে মজঃফরপুরে ক্ষুদিরাম -এর বোমা বিস্ফোরণের পর তিনি ‘কেশরী’ ও’মারহাট্টা’-য় যে সব প্রবন্ধ লেখেন, সেগুলির বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের অভিযোগ আনা হয় এবং তিনি ছয় বছরের জন্য সুদূর মান্দালয়ে নির্বাসিত হন।
  • (৪) তাঁর ওপর এই রাজদণ্ডাজ্ঞার ফলে বোম্বাই নগরীর শ্রমিকশ্রেণী সপ্তাহব্যাপী শহরে চরম অরাজকতা সৃষ্টি করে। শোলাপুরের কৃষকরাও প্রবল দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে।

লোকমান্য তিলক

বিভিন্ন ঘটনা থেকে তাঁর জনপ্রিয়তার পরিচয় পাওয়া যায়। এই জনপ্রিয়তার জন্যই তিনি ‘লোকমান্য’ অভিধায় ভূষিত হন।

লাল-বাল-পাল

স্বদেশী যুগে ‘লাল-বাল-পাল’, অর্থাৎ পাঞ্জাবের লাজপৎ রায়, মহারাষ্ট্রের বাল গঙ্গাধর তিলক এবং বাংলার বিপিনচন্দ্র পাল -এই তিন জনপ্রিয় নেতার নাম একত্রে উচ্চারিত হত। এই সময় তাঁরা প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

খাঁটি দেশপ্রেমিক

তিলক যথার্থই ছিলেন স্বদেশবৎসল এক খাঁটি দেশপ্রেমিক। মহারাষ্ট্র ও ভারতে জনজাগরণ ও চরমপন্থী জাতীয়তাবাদের বিকাশে তাঁর দান অতুলনীয়।

ভারতীয় বিক্ষোভের জনক

প্রখ্যাত ইংরেজ সাংবাদিক ভ্যালেন্টাইন চিরল-এর মতে তিনি ছিলেন ‘ভারতীয় বিক্ষোভের জনক’ (‘Father of IndianUnrest’)।

হোমরুল আন্দোলন

তিলক ১৯১৬-১৮ সালে অ্যানি বেসান্তের সঙ্গে মিলিত ভাবে ‘অল ইন্ডিয়া হোম রুল লিগ’ তৈরী করে হোমরুল আন্দোলন শুরু করেন।

গ্ৰন্থ রচনা

১৯০৩ সালে বালগঙ্গাধর তিলক “The Arctic Home in the Vedas” নামে একটি বই লেখেন৷ তাঁর লেখা আরেকটি উল্লেখযোগ্য বই হলগীতা রহস্য।

সম্মাননা

বাল গঙ্গাধর তিলকের স্মরণে ২০০৭ সালে তাঁর ১৫০তম জন্মবার্ষিকিতে ভারত সরকার পুণেতে একটি থিয়েটার অডিটোরিয়াম তিলক স্মারক রঙ্গ মন্দির তৈরী করেছে।

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে

২০১৫ সালে তাঁর জীবনকাহিনী নিয়ে ‘Lokmanya: Ek Yug Purush‘ নামে এক ছায়াছবি তৈরী হয়।

মৃত্যু

১৯২০ সালের ১ আগস্ট বালগঙ্গাধর তিলকের মৃত্যুহয়।

উপসংহার :- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১লা আগস্ট তাঁর মৃত্যুতে মহাত্মা গান্ধী বলেন “আমার সবচেয়ে বড় ভরসাস্থল চলে গেল।” তাঁর কাছে তিলক ছিলেন- “আধুনিক ভারতের স্রষ্টা” (Maker of modern India)।

(FAQ) বাল গঙ্গাধর তিলক সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. তিলক প্রকাশিত পত্রিকা দুটি কি কি?

কেশরী ও মারহাট্টা।

২. শিবাজী ও গণপতি উৎসব কে শুরু করেন?

বাল গঙ্গাধর তিলক।

৩. হোমরুল আন্দোলন কে শুরু করেন?

বাল গঙ্গাধর তিলক।

৪. ‘স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার’ -এটি কার উক্তি?

বাল গঙ্গাধর তিলক।

Leave a Reply

Translate »