মহাবিদ্রোহ

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ -এর রাজনৈতিক কারণ, অর্থনৈতিক কারণ, সামাজিক কারণ, সামরিক কারণ, ধর্মীয় কারণ, প্রত্যক্ষ কারণ, মহাবিদ্রোহের সূচনা, বিস্তার, বিদ্রোহের নেতৃত্ব, মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য, মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণ ও মহাবিদ্রোহের ফলাফল সম্পর্কে জানবো।

Table of Contents

১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ

সময়কাল১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দ
নেতৃত্বনানা সাহেব, তাতিয়া টোপি, কুনওয়ার সিং, রাণী লক্ষ্মীবাই
ফলাফলব্যর্থতা
মহাবিদ্রোহ

ভূমিকা :- ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ আধুনিক ভারতের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।এই বিদ্রোহ কোম্পানির ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে সূত্রপাত হলেও অল্পদিনের মধ্যে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পরিব্যপ্ত হয়। প্রায় এক বছর ধরে লক্ষ লক্ষ কৃষক, শ্রমিক এবং সিপাহীরা সাহসের সঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়েছিল। তাদের সাহসিকতা এবং আত্মবিসর্জন ভারতের ইতিহাসে এক গৌরবজনক অধ্যায়।

মহাবিদ্রোহের কারণ

১৮৫৭ সালে ভারতে সংঘটিত মহাবিদ্রোহের বিভিন্ন কারণ ছিল। যেমন –

(ক) মহাবিদ্রোহের রাজনৈতিককারণ

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের রাজনৈতিক কারণগুলি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যেমন—

(১) স্বত্ববিলোপ নীতি

লর্ড ডালহৌসি তাঁর স্বত্ববিলোপ নীতির দ্বারা একে একে ঝাঁসি, সাতারা, নাগপুর, সম্বলপুর-সহ বিভিন্ন দেশীয় রাজ্য দখল করলে ওইসব রাজ্যের শাসকরা ব্রিটিশদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

(২) রাজপ্রাসাদ লুন্ঠন

ব্রিটিশরা কুশাসনের অজুহাতে অযোধ্যা ও নাগপুরের রাজপ্রাসাদ লুণ্ঠন করে। এর ফলে এই সব রাজ্যের শাসকরা ক্ষুব্ধ হয়।

(৩) ব্রিটিশ রাজকর্মচারীদের অত্যাচার

উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ রাজকর্মচারীরা তাদের অধস্তন ভারতীয় কর্মচারীদের ঘৃণা ও অবজ্ঞা করত। ভারতীয় কর্মচারীরা কারণে-অকারণে ব্রিটিশ কর্মচারীদের কাছে হেনস্থার শিকার হত। অত্যাচারিত এই ভারতীয়দের মনে এভাবে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

(৪) ব্রিটিশ-আশ্রিত রাজ্যে ক্ষোভ

ব্রিটিশ সরকার ত্রিবাঙ্কুর-সহ ব্রিটিশ আশ্রিত কয়েকটি রাজ্যের সেনাদের ভাতা কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে তারা ব্রিটিশদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়।

(খ) মহাবিদ্রোহের অর্থনৈতিক কারণ

ড. এ. আর দেশাই বলেছেন যে, “১৮৫৭-র বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ শাসনে নির্যাতিত বিভিন্ন শ্রেণির অসন্তোষের ফল।” এই বিদ্রোহের প্রধান অর্থনৈতিক কারণগুলি ছিল নিম্নরূপ—

(১) অর্থ-সম্পদ লুণ্ঠন

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের অর্থ ও সম্পদ একনাগাড়ে লুণ্ঠন করলে দেশীয় রাজ্যগুলির রাজকোশ শূন্য হয়ে পড়ে। দেশের আর্থিক দুর্দশা ক্রমাগত বাড়তে থাকে।

(২) অবশিল্পায়ন

ব্রিটিশ কোম্পানির শোষণমূলক শিল্প বাণিজ্যনীতির ফলে ভারতে অবশিল্পায়ন ঘটে। ব্রিটিশ শিল্পজাত পণ্য বিনাশুল্কে ভারতে ঢুকলে দেশীয় বণিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

(৩) বেকারত্ব বৃদ্ধি

ভারতের বস্ত্রশিল্প-সহ বিভিন্ন কুটিরশিল্প ধ্বংসহলে এই সব শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক ও কারিগরদের একটি বড়ো অংশ কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ে। আবার ব্রিটিশদের একচেটিয়া বাণিজ্যের ফলে দেশীয় ব্যবসায়ীরা যথেষ্ট ক্ষতির শিকার হয়।

(৪) রাজস্ব বৃদ্ধি

ব্রিটিশরা ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে সেখানকার প্রজাদের ওপর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব চাপিয়ে দেয়।

(৫) ব্রিটিশ সহযোগীদের শোষণ

ব্রিটিশ কোম্পানির সহযোগীদেশীয় জমিদার, মহাজন প্রমুখও প্রজাদের ওপর নানাভাবেশোষণ চালায়। ফলে প্রজাদের ক্ষোভ ক্রমাগত বাড়তে থাকে।

(গ) মহাবিদ্রোহের সামাজিক কারণ

ব্রিটিশ শাসন ভারতীয় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মনে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি করলে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মহাবিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। এই বিদ্রোহের সামাজিক কারণগুলি ছিল নিম্নরূপ –

(১) শাসক-শাসিত সম্পর্ক

ঔপনিবেশিক ভারতে ইংরেজ শাসক ওশাসিতের মধ্যে ব্যবধান ও বৈষম্য ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং ভারতীয়রা নিজ ভূমে পরবাসী হয়ে পড়ে।

(২) ভারতীয়দের প্রতি ঘৃণা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত সর্বত্রইংরেজরা ভারতীয়দের ঘৃণার চোখে দেখত। বহু ইউরোপীয় ক্লাবের দরজায় লেখা থাকত, “কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ।” ওয়ারেন হেস্টিংস বলেছেন, “কয়েক বছর আগে পর্যন্ত অধিকাংশ ইংরেজ ভারতীয়দের প্রায় বর্বর মনে করত।”

(৩) ভারতীয়দের রক্ষণশীল মনোভাব

ভারতীয়রা এদেশে বিদেশি শ্বেতাঙ্গ শাসন কখনোই মনেপ্রাণে মেনে নিতে পারেনি। মুঘল শাসনের পতন ঘটানোর জন্য মুসলিমরা ব্রিটিশদের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুদ্র ছিল। আবার সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করা, বিধবাবিবাহের প্রচলন প্রভৃতির জন্যও রক্ষণশীল হিন্দুরা ব্রিটিশদের ওপর যথেষ্ট ক্ষুদ্ধ ছিল।

(৪) ব্রিটিশ কর্মচারীদের অত্যাচার

ব্রিটিশ প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের অত্যাচার ও ব্যভিচার ভারতীয়দের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। কোল, ভিল, সাঁওতাল, মুণ্ডা প্রভৃতি আদিবাসী সম্প্রদায়গুলিও চরম অত্যাচার আর নির্যাতনের শিকার হত। এই কারণে ভারতবাসী ব্রিটিশদের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ছিল।

(ঘ) মহাবিদ্রোহের সামরিক কারণ

১৮৫৭-র বিদ্রোহে প্রধান ভূমিকা ছিল ভারতীয় সিপাহিদের। নানা কারণে সিপাহিরা ইংরেজ শাসনের প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়েছিল। যেমন –

  • (১) ভারতে ব্রিটিশ সাম্রজ্যের ভিত্তি রচিত হয়েছিল ভারতীয় সিপাহিদের আত্মত্যাগের দ্বারা, কিন্তু সেই সিপাহিরা ছিল সর্বাধিক বঞ্চিত। অযোধ্যা থেকে সর্বাধিক সংখ্যক সিপাহি সংগৃহীত হত। সেই অযোধ্যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হলে সিপাহিরা ইংরেজ-বিদ্বেষী হয়ে ওঠে। কারণ তখন তাদের মধ্যে জাতীয় চেতনা জাগ্রত না হলেও আঞ্চলিকতা যথেষ্ট প্রবল ছিল।
  • (২) তা ছাড়া, ইংরেজের অর্থনৈতিক শোষণ সাধারণ ভারতবাসীর যে দুঃখকষ্ট সৃষ্টি করেছিল, তারও প্রভাব পড়েছিল সিপাহিদের উপর। কারণ সিপাহিদের আত্মীয়স্বজনেরা ইংরেজ শোষণের শিকার হয়েছিল।
  • (৩) সেনাবাহিনীর আইনকানুন, সিপাহিদের ধর্মাচরণ ও জাতপাতের বিভেদরক্ষার পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। ভারতবাসীর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল সাগর অতিক্রম করা বা দাড়ি, টিকি ইত্যাদি না-রাখতে পারা ধর্মবিরোধী কাজ। অথচ ইংরেজরা আইন করে ভারতীয় সিপাহিদের এই কাজ করতে বাধ্য করেছিল।
  • (৪) ইংরেজ সামরিক কর্মচারীরা ভারতীয় সিপাহিদের ঘৃণার চোখে দেখত। সমসাময়িক জনৈক ইংরেজ লিখেছেন যে, “এদেশীয় সিপাহি ও ইংরেজ উচ্চসামারিক কর্মীদের মধ্যে কোনো বন্ধুত্ব বা সহমর্মিতাবোধ ছিল না। সিপাহিদের নিকৃষ্ট জীব হিসাবে গণ্য করা হত। কারণে-অকারণে ইংরেজ কর্মচারীরা সিপাহিদের শুয়োর, নিগার ইত্যাদি অশ্লীল ভাষায় সম্বোধন করত।
  • (৫) বেতনজনিত বৈষম্যও সিপাহিদের ক্ষোভের আরও একটি বড়ো কারণ ছিল। সমযোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও ইংরেজ সৈনিকের তুলনায় ভারতীয় সিপাহির বেতন ছিল কম। সিপাহিদের আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাও কম ছিল। এদের পদোন্নতির সুযোগ ছিল না বললেই চলে। ত্রিশ বছর কাজ করেও তাদের পদমর্যাদ বাড়ত না।
  • (৬) ইংরেজ ঐতিহাসিক হোম্‌স ( Homes) লিখেছেন যে, “একজন সিপাহি হায়দার আলির মতো নৈপুণ্য দেখিয়েও একজন সাধারণ ইংরেজ সৈনিকের সমান মর্যাদা আশা করতে পারত না।”
  • (৭) বিদেশে যুদ্ধ করতে গেলে সিপাহিদের কিছু অতিরিক্ত ভাতা (বাট্টা) দেওয়ার রীতি ছিল। কিন্তু বিদ্রোহের অব্যবহিত পূর্বে এক আদেশবলে কোম্পানি এই বাট্টা বন্ধ করে দেয়। এতে সিপাহিরা প্রচণ্ড ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে।

(ঙ) মহাবিদ্রোহের ধর্মীয় কারণ

মাহবিদ্রোহের পশ্চাতে ধর্মীয় কারণ ছিলনিম্নরূপ। –

  • (১) খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের ক্রিয়াকলাপ ধর্মপ্রাণ ভারতীয়দের আশঙ্কিত করে তুলেছিল। সরকারের কয়েকটি সিদ্ধান্ত এই আশঙ্কাকে আরও সুদৃঢ় করে।
  • (২) মিশনারিগণ স্বাধীন ভাবে জেলখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল প্রভৃতি স্থানে যেতে পারতেন। এঁরা ভারতবাসীর দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে প্রলোভিত করতেন।
  • (৩) এরা খ্রিস্টানধর্মকে জনপ্রিয় করার জন্য হিন্দু বা ইসলাম সম্বন্ধে নানাপ্রকার কুৎসা রটনা করতেন। হিন্দু ও ইসলামের প্রচলিত ধর্মীয় রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে এঁরা ব্যঙ্গবিদ্রুপ করতেন।
  • (৪) ধর্মান্তরিতদের জন্য বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধার কথা ঘোষণা করে সরকারও এই কাজকে মদত দিত। বস্তুত ইংরেজগণ ভারতবাসীর ধর্মনাশ করতে উদ্যত, এই আশঙ্কার ফলেই ভারতীয়গণ ইংরেজ সরকারের সংস্কারমূলক কাজগুলিকে সরল মনে গ্রহণ করতে পারেনি।
  • (৫) সতীদাহ নিবারণ, বিধবাবিবাহ প্রচলন প্রভৃতি আইন ইংরেজ কর্তৃক ভারতবাসীর ধর্মে হস্তক্ষেপের ষড়যন্ত্র বলেই বিবেচিত হয়েছিল।ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও তাদের সেবাইতদের উপর কর আরোপ ভারতবাসী ধর্মীয়চেতনাকে আঘাত করেছিল। এই কারণেই ভারতীয়রা যুদ্ধের ডাক দিয়েছিল।

(চ) মহাবিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এনফিল্ড রাইফেল এর ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সিপাহিরা ক্ষুদ্ধ হয়ে বিদ্রোহ শুরু করে। এই রাইফেলের ব্যবহারই বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ সৃষ্টি করে।

  • (১) ব্রিটিশ কোম্পানি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এনফিল্ড রাইফেল নামে একবিশেষ ধরনের বন্দুকের ব্যবহার শুরু করে। এই রাইফেলে ব্যবহৃত কার্তুজবা টোটার খোলসটি দাঁত দিয়ে কেটে রাইফেলে ভরতে হত।
  • (২) সেনাবাহিনীতে গুজব ছড়ায় যে, এনফিল্ড রাইফেলের টোটার খোলসটিগোরু ও শূকরের চর্বি দিয়ে তৈরি। ফলে হিন্দু ও মুসলিম সিপাহিরাধর্মচ্যুত হওয়ার ভয়ে এই টোটা ব্যবহারে অসম্মত হয়।
  • (৩) ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এনফিল্ড রাইফেল ব্যবহারের জন্য ভারতীয় সেনাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে সেনারা বিদ্রোহের পথে পা বাড়ায়।

মহাবিদ্রোহের সূচনা

ব্যারাকপুর সেনানিবাসের সিপাহি মঙ্গল পান্ডে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৯ মার্চ প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।এরপর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।

মহাবিদ্রোহের বিস্তার

  • (১) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহ প্রথমে শুরু হয় মঙ্গল পান্ডের নেতৃত্বে কলকাতার উত্তরে ব্যারাকপুরে।
  • (২) এই বিদ্রোহের সংবাদ লক্ষ্ণৌ -এর সিপাহিদেরও সংক্রামিত করেছিল। লক্ষ্ণৌ -এর পরে বিদ্রোহ মীরাটে প্রসারিত হয়।
  • (৩) মিরাট থেকে এই বিদ্রোহ দ্রুত গতিতে দিল্লিতে ছড়িয়ে পড়ে।দিল্লিতে সিপাহিরা স্ত্রী-পুরুষ-শিশু নির্বিচারে ইংরেজদের হত্যা করে।
  • (৪) এরপর বিদ্রোহ গাঙ্গেয় প্রদেশগুলিতে ও মধ্যভারতে ছড়িয়ে পড়ে। ফিরোজপুর, মজফ্‌ফর নগর ও আলিগড়ে সিপাহিরা বিদ্রোহী হয়।
  • (৫) এরপর পাঞ্জাবের অন্তর্গত নৌসরা ও হতমর্দনেও বিদ্রোহ সংক্রমিত হয়।অযোধ্যা ও উত্তরপ্রদেশের নানা অঞ্চলে বিদ্রোহ তীব্র আকার ধারণ করে।অযোধ্যার সম্পত্তিচ্যুত তালুকদাররা বিদ্রোহে যোগ দেন।
  • (৬) রোহিলাখন্ডের পূর্বতন সর্দাররা এই বিদ্রোহে যোগ দেন। এদের মধ্যে বেরিলির খান বাহাদুর, নাজিরাবাদের মহম্মদ খাঁ, গোরখপুরের মহম্মদ হাসান প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
  • (৭) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে বাংলার চট্টগ্রামের সিপাহিরা বিদ্রোহী হন। কিন্তু সেখানে জনসাধারণের সমর্থন না পাওয়ায় সিপাহিরা পার্বত্য অঞ্চলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
  • (৮) নর্মদা নদীর দক্ষিণাঞ্চলে শান্তি একরকম অক্ষুন্নই ছিল, যদিও সিপাহিদের মধ্যে উত্তেজনার অভাব ছিল না।
  • (৯) রাজস্থানেও বিদ্রোহ সংক্রামিত হয়।কিন্তু রাজপুত শাসকরা ব্রিটিশদের প্রতি অনুগত থাকায় সেখানে বিদ্রোহ ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে নি।

মহাবিদ্রোহের নেতৃত্ব

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহে অংশগ্ৰহণকারী বিভিন্ন নেতৃত্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন নানা সাহেব, রানী লক্ষ্মী বাই (মণিকর্ণিকা), তাতিয়া টোপি, কুনওয়ার সিং, বেগম হজরত মহল, দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ প্রমুখ।

মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দেভারতবর্ষে যে বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসে তা মহাবিদ্রোহ নামে পরিচিত।এই মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি ও চরিত্র সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে যথেষ্ট মতবিরোধ রয়েছে। যেমন –

(১) সিপাহী বিদ্রোহ

স্যার সৈয়দ আহমেদ খান, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, চার্লস রেকস,জন হে প্রমুখের মতে এই বিদ্রোহ ছিল নিছকই সিপাহী বিদ্রোহ।এই বিদ্রোহে যারা যোগদান করেছিলেন এবং বিদ্রোহের সূত্রপাত যারা করেছিলেন তাঁরা ছিলেন সিপাহী। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষিত সম্প্রদায় এই বিদ্রোহকে সমর্থন করেননি। রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে এই বিদ্রোহ ছিল একটি সামরিক অভ্যুত্থান মাত্র।

(২) জাতীয় বিদ্রোহ

অধ্যাপক সুশোভন সরকার, হোমস, আলেকজান্ডার ডাফ, শশীভূষণ চৌধুরী প্রমুখের মতে এই বিদ্রোহ শুধুমাত্র সিপাহী বিদ্রোহ ছিল না, এটি ছিল একটি জাতীয় বিদ্রোহ। তাদের যুক্তি শুধুমাত্র সিপাহীরাই নয়, বিভিন্ন স্থানের অসামরিক ব্যক্তিরাও এই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করেছিলেন। শুধু তাই নয়, বিদ্রোহীরা দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে সম্রাট রূপে ঘোষণা করে জাতীয়তাবাদী মনোভাবের পরিচয় দেন। তাই এই বিদ্রোহ একদিকে যেমন জাতীয় রূপ নিয়েছিল, অন্যদিকে এটা হয়ে উঠেছিল এক গণবিদ্রোহ।

(৩) সামন্ততান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া

সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, রজনীকান্ত দত্ত, পি সি যোশী প্রমুখের মতে এই বিদ্রোহ ছিল রক্ষণশীল সামন্ততান্ত্রিক শক্তিগুলির অভ্যুত্থান। নানাসাহেব, লক্ষ্মীবাঈ, কুনওয়ার সিং প্রমূখ সামন্ত শ্রেণীর মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন। ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতে এই বিদ্রোহছিল, “ক্ষয়িষ্ণু অভিজাততন্ত্র ও মৃতপ্রায় সামন্তদের মৃত্যুকালীন আর্তনাদ।”

(৪) ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ

দেশপ্রেমিক বিনায়ক দামোদর সাভারকর তার “ইন্ডিয়ান ওয়ার অফ ইনডিপেনডেন্স” গ্রন্থে মহাবিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে গণ্য করেছেন।তার মতে, ইংরেজ শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে এবং নিজ নিজ রাজ্যে স্বাধীনতার লক্ষ্যে ও সর্বোপরি ভারতের স্বাধীনতার জন্য বিদ্রোহীরা বিদ্রোহ করেছিলেন। যদিও এই মতকে বহু ঐতিহাসিক অস্বীকার করেছেন।

(৫) কৃষক বিদ্রোহ

ঐতিহাসিক খালদুনের মতে এই বিদ্রোহ ছিল কৃষক শ্রেণীর বিদ্রোহ। অগণিত কৃষকেরা এই বিদ্রোহে মরণপণ সংগ্রাম চালিয়েছিল। সমকালীন অনেক ইংরেজ কর্মচারীও এই মতকে সমর্থন করেছেন।

(৬) মুসলমান চক্রান্ত

কোনো কোনো ঐতিহাসিক এই বিদ্রোহকে মুসলমান চক্রান্ত বলে অভিহিত করেছেন। পাকিস্তানি ঐতিহাসিক আর. এইচ কুরেশি, সৈয়দ মইনুল হক এই মতের সমর্থক। তাদের মতে, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অযোধ্যা বিহার উত্তরপ্রদেশে মুসলিম বিদ্রোহীদের অত্যধিক তৎপরতা এটাই প্রমাণ করে যে বিদ্রোহীরা পুনরায় মুসলিম রাজত্ব চেয়েছিল। যদিও এই মতকে সমর্থন করা যায় না। কারণ হিন্দু ও মুসলমান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই বিদ্রোহে যোগদান করেছিল।

মহাবিদ্রোহের বৈশিষ্ট্য

মহাবিদ্রোহের প্রকৃতি সম্পর্কে তীব্র মতভেদ থাকলেও এর কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে প্রায় সবাই একমত হয়েছেন। যেমন –

(১) অসংগঠিত আন্দোলন

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ কোনো সুপরিকল্পিত অভ্যুত্থান ছিল না। এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি যার ভিত্তিতে বলা যেতে পারে যে, এই বিদ্রোহ পূর্ব-পরিকল্পিত হলে কিছু-না-কিছু সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া সম্ভব হত।

(২) সাম্প্রদায়িক ঐক্য

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল হিন্দু-মুসলমান ঐক্য। সমস্ত স্তরের হিন্দু-মুসলমান হাতে হাত ধরে এই বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন। এই হিন্দু-মুসলমান সৌভ্রাতৃত্ব ছিল অভূতপূর্ব। প্রতিটি বিদ্রোহী মুসলমান বাহাদুর শাহকে ‘সম্রাট’ বলে মেনে নিয়েছিল।

(৩) বুদ্ধিজীবী শ্রেণির উদাসীনতা

শিক্ষিত মধ্যবিত্তশ্রেণি এই বিদ্রোহে তেমনভাবে লিপ্ত ছিল না।প্রথম থেকেই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেণি ১৮৫৭-র বিদ্রোহের প্রতি নির্লিপ্ত মনোভাব পোষন করেছিল। এর প্রধান কারণ ছিল বিদ্রোহীরা ইংরেজ প্রবর্তিত সমাজ-সংস্কারমূলক আইনকানুনের প্রতিবাদ করছিল।

মহাবিদ্রোহের দমন

একাধিক দেশীয় রাজন্যবর্গের সহযোগিতা শীঘ্রই মহাবিদ্রোহ দমন করা হয়।১৮৫৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই ইংরেজ সামরিক বাহিনী তীব্র ও দীর্ঘ সংগ্রামের পর বিদ্রোহীদের পরাস্ত করে দিল্লি শহর দখল করে। এরপর ভারতের নেতাগণ একে একে পরাজিত ও নিহত হলে বিদ্রোহের বহ্নি শিখা নির্বাপিত হয়ে যায়। ১৮৫৮ সালের জুলাই মাসের মধ্যে সর্বত্র শান্তি ফিরে আসে।

মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার কারণ

এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পিছনে নানা কারণ ছিল।যেমন –

(১) সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব

মহাবিদ্রোহের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিলনা। তাই বিভিন্ন স্থানের মধ্যে বিদ্রোহের যোগাযোগ ছিল না।

(২) যোগ্য নেতার অভাব

নানাসাহেব, তাঁতিয়া টোপি, ঝাসির রানি লম্দ্মীবাঈ লখনউতে অযোধ্যা বেগম প্রমুখ যোগ্য নেতা যোগ্যতার সঙ্গে আঞলিক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিলেও বৃদ্ধ বাহাদুর শাহ সর্বভারতীয় নেতা হিসাবে যোগ্য ছিল না।

(৩) মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভূমিকা

পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি, বিশেষত বাঙালি বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় বিদ্রোহে অংশগ্রহণ থেকে সমাজে আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে ইংরেজ শাসনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে বিদ্রোহ থেকে দূরে সরে ছিল।

(৪) অর্থের অভাব

সিপাহিদের কাছে অর্থ এবং আধুনিক অস্ত্রের অভাব ছিল। অর্থ সংগ্রহে সিপাহিদের লুটপাট বিদ্রোহীদের বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

(৫) নৌশক্তির অভাব

উন্নত ও শত্তিশালী নৌশক্তি ইংরেজদের সাফল্যকে ত্বরান্বিত করেছিল।

(৬) এনফিল্ড রাইফেল

সিপাহিরা এনফিল্ড রাইফেল চালাতে পারত না কিন্তু ধর্মীয় অজুহাতে কার্যত তা ব্যবহার করাই হয়নি। গাদা বন্দুক, বর্শা, বল্লম নিয়ে সিপাহিরা ইংরেজদের কামান এনফিল্ড রাইফেল-এর সাথে পেরে উঠতে পারেনি। এর টোটাগুলি তৈরি হত গোরুর চর্বির দ্বারা এই জন্য হিন্দুরা বিদ্রোহ করতে অসম্মত হয়।

(৭) যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব

বিভিন্ন আঞলিক বিদ্রোহের মধ্যে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব ছিল। কিন্তু রেলপথ, টেলিফোন, টেলিগ্রাফ ইত্যাদির মাধ্যমে যোগাযোগ-এর সুবিধাগুলি ছিল শুধুমাত্র ইংরেজদের জন্য।কিন্তু সিপাহিদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা ছিল না।

(৮) বিশ্বাসঘাতকতা

সর্বোপরি মোগল সম্রাটের কিছু কর্মচারী ও সেনাপতির বিশ্বাসঘাতকতা বিদ্রোহীদের পরাজয়কে নিশ্চিত করে।

(৯) কূটনৈতিক কৌশল

ভারতীয় সিপাহিদের কূটনৈতিক কৌশল জানা ছিল না ইংরেজ শক্তি ভারতীয়দের কখনো চাকরি বা অন্যান্য প্রলোভন দেখিয়ে কিছু সম্প্রদায়কে নিজের পক্ষে টেনে আনতে সফল হয়।

মহাবিদ্রোহের ফলাফল

শেষ পর্যন্তব্যর্থ হলেও ভারতের ইতিহাসে মহাবিদ্রোহের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। যেমন –

(১) কোম্পানির শাসনের অবসান

মহাবিদ্রোহের পর ব্রিটেনের পার্লামেন্ট ভারতের শাসনভার আর কোম্পানির হাতে রাখতে সাহস পেল না। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘ভারতশাসন আইন পাস’ করে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায় এবং মহারানি ভিক্টোরিয়ার হাতে ভারতের শাসনভার তুলে দেওয়া হয়। স্থির হয় মহারানির প্রতিনিধিরূপে একজন গভর্নর-জেনারেল ভারত শাসন করবেন।

(২) শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন

এক কাউন্সিল আইন পাস করে পূর্বেকার সনদ আইনের কেন্দ্রীকরণ নীতির প্রস্তাব বাতিল করা হয়। ভারতের ব্রিটিশ প্রশাসনকে আরও বিকেন্দ্রীকরণের চেষ্টা শুরু হয়। মুম্বাই ও মাদ্রাজ কাউন্সিলকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়। স্থির হয় ভারত-সচিবকে শাসন পরিচালনায় সাহায্য করবে ১৫ জন সদস্যবিশিষ্ট ইন্ডিয়া কাউন্সিল।

(৩) সামরিক সংস্কার

মহাবিদ্রোহের পর সামরিক বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভারতের ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে বিদেশি সেনার সংখ্যা বাড়ানো হয়। গোলন্দাজ বাহিনীতে ভারতীয় সেনাদের নিয়োগ বন্ধ করা হয়। প্রেসিডেন্সি সেনাবাহিনীকে আলাদা করে দেওয়া হয়। ভারতীয় সেনাদের সেনাবাহিনীর উচ্চপদে নিয়োগ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

(৪) দেশীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন

মহাবিদ্রোহের আগে দেশীয় রাজ্যগুলি রক্ষার অজুহাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়েছিল। এখন থেকে দেশীয় রাজ্যগুলি সম্পর্কে বন্ধুত্বপূর্ণ নীতি নেওয়া হয়, যাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়।

(৫) সামাজিক পরিবর্তন

মহাবিদ্রোহ ভারতের সামাজিক ক্ষেত্রেও বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটায়। পাশ্চাত্য দর্শন, বিজ্ঞান ও সাহিত্যের স্পর্শে ভারতীয় সমাজ আধুনিক হয়ে উঠতে শুরু করে। হিন্দুরা পাশ্চাত্য-প্রভাবে আধুনিক হয়ে উঠলেও মুসলমানরা পাশ্চাত্য প্রভাব থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে।

(৬) মহারানির ঘোষণাপত্র

উন্নততর ভারত শাসন আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহারানি ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিরূপে সর্বপ্রথম ভারতে ভাইসরয় হন লর্ড ক্যানিং। নবনিযুক্ত ভাইসরয় ক্যানিং এলাহাবাদে অনুষ্ঠিত এক দরবারে মহারানির হয়ে এক ঘোষণাপত্র পাঠ করেন (১ নভেম্বর, ১৮৫৮ খ্রিঃ), যা ‘মহারানির ঘোষণাপত্র’ নামে পরিচিত।

উপসংহার :- ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ একটি যুগের অবসান ঘটায় এবং একটি নতুন যুগের বীজ বপন করে। ১৮৫৭ সালটি ভারতীয় ইতিহাসে দুটি ল্যান্ডমার্কের মধ্যে একটি বিরাট বিভাজন। একটি ছিল প্রথমার্ধে ব্রিটিশদের সর্বাধিক গুরুত্ব, এবং অন্যটি ছিল উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের বৃদ্ধি।

(FAQ) মহাবিদ্রোহ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. মহাবিদ্রোহের সময় কাকে ভারতের সম্রাট ঘোষণা করা হয়?

দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে।

২. প্রথম সিপাহী বিদ্রোহের ডাক দেন কে?

মঙ্গল পাণ্ডে।

৩. মহাবিদ্রোহের প্রথম শহীদ কে?

মঙ্গল পাণ্ডে।

৪. ঝাঁসীতে মহাবিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন কে?

রাণী লক্ষ্মীবাই।

Leave a Reply

Translate »