রাষ্ট্রকূট বংশ

রাষ্ট্রকূট বংশ প্রসঙ্গে উৎপত্তি, আদি নিবাস, সামন্ত রাজ্য স্থাপন, দন্তিদুর্গ, প্রথম কৃষ্ণ, প্রথম ধ্রুব, তৃতীয় গোবিন্দ, অমোঘবর্ষ, দ্বিতীয় কৃষ্ণ, তৃতীয় ইন্দ্র, তৃতীয় কৃষ্ণ ও রাষ্ট্রকূট বংশের পতন সম্পর্কে জানবো।

রাষ্ট্রকূট বংশ

বিষয় রাষ্ট্রকূট বংশ
প্রতিষ্ঠাতা দন্তিদুর্গ
শ্রেষ্ঠ রাজা তৃতীয় গোবিন্দ
শেষ রাজা দ্বিতীয় কর্ক
রাষ্ট্রকূট বংশ

ভূমিকা :- বিন্ধ্য অঞ্চল থেকে তুঙ্গভদ্রা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলকে দাক্ষিণাত্য বলা হয়। এই দাক্ষিণাত্যের শক্তি গুলির মধ্যে রাষ্ট্রকূট শক্তি ইতিহাসে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উৎপত্তি

রাষ্ট্রকূট বংশের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ দেখা যায়। যেমন–

  • (১) একটি মত অনুসারে রাষ্ট্রকূটরা ছিল মহাভারতের যদুবংশের বীর সাত্যকির বংশধর।
  • (২) অপর একটি মত হল যে, রাষ্ট্রকূটরা ছিল তেলেগু রেড্ডি বংশীয়।
  • (৩) তৃতীয় মত হল যে, রাষ্ট্রকূটরা ছিল ক্ষত্রিয় বংশ। অশোকের লিপিতে যে “রাষ্ট্রিক” জাতির নাম পাওয়া যায় তারাই ছিল রাষ্ট্রকূট।
  • (৪) চতুর্থ মত হল যে, অন্ধ্র দেশের কৃষক সম্প্রদায় হতে রাষ্ট্রকূটরা উদ্ভুত হয়। চালুক্য রাজারা তাদের বিভিন্ন স্থানে বংশানুক্রমিকভাবে শাসনকর্তার পদে নিয়োগ করেন। চালুক্য শক্তি ধ্বংসমুখী হলে রাষ্ট্রকুটরা তাদের স্বাধীন রাজ্য স্থাপন করে। সম্ভবত তারা কন্নড় জাতীয় ছিল। তাদের ভাষা ছিল কানাড়ী।

আদি নিবাস

ডঃ আলতেকারের মতে, মান্যখেতের রাষ্ট্রকূটরা আদিতে কর্ণাটক অঞ্চলে বসবাস করত এবং তারা কানাড়ী ভাষায় কথা বলত। তারা কানাড়ী লিপিতে লিখত। রাষ্ট্রকূটদের আদি শিলালিপিতে তাদের “লতালুরের প্রভু” বলে বর্ণনা করা হয়। এই স্থানটি কর্ণাটকের লাতুরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করা হয়। অনেকে আবার বলেন যে, রাষ্ট্রকুটরা ছিল মারাঠী এবং তারা আদিতে মহারাষ্ট্রে বসবাস করত।

সামন্ত রাজ্য স্থাপন

পঞ্চম খ্রিস্টাব্দে রাষ্ট্রকূটরা দাক্ষিণাত্যের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করত। সপ্তম খ্রিস্টাব্দ থেকে ইলিচপুর অঞ্চলে রাষ্ট্রকূট ইন্দ্র এক সামন্ত রাজ্য স্থাপন করেন।

দন্তিদুর্গ

  • (১) দন্তিদুর্গ ছিলেন স্বাধীন রাষ্ট্রকূট শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তিনি চালুক্য দ্বিতীয় বিক্রমাদিত্যের সামন্ত হিসেবে গুজরাটে আরব আক্রমণ প্রতিহত করতে বিশেষ ভূমিকা নেন। দ্বিতীয় বিক্রমাদিত্যের মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীন রাজা হিসেবে রাজ্য বিস্তার আরম্ভ করেন।
  • (২) তিনি গুজরাট ও মালব জয় করেন এবং মধ্য প্রদেশের কিছু অংশ অধিকার করেন। তার ক্ষমতাবৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে চালুক্য দ্বিতীয় কীর্তিবর্মন তাকে আক্রমণ করলে খান্দেশের যুদ্ধে তিনি কীর্তিকর্মনকে পরাস্ত করেন। মহারাষ্ট্রের উত্তর ভাগ দন্তিদুর্গের অধিকারে আসে।

প্রথম কৃষ্ণ

এরপর প্রথম কৃষ্ণ (৭৫৮-৭৭৩ খ্রিস্টাব্দ) সিংহাসনে বসেন। তিনি চালুক্য দ্বিতীয় কীর্তিবর্মনকে পরাস্ত করে সমগ্র মহারাষ্ট্র অধিকার করেন। তিনি মহীশূরের গঙ্গ ও বেঙ্গীর পূর্ব চালুক্যদেরও পরাস্ত করেন। তিনি এলোরায় পাহাড় কেটে বিখ্যাত শিব মন্দির তৈরি করেন। এই মন্দিরের নাম ছিল কৈলাসনাথ মন্দির। এর পর দ্বিতীয় গোবিন্দ (৭৭০-৮০ খ্রিস্টাব্দ) কিছুকাল রাজত্ব করেন।

প্রথম ধ্রুব

রাষ্ট্রকূট রাজ ধ্রুব, দ্বিতীয় গোবিন্দের পরে সিংহাসনে বসেন। তিনি দাক্ষিণাত্যের বিশাল অঞ্চলে রাষ্ট্রকূট প্রাধান্য স্থাপন করেন। তিনি তার পূর্ববর্তী শাসক দ্বিতীয় গোবিন্দের গোষ্ঠীভুক্ত কর্মচারী ও সামন্তদের দমন করে তাঁর ক্ষমতাকে দৃঢ় করেন। এজন্য তিনি গঙ্গ রাজা শ্রীপুরুষ মুত্তারসকে পরাস্ত করেন এবং গঙ্গবাদী বা মহীশূর নিজ রাজ্যভুক্ত করেন। তিনি পল্লব রাজা দস্তিবর্মনকে, বেঙ্গীর পূর্ব চালুক্য শক্তিকে পুনরায় পরাস্ত করেন।

প্রথম ধ্রুবর উত্তর ভারত অভিযান

  • (১) রাষ্ট্রকূট রাজ ধ্রুবর প্রধান কৃতিত্ব ছিল উত্তর ভারত অভিযান। এই সময় উত্তর ভারতের গাঙ্গেয় উপত্যকায় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য পাল-প্রতিহার দ্বন্দ্ব চলছিল। ধ্রুব উপলব্ধি করেন যে, যদি প্রতিহার শক্তি গাঙ্গেয় উপত্যকায় একাধিপত্য পায়, তবে তারা এত শক্তিশালী হবে যে, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশ থেকে তারা রাষ্ট্রকূটদের বিতাড়িত করবে।
  • (২) সুতরাং ধ্রুব শক্তিসাম্য রক্ষার জন্য পাল প্রতিহার দ্বন্দ্বে যোগ দিয়ে একে ত্রিশক্তি দ্বন্দ্বে পরিণত করেন। তিনি যে নীতি নেন দীর্ঘকাল রাষ্ট্রকূট রাজারা বংশ-পরম্পরায় সেই নীতি মেনে চলেন। ধ্রুব বৎসরাজ প্রতিহারকে পরাস্ত করে, গঙ্গা-যুমনা দোয়াবে এগিয়ে যান এবং বাংলার ধর্মপালকে পরাস্ত করেন।
  • (৩) ধর্মপাল যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করেন। বিজয়ী ধ্রুব তাঁর পতাকায় গঙ্গা-যমুনা প্রতীক নেন। ৭৯০ খ্রিস্টাব্দে ধ্রুব দাক্ষিণাত্যে ফিরে আসেন। উত্তর ও দক্ষিণের সকল প্রধান রাজা তার নতি স্বীকার করায় তিনি এক অর্থে সার্বভৌম ক্ষমতার অধীশ্বর হন। তিনি ‘ধ্রুব নিরূপম’, ‘ধ্রুব ধারাবর্ষ’, ‘শ্রীবল্লভ’ প্রভৃতি উপাধি নেন।

তৃতীয় গোবিন্দ

  • (১) ধ্রুবর পর তৃতীয় গোবিন্দ (৭১০-৮১৪ খ্রিস্টাব্দ) রাষ্ট্রকূট সিংহাসনে বসেন। তাঁর পিতার মতই তৃতীয় গোবিন্দ উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখতেন। তিনি নাগভট্ট প্রতিহারকে পরাস্ত করে উত্তর ভারতে প্রতিহার শক্তির একচেটিয়া ক্ষমতা স্থাপনের সম্ভাবনা দূর করেন।
  • (২) তিনি বাংলায় ধর্মপাল ও তার সামন্ত কনৌজের চক্রায়ুধকে তাঁর বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করেন। রাষ্ট্রকূট লিপিতে দেখা যায় যে, উত্তর ভারতের আরও বহু রাজাকে তৃতীয় গোবিন্দ পরাস্ত করেন এবং হিমালয় পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করে ৮০০ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণে ফিরে আসেন।

তৃতীয় গোবিন্দর দাক্ষিণাত্য নীতি

  • (১) তৃতীয় গোবিন্দ উত্তর ভারতে অভিযানে ব্যস্ত থাকার সময় বেঙ্গীর চালুক্য রাজা বিজয়াদিত্য বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। গোবিন্দ তাকে সিংহাসনচ্যুত করে তার ভাই ভীমকে সিংহাসনে বসান।
  • (২) ইতিমধ্যে গঙ্গ, পল্লব, কেরল প্রভৃতি শক্তি রাষ্ট্রকূট বিরোধী জোট গড়লে, গোবিন্দ তাদের পরাস্ত করে পল্লব রাজধানী কাঞ্চী অধিকার করেন। সিংহলের রাজাও তার বশ্যতা স্বীকার করেন।
  • (৩) গোবিন্দ ছিলেন অসাধারণ শক্তিশালী রাজা। তিনি কোনো শত্রুর হাতে কখনও পরাজয় বরণ করেননি। হিমালয় থেকে কন্যাকুমারিকা পর্যন্ত তিনি প্রকৃত অর্থে নিজ জয় পতাকা স্থাপন করেন। রাষ্ট্রকূট বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা হিসেবে তাঁকে গণ্য করা যায়।

অমোঘবর্ষ

  • (১) তৃতীয় গোবিন্দের পর অমোঘবর্ষ (৮১৪-৮৭৭ খ্রিস্টাব্দ) রাষ্ট্রকূট রাজ্য শাসন করেন। তিনি পূর্ব চালুক্য রাজ বিজয়াদিত্যের বিদ্রোহ দমন করে রাষ্ট্রকূট সিংহাসনে তার অধিকার বজায় রাখেন।
  • (২) তবে মহীশূরের গঙ্গ বংশের বিরুদ্ধে একাদিক্রমে ২০ বছর যুদ্ধ করেও তিনি বিফল হন। অবশেষে মহীশূর বা গঙ্গাবদি তিনি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। গুজরাটে তাঁর সামন্ত রাজার বিদ্রোহ এবং ভোজ প্রতিহারের আক্রমণ প্রতিহত করে গুজরাটে তিনি তাঁর পৈত্রিক অধিকার বজায় রাখেন।

অমোঘবর্ষের সংস্কৃত চর্চা

  • (১) অমোঘবর্ষ রাজনীতি অপেক্ষা সংস্কৃতি চর্চায় অধিকতর প্রতিভা দেখান। তিনি কন্নড় ভাষায় “কবিরাজ মার্গ” নামে কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। জৈন পণ্ডিত জীনসেন, মহাবিজয়চার্য তার দরবারে আশ্রয় পান। তিনি নিজে জৈন ধর্মের অনুরাগী ছিলেন। ‘বীরাচার্যের রচনা, গণিতসারে তাকে অনুরাগী জৈন বলে চিত্রিত করা হয়েছে।
  • (২) হিন্দু ধর্মের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। সঞ্জন তাম্রলিপি থেকে দেখা যায়, তিনি হিন্দু দেবী মহালক্ষ্মীর প্রতি ভক্তিমান ছিলেন। তার রাজ্যে দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দিলে তিনি দেবী মহালক্ষ্মীর সামনে তাঁর একটি আঙুল কেটে দিয়ে দেবীর করুণা ভিক্ষা করেন। তিনি রাজধানী মান্যখেতের শোভা বৃদ্ধি করেন।

দ্বিতীয় কৃষ্ণ

  • (১) অমোঘবর্ষের পর দ্বিতীয় কৃষ্ণ (৮৭৮-৯১৪ খ্রিস্টাব্দ) রাষ্ট্রকূট সিংহাসনে বসেন। দ্বিতীয় কৃষ্ণের আমলে উত্তরে প্রতিহার শক্তির সঙ্গে রাষ্ট্রকূট শক্তির দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে। ভোজ প্রতিহার, রাষ্ট্রকূট সামন্তদের পরাস্ত করে গুজরাট ও মালব অধিকার করেন। এর ফলে গুজরাটে চালুক্য শক্তির পতন ঘটে।
  • (২) বেঙ্গীর পূর্ব চালুক্য শক্তির সঙ্গে দ্বিতীয় কৃষ্ণের সংঘাত সৃষ্টি হয়। তিনি চালুক্য ভীমকে পরাস্ত করে তাঁকে তাঁর সামন্ত হিসেবে থাকতে বাধ্য করেন। তিনি তুঙ্গভদ্রার দক্ষিণে চোল রাজ্য আক্রমণ করেন। কিন্তু তিনি চোলযুদ্ধে পরাজিত হয়ে পিছু হঠে আসেন। ৯১৪ খ্রী: দ্বিতীয় কৃষ্ণের মৃত্যু হয়।

তৃতীয় ইন্দ্র

  • (১) ৯১৪ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় রাষ্ট্রকূট সিংহাসনে বসেন। তিনি উত্তরে মহীপাল প্রতিহারকে পরাস্ত করে কনৌজ নগরী ধ্বংস করেন। ক্যাম্বে লিপি থেকে জানা যায় যে, তিনি উজ্জয়িনী অধিকার করেন।
  • (২) তবে উত্তরে তৃতীয় ইন্দ্রের অভিযান ছিল এক চলমান ঝটিকামাত্র। তিনি শীঘ্রই দক্ষিণে ফিরে যান। তিনি দক্ষিণের চালুক্য রাজাকে পরাজিত ও নিহত করেন।

শক্তির ক্ষয়

তৃতীয় ইন্দ্রের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রকূট শক্তির ক্ষয় আরম্ভ হয়। এই সময় দ্বিতীয় অমোঘবর্ষ, চতুর্থ গোবিন্দ, তৃতীয় অমোঘবর্ষ শাসন করেন।

তৃতীয় কৃষ্ণ

  • (১) এই বংশের শেষ বিখ্যাত রাজা ছিলেন তৃতীয় কৃষ্ণ (৯৪০-৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ)। তিনি উত্তর ও দক্ষিণ ভারতে রাষ্ট্রকূট অধিকার বিস্তার করেন। তিনি মহীশূর বা গঙ্গাবদি পুনরায় জয় করেন। উত্তরে তিনি কালাঞ্জর ও চিত্রকূট অধিকার করেন।
  • (২) তিনি তুঙ্গভদ্রা পার হয়ে পল্লব রাজ্য আক্রমণ করে কাঞ্চী ও চোল নগরী তাঞ্জোর অধিকার করেন। ৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি তাক্কোলামের যুদ্ধে চোলদের পরাস্ত করেন। রাজাদিত্য ঢোল এই যুদ্ধে নিহত হন।
  • (৩) তৃতীয় কৃষ্ণ রামেশ্বর পর্যন্ত এগিয়ে এই স্থানে একটি মন্দির স্থাপন করেন। তিনি পান্ড্য ও কেবলদেরও পরাস্ত করেন। সিংহল রাজ তাকে কর দিয়ে সন্তুষ্ট করেন। দক্ষিণ ছাড়া, পূর্ব দিকে তিনি বেঙ্গী অধিকার করে তাঁর সামন্ত ”বড়পা”কে বেঙ্গীর সিংহাসনে বসিয়ে দেন।
  • (৪) ৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় কৃষ্ণ দ্বিতীয় বাব উত্তরে অভিযান করেন এবং মালব, উজ্জয়িনী ও বুন্দেলখণ্ড অধিকার করেন। মাইহার লিপি থেকে তাঁর বুন্দেলখণ্ড অভিযানের কথা জানা যায়।

তৃতীয় কৃতিত্ব

  • (১) তৃতীয় কৃষ্ণ ছিলেন যুদ্ধবিশারদ রাজা। ডঃ আলতেকারের মতে, “আর কোনো রাষ্ট্রকূট রাজা তার মত পুরোপুরি দাক্ষিণাত্যকে জয় করেন নি। তিনি চোলদেশ জয় করেন। তিনি তার বিজয়ের দ্বারা রাষ্ট্রকূট শক্তির মর্যাদাকে উচ্চে স্থাপন করেন।
  • (২) তবে প্রদীপ নেভার আগে যেমন জ্বলে উঠে, রাষ্ট্রকূট শক্তি ধ্বংস হওয়ার আগে তৃতীয়কৃষ্ণের নেতৃত্বে তা শেষবারের মত বিকশিত হয়।

দ্রুত পতন

তৃতীয় কৃষ্ণের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রকূট শক্তির দ্রুত পতন ঘটে। ঘটিগের রাজত্বকালে ৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে পারমার রাজা শিয়ূক রাষ্ট্রকূট রাজধানী মান্যক্ষেত লুণ্ঠন করেন। এর পর দ্বিতীয় কর্ক খণ্ডিত রাষ্ট্রকূট রাজ্য শাসন করেন। রাষ্ট্রকূট সামন্ত রাজা চালুক্য তৈল, রাষ্ট্রকূট কর্ককে ৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে বিজাপুরের যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত করলে রাষ্ট্রকূট শক্তির পতন ঘটে।

উপসংহার :- খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে উত্তর ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর দাক্ষিণাত্যেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। এই পরিবর্তন শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তন ছিল না, ভাষা ও সাংস্কৃতিক জগতেও বিশেষ পরিবর্তন এসেছিল।

(FAQ) রাষ্ট্রকূট বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. রাষ্ট্রকূট শক্তির প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

দন্তিদুর্গ।

২. রাষ্ট্রকূটদের রাজধানী কোথায় ছিল?

মান্যখেত।

৩. রাষ্ট্রকূটদের শ্রেষ্ঠ রাজা কে ছিলেন?

তৃতীয় গোবিন্দ।

৪. শেষ রাষ্ট্রকূট রাজা কে ছিলেন?

দ্বিতীয় কর্ক।

Leave a Reply

Translate »