মিহির ভোজ বা প্রথম ভোজ

প্রতিহার রাজা মিহির ভোজ বা প্রথম ভোজ প্রসঙ্গে সাম্রাজ্যের দৃঢ়তা বৃদ্ধি, পৈতৃক রাজ্যে পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা, কনৌজ অধিকার, দাক্ষিণাত্য অভিযান, ত্রিশক্তি দ্বন্দ্ব, রাজ্য বিস্তার ও তার ধর্মানুরাগ সম্পর্কে জানবো।

মিহির ভোজ বা প্রথম ভোজ

রাজা মিহির ভোজ বা প্রথম ভোজ
বংশ প্রতিহার বংশ
প্রতিষ্ঠাতা হরিচন্দ্র
শেষ রাজা রাজ্যপাল
বিশেষ ঘটনা ত্রিশক্তি দ্বন্দ্ব
মিহির ভোজ বা প্রথম ভোজ

ভূমিকা :- ৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে হর্ষবর্ধনের মৃত্যু হলে উত্তর ভারতে সর্বশেষ কেন্দ্রীয় শক্তির পতন ঘটে। হর্ষবর্ধনের পর যে আঞ্চলিক শক্তিগুলির উদ্ভব হয় তাদের মধ্যে বাংলার পাল শক্তি ও প্রতিহার শক্তি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

প্রতিহার বংশ

হরিচন্দ্র ছিলেন প্রতিহার বংশের প্রতিষ্ঠাতা। তার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায় নি।

মিহির ভোজ

প্রতিহার বংশের রাজা রামভদ্রের পুত্র প্রথম ভোজ বা মিহির ভোজ (৮৩৬৮৮৫ খ্রি) ছিলেন প্রতিহার বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।

দৃঢ়তা বৃদ্ধি

তাঁর আমলে প্রতিহার শক্তি চূড়ান্ত সীমায় ওঠে। ভোজরাজ সর্বপ্রথম প্রতিহার শক্তিকে দৃঢ় করার কাজে হাত দেন। বুন্দেলখণ্ড ও রাজপুতানায় প্রতিহার শক্তির যে দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল তিনি তা দূর করেন।

পৈতৃক রাজ্যে পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা

বৎসরাজ ও নাগভট্ট যে সকল ভূমিপট্টলী দান করেন এবং মাঝে দ্বিতীয় নাগভট্টের পরে যা হাতছাড়া হয় তিনি তা পুনরায় দান করেন। এর থেকে প্রমাণ হয় যে, তিনি তার পৈত্রিক রাজ্যের ওপর পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।

কনৌজ আক্রমণ

এর পর তিনি পূর্বদিকে গাঙ্গেয় উপত্যকায় রাজ্য বিস্তারের জন্য তাঁর পূর্বপুরুষদের মতই হাত বাড়ান। তিনি কালাঞ্জর, দক্ষিণ রাজপুতানা অধিকার করে কনৌজে তার আধিপত্য স্থাপন করেন। পাল সম্রাট দেবপাল গুর্জর-প্রতিহার শক্তিকে বাধাদানের জন্য এগিয়ে আসেন। দেবপালের সাফল্যজনক বাধার সম্মুখীন হয়ে ভোজ পিছু হঠতে বাধ্য হন।

দাক্ষিণাত্য অভিযান

ভোজ প্রতিহার এর পর দক্ষিণে মুখ ঘুরিয়ে নর্মদা পার হয়ে দাক্ষিণাত্যে অভিযানের চেষ্টা করেন। কিন্তু রাষ্ট্রকূট দ্বিতীয় ধ্রুবর হাতে তিনি ৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে পরাস্ত হন।

ত্রিশক্তি দ্বন্দ্ব

  • (১) ইতিমধ্যে দেবপালের মৃত্যু হলে পাল শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। দক্ষিণের রাষ্ট্রকূট শক্তি পূর্ব চালুক্যদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে ব্যস্ত থাকে। এই সুযোগে প্রথম ভোজ পূর্বদিকে মুখ ফিরিয়ে পুনরায় গাঙ্গেয় উপত্যকা ও কনৌজ জয় করার চেষ্টা করেন।
  • (২) এই উদ্দেশ্যে তিনি গোরক্ষপুরের চেদি এবং গুহিলোৎ শক্তির সঙ্গে জোট বেঁধে আগ্রাসন চালান। তিনি পাল শক্তিকে বিধ্বস্ত করে কনৌজ অধিকার করেন। তিনি রাষ্ট্রকূট দ্বিতীয় কৃষ্ণকে পরাস্ত করেন এবং মালব ও গুজরাটের একাংশ জয় করেন।
  • (৩) রাষ্ট্রকূট দ্বিতীয় কৃষ্ণ ভোজকে পুনরায় বাধা দিলে উজ্জয়িনীর যুদ্ধে ভোজ রাষ্ট্রকুট শক্তিকে প্রতিহত করেন। তিনি গুজরাট ও মালবে তার অধিকার বহাল রাখেন।

রাজ্য বিস্তার

  • (১) ভোজ উত্তরে পাঞ্জাব ও অযোধ্যা জয় করেন। কাশ্মীরের শঙ্কর বর্মনের বাধায় তিনি আর অধিক দূর আগাতে পারেননি। ভোজের সাম্রাজ্য কাশ্মীর, সিন্ধু, বিহার, বাংলা ও জব্বলপুরের কলচুরী রাজ্য বাতীত সমগ্র উত্তর ভারত জুড়ে বিদ্যমান ছিল।
  • (২) পূর্বে বাংলার পাল শক্তি ও পশ্চিমে সিন্ধুর আরব শক্তি ছিল তার দুই সীমা। ভোজ তাঁর রাজধানী কনৌজে স্থানান্তর করেন।

সুলেমানের আগমন

৮৫১ খ্রিস্টাব্দে আরব পর্যাটক সুলেমান তাঁর রাজধানীতে আসেন। তিনি মিহির ভোজের শাসন ব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, ভোজের অশ্বারোহী বাহিনী ছিল শক্তিশালী। তার রাজ্য ছিল সমৃদ্ধিশালী ধনসম্পদে পূর্ণ। দস্যু-তস্করের ভয় তাঁর রাজ্যে ছিল না।

ধর্মানুরাগ

ভোজ আরব আক্রমণকারীদের ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং ইসলামের সর্বাপেক্ষা বড় শত্রু ছিলেন। তিনি ছিলেন বিষ্ণুর উপাসক।

উপসংহার :- ঐতিহাসিক স্মিথ ভোজ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে, “ভোজের শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য লিপিবদ্ধ করতে মেগাস্থিনিস বা বাণভট্টের মত কাউকে পাওয়া যায়নি এটা দুর্ভাগ্য।”

(FAQ) প্রতিহার রাজা মিহির ভোজ বা প্রথম ভোজ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. প্রতিহার বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?

হরিচন্দ্র।

২. হরিচন্দ্র প্রতিহার বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা কে?

প্রথম ভোজ বা মিহির ভোজ।

৩. প্রতিহার বংশের শেষ রাজা কে?

রাজ্যপাল।

৪. কোন প্রতিহার রাজা ত্রিশক্তি দ্বন্দ্বে সর্বাধিক সফলতা অর্জন করেন?

মিহির ভোজ বা প্রথম ভোজ।

৫. কোন প্রতিহার রাজা কনৌজে রাজধানী স্থাপন করেন?

মিহির ভোজ বা প্রথম ভোজ।

Leave a Reply

Translate »