মহম্মদ ঘুরির ভারত অভিযান

সুলতান মহম্মদ ঘুরির ভারত অভিযান প্রসঙ্গে অভিযানের কারণ, গজনীর শক্তিকে উচ্ছেদ, মূলতান দখল, সিন্ধু জয়, পাঞ্জাব জয়, তরাইনের প্রথম যুদ্ধ, তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ, কনৌজ জয়, বাংলা জয়, বিহার জয় ও তার মৃত্যু সম্পর্কে জানবো।

সুলতান মহম্মদ ঘুরির ভারত অভিযান

ঐতিহাসিক ঘটনামহম্মদ ঘুরির ভারত অভিযান
সুলতানমহম্মদ ঘুরী
বংশঘুর বংশ
ভারতে রাজ্য স্থাপয়িতামহম্মদ ঘুরী
বিশ্বস্ত দাসকুতুবউদ্দিন আইবক
সুলতান মহম্মদ ঘুরির ভারত অভিযান

ভূমিকা :- সুলতান মহম্মদ ঘুরী ছিলেন উচ্চাকাঙ্খী সুলতান। শুধুমাত্র গজনী ও পৈত্রিক ঘুর রাজ্য নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট থাকেন নি। আফগানিস্থানের উচ্চ পার্বত্য ভূমি হতে ভারতের শস্যশ্যামলা প্রান্তরের দিকে তাঁর দৃষ্টি পড়ে।

সুলতান মহম্মদ ঘুরির ভারত অভিযানের কারণ

  • (১) পশ্চিমে খারাজম রাজার দৃঢ় ক্ষমতা থাকার জন্য পশ্চিম দিকে রাজ্য বিস্তারের সুযোগ মহম্মদ ঘুরীর ছিল না। এই কারণে পূর্ব সীমান্তে ভারতের অভিমুখে তিনি তার রাজ্যসীমা বিস্তারের চেষ্টা করেন।
  • (২) সুলতান মামুদ ভারত থেকে যে বিরাট ধনরত্ন লুঠ করে নিয়ে যান সেই কিংবদন্তী আফগানিস্থান ও মধ্য এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। সুতরাং মহম্মদ ঘুরীও ভারতের ধন-সম্পদের জন্য প্রলুব্ধ হন। তবে সুলতান মামুদের মত শুধুমাত্র লুণ্ঠন তাঁর লক্ষ্য ছিল না।
  • (৩) ভারতের ধনসম্পদের দ্বারা তিনি তাঁর সৈন্যদলকে শক্তিশালী করেন। নিছক লুণ্ঠনের জন্য তিনি লুণ্ঠন করেন নি। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতে সাম্রাজ্য স্থাপন। এজন্য তিনি সুলতান মামুদের মত ঘন ঘন অভিযান পরিচালনা করেননি। তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁর প্রতি অভিযান পাঠান।
  • (৪) তিনি বিজিত অংশে আপন আধিপত্য দৃঢ় করার পর পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করতেন। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল অধিকার করে নিজ রাজ্যভুক্ত করা ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। এজন্য তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে একমাত্র লক্ষ্য নিয়ে তাঁর সমগ্র উদ্যমকে নিয়োগ করেন।

গজনীর শক্তিকে উচ্ছেদ

  • (১) ঘুরী বংশের আক্রমণে গজনীর উচ্ছেদপ্রাপ্ত সুলতান বাহারাম শাহ গজনী থেকে পালিয়ে তাঁর ভারতীয় রাজ্য পাঞ্জাবে আশ্রয় নেন। বাহারাম শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র খসরু শাহ লাহোরে থেকে পাঞ্জাব শাসন করতে থাকেন।
  • (২) তিনি ঘুরী আক্রমণের আশঙ্কায় খাইবার গিরিপথকে সুরক্ষিত করেন। কারণ এই পথে সুলতান মামুদ ভারতে আসেন। চতুর মহম্মদ ঘুরী খাইবারের পথ ত্যাগ করে গোমাল গিরিপথ দিয়ে সিন্ধু ও মুলতানে ঢুকে পড়েন।
  • (৩) তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পাঞ্জাবে গজনী বংশীয় সুলতান খসরু শাহকে বেষ্টিত করা এবং তার বাধা এড়িয়ে ভারতের ভিতর ঢুকে পড়া। এভাবেই তিনি পাঞ্জাব থেকে গজনী শক্তিকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেন।

মূলতান দখল

১১৭৫ খ্রিস্টাব্দে মহম্মদ ঘুরী মুলতান আক্রমণ করে কারমানন্থিয় বা ইসমাইলি সম্প্রদায়ের শাসন থেকে মুলতানকে নিজ শাসনে আনেন।

সিন্ধু জয়

এর পর মহম্মদ সিন্ধুর উচ অঞ্চল আক্রমণ করে উচ দুর্গ অধিকার করেন। তার সেনাপতি নাসিরউদ্দিন কুবাচাকে সিন্ধুর শাসনকর্তা হিসাবে নিয়োগ করেন।

সুলতান মহম্মদ ঘুরির পরাজয়

  • (১) এর পর মহম্মদ ঘুরী আনহিল ওয়ারা বা নাহারওয়ালা রাজ্য আক্রমণ করেন। এই স্থানটি ছিল গুজরাটে। রাজপুতানায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আনহিলওয়ারা অবস্থিত ছিল। ডঃ নিজামীর মতে, মহম্মদ ঘুরীর লক্ষ্য ছিল গুজরাট জয় করে, এই পথে দাক্ষিণাত্যে ঢুকে দক্ষিণের ধন-সম্পদ লুঠ করা।
  • (২) কিন্তু আবু পাহাড়ের যুদ্ধে আনহিলওয়ারার রাজা দ্বিতীয় মূলরাজ মহম্মদকে পরাস্ত করেন। ১১৭৮ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের চালুক্য রাজা ভীমদেব মহম্মদ ঘুরীকে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করায় মহম্মদ বুঝতে পারেন যে সিন্ধু মুলতানের পথে ভারতের ভিতর ঢোকা সম্ভব হবে না।

সুলতান মহম্মদ ঘুরির কর্তৃক পাঞ্জাব জয়

  • (১) ১১৭৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে মহম্মদ ঘুরী তাঁর রণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করে পাঞ্জাবের পথে ভারতের ভিতর ঢোকার সঙ্কল্প করেন। তিনি বুঝতে পারেন যে, গঙ্গা-যমুনা উপত্যকা হল ভারতের হৃৎপিণ্ড। এই স্থানে যেতে হলে পাঞ্জাবের পথেই তাকে এগিয়ে যেতে হবে।
  • (২) এই সময় পশ্চিম পাঞ্জাবে সুলতান মামুদের বংশধর খসরু শাহ গজনী থেকে বিতাড়িত হয়ে রাজত্ব করতেন। ১১৮৬ খ্রিস্টাব্দে লাহোরের দুর্গের যুদ্ধে মহম্মদ ঘুরী খসরু শাহকে পরাস্ত করে লাহোর দুর্গ অধিকার করেন।
  • (৩) খসরু শাহ বন্দী হলে মহম্মদ ঘুরীর আদেশে নিহত হন। ঘুরী এরপর শিয়ালকোটসহ সমগ্র পশ্চিম পাঞ্জাব অধিকার করেন। সিন্ধু ও লাহোরকে ভারতে তাঁর পাদপীঠ হিসাবে গঠন করে, মহম্মদ ঘুরী ভারত বিজয়ে এগিয়ে আসেন।

তরাইনের প্রথম যুদ্ধ

  • (১) পূর্ব পাঞ্জাব তখন ছিল আজমীর ও দিল্লীর অধিপতি চৌহান বংশীয় তৃতীয় পৃথ্বীরাজের অধীনে। তৃতীয় পৃথ্বীরাজ বা রায়পিথোরা ছিলেন বিখ্যাত যোদ্ধা। মহম্মদ ঘুরী পশ্চিম পাঞ্জাব অধিকার করলে তিনি বিপদ বুঝে তার সীমান্ত দুর্গ তবরহিন্দ বা ভাতিণ্ডাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন।
  • (২) মহম্মদ ঘুরী তাঁকে পাশ কাটিয়ে পূর্ব পাঞ্জাবে ঢুকে পড়ার উপক্রম করলে পৃথ্বীরাজ পিছিয়ে এসে দিল্লী থেকে ৮০ মাইল দূরে তরাইনের প্রান্তরে তাঁকে বাধা দেন। তরাইনের প্রথম যুদ্ধে (১১৯১ খ্রীঃ) পৃথ্বীরাজের সেনাপতি গোবিন্দ রাওয়ের আক্রমণে মহম্মদ আহত হন। তাঁর সেনাদল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
  • (৩) এক খলজি সেনাপতি আহত মহম্মদকে নিজ ঘোড়ার পিঠে বসিয়ে তাকে নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে তাঁর প্রাণ রক্ষা করেন। মহম্মদ তরাইনের প্রথম যুদ্ধে শোচনীয় পরাজয় বরণ করে ঘুর রাজ্যে ফিরে আসেন।

তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ

  • (১) এর পর মহম্মদ এক বছর ধরে পরবর্তী আক্রমণ হানার জন্য প্রাণপণে প্রস্তুতি করেন। যে সকল সেনা ও সেনাপতি তরাইনের প্রথম যুদ্ধে দুর্বলতা দেখায় তিনি তাদের কঠোর শাস্তি দেন। প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার বাছাই সেনা এবং তিন বিশ্বস্ত সেনাপতি – কুতুবউদ্দিন আইবক, নাসিরুদ্দিন কুবাচা ও তাজউদ্দিন ইলদুজের সাহায্য নিয়ে তিনি পুনরায় দিল্লীর দিকে এগিয়ে আসেন।
  • (২) পৃথ্বীরাজ এবারও তরাইনের প্রান্তরে (১১৯২ খ্রি) তার গতিরোধ করেন। কিন্তু মহম্মদের তীরন্দাজ ও অশ্বারোহী বাহিনীর আক্রমণে তাঁর বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পৃথ্বীরাজ নিজে তুর্কী সেনাদের হাতে বন্দী হন।
  • (৩) হাসান নিজামীর মতে বিজয়ী মহম্মদ, পৃথ্বীরাজকে তার সামন্ত রাজা হিসাবে আজমীরে রাজত্ব করার অনুমতি দেন। সংস্কৃত গ্রন্থ বিরুদ্ধবিধি, বিদ্ববংশ ও পৃথ্বীরাজের মুদ্রা থেকে একথা সমর্থিত হয়। পরে পৃথ্বীরাজ মহম্মদের বিরোধিতা করার চেষ্টা করলে তাঁকে নিহত করা হয়।
  • (৪) আজমীরের সিংহাসনে মহম্মদের অনুগত সামন্ত হিসাবে কিছুকাল পৃথ্বীরাজের পুত্র রাজত্ব করেন। এরপর মহম্মদ ঘুরীর নির্দেশে তার সেনাপতি কুতুবুদ্দিন আইবক দিল্লী দখল করেন। আজমেরও তুর্কীদের অধিকারে চলে যায়।

সুলতান মহম্মদ ঘুরির জয়লাভের ফল

  • (১) তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ। এই যুদ্ধে জয়লাভের ফলে ভারতের দরজা তুর্কী আক্রমণকারীদের কাছে খুলে যায়। পূর্ব পাঞ্জাব ও দিল্লী তুর্কী অধিকারে গেলে গঙ্গা-যমুনা উপত্যকায় তুর্কীরা সহজে ঢুকে পড়তে পারে।
  • (২) আজমীরের পতনের ফলে রাজপুতানার দরজাও তুর্কীদের কাছে খুলে যায়। সুতরাং তরাইনের বিজয় ছিল ভারতে তুর্কী শাসন স্থাপনের একটি প্রধান ধাপ। পৃথ্বীরাজের শোচনীয় পরাজয়ের ফলে অন্যান্য রাজপুত রাজারা মনোবল হারিয়ে ফেলে।
  • (৩) ১৪৮ বছর আগে সুলতান মামুদ ভারতের আত্মরক্ষা ব্যবস্থায় যে বিরাট ধ্বস সৃষ্টি করেন তা এই দীর্ঘ দিনে মেরামত হয়নি এটা ভালভাবে বুঝা যায়। ভারতীয় সেনারা রণকৌশলে তুর্কীদের তুলনায় নিকৃষ্ট একথা স্পষ্ট হয়ে যায়।
  • (৪) সুলতান মামুদ কেবলমাত্র লুঠপাটের উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেন। কিন্তু মহম্মদ ঘুরী স্থায়ী রাজ্য স্থাপনের উদ্দেশ্যে এই অভিযান চালান। সুতরাং তাঁর বিজয় ভারতে স্থায়ী তুর্কী সাম্রাজ্য স্থাপনের সূচনা করে।

সুলতান মহম্মদ ঘুরি কর্তৃক গঙ্গা-যমুনা উপত্যকা জয়

মহম্মদ ঘুরীর আরব্ধ কাজ তাঁর নির্দেশ মত তাঁর ক্রীতদাস সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবক সম্পন্ন করার কাজে হাত দেন। তিনি রণথম্ভোর দুর্গ অধিকার করেন। তিনি দিল্লীর সামরিক গুরুত্ব বুঝতে পেরে তাঁর শাসনকেন্দ্র দিল্লীতে স্থানান্তর করেন। ইতিমধ্যে তিনি মীরাট, বুলান্দসর ও আলিগড় জয় করেন। এই স্থানগুলি ছিল জয়চন্দ্র গাহড়বালের রাজ্যভুক্ত।

সুলতান মহম্মদ ঘুরি কর্তৃক কনৌজ জয়

১১৯৪ খ্রিস্টাব্দে মহম্মদ ঘুরী পুনরায় ভারতে আসেন। তিনি চান্দোয়ারের যুদ্ধে জয়চন্দ্র গাহড়বালকে পরাজিত ও নিহত করে কনৌজ অধিকার করেন এবং বারাণসী আক্রমণ করে ৩০০ হাতি পান।

সুলতান মহম্মদ ঘুরি কর্তৃক গোয়ালিয়র দুর্গ জয়

১১৯৫ খ্রিস্টাব্দে মহম্মদ গোয়ালিয়র জয় করেন। তাঁর সেনাপতি বাহাউদ্দিন তুঘ্রিল দেড় বছরের অবরোধের পর গোয়ালিয়র দুর্গ দখল করেন।

বুন্দেলখণ্ড ও কালিঞ্জর দুর্গ জয়

মহম্মদ ঘুর রাজ্যে ফিরে গেলে কুতুবউদ্দিন আইবক আনহিলওয়ারা ও গুজরাট জয় করে তার প্রভুর কাজ সম্পন্ন করেন। কুতুবউদ্দিন ১২০১ খ্রিস্টাব্দে বুন্দেলখন্ড এবং ১২০২ খ্রিস্টাব্দে কালিঞ্জর দুর্গ জয় করে তাঁর রাজ্য জয় সম্পূর্ণ করেন।

বিহার জয়

মহম্মদ ঘুরী ও তার সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবক উত্তর ভারতের বিস্তৃত অঞ্চলে তুর্কী অধিকার স্থাপন করলেও পূর্ব ভারতের বাংলা ও বিহার তখনও সেন রাজাদের অধিকারে ছিল। তুর্কী জায়গীরদার বখতিয়ার খলজি ১২০০ খ্রিস্টাব্দে কুতুবউদ্দিন আইবকের অনুমতি নিয়ে বিহার জয় করেন। এই সময় তিনি ধর্মপালের প্রতিষ্ঠিত ওদন্তপুরী বিহার ধ্বংস করেন।

বাংলা জয়

১২০৫-৬ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজি বাংলা আক্রমণ করে নদীয়া ও পশ্চিমবাংলা অধিকার করেন। এর ফলে তুর্কী শাসন বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

সুলতান মহম্মদ ঘুরির মৃত্যু

মহম্মদ ঘুরী ১২০৫ খ্রিস্টাব্দে শেষবারের মত ভারতে আসেন। তিনি বিদ্রোহী খোক্কর উপজাতিকে দমনের জন্য কাংড়া ও কাশ্মীর সীমান্তে অবস্থান করেন। এই সময় জনৈক গুপ্তঘাতক তাকে নিহত করে।

উপসংহার :- মহম্মদ ঘুরীর মৃত্যুর পর তার বিশ্বস্ত সেনাপতির রাজ্য ভাগ করে নেয়। গুলীর উত্তরাধিকারীরূপে কুতুবউদ্দিন আইবক দিল্লীর সিংহাসনে বসেন। শুরু হয় দিল্লী সুলতানী শাসন।

(FAQ) সুলতান মহম্মদ ঘুরির ভারত অভিযান সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. মহম্মদ ঘুরী কোন যুদ্ধে পৃথ্বিরাজ চৌহানের কাছে পরাজিত হন?

তরাইনের প্রথম যুদ্ধ, ১১৯১ খ্রি।

২. মহম্মদ ঘুরী কোন যুদ্ধে পৃথ্বিরাজ চৌহানকে পরাজিত করেন?

তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ, ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে।

৩. মহম্মদ ঘুরীর বিশ্বস্ত সেনাপতি কে ছিলেন?

কুতুবউদ্দিন আইবক।

৪. কোন চালুক্য রাজার কাছে মহম্মদ ঘুরী পরাজিত হন?

ভীমদেব।

Leave a Comment