দিল্লীর সুলতানি সেনাবাহিনী

দিল্লীর সুলতানি সেনাবাহিনী প্রসঙ্গে সেনাদলের ভাগ, হাসাম-ই-কালাব, সুলতানের নিজস্ব বাহিনী, অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী, প্রাদেশিক বাহিনী, জেহাদী বাহিনী, সেনাবাহিনীর গঠন ও প্রকৃতি সম্পর্কে জানবো।

দিল্লীর সুলতানি সেনাবাহিনী

বিষয়সুলতানি সামরিক বাহিনী
সাম্রাজ্যসুলতানি সাম্রাজ্য
জেহাদধর্মযুদ্ধ
নিজস্ব বাহিনীহাসাম খইল
দাগ ও হুলিয়াআলাউদ্দিন খলজি
দিল্লীর সুলতানি সেনাবাহিনী

ভূমিকা :- সুলতানি শাসন প্রধানত সামরিক শক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। এজন্য সুলতানি সেনাদল ছিল সুলতানি বাহিনীর প্রয়োজন অপেক্ষা বৃহৎ।

সুলতানী সেনাদল ৪ ভাগে বিভক্ত ছিল। যথা –

  • (১) সুলতানের অধীনস্থ নিয়মিত বাহিনী,
  • (২) প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের অধীনস্থ সেনাদল,
  • (৩) যুদ্ধের সময় নিযুক্ত অস্থায়ী সেনাদল,
  • (৪) জেহাদ বা ধর্মযুদ্ধের জন্য মুসলিম স্বেচ্ছাসেবী সেনা।

হাসাম-ই-কালাব

দিল্লীতে নিযুক্ত সেনাদলকে বলা হত হাসাম-ই-কালাব। এই সেনাদলের দুটি অংশ ছিল। যথা –

  • (ক) হাসাম-খইল বা সুলতানের নিজস্ব বাহিনী,
  • (খ) দিল্লীতে নিযুক্ত অভিজাতদের নিয়ন্ত্রিত বাহিনী।

সুলতানের নিজস্ব বাহিনী

  • (১) হাসাম খইল বা সুলতানের নিজস্ব বাহিনীতে তাঁর নিজস্ব দাস কর্মচারীরা, রক্ষী বা জান্দারগণ ও সাধারণ সেনাগণ থাকত। হাসাম খইল বা সুলতানের নিজস্ব বাহিনীকে তিনিই বেতন দিতেন।
  • (২) আলাউদ্দিনের আগে এই নিজস্ব রাজকীয় বাহিনীর সংখ্যা বেশী ছিল না। আলাউদ্দিন খলজিই সর্বপ্রথম হাসাম খইলের সংখ্যা বহুগুণ বাড়ান এবং তাদের ২৩৪ টঙ্কা হারে নগদ বেতন দেওয়ার প্রথা চালু করেন।

অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী

আলাউদ্দিনের অশ্বারোহী সেনার সংখ্যা ছিল ৪,৭৫,০০০। এছাড়া বিশাল পদাতিক বাহিনী ছিল। মহম্মদ তুঘলকও বিরাট বাহিনী রাখতেন। ফিরোজ তুঘলক এই বেতনভোগী সেনাদলকে বেতনের বদলে জাগীর দিয়ে সামন্ত চরিত্র দেন। লোদী সেনাদল গোষ্ঠীর ভিত্তিতে সংগঠিত ছিল।

প্রাদেশিক বাহিনী

সুলতানের নিজস্ব বাহিনী ছাড়া ছিল প্রাদেশিক শাসনকর্তা বা মালিকদের অধীনস্থ বাহিনী। এদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দেওয়ান-ই-আরজ নামে কর্মচারী ছিলেন। তবে এই সেনাদলের শিক্ষা, সংগঠন, শৃঙ্খলা সব কিছুর দায়িত্ব ছিল প্রাদেশিক শাসকের।

জেহাদী বাহিনী

যুদ্ধের সময় অস্থায়ী, অনিয়মিত সেনাদল নিয়োগ করা হত। হিন্দু রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় জেহাদী জিগির দিয়ে মুসলিম স্বেচ্ছাসেবক যোগাড় করা হত। এরা বেতন পেত না, লুঠের ভাগ পেত।

সেনাদলের গঠন ও প্রকৃতি

  • (১) সুলতানি সেনাদলকে জাতীয় সেনাদল বলা যায় না। কারণ, এতে তুর্কী, আফগান, তাজিক, মোঙ্গল, হাবসী, ভারতীয় মুসলিম, হিন্দু বহু সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীর লোক ছিল। এই সেনাদল কোনো আদর্শ বা জাতীয় ভাবে উদ্দীপিত ছিল না।
  • (২) ডঃ কুরেশী অবশ্য এই সেনাদলের উচ্চ প্রশংসা করেছেন। সেনাদলে অশ্বারোহী, পদাতিক ছাড়া ছিল হস্তী বাহিনী। কিন্তু অশ্বারোহীরাই ছিল সেনাদলের স্তম্ভ। সুলতানি বাহিনীতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। আইনত সুলতান ছিলেন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তাঁর নীচে ছিলেন দেওয়ান-ই-আরজ।
  • (৩) সেনাদলকে দশ ও তার গুণিতক দ্বারা গঠন করা হত। দশ সেনার নাম ছিল শর-ই-খেল। শত সেনার নায়কের নাম ছিল সিপাহসালার। তার ওপরে আমীর। দশ আমীরের ওপরে ছিলেন মালিক। আলাউদ্দিন অশ্বারোহী সেনাদলে দুর্নীতি বন্ধের জন্য দাগ ও হুলিয়া প্রথা চালু করেন।

উপসংহার :- প্রকৃত পক্ষে সুলতানি সেনাবাহিনী জাতীয় সেনাদল হিসেবে গড়ে ওঠে নি। বহু সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীর লোক এই সেনাবাহিনীর সাথে যুক্ত ছিল।

(FAQ) দিল্লীর সুলতানি সেনাবাহিনী সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. দাগ ও হুলিয়া প্রথা কে চালু করেন?

আলাউদ্দিন খলজি।

২. সুলতানের নিজস্ব বাহিনী কি নামে পরিচিত?

হাসাম খিল।

৩. কোন সুলতান নিজস্ব বাহিনীর নগদ বেতন চালু করেন?

আলাউদ্দিন খলজি।

৪. সুলতানি আমলে শত সেনানায়ক কে কি বলা হত?

সিপাহসালার।

৫. সুলতানি সেনাদলের উচ্চ প্রশংসা করেছেন কে?

ডঃ কুরেশি।

Leave a Comment