ক্রিপস মিশন (১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দ)

ভারতে ক্রিপস মিশন আগমনের পটভূমি, লক্ষ্য, ক্রিপসের দিল্লি আগমন, প্রস্তাবসমূহ, প্রস্তাব সমর্থন, কংগ্রেসের প্রস্তাব অস্বীকার, মুসলিম লীগের অস্বীকার, গান্ধীজির বক্তব্য, নেহরুর বক্তব্য, প্রস্তাব পেশ ও প্রত্যাখ্যান ও ব্যর্থতার কারণ সম্পর্কে জানবো।

Table of Contents

ক্রিপস মিশন (১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দ)

সময়কাল১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ
নেতৃত্বস্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস
ফলাফলব্যর্থতা
ক্রিপস মিশন

ভূমিকা :- ক্রিপস মিশন ১৯৪২ সালের ২৩ মার্চ ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ভারতে প্রেরিত একটি মিশন। এ মিশনের মাধ্যমে ভারতকে নতুন কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়।

পটভূমি

ভারতে ক্রিপস মিশন প্রেরণের পটভূমি ছিল নিম্নরূপ।

(১) অক্ষশক্তির পক্ষে জাপানের যোগদান

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ৭ই ডিসেম্বর জাপান অক্ষশক্তির পক্ষে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ -এ যুদ্ধে যোগদান করলে যুদ্ধের পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।

(২) জাপানি আক্রমণের মোকাবিলা

ভারতের ওপর জাপানি আক্রমণের প্রবল সম্ভাবনা দেখা দেয়। শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থার জন্য ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তখন অতি শোচনীয়। অথচ এশিয় রণাঙ্গনে জাপানি আক্রমণের ফলে উদ্ভূত সমস্যাবলী মোকাবিলা করতে গেলে ভারতের শক্তি ও সম্পদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

(৩) কংগ্রেসের সমর্থন

এতদিন ব্রিটিশ সরকারের ধারণা ছিল যে, কংগ্রেস ও হিন্দুদের বাদ দিয়ে কেবলমাত্র মুসলিম লীগের সাহায্যেই তাদের স্বার্থসিদ্ধি হবে, কিন্তু জাপানি আক্রমণের ভীতি অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়। তারা উপলব্ধি করে যে, মুসলিম তোষণ করে লাভ নেই, বরং কংগ্রেস ও হিন্দু সমর্থন লাভই বেশি প্রয়োজন।

(৪) ব্রিটিশ মিত্রের ধারণা

এই সময় ব্রিটেনের মিত্রদের মধ্যেও এই ধারণা প্রবল হয় যে, নিজ সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থেই ব্রিটেন ভারতীয় সমস্যা সমাধানে আগ্রহী নয়।

(৫) চিয়াং কাইশেক -এর ভারত আগমন

যুদ্ধে ভারতবাসীর সহযোগিতা লাভের উদ্দেশ্যে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে চীনের রাষ্ট্রপতি চিয়াং-কাই-শেক ভারতে আসেন। গান্ধীজি ও নেহরুর সঙ্গে তাঁর সৌহার্দপূর্ণ আলোচনা হয়।

(৬) আমেরিকার হস্তক্ষেপ

ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল চিয়াং-কাই-শেক আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট কে জানান যে, ব্রিটেনের মনোভাবের পরিবর্তন না হলে ভারতের কাছ থেকে সাহায্যের কোন আশা নেই।

(৭) আটলান্টিক সনদ স্বাক্ষর

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি রুজভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের মধ্যে বিখ্যাত আটলান্টিক সনদ স্বাক্ষরিত হয় এবং তাতে বিশ্বের সকল জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের কথা বলা হয়।

(৮) রুজভেল্টের ঘোষণা

চিয়াং-কাই-শেকের আবেদনে সাড়া দিয়ে ১৯৪২-এর ২২শে ফেব্রুয়ারি রুজভেল্ট ঘোষণা করেন যে ‘আটলান্টিক সনদের’ বক্তব্য পৃথিবীর সব অঞ্চলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল-এর কাছে অবিলম্বে ভারতীয় সমস্যা সমাধানের দাবি জানান।

(৯) ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের চাপ

এই সময় কিছু ব্রিটিশ রাজনীতিবিদও ভারতকে স্বশাসন দেবার জন্য সরকারকে চাপ দিতে থাকেন। ৮ই মার্চ রেঙ্গুনের পতন হলে যুদ্ধ পরিস্থিতি কঠিনতর রূপ ধারণ করে।

চার্চিলের ঘোষণা

১১ই মার্চ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিল যুদ্ধে ভারতের পূর্ণ সহযোগিতা লাভ ও ভারতের সংবিধান-সংক্রান্ত প্রস্তাবাবলী নিয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার উপ-প্রধানমন্ত্রী, তীক্ষ্ণধী আইনজ্ঞ ও বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসকে অবিলম্বে ভারতে পাঠানোর কথা ঘোষণা করেন।

লক্ষ্য

  • (১) কোন সদিচ্ছা নয় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের ওপর রুজভেল্টের চাপের ফলেই ভারতীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমঝোতার জন্য ক্রিপসকে ভারতে পাঠানো হয়।
  • (২) বড়লাট লিনলিথগো-কে লেখা চার্চিল ও ভারতসচিব আমেরির চিঠিতে এর পরিচয় পাওয়া যায়। চার্চিল লিখেছেন—“আমাদের সততা প্রমাণের জন্যই ক্রিপ্‌স্ মিশন অপরিহার্য।… ভারতীয় নেতারা যদি এই প্রস্তাব বাতিল করে দেন তাহলে বিশ্বের কাছে আমাদের আন্তরিকতা প্রমাণিত হবে।

ক্রিপসের দিল্লি আগমন

২৩শে মার্চ ক্রিপ‌স দিল্লীতে পৌঁছান। এক সপ্তাহ বিভিন্ন স্তরের ভারতীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার পর ভারতীয় নেতৃবৃন্দের সামনে তিনি একটি প্রস্তাব রাখেন (২৯শে মার্চ, ১৯৪২ খ্রিঃ)। এই প্রস্তাব ‘ক্রিস্‌ প্রস্তাব’ নামে খ্যাত।

ক্রিপসের প্রস্তাবসমূহ

ক্রিপসের প্রস্তাবে বলা হয় যে,

  • (১) যুদ্ধান্তে ভারতকে ‘ডোমিনিয়নের’ মর্যাদা দেওয়া হবে।
  • (২) যুদ্ধান্তে ভারতীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সভা গড়া হবে এবং এই সভা নতুন শাসনতন্ত্র রচনা করবে।
  • (৩) ভারতের কোন প্রদেশ বা দেশীয় রাজ্য ঐ শাসন গ্রহণে অস্বীকৃত হলে, সেই প্রদেশ বা দেশীয় রাজ্য নিজেদের শাসনতন্ত্র রচনা করবে।
  • (৪) সংবিধান সভার ব্রিটিশ ভারতের সদস্যগণ প্রাদেশিক আইনসভার নিম্নকক্ষ দ্বারা নির্বাচিত হবেন এবং দেশীয় রাজ্যগুলির প্রতিনিধিরা দেশীয় নৃপতিদের দ্বারা মনোনীত হবেন।
  • (৫) সংবিধান তৈরি না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ওপর ব্রিটিশের পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকবে এবং ভারতীয়দের পূর্ণ সহযোগিতায় ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় সম্পদকে যুদ্ধকার্যে ব্যবহার করবে।

প্রস্তাব সমর্থন

ক্রিপস প্রস্তাব ভারতীয় নেতৃবৃন্দের কাছে গ্ৰহণযোগ্য ছিল না। একমাত্র এম. এন. রায়ের রাডিক্যাল ডেমোেক্রটিক পার্টি’ এই প্রস্তাববলীর প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন জানায়।

কংগ্রেসের প্রস্তাব অস্বীকার

জাতীয় কংগ্রেস এই প্রস্তাব গ্রহণ করে নি। কারণ,

  • (১) এই প্রস্তাবে পূর্ণ স্বাধীনতার কথা বলা হয় নি যুদ্ধাবসানে ‘ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস’ দেবার কথা বলা হয়েছিল মাত্র।
  • (২) প্রদেশগুলিকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অধিকার দান করার অর্থই হল পরোক্ষে জিন্নার দাবি মেনে নেওয়া।
  • (৩) ‘মনোনীত সদস্য’-রা সংবিধান সভায় আসতে পারবেন এই প্রস্তাবে কংগ্রেসের আপত্তি ছিল। দেশীয় রাজ্যের প্রতিনিধিদের রাজারা মনোনীত করবেন, জাতীয় কংগ্রেস তা মানতে পারে নি।
  • (৪) ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভারতীয়দের কোনো অধিকার ছিল না।
  • (৫) এই প্রস্তাবে অন্তবর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠনেরও কোন কথা ছিল না। ভবিষ্যতে কি হবে তা নয় কংগ্রেস চেয়েছিল আশু ক্ষমতা লাভ।

গান্ধীজির বক্তব্য

গান্ধীজি এই প্রস্তাবকে ‘ফেল-পড়া ব্যাঙ্কের ওপর চেক কাটার সামিল’ বলে আখ্যায়িত করেন। ‘হরিজন পত্রিকায় তিনি একে ‘দুর্ভাগ্যজনক প্রস্তাব’ বলে অভিহিত করেন।

নেহেরুর বক্তব্য

জওহরলাল নেহরু ক্রিপসের বন্ধু ছিলেন। তিনি পরবর্তীকালে লেখেন “আমি যখন এই প্রস্তাবগুলি প্রথম দেখি তখন খুবই ভেঙ্গে পড়ি।”

ডোমিনিয়নের মর্যাদা অর্থহীন

জাপানি আক্রমণের ফলে ইংরেজদের অস্তিত্ব তখন এতই বিপন্ন হয়ে পড়েছিল যে, ইংরেজ সরকার থাকবে কিনা সে সম্পর্কেই সন্দেহ দেখা দেয়। সুতরাং এই অবস্থায় যুদ্ধের পর ভারতকে ‘ডোমিনিয়ন’-এর মর্যাদা দানের প্রস্তাব কংগ্রেস ও গান্ধীজির কাছে অর্থহীন বলে প্রতিভাত হয়েছিল।

মুসলিম লীগের অস্বীকার

মুসলিম লীগ এই প্রস্তাব আপত্তি করেছিল। কারণ, এতে

  • (১) পাকিস্তানের কোন প্রতিশ্রুতি ছিল না।
  • (২) সংবিধান সভার ব্যাপারেও তাদের আপত্তি ছিল। কারণ, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গণ-পরিষদ গঠনের অর্থই হল হিন্দু প্রাধান্য।

অন্যান্যদের অস্বীকার

শিখ, হিন্দু মহাসভা, অ্যাংলো ইণ্ডিয়ান, ভারতীয় খ্রিস্টান, অনুন্নত সম্প্রদায় কারো কাছে এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য ছিল না। কারণ, সকলেই ক্রিপসের কাছ থেকে অধিকতর রক্ষাকবচ দাবি করে।

শিখদের ভয়

শিখরা ভয় পেয়েছিল এই কারণে যে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাঞ্জাব যদি ভারত ইউনিয়নে যোগদান না করে তাহলে তাদের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।

হিন্দু মহাসভার আতঙ্ক

এই প্রস্তাবে ভারত  বিভাগের সম্ভাবনা দেখে হিন্দু মহাসভা আতঙ্কিত হয়।

অনুন্নত সম্প্রদায়ের শঙ্কা

এই প্রস্তাবে বর্ণহিন্দু প্রাধান্যের সম্ভাবনায় অনুন্নত সম্প্রদায় শঙ্কিত হয়ে পড়ে।

এস. গোপালের উক্তি

ঐতিহাসিক এস. গোপাল বলেন যে, ক্রিপস প্রস্তাব ছিল “রক্ষণশীল, প্রতিক্রিয়াশীল এবং সীমাবদ্ধ।”

প্রস্তাব পেশ

১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের ২৯ শে মার্চ এক সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রিপস তাঁর প্রস্তাবাবলী সর্বজনসমক্ষে পেশ করেছিলেন।

প্রস্তাব প্রত্যাহার

১১ই এপ্রিল এ রকমই এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন এবং পরদিনই লণ্ডন যাত্রা করেন। এইভাবে ক্রিপ‌স দৌত্যের পরিসমাপ্তি ঘটে।

ব্যর্থতার কারণ

শেষ পর্যন্ত ক্রিপস দৌত্য ব্যর্থ হয়। কারণ,

(১) গান্ধীজির অনমনীয় মনোভাব

এই ব্যর্থতার জন্য ক্রিপ‌স সবচেয়ে বেশি দায়ী করেছেন জাতীয় কংগ্রেস, বিশেষ করে গান্ধীর অনমনীয় মনোভাবকে। ব্রিটিশ রাজনীতিজ্ঞ এটলীও এজন্য জাতীয় কংগ্রেসের জেদ ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবকে দায়ী করেছেন। অবশ্য এই বক্তব্য যুক্তিগ্রাহ্য নয়।

(২) চার্চিলের প্রস্তাব

এই প্রস্তাবের ব্যর্থতার মূল কারণ হল ব্রিটিশ সরকার, বিশেষত চার্চিলের অনিচ্ছুক ও অনমনীয় মনোভাব। চার্চিল ভারতীয় স্বাধীনতার ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। ভারতীয়দের হাতে তিনি কখনই প্রকৃত ক্ষমতা তুলে দিতে রাজি ছিলেন না।

(৩) চার্চিলের সদিচ্ছার অভাব

আটলান্টিক সনদ’-এ বিশ্বের সকল জাতিবর্গের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকৃত হলেও চার্চিল ঘোষণা করেন যে, এই সনদ ভারত সম্পর্কে প্রযোজ্য নয়। ক্রিপস মিশনের পশ্চাতে চার্চিলের কোনো সদিচ্ছা ছিল না, পুরো ব্যাপারটিই ছিল ‘লোক দেখানো অভিনয় মাত্র’ এবং বিশ্বরাজনীতিজ্ঞদের খুশি করার প্রয়াস।

(৪) ক্রিপসের দায়িত্ব

এই দৌত্যের ব্যর্থতার জন্য ক্রিপস নিজেও যথেষ্ট দায়ী ছিলেন। কারণ,

  • (ক) ক্রিপস ছিলেন সাম্রাজ্যবাদী চার্চিলের প্রতিনিধি। চার্চিলের প্রতি ঘোরতর অবিশ্বাস নেতৃবৃন্দকে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে প্ররোচিত করে।
  • (খ) গান্ধীজিকে গুরুত্ব না দিয়ে ক্রিপস জওহরলাল, আজাদ, প্যাটেল, রাজাগোপালাচারী ও অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে বেশি কথাবার্তা বলায় জনগণ ও কংগ্রেসের বৃহত্তর অংশ এই দৌত্য সম্পর্কে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে।
  • (গ) ক্রিপস‌কে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো বা সীমার মধ্যে কাজ করতে হয়েছিল সেই সীমার বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁর ছিল না। গান্ধীজি তাঁকে বলেন “আপনার যদি এর বেশি কিছু দেবার না থাকে তাহলে আপনি কেন এসেছেন? ভারতের কাছে এই যদি আপনার সম্পূর্ণ প্রস্তাব হয়, তাহলে আমি আপনাকে পরের প্লেন ধরে দেশে ফিরতে বলব।”
  • (ঘ) ক্রিপস ব্যক্তিগতভাবে ভারতীয়দের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও নেতৃত্বসুলভ দক্ষতা ও নমনীয়তা বা দর কষাকষি করা ও আপোস-মীমাংসার ক্ষমতা তাঁর ছিল না।
  • (ঙ) ‘চার্চিল, ক্রিপস অ্যাও ইণ্ডিয়া’ গ্রন্থে আর. জে. মুর বলেন যে, ভারতীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার জন্য ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা ক্রিপসকে যে ক্ষমতা দিয়েছিল তিনি তার চেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি দেন, যার অনেকটাই ছিল ধাপ্পা।
  • (চ) অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন যে, ক্রিপ্‌স্ একমুখে দু’কথা বলতেন। তিনি কংগ্রেস, লীগ, দেশীয় রাজা সকলের সঙ্গে আলাদা আলাদা কথা বলতেন ও নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিতেন। আসলে তিনি আশা করেছিলেন যে, তাঁর দৌত্য সফল হলে তিনি ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।

(৫) অন্যান্যদের বাধা সৃষ্টি

ক্রিপসের নিজের দোষ-ত্রুটি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী চার্চিল, ভারত সচিব আমেরি, বড়লাট লিনলিথগো ও প্রধান সেনাপতি ওয়াভেল সকলেই এই দৌত্যের ব্যর্থতার জন্য দায়ী ছিলেন। এঁরা কেউই চান নি যে, এই দৌত্য সফল হোক এবং তাঁরা নানা ভাবে এতে বাধা সৃষ্টি করেন।

(৬) ভারতবাসীর সন্দেহ

বিভিন্ন নীতিগত প্রশ্নগুলি ছাড়াও তখন যুদ্ধে ব্রিটিশের অবস্থা এমনই সঙ্কটাপন্ন ছিল যে, ভারতীয়দের কাছে তাদের প্রতিশ্রুতির কোনো মূল্য ছিল না। সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভারতবাসীর মনে গভীর সন্দেহ ছিল।

উপসংহার :- ডঃ সুমিত সরকার ক্রিপ‌স মিশন ব্যর্থ হওয়ার পুরো দায় চাপিয়েছেন ব্রিটিশের ওপরেই। তবে তিনি এ কথাও স্বীকার করেছেন যে, শুরু থেকেই কংগ্রেস কর্মী ও নেতাদের একটা বড় অংশ এ ব্যাপারে অনুৎসাহী ছিল।

(FAQ) ক্রিপস মিশন সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. ক্রিপস মিশন কবে ভারতে আসেন?

২৩ মার্চ ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ।

২. ক্রিপস মিশনের নেতৃত্ব দেন কে?

স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস।

৩. কে ভারতে ক্রিপস মিশন প্রেরণ করেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল।

Leave a Reply

Translate »