সমুদ্রগুপ্তের রাজ্য জয়

গুপ্ত সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের রাজ্য জয় প্রসঙ্গে প্রথম আর্যাবর্ত যুদ্ধ, নাগা যুদ্ধের গুরুত্ব, দক্ষিণ ভারত জয়, দক্ষিণের দ্বাদশ রাজ্য, দ্বিতীয় আর্যাবর্ত যুদ্ধ, আটবিক রাজ্য জয়, সীমান্তবর্তী সামন্তরাজ্য, অধিনস্থ মিত্র রাজ্য ও রাজ্য সীমা সম্পর্কে জানবো।

সমুদ্রগুপ্তের রাজ্য জয়

বিষয় সমুদ্রগুপ্তের রাজ্য জয়
সাম্রাজ্য গুপ্ত সাম্রাজ্য
রাজা সমুদ্রগুপ্ত
পূর্বসূরি প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
উত্তরসূরি দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
উপাধি ভারতের নেপোলিয়ন
সমুদ্রগুপ্তের রাজ্য জয়

ভূমিকা :- ভারতের ইতিহাসে রাজ্য বিজেতারূপে যে কয়েকজন সম্রাট খ্যাতি লাভ করেছেন, সমুদ্রগুপ্ত তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে স্থান পেয়েছেন। তাঁর পিতার নিকট হতে প্রাপ্ত একটি গাঙ্গেয় উপত্যকার স্থানীয় রাজ্যকে তিনি এক সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।

এলাহাবাদ প্রশস্তি

সমুদ্রগুপ্তের রাজ্য জয় সম্পর্কে হরিষেণ বিরচিত এলাহাবাদ প্রশস্তি থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়।

প্রথম আর্যাবর্ত যুদ্ধ

  • (১) উত্তর ভারতের গঙ্গা-যমুনা উপত্যকায় তিনি নিম্নলিখিত কয়েকজন রাজাকে পরাজিত করেন। এলাহাবাদ প্রশস্তির সপ্তম স্তবকে ১৩-১৪ পঙক্তিতে যে সকল রাজাকে তিনি পরাস্ত করেন তাদের নাম পাওয়া যায়, যথা, অচ্যুত, নাগসেন, গণপতি নাগ এবং কোটা পরিবার।
  • (২) অচ্যুত ছিলেন অহিচ্ছত্রের (উত্তরপ্রদেশের রামনগর ও রায়বেরিলি) রাজা। নাগসেন ছিলেন পদ্মাবতী বা গোয়ালিয়র অঞ্চলের রাজা। গণপতি নাগ ছিলেন নাগবংশের রাজা। এর মুদ্রা মথুরায় পাওয়া গেছে।
  • (৩) কোটার রাজা দিল্লী অঞ্চলে রাজত্ব করতেন। এঁরা উত্তরপ্রদেশের শ্রাবস্তী অঞ্চলে রাজত্ব করতেন বলে অপর একটি মত আছে। জয়সোয়াল বলেছেন যে, এই রাজারা সমুদ্রগুপ্তের বিরুদ্ধে একটি জোট গড়েন। কোশাম্বীর যুদ্ধে সমুদ্রগুপ্ত এই জোটকে বিধ্বস্ত করে জয়লাভ করেন। তবে এ সম্পর্কে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি।
  • (৪) জয়সোয়ালের মতে, এই সকল রাজাদের জোট সমুদ্রগুপ্তকে আক্রমণ করে পরাস্ত হয়। সমুদ্রগুপ্ত এই রাজাদের পরাস্ত করলেও তাদের রাজ্য তখনও পর্যন্ত দখল করে নেননি বলে অনেক পণ্ডিত মনে করেন। তিনি তার অধীনতা স্বীকারে এই রাজাদের বাধ্য করে আপাতত সন্তুষ্ট থাকেন।
  • (৫) কারণ হরিষেণ তার প্রশস্তির ১৩–১৪ পঙক্তিতে রাজ্য অধিগ্রহণ করার কোনো ইঙ্গিত দেননি। এজন্য ডঃ গয়াল বলেছেন যে, হরিষেণ শুধুমাত্র বলেছেন সমুদ্রগুপ্ত পশ্চিমদিকে তাঁর আধিপত্য কতদূর বিস্তার করেন। সম্ভবত দাক্ষিণাত্য অভিযানের আগে সমুদ্রগুপ্ত তাঁর বিরোধী শিবিরের এই রাজাদের পদানত করে তার পশ্চাৎদেশ নিষ্কণ্টক করেন।

পুষ্পনগরে অবস্থান

  • (১) এলাহাবাদ প্রশস্তিতে বলা হয়েছে যে, যখন কোটা রাজ্য পদানত হয় তখন সমুদ্রগুপ্ত পুষ্পনগরে আনন্দ উপভোগ করেন। এই পুষ্পনগর প্রাচীনযুগে দুটি স্থানের নাম ছিল যথা – কনৌজ এবং পাটলিপুত্র। এলাহাবাদ লিপিতে এর মধ্যে কোন নগরটির কথা বলা হয়েছে যে সম্পর্কে মতভেদ আছে।
  • (২) বেশীরভাগ পণ্ডিতের মতে পুষ্পনগর বলতে এখানে কনৌজ মনে করাই সঙ্গত। কারণ, কনৌজ ছিল অহিচ্ছত্র, মথুরা ও পদ্মাবতী থেকে সম দূরত্বে। অবশ্য অনেকে বলেন যে, সমুদ্রগুপ্ত পুষ্পপুর বা পাটলিপুত্র থেকেই অভিযান পরিচালনা করেন।

নাগ যুদ্ধের গুরুত্ব

  • (১) সমুদ্রগুপ্ত কেন প্রথমে পশ্চিমে দুই নাগ রাজাকে যথা নাগসেন ও গণপতি নাগকে আক্রমণ করেন তার একটি সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে। এমন কথা বলা হয় যে, পশ্চিমের নাগদের সঙ্গে দক্ষিণের বাকাটকদের মিত্রতা স্থাপিত হতে যাচ্ছিল। এই মিত্রতা স্থাপিত হলে গুপ্ত শক্তি বিপন্ন হত।
  • (২) তাই সমুদ্রগুপ্ত আগ বাড়িয়ে নাগ রাজ্য আক্রমণ করে মৈত্রীর সম্ভাবনা ভেঙে দেন। হয়ত তিনি বাকাটক শক্তিকেও মধ্যপ্রদেশে এরানের যুদ্ধে হারিয়ে দেন। এর ফলে উত্তর ভারতে বাকাটকদের ক্ষমতা লোপ পায়। এই জয়ের ফলে গঙ্গা-যুমনা উপত্যকায় সমুদ্রগুপ্তের আধিপত্য স্থাপিত হয়।

দাক্ষিণ ভারত জয়

  • (১) এলাহাবাদ প্রশস্তির ১৯-২০ পঙক্তিতে সমুদ্রগুপ্তের দক্ষিণ ভারত জয়ের কথা পাওয়া যায়। সমুদ্রগুপ্ত দাক্ষিণাত্যে রাজ্য জয় করলেও, রাজাগুলিকে অধিগ্রহণ করে নিজ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন নি। হরিষেণের মতে, তিনি গ্রহণপরিমোক্ষ নীতি নেন। এই নীতিকে ধর্মবিজয় নীতিও বলা হয়।
  • (২) গ্রহণ পরিমোক্ষ নীতির অর্থ হল – প্রথমে গ্রহণ অর্থাৎ শত্রুকে বলপূর্বক বন্দী করা, দ্বিতীয় মোক্ষ, অর্থাৎ শত্রুর বশ্যতা পাওয়ার পর তাকে মুক্তি দান; তৃতীয় অনুগ্রহ, অর্থাৎ পরাজিত শত্রুকে তার রাজ্য ফিরিয়ে দেওয়া। কিন্তু রাজ্য ফিরিয়ে দিলেও তার ‘শ্রী’ বা সার্বভৌম ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হত না।
  • (৩) সমুদ্রগুপ্ত সুদূর দাক্ষিণাত্যকে তাঁর রাজধানী পাটলিপুত্র থেকে প্রত্যক্ষ শাসনে রাখতে পারবেন না বুঝেই ধর্মবিজয় নীতি নেন বলে কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেছেন। এর ফলে দক্ষিণে তার আধিপত্য থাকে অথচ স্থানীয় স্বায়ত্ব শাসন স্বীকার করার জন্য সাম্রাজ্যে ঐক্য বজায় থাকে।
  • (৪) ডঃ রায়চৌধুরী সমুদ্রগুপ্তের রাজ্য জয়ের দ্বারা ভারতের রাজনৈতিক ঐক্য স্থাপনের প্রয়াস সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। রাজচক্রবর্তীর আদর্শকে তিনি পূর্ণ করেন। দক্ষিণে ধর্মবিজয় নীতি ছিল তারই অঙ্গ। ডঃ গয়ালের মতে, সমুদ্রগুপ্ত দক্ষিণের অপরিমিত সম্পদ এই বিজয়ে লাভ করেন। দক্ষিণের রাজাদের প্রদত্ত কর দ্বারা তিনি এক শক্তিশালী বাহিনী গঠন করেন।
  • (৫) তার ধর্মবিজয় নীতির মূলে ছিল দক্ষিণের সম্পদ আহরণ করার উদ্দেশ্য অথচ দক্ষিণকে স্বায়ত্ব শাসন দিয়ে সন্তুষ্ট রাখার নীতিও তিনি নেন। ডঃ গয়াল আরও বলেছেন যে, মৌর্য যুগে দক্ষিণে গ্রাম স্থাপন ও জনবসতি বিস্তার লাভজনক হলেও গুপ্তযুগে তা লাভজনক ছিল না।
  • (৬) গঙ্গা-যমুনা উপত্যকার উর্বরা অঞ্চল থেকে লোক নিয়ে দক্ষিণে গ্রাম বসতি বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা সমুদ্রগুপ্ত উপলব্ধি করেননি। এজন্য তার পরিবর্তে দক্ষিণের রাজাদের সঞ্চিত সম্পদ পেয়ে, তাদের আনুগত্য পেয়ে এবং বার্ষিক করের প্রতিশ্রুতি পেয়ে তিনি রাজ্য ফিরিয়ে দেন।
  • (৭) এই অর্থের দ্বারা গুপ্ত সম্রাটরা আড়ম্বরপূর্ণ দরবার ও শক্তিশালী সেনাদল গড়েন। সমুদ্রগুপ্তের রাজ্য জয়ের পশ্চাতে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলেও নিছক ক্ষমতা বিস্তারের উদ্দেশ্য কম ছিল না। সমুদ্রগুপ্তের সময় ভারতে তাঁর কোনো যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। স্বভাবতই এই যোদ্ধা এই সুযোগে রাজ্যবিস্তারে আগ্রহী হন।

দক্ষিণের দ্বাদশ রাজা

এলাহাবাদ প্রশস্তির অষ্টম স্তবকে, ১৯-২০ পঙক্তিতে হরিষেণ “সর্ব দক্ষিণা পথরাজা”দের বশ্যতার কথা বলেছেন। তার মধ্যে ১২ জন রাজার নাম ও তাদের রাজ্যের নাম দিয়েছেন যাদের প্রতি সমুদ্রগুপ্ত গ্রহণ পরিমোক্ষ নীতি নেন। এঁরা হলেন –

  • (১) কোশলের মহেন্দ্র। কোশল হল বিলাসপুর, রায়পুর ও সম্বলপুর জেলা।
  • (২) মহাকান্তারের ব্যাঘ্ররাজ। মহাকান্তার উড়িষ্যার জয়পুর জেলা।
  • (৩) কৌরলের মন্তরাজ। সম্ভবত মধ্যপ্রদেশের শোনপুর জেলা।
  • (৪) পিষ্ঠপুরমের মহেন্দ্রগিরি। অন্ধ্রের গোদাবরী জেলার পিঠাপুরম।
  • (৫) কোত্তুরের স্বামীদত্ত। সম্ভবত গঞ্জাম জেলার কোট্টুর।
  • (৬) এরণ্ডপল্লের দামন। ভিজাগাপট্টম জেলায়।
  • (৭) কাঞ্চির বিষ্ণু গোপ। তামিলনাডুর কাঞ্জিভরম জেলা।
  • (৮) বেঙ্গীর হস্তিবর্মন। কৃষ্ণা-গোদাবরী জেলার এলোর।
  • (৯) অবমুক্তার নীলরাজ। কাঞ্চীর নিকটবর্তী স্থান।
  • (১০) পলাকের উগ্রসেন। নেল্লোর জেলা।
  • (১১) দেবরাষ্ট্রের কুবের। সম্ভবত ভিজাগাপট্টম।
  • (১২) কুস্থলপুরের ধনঞ্জয়। উত্তর আর্কট জেলা।

দ্বিতীয় আর্যাবর্ত যুদ্ধ

  • (১) হরিষেণের রচিত প্রশস্তির অষ্টম স্তবকের ২১-২৩ পঙক্তিতে আর্যাবর্তের নয় জন রাজার নাম পাওয়া যায় যাদের সমুদ্রগুপ্ত উচ্ছেদ করে তাদের রাজ্য অধিগ্রহণ করেন। এই নয় জন রাজার সম্পর্কে হরিষেণ “উন্মূল্য” কথাটি ব্যবহার করেছেন।
  • (২) এই নয় রাজার মধ্যে ১৩-১৪ পঙক্তিতে উল্লিখিত উত্তর ভারতের তিন রাজা যথা অচ্যুত, নাগসেন ও গণপতি নাগের নাম পুনরায় করা হয়েছে। এক্ষেত্রে হরিষেণের বক্তব্যের মর্ম নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে নানারকম মত দেখা যায়। দুব্রেইল বলেছেন যে, সমুদ্রগুপ্ত যেমন ভাবে রাজ্য জয় করেন, সেই মত কালানুক্রম ধরে হরিষেণ এলাহাবাদ প্রশস্তিতে পরাজিত রাজাদের নাম করেছেন।
  • (৩) তাহলে সপ্তম স্তবকের ১৩-১৪ পঙক্তি এবং পুনরায় অষ্টম স্তবকের ২১-২৩ পঙক্তিতে আর্যাবর্তের রাজাদের নাম থাকার জন্য ধরা হয় যে, সমুদ্রগুপ্ত দুবার আর্যাবর্ত যুদ্ধ করেন। প্রথম বারে ৪ জন এবং দ্বিতীয় বারে ১ জন রাজাকে তিনি পরাজিত করে তাদের রাজ্য অধিকার করেন।

আর্যাবর্তের রাজাগণ

আর্যাবর্ত যুদ্ধে সমুদ্রগুপ্ত যে নয় রাজাকে উৎখাত করে রাজ্য অধিকার করেন তাঁদের মধ্যে তিন রাজার পরিচয় আগে দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয় রাজার নাম ও রাজ্য হল –

  • (১) রুদ্রদেবকে অনেকে বাকাটক রাজা রুদ্রসেন বলে চিহ্নিত করেন। ডঃ ডি. সি. সরকারের মতে, ইনি ছিলেন শক-ক্ষত্রপ দ্বিতীয় রুদ্রদামন অথবা তৃতীয় রুদ্রসেন। কিন্তু সমুদ্রগুপ্ত কোনো শক রাজাকে যুদ্ধে পরাস্ত করেন বলে জানা যায় নি। ডঃ পি এল গুপ্তের মতে, এই রুদ্রসেন ছিলেন কোশাম্বীর রাজা। এখানেই এলাহাবাদ স্তম্ভ গোড়ায় প্রোথিত ছিল।
  • (২) মত্তিল উত্তরপ্রদেশের পশ্চিম অংশে বুলান্দসর অঞ্চলে রাজত্ব করতেন।
  • (৩) নাগদত্ত,
  • (৪) নন্দীন,
  • (৫) বলবর্মন ছিলেন নাগবংশীয় রাজা। এরা মধ্যপ্রদেশে রাজত্ব করতেন।
  • (৬) চন্দ্রবর্মন ছিলেন বাঁকুড়ার পুস্করণের রাজা। বাংলার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ জয় করার ফলে তাম্রলিপ্তের বাণিজ্য সমুদ্রগুপ্তের অধিকারে চলে যায় বলে অনেকে মনে করেন।

আটবিক রাজ্য জয়

সমুদ্রগুপ্ত আটবিক রাজ্যও জয় করে রাজ্যভুক্ত করেন। উত্তরপ্রদেশ হতে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত অরণ্য অঞ্চল গাজিপুর ও জব্বলপুর জেলা নিয়ে এই রাজ্য ছিল। এই অঞ্চল জয়ের ফলে উত্তরাপথ থেকে দক্ষিণে যাতায়াতের পথ সহজ হয়ে যায়।

সীমান্তবর্তী সামন্তরাজ্য

  • (১) আর্যাবর্ত ও দক্ষিণাত্যের এই বিরাট অঞ্চল জয়ের ফলে সীমান্তবর্তী রাজ্য ও উপজাতি রাজ্যগুলি সমুদ্রগুপ্তের প্রতি বশ্যতা জ্ঞাপন করে। এলাহাবাদ প্রশস্তি থেকে মনে হয় সমুদ্রগুপ্ত এই অঞ্চলগুলি সরাসরি অধিকার না করে সামন্ত রাজ্যে পরিণত করেন।
  • (২) পূর্ব ভারতে সমতট বা পূর্ব বাংলা, দবক বা পূর্ব বাংলার ঢাকা জেলা, কামরূপ বা উত্তর আসাম, নেপাল ছিল এই সামন্ত রাজ্য। এছাড়া কর্তৃপুর অর্থাৎ উত্তর-পশ্চিমে পাঞ্জাবের জলন্ধর জেলার কর্তারপুর অথবা উত্তরে কুমায়ুন গাড়োয়ালও সামন্ত রাজ্য হিসাবে বশ্যতা স্বীকার করে।

অধীনস্থ মিত্র রাজ্য

  • (১) এলাহাবাদ প্রশস্তিতে সমুদ্রগুপ্তের সাম্রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত উপজাতি রাজ্যগুলির নাম পাওয়া যায়। এই রাজ্যগুলিকে সমুদ্রগুপ্ত অধীনস্থ মিত্র রাজ্য হিসেবে গণ্য করতেন বলে কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেছেন।
  • (২) রোমিলা থাপারের মত এ সম্পর্কে ভিন্ন। তিনি বলেন যে, সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন ব্রাহ্মণ্য ধর্মের অনুরাগী। ব্রাহ্মণ্য প্রথা বিরোধী উপজাতিক প্রজাতন্ত্রগুলিকে ধ্বংস করে তিনি ক্ষান্ত হন। জাতিভেদ শাসিত সমাজ, গণতান্ত্রিক উপজাতিগুলিকে খর্ব করে তৃপ্তি লাভ করে।
  • (৩) উত্তর-পশ্চিমের উপজাতিগুলিকে তিনি দুর্বল করে ভবিষ্যতে হূণ আক্রমণের সময় উত্তর-পশ্চিম ভারতের রক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলেন। এর ফলে ভারতে হূণরা অনুপ্রবেশ করতে পারে

প্রজাতন্ত্র

এলাহাবাদ প্রশস্তিতে যে উপজাতিগুলির নাম দেওয়া হয়েছে তারা হল –

  • (১) মালব (রাজস্থান),
  • (২) অর্জুনায়ন (জয়পুর),
  • (৩) যৌধেয় (পাঞ্জাবের শতদ্রু বিপাশা অঞ্চল),
  • (৪) মদ্রক (পাঞ্জাবের রাভি, মতান্তরে রাজস্থানের বিকানীর),
  • (৫) আভীর (মধ্যপ্রদেশের ভিলসা অঞ্চল মতান্তরে পাঞ্জাব),
  • (৬) সনকানিক (মধ্যপ্রদেশের ভিলসার নিকট, মতান্তরে পাঞ্জাবে),
  • (৭) প্রার্জুন (মধ্যপ্রদেশে, মতান্তরে গান্ধারে),
  • (৮) কাক (মধ্যপ্রদেশ মতান্তরে কাশ্মীর),
  • (৯) খরপরিক (মধ্যপ্রদেশের নামো জেলা, মতান্তরে উত্তর-পশ্চিম ভারত।

সাম্রাজ্য সীমা

  • (১) বাংলা ও মধ্যপ্রদেশের কিছু অংশ নিয়ে তিনি প্রত্যক্ষ শাসন স্থাপন করেন। তার বাইরে সামান্ত রাজ্যের পরিমণ্ডল তিনি স্থাপন করেন। সূর্যের চতুর্দিকে যেরূপ উপগ্রহ আছে সেইরূপ পূর্ব ভারতে সমতট, দবাক, নেপাল, পশ্চিমে মালব উত্তর-পশ্চিমে খরপরিকগণ এই বলয় রচনা করে।
  • (২) ডঃ মজুমদার প্রত্যক্ষ ও সামন্ত রাজ্য মিলিয়ে সমুদ্রগুপ্তের রাজ্যসীমা ধরেছেন কাশ্মীর পশ্চিম পাঞ্জাব, পশ্চিম রাজপুতানা সিন্ধু ও গুজরাট বাদে সমগ্র উত্তর ভারত। দক্ষিণে উড়িষ্যার ছত্তিসগড় হয়ে পূর্ব উপকূল পরে তামিলনাড়ুর চিঙ্গেলকোট জেলা পর্যন্ত।

উপসংহার :- সমুদ্রগুপ্তের রাজাসীমার বাইরে প্রতিবেশীরা তাঁর পরাক্রম অনুভব করে দ্রুত তাঁর সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করেন। সিংহলের রাজা মেঘবর্ণ, ভারত মহাসাগরের অন্যান্য দ্বীপ, কুষাণ দৈবপুত্র শাহী, শক-মুরণ্ড, শাহানুশাহী প্রভৃতি তাঁর মিত্রতা ভিক্ষা করেন।

(FAQ) সমুদ্রগুপ্তের রাজ্য জয় সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা কে?

সমুদ্রগুপ্ত।

২. ভারতের নেপোলিয়ন কাকে বলা হয়?

সমুদ্রগুপ্ত।

৩. দক্ষিণ ভারতের ক্ষেত্রে সমুদ্রগুপ্ত কি নীতি গ্রহণ করেন?

গ্ৰহণ পরিমোক্ষ নীতি।

৪. এলাহাবাদ প্রশস্তি থেকে কার কথা জানা যায়?

সমুদ্রগুপ্ত।

Leave a Reply

Translate »