চতুর্শক্তি চুক্তি

চতুর্শক্তি চুক্তি -র রূপকার, চুক্তি স্বাক্ষর, স্বাক্ষরকারী দেশ, চুক্তির কার্যকর, ‘কনসার্ট অব ইউরোপ’ গঠন, চুক্তির উদ্দেশ্য, সম্মেলনের যুগ, কংগ্রেস কূটনীতি, চুক্তির ত্রুটি ও ক্যাসালরি-র ঘোষণা সম্পর্কে জানবো।

চতুর্শক্তি চুক্তি

সময়কাল২০ নভেম্বর, ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দ
রূপকারপ্রিন্স মেটারনিখ
স্বাক্ষরকারী দেশইংল্যান্ড, অষ্ট্রিয়া, রাশিয়া, প্রাশিয়া
ফলাফলকনসার্ট অব ইউরোপ গঠন
চতুর্শক্তি চুক্তি

ভূমিকা :- পবিত্র চুক্তি বিফলতার পর ইউরোপীয় শক্তি সমবায় গঠনের জন্য বাস্তববাদী মেটারনিখ চতুর্শক্তি চুক্তির খসড়া রচনা করেন।

চুক্তির রূপকার

জার প্রথম আলেকজান্ডার যেমন ছিলেন ‘পবিত্র চুক্তি’-র রূপকার তেমনি ‘চতুর্শক্তি চুক্তির রূপকার ছিলেন প্রিন্স মেটারনিখ।

চুক্তি স্বাক্ষর

নেপোলিয়ন -এর পতনের পর ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, প্রাশিয়া ও রাশিয়া যেদিন প্যারিসের দ্বিতীয় চুক্তি স্বাক্ষর করে, সেদিনই অর্থাৎ ২০শে নভেম্বর ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে তারা চতুর্শক্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

স্বাক্ষরকারী দেশ

ইংল্যান্ড, অষ্ট্রিয়া, রাশিয়া ও প্রাশিয়া চতুর্শক্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।

চুক্তির কার্যকারিতা

এই চুক্তি পবিত্র চুক্তির মতো অনিশ্চিত ও অবাস্তব ভিত্তির উপর রচিত হয় নি। এর উদ্দেশ্য ও কর্মপন্থা ছিল অতি সুস্পষ্ট, বাস্তবধর্মী ও কার্যকরী।

কনসার্ট অব ইউরোপ

‘কনসার্ট অব ইউরোপ’ বলতে পবিত্র চুক্তি ও চতুর্শক্তি চুক্তি উভয়কে বোঝালেও বাস্তবে চতুর্শক্তি চুক্তিই হল ‘কনসর্ট অব ইউরোপ’ এবং এর উদ্দেশ্য ও কার্যকলাপই হল ‘কনসার্ট অব ইউরোপ’-এর উদ্দেশ্য ও কার্যকলাপ।

উদ্দেশ্য

এই চুক্তির উদ্দেশ্য গুলি হল –

  • (১) ভিয়েনা সম্মেলনে গৃহীত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অক্ষুণ্ণ রাখা,
  • (২) ফরাসি সিংহাসনে কোনোদিনই যাতে বোনাপার্ট বংশীয় কেউ বসতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখা,
  • (৩) ইউরোপের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধান করা,
  • (৪) ফরাসি বিপ্লব -এর মতো বিপর্যয়কারী ও ধ্বংসাত্মক শক্তির হাত থেকে ইউরোপকে রক্ষা করা,
  • (৫) নিজ নিজ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার জন্য মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করা।

কংগ্রেস কূটনীতি

গ্রান্ট ও টেম্পারলি বলেন যে, চতুর্শক্তি চুক্তি থেকেই ‘কংগ্রেস কুটনীতি’ কথাটি এসেছে। বাহুবল বা সংঘর্ষের মধ্যে না গিয়ে, শান্তিপূর্ণভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক বিতর্কিত বিষয়গুলি বা বাদ-বিসম্বাদ সমাধানের যে মনোভাব তাকেই ‘কংগ্রেস কূটনীতি’ বা ‘কংগ্রেস ব্যবস্থা বলা হয়।

সম্মেলনের যুগ

ভিয়েনা সম্মেলনের পরবর্তীকালে ইউরোপীয় নেতৃমণ্ডলী বিভিন্ন সম্মেলনে মিলিত হয়ে ইউরোপীয় সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট হয়েছিলেন। এর মধ্যে চারটি সম্মেলন ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে ভিয়েনা-পরবর্তী যুগকে ‘সম্মেলনের যুগ’ বলা হয়।

কংগ্রেস কূটনীতির নিয়ন্ত্রণ

১৮১৫ থেকে ১৮২৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আট বৎসর ইউরোপীয় রাজনীতি এই ‘কংগ্রেস ব্যবস্থা’ বা ‘কংগ্রেস কূটনীতি’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল।

ত্রুটি

শুরু থেকেই চতুঃশক্তি চুক্তির বিভিন্ন সদস্যদের মধ্যে নানা ধরনের মতপার্থক্য ছিল। যেমন –

  • (১) ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল ভিয়েনাতে গৃহীত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বজায় রাখা এবং ফ্রান্সে নেপোলিয়নের মতো কোনও ব্যক্তিত্বের উত্থান রোধ করা।
  • (২) রক্ষণশীল রাষ্ট্র অস্ট্রিয়ার লক্ষ্য ছিল এই চুক্তিকে পরিবর্তন-বিরোধী ও উদারতন্ত্র-বিরোধী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।
  • (৩) ইংল্যাণ্ড কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপের বিরোধী ছিল।
  • (৪) অস্ট্রিয়া গণ-আন্দোলন দমনের জন্য ইউরোপের যে কোনও দেশে হস্তক্ষেপের পক্ষপাতী ছিল।

ক্যাসালরি-র ঘোষণা

শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসালরি-র প্রস্তাব অনুসারে স্থির হয় যে, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা কোনোমতেই চতুঃশক্তি চুক্তির ঘোষিত নীতি হবে না—তবে প্রয়োজনবোধে ‘কংগ্রেস’ আহ্বান করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

উপসংহার :- অষ্ট্রিয়া ও ইংল্যান্ড এবং তাদের মতাদর্শের বিরোধ যে এই সংগঠনকে দুর্বল করে দেয় সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

(FAQ) চতুর্শক্তি চুক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. চতুর্শক্তি চুক্তির সদস্য কারা ছিলেন?

অষ্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী মেটারনিখ, রাশিয়ার জার প্রথম আলেকজাণ্ডার, ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্যাসালরি এবং ফ্রান্সের প্রতিনিধি ত্যালিরাঁ।

২. চতুর্শক্তি চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়?

২০ নভেম্বর ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দ।

৩. চতুর্শক্তি চুক্তি বা শক্তি সমবায়ের প্রথম বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

জার্মানির আই-লা-স্যাপেল শহরে।

Leave a Reply

Translate »