পুলুমায়ি

সাতবাহন রাজা বশিষ্ঠিপুত্র পুলুমায়ি প্রসঙ্গে সিংহাসনে আরোহণ, রাজত্বকাল, শক যুদ্ধ, অন্ধ্র ভুক্তি, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সেতুবন্ধন, বাণিজ্যিক অগ্ৰগতি সম্পর্কে জানবো।

পুলুমায়ি

রাজা বশিষ্ঠিপুত্র পুলুমায়ি
পূর্বসূরি গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী
উত্তর সূরি শিবশ্রী সাতকর্ণী
সাম্রাজ্য সাতবাহন সাম্রাজ্য
প্রতিষ্ঠাতা সিমুক
পুলুমায়ি

ভূমিকা :- সাতবাহন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সিমুক। প্রথম সাতকর্ণী ও গৌতমীপুত্র সাতকর্ণীর আমলে সাতবাহন সাম্রাজ্য ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। গৌতমী পুত্র সাতকর্ণীর মৃত্যুর পর সাতবাহন রাজা ছিলেন বশিষ্ঠিপুত্র পুলুমায়ি।

পুলুমায়ির সিংহাসনে আরোহন

গৌতমীপুত্র সাতকর্ণীর পুত্র বশিষ্ঠিপুত্র পুলুমায়ি ১০০ খ্রিস্টাব্দে সাতবাহন সিংহাসনে বসেন।

রাজত্বকাল

  • (১) ডঃ ভাণ্ডারকর বলেছেন যে, পুলুমায়ি তার পিতার সঙ্গে যুগ্মভাবে রাজত্ব করেছিলেন। এই কারণে নাসিক প্রশস্তি পুলুমায়ির রাজত্বকালে রচিত হলেও তাতে তার নাম নেই।
  • (২) কিন্তু ডঃ ডি. সি. সরকার এই মত অগ্রাহ্য করেছেন। পুলুমায়ির স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে রাজত্ব করা সম্পর্কে বহু লেখ ও মুদ্রার প্রমাণ পাওয়া যায়। পুলুমায়ি পুরাণের মতে ২১ বছর রাজত্ব করেন।
  • (৩) কিন্তু কার্লে লিপিতে তাঁর রাজত্বকাল ২৪ বছর বলা হয়েছে। কার্লে লিপির তথ্যই অধিক নির্ভরযোগ্য বলে ১৩০-১৫৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বশিষ্ঠি পুত্র পুলুমায়ি রাজত্ব করেন বলে মনে করা হয়।

শক যুদ্ধ

  • (১) পুলুমায়ির রাজত্বকালে তাকে শক-ক্ষত্রপ রুদ্রদামনের সঙ্গে অবিরাম সংঘর্ষে লিপ্ত থাকতে হয়। এর ফলে তিনি সাতবাহন সাম্রাজ্যের উত্তরাঞ্চল যথা, কোঙ্কন, মালব প্রভৃতি শকদের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
  • (২) জুনাগড় শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, রুদ্রদামন কয়েকবার পুলুমায়িকে পরাস্ত করেন। কিন্তু ‘সম্বন্ধ বিদুরায়া’ অর্থাৎ আত্মীয় সম্বন্ধ থাকার জন্য তিনি সাতবাহন শক্তির চূড়ান্ত ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকেন। পুলুমায়ির ভ্রাতা বশিষ্ঠিপুত্র সাতকর্ণী ছিলেন রুদ্রদামনের জামাতা। এজন্য শকক্ষত্রপকে সংযত হতে হয়।

অন্ধ্র ভুক্তি

  • (১) পুলুমায়ি তাঁর রাজ্যের উত্তরাঞ্চল হারালেও পূর্ব দিকে কৃষ্ণা নদীর মোহনা পর্যন্ত জয় করে ক্ষতিপূরণ করে নেন। পুলুমায়ির লেখগুলি কৃষ্ণা জেলা, নাসিক, কার্লে ও অমরাবতীতে বা কৃষ্ণা জেলায় পাওয়া গেছে। সুতরাং মহারাষ্ট্র, কৃষ্ণা ও গোদাবরী অঞ্চল নিয়ে তাঁর রাজ্য বিস্তৃত ছিল।
  • (২) কারও কারও মতে, বেলারি জেলাও তাঁর রাজ্যভুক্ত ছিল। তবে এ সম্পর্কে সন্দেহ আছে। কারণ বেলারি জেলায় যে লিপিটি পাওয়া গেছে তাতে শুধুমাত্র পুলুমায়ির নাম আছে। বশিষ্ঠিপুত্র কথাটি নেই।

সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সেতুবন্ধন

গৌতমীপুত্র ও বশিষ্ঠিপুত্রের আমলে সাতবাহন সাম্রাজ্য উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সেতুবন্ধন করেছিল। উত্তর ভারতের আর্য সভ্যতা ও বর্ণাশ্রম ধর্মকে সাতবাহনরা দৃঢ়ভাবে দক্ষিণে প্রতিষ্ঠা করেন।

বাণিজ্যিক অগ্ৰগতি

  • (১) গৌতমীপুত্র ও বশিষ্ঠিপুত্র উত্তর ও দক্ষিণ এবং সুদূর দক্ষিণের সঙ্গে বাণিজ্যের যোগ স্থাপন করেন। পুলুমায়ির দুই মাস্তুলযুক্ত জাহাজের ছাপওয়ালা মুদ্রা করমণ্ডল উপকূলে পাওয়া গেছে। এ থেকে এ অঞ্চলে সাতবাহন বাণিজ্য চলত এটা জানা যায়।
  • (২) তবে করমণ্ডল উপকূলে তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল একথা বলা যায় না। কারণ শুধুমাত্র মুদ্রার প্রমাণের ওপর নির্ভর করে এরূপ সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। পুলুমায়ির রাজধানী ছিল প্রতিষ্ঠান বা পৈঠান।

উপসংহার:- পুলুমায়ির পর সাতবাহন সিংহাসনে বসেন শিবশ্রী ও শিবস্কন্দ সাতকর্ণী। সাতবাহন বংশের সর্বশেষ প্রধান রাজা ছিলেন যজ্ঞশ্রী সাতকর্ণী। তিনি ছিলেন সাতবাহন বংশের শেষ শক্তিশালী রাজা।

(FAQ) পুলুমায়ি সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. গৌতমীপুত্র সাতকর্ণির পর কে সাতবাহন সিংহাসনে বসেন?

বশিষ্ঠিপুত্র পুলুমায়ি।

২. পুলুমায়ির রাজত্বকাল কত?

১৩০-১৫৪ খ্রিস্টাব্দ।

৩. পুলুমায়ি কার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত ছিলেন?

সখ রাজা রুদ্রদামন।

৪. সাবধান বংশের শেষ শক্তিশালী রাজা কে ছিলেন?

যজ্ঞশ্রী সাতকর্ণী।

Leave a Reply

Translate »