লোকনাথ ব্রহ্মচারী

লোকনাথ ব্রহ্মচারী প্রসঙ্গে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্ম, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্মস্থান, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর যোগ শিক্ষা, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর সিদ্ধি লাভ, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর কাশীধাম যাত্রা, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর বিশ্বভ্রমণ, লোকনাথ বাবার বাদরীতে অবস্থান, লোকনাথ ব্রহ্মচারী নামে পরিচিতি, বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর বাণী, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর শেষ জীবন, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর প্রনাম মন্ত্র ও তার তাৎপর্য সম্পর্কে জানবো।

বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী

ঐতিহাসিক চরিত্রলোকনাথ ব্রহ্মচারী
জন্ম১৭৩০ খ্রিস্টাব্দ (বাংলা ১১৩৭ বঙ্গাব্দ)
জন্মস্থানপশ্চিমবঙ্গ, চব্বিশ পরগনা, কচুয়া, ভারত
পিতারামনারায়ণ ঘোষাল
মাতাকমলাদেবী
ধর্মহিন্দু
জাতীয়তাভারতীয়
জাতিব্রাহ্মণ
গুরুভগবান গাঙ্গুলি
মৃত্যু১ জুন ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ (বয়স ১৬০ বছর)
মৃত্যুস্থানবারদী, ঢাকা, বাংলাদেশ
লোকনাথ ব্রহ্মচারী

ভূমিকা :- ভারতবর্ষের পবিত্র ভূমিতে জন্ম হয়েছে বহু জ্ঞানী ও মনীষীদের। এদের মধ্যে হলেন একজন লোকনাথ ব্রহ্মচারী তিনি ছিলেন একজন হিন্দু ধর্ম গুরু। তিনি বাবা লোকনাথ নাম সর্বাধিক পরিচিত।

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর বিখ্যাত উক্তি

জন্মাষ্টমী তিথিতেই জন্ম হয়েছিল লোকনাথ ব্রহ্মচারীর, ভক্তদের কাছে তিনি বাবা লোকনাথ নামেই তিনি পরিচিত। তাঁর বিখ্যাত বাণী ‘রণে বনে জলে জঙ্গলে যখনই বিপদে পড়িবে, আমাকে স্মরণ করিও, আমিই রক্ষা করিব।’

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্ম

বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্মদিন ৩১ আগস্ট ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে এবং ১৮ ই ভাদ্র ১১৩৭ বঙ্গাব্দে। জন্মাষ্টমীর দিন ব্রাহ্মণ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

লোকনাথ বাবার জন্মস্থান

২৪ পরগনা জেলার কচুয়া গ্রামে ব্রাহ্মণ পরিবারে বাবা লোকনাথ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা রামনারায়ণ ঘোষাল এবং মাতা কমলাদেবী। বাবা লোকনাথ তাঁর বাবা ও মায়ের চতুর্থ পুত্র ছিলেন।

বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর যোগ শিক্ষা

বাবা লোকনাথের জন্মের পর তাঁর পিতার ইচ্ছা ছিল তিনি ব্রাম্মচারী হবেন। কিন্তু তাঁর মা চান নি পুত্র দূরে থাকুক। অবশেষে বাবা লোকনাথ আচার্য গাঙ্গুলির শিষ্যত্ব লাভ করেন। ঠিক একই সাথে তাঁর প্রিয় সখা বেণী মাধব ভগবান গাঙ্গুলির শিষ্যত্ব লাভ করেন। ভগবান গাঙ্গুলি কয়েক বছর পরে তাদেরকে কালীঘাটে নিয়ে আসেন। সেখানে স্বামীজীর সাথে কিছুকাল যোগশিক্ষা করেন।

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর সিদ্ধি লাভ

  • (১) গৃহ ত্যাগের পর বাংলা ১১৪৮ সনে আচার্য গাঙ্গুলী তাদের নিয়ে আসেন কালীঘাটের শক্তিপীঠে। একান্ন পিঠের অন্যতম মহাপীঠ কালীঘাট। তৎকালে কালীঘাট ছিল ঘন জঙ্গলময়। কালীঘাটে আসার পর বাল্য ব্রহ্মচারীদ্বয় আচার্যকে সাধন-ভজন শিক্ষা দেওয়ার কথা বলেন। সাধন-ভজনের জন্য নির্জন স্থানের উদ্দেশ্যে তারা কালীঘাট ত্যাগ করেন।
  • (২) নির্জন স্থানে এসে শিষ্যদ্বয় কঠোর সংযম পালন করেন এবং দীর্ঘ ৩০-৪০ বছর নক্ত-ব্রত (দিনে অনাহারী থেকে রাত্রে আহার) ধারণ করেন। এরপর একান্তরা-ব্রত (একদিন উপবাসের পর দিন আহার), ত্রিরাত্রি, পঞ্চহ, নবরাত্রি ব্রত পালন করেন। আচার্য গাঙ্গুলী তাদের ধ্যান ও যোগ শিক্ষা দেন।
  • (৩) এরপর সিদ্ধলাভের জন্য তারা হিমালয়ের বরফাবৃত এক নির্জন স্থানে ‍উপস্থিত হলেন। পঞ্চাশ বছরের অধিক সময় কঠিন তপস্যা দ্বারা লোকনাথ সমাধির উচ্চতম শিখরে পৌছান এবং পরমতত্ত্ব লাভ করেন। তখন তার বয়স ৯০ বছর।

মক্কার উদ্দেশ্য যাত্রা

  • (১) শিষ্যদের সিদ্ধিলাভের কিছু দিন পর গুরুদেব ভগবান গাঙ্গুলি শিষ্যদের কাছে ইসলাম ধর্মের মক্কা যাওয়ার প্রস্তাব করলেন। শিষ্যরা গুরুদেবের গুরুদেবের কথায় রাজি হল। গুরুদেব তার দুই শিষ্যকে নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।
  • (২) পাহাড় পর্বত অরণ্য পার করে শিষ্যদের নিয়ে ভগবান গাঙ্গুলি পৌঁছালেন কাবুলে। সেখানে ‘মোল্লা সাদি’ নাম একজন ধর্ম শাস্ত্রজ্ঞ ধার্মিক মুসলমানের সঙ্গে পরিচয় হয়। ভগবান গাঙ্গুলি তার শিষ্যদের নিয়ে মোল্লা সাদির বাড়িতে অতিথি হয়ে গেলেন। বেশ কয়েকদিন মোল্লা সাদির বাড়িতে থেকে, কোরান পাঠ এবং ইসলাম ধর্ম বিষয় নিয়ে নানা আলোচনা হয় তাদের মধ্যে। এখানেই লোকনাথ কোরান শিক্ষা অর্জন করেছিলেন।
  • (৩) কোরান পাঠ ও ইসলাম ধর্ম সমন্ধে নানা আলচনার মাধ্যমে তারা বুঝতে পেরেছিলেন, যে হিন্দু বা মুসলমান ধর্ম কোন প্রকার প্রভেদ নেই। আসলে সত্য সমন্ধে জ্ঞান না থাকার কারনে মানুষে মানুষে এত প্রভেদ দেখা যায়।
  • (৪) তারা কাবুলে বেশ কিছুদিন থাকার পর চলে আসেন মদিনায়। মুসলমানরা ও তাদের যথাযোগ্য সন্মান করেন। এখানে এসেও বেড ও কোরান নিয়ে এবং হিন্দু ধর্ম ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে অনেক আলচনা করেন। মদিনা থেকে তার মরুভূমির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।
  • (৫) পথে একজন উচ্চস্তরের মুসলমান ফকিরের নাম শুনে তারা তার আস্তানায় যায় দর্শন করার জন্য। তার বয়স প্রায় ৪০০ বছর। তিনি এক নির্জন স্থানে নিজেকে আত্মগোপন করে সবসময় সমাধি অবস্থায় থাকতেন। এর নাম আব্দুল গফুর। লোকনাথকে দেখে তার সমাধি ভঙ্গ হয়। তিনি লোকনাথের সাথে আলিঙ্গন করেন এবং ধর্ম সমন্ধেও আলোচনা করেন। এই মহাপুরুষকে দর্শন করে তারা মক্কায় গিয়েছিলেন।

কাশীধাম যাত্রা

  • (১) মক্কায় বেশ কিছুদিন থাকে পর ভগবান গাঙ্গুলি শিষ্যদের কাশীধামে যাওয়ার অভিলাষ জানান। তারা কাশি ধামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। দীর্ঘপথ অতিক্রম করে অবশেষে তারা উপস্থিত হলেন কাশি ধামে। পতিত পাবনী গঙ্গায় স্নান করে ভগবান গাঙ্গুলি বিশ্বনাথের চরণে বন্দনা করলেন। পূরণ হল তার মনোবাসনা। কিন্তু তার মনে চিন্তা থেকে গেল শিষ্যদের নিয়ে।
  • (২) হঠাৎ তার মনে পড়ল মহাযোগী ত্রৈলঙ্গ স্বামীর কথা। আর দেরি না করে শিষ্যদের নিয়ে ত্রৈলঙ্গ স্বামীর কুঠিরে পৌচ্ছালেন। সেখানে সারাদিন শাস্ত্র আলোচনা, ধর্ম আলোচনা করে বেশ কিছুদিন আনন্দে কেটে যায়।
  • (৩) একদিন ত্রৈলঙ্গ স্বামীর কুটিরে বসে গুরু ভগবান গাঙ্গুলি তার শিষ্য লোকনাথ ও বেণীমাধবকে ডাকেন। দুজনে হাত ধরে ত্রৈলঙ্গ স্বামীর হাতে তুলে দিলেন। আর বলল- আজ থেকে এদের সমস্ত দায়িত্ব আপনার। মহাযোগী ত্রৈলঙ্গ স্বামী বললেন- এতে চিন্তার কি আছে? তুমি নিশ্চিন্ত থাকো। সব দায়িত্ব পরমেশ্বরের,তুমি মনে কোনো প্রকার দ্বিধা রেখোনা।
  • (৪) পরের দিন ভগবান গাঙ্গুলী গেলেন পাতঃস্নানে। দীর্ঘসময় কেটে গেলো কিন্তু গুরু দেব ফিরে না আসায়। শিষ্যরা চঞ্চল হয়ে উঠলো। তারা আর দেরি না করে লোকনাথ বেণীমাধব এবং আশ্রমের কয়েক জনকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন মানিক নিকার ঘাটে।
  • (৫) সেখানে এসে তারা দেখল গুরুদেব মগ্ন হয়ে আছেন। এই দৃশ্য দেখে চমকে উঠলেন, তবে কি গুরুদেব মহা প্রস্থানের পথে পারি জমিয়েছেন। লোকনাথ শ্রদ্ধা সহকারে তিনি গুরুদেবকে স্পর্শ করলেন। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে ঢলে পড়লেন ভগবান গাঙ্গুলির শরীর।
  • (৬) ভগবান গাঙ্গুলি ছিলেন গৃহী সন্ন্যাসী। তাই তার দেহ পতিতাদ্বারিনী গঙ্গার কোলে মণিকর্ণিকার মহাশ্মশানে তার চিতাশয্যা রচনা করা হল। পুত্রের কার্য করলেন শিষ্য লোকনাথ, মুখাগ্নি করলেন তিনি। দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল চিতাগ্নি। তারপর কিছুক্ষনের মধ্যেই গুরু ভগবান গাঙ্গুলির পঞ্চভৌতিক নশ্বর দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে গেল।

লোকনাথ বাবার বিশ্ব ভ্ৰমণ

প্রথমে আফগানিস্তান, পারস্য, আরব, মক্কা-মদিনা, মক্কেশ্বর তীর্থস্থান, তুরস্ক, ইতালি, গ্রিস, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, ইউরোপ-সহ বিভিন্ন দেশ ভ্ৰমণ করেছিলেন তিনি। মক্কা-মদিনরা মুসলিম ধর্মীয় মানুষেরা তাঁকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। এছাড়াও সুমেরু শৈত্যপ্রধান এলাকায় বদরিকা আশ্রমে অবস্থান করে। সেখান আরও উত্তরে বহুদূর এলাকা ভ্ৰমণ করেন। অবশেষে হিমালয়ে বাঁধা পেয়ে চিন দেশে উপস্থিত হন। এরপর তিনি পুনরায় ভারতে ফিরে আসেন।

বারদীতে অবস্থান

  • (১) জঙ্গলের ভিতর দিয়ে যাত্রাকালে হঠাৎ জঙ্গলে আগুন লেগে যায়। তিনি লক্ষ করলেন বৃক্ষতলায় এক জটাজুটধারী সন্ন্যাসী ধ্যানমগ্ন আছেন। তিনি যোগবলে তাকে নিরাপদে নিয়ে আসেন। ইনি ছিলেন বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী।
  • (২) এরপর লোকনাথ ত্রিপুরা জেলার দাউদকান্দি গ্রামে আসেন। বারদী গ্রামের ডেঙ্গু কর্মকার নামে এক ব্যাক্তি সেসময় ফৌজদারী মামলার আসামি হয়ে দাউদকান্দিতে ছিল। উদভ্রান্ত ডেঙ্গু কর্মকার লোকনাথকে দেখতে পেয়ে সব ঘটনা খুলে বলেন। তখন লোকনাথ তাকে নির্ভয়ে থাকতে বলেন। পরদিন বিচারপতি ডেঙ্গুকে বেকসুর খালাস রায়ে দেন। লোকনাথকে ডেঙ্গু তার বাড়িতে নিয়ে আসেন।
  • (৩) ডেঙ্গুর মৃত্যুর পর বারদ্রীর জমিদার তাকে নিয়ে আসেন জমিদার বাড়িতে। জমিদার তাকে ‘ছাওয়াল বাঘিনী’ নদীর তীরে একটি নিষ্কর শ্মশানে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে দেন। দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর তিনি সেখানে অবস্থান করেন।

লোকনাথ ব্রহ্মচারী নামে পরিচিতি

বারদীর জমিদার তাকে নিয়ে আসেন জমিদার বাড়িতে। জমিদার তাকে ‘ছাওয়াল বাঘিনী’ নদীর তীরে একটি নিষ্কর শ্মশানে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করে দেন। দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর তিনি সেখানে অবস্থান করেন। সে সময় থেকেই “বারদী’র ব্রহ্মচারী” হিসেবে লোকনাথ পরিচিতি পান। সেখানেই লোকনাথ ব্রহ্মচারী নামে পরিচিতি পান।

শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথের বাণী

লোকনাথ বাবার বাণীগুলি হল-

  • (১) আমি সদা জাগ্রত। তোদের সুখে- সুখী ও তোদের দুঃখে দুঃখী। আমার বিনাশ নেই, আমি অবিনশ্বর। আমি ছিলাম-আছি থাকবো।
  • (২) তোদের ছেড়ে আমি কোথায় বা যাব? সমস্ত অস্তিত্বের মধ্যে আমি পূর্ন হয়ে বিরাজ করছি।
  • (৩) বিশ্বাসের বলে আমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারি, তোদের বিশ্বাস নেই, কাজেই তোদের কোন ফল হয় না।

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর শেষ জীবন

  • (১) বারদীতে অবস্থান কালে ভক্তগণ কৃপার জন্য তার নিকট আসতেন। এক ভক্ত তার পুত্রের দুরারোগ্য যক্ষ্মার মুক্তির জন্য তার নিকট আসেন। লোকনাথ বুঝতে পারেন সেই পুত্রের আয়ু শেষ হয়ে এসেছে। তবুও ভক্তকে কৃপা করে যক্ষ্মা রোগ নিজ শরীরে গ্রহণ করেন। পুত্রটি ধিরে ধিরে রোগ মুক্ত হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তার মৃত্য হয়।
  • (২) কিন্তু যক্ষ্মা রোগ লোকনাথের শরীরে ক্রমে ক্রমে বাড়তে থাকে। এরপর ১৯ জৈষ্ঠ্য তিনি তার দেহত্যাগের ঘোষণা দেন। এই সংবাদ পেয়ে ভারাক্রান্ত ও অশ্রুসিক্ত ভক্তগণ দলে দলে আসতে থাকে বারদীর আশ্রমে। সেখানে তিনি সবাইকে প্রসাদ গ্রহণ করতে বলেন।

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান

বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান হয় বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার বারদী গ্রামে ২ জুন ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে। প্রতিবছর ২ জুন বাবা লোকনাথের তিরোধান দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর প্রণাম মন্ত্র

ওঁম যোগীন্দ্রায় নমস্তুভ্যং ত্যাগীস্বরায় বৈ নমঃ

ভুমানন্দ স্বরূপায় লোকনাথায় নমো নমঃ,

নমামি বারদীচন্দ্রং নন্দন কাননেস্মরং হরিম ।

নমামি ত্রিলোকনাথাং লোকনাথাং কল্পতরুম

ওঁ নমঃ শিবায় শান্তায় কারনত্রয়হেতবে ।

নিবেদয়ামি চাত্মানং গতিস্তং পরমেশ্বরঃ

নমস্তে গুরুরূপায় নমস্তে ত্রীকাল দরশিনে

নমস্তে শিবরূপায় ব্রহ্মাত্মনে নমো নমঃ

জয় বাবা লোকনাথ, জয় মা লোকনাথ,

জয় শিব লোকনাথ, জয় ব্রহ্ম লোকনাথ, জয় গুরু লোকনাথ।

ওম শান্তি, ওম শান্তি, ওম শান্তি, ওম।

লোকনাথ ব্রহ্মচারীর প্রণাম মন্ত্রের তাৎপর্য

প্রতিদিন যদি নিয়ম করে আপনি বাবা লোকনাথের এই মন্ত্রটি জপ করতে পারেন তাহলে আপনার জীবনে আর কোনো অশান্তি থাকবে না। বাবা লোকনাথ আপনাকে যে কোনো সময় যে কোনো বিপদ থেকে রক্ষা করবে। অবশ্যই আপনাকে শ্রদ্ধা ভক্তি ভরে এবং মনে বিশ্বাস নিয়ে বাবা লোকনাথকে ডাকতে হবে।

উপসংহার :- ত্রিকালদর্শী বাবা লোকনাথ বলেছেন, ‘প্রতিদিন রাতে শোবার সময় সারাদিনের কাজের হিসাব-নিকাশ করবি অর্থাৎ ভাল কাজ কী কী করেছিস আর খারাপ কাজ কী কী করেছিস? যে সকল কাজ খারাপ বলে বিবেচনা করলি সে সকল কাজ আর যাতে না করতে হয় সেদিকে খেয়াল রাখবি।’ আবার তিনি বলেছেন, ‘সূর্য উঠলে যেমন আঁধার পালিয়ে যায়। গৃহস্থের ঘুম ভেঙে গেলে যেমন চোর পালিয়ে যায়, ঠিক তেমনি বার-বার বিচার করলে খারাপ কাজ করবার প্রবৃত্তি পালিয়ে যাবে।’

(FAQ) লোকনাথ ব্রহ্মচারী সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. লোকনাথ ব্রহ্মচারীর প্রকৃত নাম কি?

লোকনাথ ঘোষাল।

২. লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্ম কখন হয়?

৩১ আগস্ট ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে এবং ১৮ ই ভাদ্র ১১৩৭ বঙ্গাব্দে।

৩. লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্ম কোথায় হয়?

২৪ পরগনা জেলার কচুয়া গ্রামে ব্রাহ্মণ পরিবারে।

৪. লোকনাথ ব্রহ্মচারীর পিতামাতার নাম কি?

পিতা রামনারায়ণ ঘোষাল এবং মাতা কমলাদেবী।

৫. লোকনাথ ব্রহ্মচারীর গুরু কে ছিলেন?

ভগবান গাঙ্গুলি।

৬. লোকনাথ ব্রহ্মচারী কত বছর বয়সে সিদ্ধি লাভ করেন?

৯০ বছর।

৭. লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম কোথায় ছিল?

বারদী গ্ৰামের ছাওয়াল বাঘিনী নদীর তীরে।

৮. লোকনাথ ব্রহ্মচারীর মৃত্যু হয় কখন?

জুন ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে।

৯. মৃত্যুকালে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর বয়স কত ছিল?

১৬০ বছর।

অন্যান্য ঐতিহাসিক চরিত্রগুলি

Leave a Comment