তাইপিং বিদ্রোহ ও বক্সার বিদ্রোহের তুলনামূলক আলোচনা

তাইপিং বিদ্রোহ ও বক্সার বিদ্রোহের তুলনামূলক আলোচনা প্রসঙ্গে তাইপিং বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট, বক্সার বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট, মাঞ্চু শাসন-বিরোধী তাইপিং বিদ্রোহ, বিদেশি বিরোধী বক্সার বিদ্রোহ, রাজতন্ত্রের সহায়তার ক্ষেত্রে তাইপিং বিদ্রোহ ও বক্সার বিদ্রোহের তফাৎ, আধুনিকতার ক্ষেত্রে তাইপিং ও বক্সার বিদ্রোহের পার্থক্য, ধর্মের দিক দিয়ে তাইপিং বিদ্রোহ, ধর্মের দিক দিয়ে বক্সার বিদ্রোহ, ব্যাপকতা ও স্থায়ীত্বের দিক দিয়ে তাইপিং ও বক্সার বিদ্রোহের তফাৎ, তাইপিং সংগঠন ও কর্মসূচি, বক্সার বিদ্রোহের সংগঠন ও কর্মসূচি এবং তাইপিং বিদ্রোহ ও বক্সার বিদ্রোহের সাদৃশ্য সম্পর্কে জানবো।

তাইপিং বিদ্রোহ ও বক্সার বিদ্রোহের তুলনামূলক আলোচনা

ঐতিহাসিক ঘটনাতাইপিং বিদ্রোহ ও বক্সার বিদ্রোহের তুলনামূলক আলোচনা
তাইপিং বিদ্রোহ১৮৫০-৬৪ খ্রি
নেতাহুং শিউ চুয়ান
বক্সার বিদ্রোহ১৮৯৯-১৯০১ খ্রি
বক্সার প্রোটোকল৭ সেপ্টেম্বর ১৯০১ খ্রি
তাইপিং বিদ্রোহ ও বক্সার বিদ্রোহের তুলনামূলক আলোচনা

ভূমিকা :- চিনের আধুনিক ইতিহাসে দুটি গণঅভ্যুত্থান তাইপিং বিপ্লব (১৮৫০-৬৪ খ্রিস্টাব্দ) এবং বক্সার বিদ্রোহ (১৮৯৯-১৯০১ খ্রিস্টাব্দ) উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে আছে। দুটি অভ্যুত্থানই চীনের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে গভীর রেখাপাত করেছিল। অভ্যুত্থান দুটি ঘটেছিল ভিন্ন সময়ে এবং কর্মসূচি ও উদ্দেশ্যের দিক দিয়ে বিদ্রোহ দু’টির মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছিল। তথাপি এই অভ্যুত্থান দু’টির মধ্যে প্রতিষ্ঠান বিরোধী প্রতিবাদের ধারা প্রতিফলিত হয়েছিল। দুটি ক্ষেত্রেই চিনের সাধারণ মানুষ প্রতিবাদের ধ্বজা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিলেন।

তাইপিং বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট

  • (১) প্রথম ও দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে চিন চুক্তি ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছিল। ব্রিটেনের হাতে চিনের শোচনীয় পরাজয় চীনের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা বিঘ্নিত করেছিল। ব্রিটেন সহ একাধিক পাশ্চাত্য দেশের সঙ্গে চিন অসম চুক্তি সম্পাদন করতে বাধ্য হয়েছিল। বিভিন্ন পাশ্চাত্য দেশ চিনের বিভিন্ন স্থানে “অতি আঞ্চলিক অধিকার” অর্জন করেছিল।
  • (২) চিন একটি আধা-ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। বিদেশি আগ্রাসনের মুখে চিনের মাঞ্চু সরকারের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। মাঞ্চু রাজতন্ত্রের মর্যাদাহানি ঘটেছিল। বিদেশি আক্রমণকারীদের সামনে মাঞ্চু সরকারের নির্লজ্জ আত্মসমর্পণ উনিশ শতকের মধ্যভাগে মাঞ্চু-বিরোধী জঙ্গি অভ্যুত্থানের পথ প্রশস্ত করেছিল। এই প্রক্রিয়ার অনিবার্য পরিণতি ছিল তাইপিং বিপ্লব।

বক্সার বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট

  • (১) উনিশ শতকের অন্তিম লগ্নের মধ্যেই পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি চিনের ওপর তাদের কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করেছিল। চিনের প্রতিটি বিষয়ে পাশ্চাত্য শক্তিবর্গের হস্তক্ষেপ এবং অর্ধশতাব্দী ধরে চিনে বিদেশিদের সদম্ভ উপস্থিতি চিনাদের ক্ষুব্ধ করেছিল। সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব চিনের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
  • (২) সরকারি ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকার করের হার বৃদ্ধি করে। করভারে জর্জরিত চিনের মানুষরা অনেকেই দস্যুবৃত্তি গ্রহণ করেন বা বিভিন্ন গুপ্ত সমিতিতে যোগ দেন। বদমেজাজি বিদেশি কনসালরা ও মন্ত্রীরা এবং উগ্র খ্রিস্টান মিশনারির দল চিনের সাধারণ মানুষের সঙ্গে অকথ্য দুর্ব্যবহার করত।
  • (৩) বিদেশিদের অভব্য আচরণ চিনাদের আত্মমর্যাদাবোধ ও জাতীয়তাবাদী দম্ভে আঘাত করেছিল। এই পরিস্থিতি উনিশ ও বিশ শতকের সন্ধিক্ষণে চিনের বক্সার বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল।

মাঞ্চু শাসন-বিরোধী তাইপিং বিদ্রোহ

তাইপিংদের অভ্যুত্থান ছিল মূলত মাঞ্চু শাসন-বিরোধী বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিল চিনকে মাঞ্চু অপশাসন থেকে মুক্ত করা। তাইপিংদের মাঞ্চু-বিরোধী জেহাদ ছিল জাতীয়তাবাদী আদর্শের দ্বারা অনুপ্রাণিত। তাইপিং বিদ্রোহীরা তাঁদের জেহাদে বিদেশি তার্তার বংশোদ্ভূত মাঞ্চু শাসকদের অপদার্থতার কথা তুলে ধরে বিশ্বের দরবারে চিনের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করার জন্য মাঞ্চুদের সরাসরি অভিযুক্ত করেছিলেন।

বিদেশি বিরোধী বক্সার বিদ্রোহ

  • (১) বক্সার বিদ্রোহ ছিল মূলত বিদেশি-বিরোধী। বিদ্রোহের প্রাথমিক পর্বে অবশ্য এই বিদ্রোহ ছিল একই সঙ্গে মাঞ্চু রাজবংশ-বিরোধী এবং বিদেশি-বিরোধী। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই চিনের রাজদরবারের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বিশেষত বিধবা সম্রাজ্ঞী বক্সার বিদ্রোহীদের যখন মদত দেন, তখন থেকেই বক্সাররা চিং রাজতন্ত্রের সমর্থক হয়ে ওঠেন।
  • (২) এরপর তাঁদের আক্রমণের মূল লক্ষ্যে পরিণত হন বিদেশিরা। জ্যাক গ্রে বলেছেন, বক্সারদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বিদেশিদের চীন থেকে বিতাড়িত করা। ফেয়ারব্যাঙ্ক বলেছেন, পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের উপস্থিতির ফলে চিনের জনজীবনে যে গভীর সংকট দেখা দিয়েছিল, বক্সার বিদ্রোহ ছিল তার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম।

রাজতন্ত্রের সহায়তার ক্ষেত্রে তাইপিং বিদ্রোহ ও বক্সার বিদ্রোহের তফাৎ

বক্সাররা চিং রাজদরবারের একাংশের সমর্থন পেলেও, চিং রাজতন্ত্র কিন্তু সর্বশক্তি নিয়োগ করে তাইপিং বিদ্রোহ দমন করেছিল। বক্সারদের দমন করার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা নেয় বিদেশি শক্তিবর্গ। তাইপিং বিদ্রোহের পরবর্তী পর্যায়ে বিদেশিরা তাইপিং বিদ্রোহের বিরোধিতায় অবতীর্ণ হয়েছিল। সেদিক থেকে মাঞ্চু রাজতন্ত্র এবং বিদেশি দুই এরই বরোধিতার শিকার হন তাইপিং বিপ্লবীরা।

আধুনিকতার ক্ষেত্রে তাইপিং ও বক্সার বিদ্রোহের পার্থক্য

  • (১) তাই পিং মতাদর্শে আধুনিকতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছিল। “কৃষক কল্পরাজ্য” গঠন, মাঞ্চু-বিরোধী জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি প্রথাগত ধ্যান-ধারণার সঙ্গে পাশ্চাত্যের আধুনিক ধ্যান-ধারণার সংমিশ্রণ ঘটেছিল তাইপিং মতাদর্শে। একদিকে সামাজিক মুক্তি অর্জন এবং অন্যদিকে আধুনিক কৌশল আয়ত্ত করার জন্য তাঁরা উদ্‌গ্রীব ছিলেন।
  • (২) কিন্তু বক্সার বিদ্রোহীদের মধ্যে প্রাক্- আধুনিক সনাতন ধ্যান-ধারণার প্রভাব থেকে গিয়েছিল। বক্সাররা ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। মতাদর্শ দিয়ে জনসাধারণকে প্রভাবিত করার পরিবর্তে মুষ্টিযুদ্ধ অনুশীলনের মাধ্যমে তাঁরা জনগণকে আকৃষ্ট করার পক্ষপাতী ছিলেন। বক্সাররা বিশ্বাস করতেন, নানা ধরনের জাদুবিদ্যার অনুশীলন তাদের অপরাজেয় করে তুলেছে। তাইপিংদের মধ্যে এ ধরনের কুসংস্কার ছিল না।

ধর্মের দিক দিয়ে তাইপিং বিদ্রোহ

তাইপিং বিপ্লবীদের নিজস্ব একটা ধর্ম ছিল। তাইপিং ধর্মের ওপর খ্রিস্টান ধর্মের সুস্পষ্ট প্রভাব ছিল। অন্যতম তাইপিং নেতা হুং রেন-গান প্রোটেস্টান্ট ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।

ধর্মের দিক দিয়ে বক্সার বিদ্রোহ

  • (১) বক্সার বিদ্রোহ ছিল পুরোপুরি খ্রিস্টান ধর্ম-বিরোধী। কনফুসীয় মতবাদ, তাওবাদ এবং বৌদ্ধধর্মের প্রভাবে প্রভাবিত রক্ষণশীল চিনা বুদ্ধিজীবীরা প্রচার করেছিলেন খ্রিস্টধর্মের অশুভ প্রভাব চিনের সংকটের জন্য দায়ী। তাই বিদ্রোহীদের পক্ষে খ্রিস্টধর্ম-বিরোধী হয়ে ওঠা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল।
  • (২) তাছাড়া খ্রিস্টান মিশনারিদের চিনাদের প্রতি দুর্ব্যবহার এবং তাদের ধর্মান্তরিত করার মিশনারি প্রয়াস চিনাদের ক্ষুব্ধ করেছিল। তাই বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পরই বিদ্রোহীরা খ্রিস্টান চার্চগুলি অগ্নিদগ্ধ করেছিলেন এবং অসংখ্য খ্রিস্টান মিশনারিকে হত্যা করেছিলেন।

ব্যাপকতা ও স্থায়ীত্বের দিক দিয়ে তাইপিং ও বক্সার বিদ্রোহের তফাৎ

  • (১) বক্সার বিদ্রোহের তুলনায় তাইপিং বিদ্রোহ ছিল অনেক বেশি ব্যাপক ও স্থায়ী। তাইপিং অভ্যুত্থানের সূচনা ঘটেছিল কোয়াংসি প্রদেশের তিয়েনসিন গ্রামে। তারপর এই বিদ্রোহ চীনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। গোটা দক্ষিণ চিন জুড়ে ইয়াংসি নদীর দক্ষিণে তাইপিংরা সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। তারপর বিদ্রোহীরা মধ্যচিনের বিস্তীর্ণ এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেন।
  • (২) কিন্তু বক্সার বিদ্রোহের ক্ষেত্র তাইপিং বিদ্রোহের মতো ব্যাপক ছিল না। মূলত শহরাঞ্চল এবং খ্রিস্টান মিশনারি কার্যকলাপের এলাকাগুলির মধ্যে বক্সার অভ্যুত্থান সীমিত ছিল। তাছাড়া তাইপিং বিদ্রোহ দীর্ঘকাল অর্থাৎ প্রায় ১৫ বছর ধরে চলেছিল। সেখানে বক্সার বিদ্রোহ মাত্র দু-বছরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।

তাইপিং বিদ্রোহের সংগঠন ও কর্মসূচি

  • (১) সংগঠন ও কর্মসূচির দিক দিয়ে তাইপিং বিপ্লবীরা বক্সার বিদ্রোহীদের তুলনায় অনেক বেশি অগ্রসর ছিলেন। তাইপিং সাংগঠনিক ভিত্তি ছিল অনেক বেশি সুদৃঢ়। সাংগঠনিক দক্ষতাকে পুঁজি করে তাইপিংরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের প্রতিবাদী সংগ্রাম টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।
  • (২) তাইপিং নেতা হুং শিউ চুয়ান “তাইপিং তিয়েন কুও” বা মহতী শান্তির স্বর্গরাজ্য গঠনের কথা ঘোষণা করেন। ‘তাইপিং’ কথাটির অর্থ ‘মহান সামাজিক সংহতি’। এই কথার মধ্যেই বিপ্লবীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ধরা পড়ে। তাইপিং অভ্যুত্থানের অনুপ্রেরণা ছিল “কৃষক কল্পরাজ্য” গঠনের প্রাচীন চীনা ঐতিহ্য। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল তাইপিংদের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি।
  • (৩) নারী ও পুরুষকে সমান মর্যাদার আসনে বসিয়ে তাইপিংরা কনফুসীয় ঐতিহ্যের বিরোধিতা করেছিলেন। প্রাথমিক সাফল্যের পর তাইপিংরা নানকিং-এ স্বর্গীয় রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তখন তাঁরা ভূমিব্যবস্থা সংক্রান্ত একটা দলিল প্রকাশ করেন। এই দলিল প্রমাণ করে তাইপিংদের মধ্যে সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার ব্যাপারে একটা সুস্পষ্ট ধারণা ছিল।

বক্সার বিদ্রোহের সংগঠন ও কর্মসূচি

  • (১) চিনে বক্সার বিদ্রোহীদের কিন্তু কোনো উন্নতমানের সামাজিক কর্মসূচি ছিল না। তাছাড়া একটি বিদ্রোহ পরিচালনার জন্য যে সাংগঠনিক দক্ষতা থাকা দরকার সেই ধরনের কোনো দক্ষ সংগঠন বক্সারদের ছিল না। সেদিক থেকে তাইপিংদের তুলনায় বক্সাররা অনেক বেশি পিছিয়ে ছিলেন।
  • (২) বক্সাররা খ্রিস্টান ও ইউরোপীয়দের বিরোধিতার মধ্যে তাদের কর্মসূচি সীমিত রেখেছিলেন। তাছাড়া তাইপিংরা বিপ্লবী কর্মকাণ্ড শেষ করার পর একটি বিকল্প রাষ্ট্রব্যবস্থার সন্ধান দিয়েছিলেন। কিন্তু বক্সারদের সামনে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না।

তাইপিং ও বক্সার বিদ্রোহের সাদৃশ্য

  • (১) চিনের তাইপিং ও বক্সার বিদ্রোহের মধ্যে কতকগুলি ক্ষেত্রে সাদৃশ্য লক্ষ করা গিয়েছিল। দুটি অভ্যুত্থানের পেছনেই চীনের গুপ্ত সমিতির সক্রিয় ভূমিকা ছিল। জাঁ শ্যেনো বলেছেন, চিনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গুপ্ত সমিতিগুলি সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।
  • (২) চিনের আধুনিক ইতিহাসে একটি প্রতিষ্ঠান-বিরোধী অভ্যুত্থান সংগঠিত করার ক্ষেত্রে প্রথম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল শ্বেতপদ্ম সমিতি নামে একটি গুপ্ত সমিতি। ১৭৯৬-১৮০৪ পর্যন্ত শ্বেত পদ্ম বিদ্রোহ চলেছিল। তারপর উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করেই তাইপিং অভ্যুত্থান ঘটেছিল।
  • (৩) হুং শিউ চুয়ানের নেতৃত্বাধীন ঈশ্বর ভক্ত সমিতি তাইপিং বিপ্লব সংগঠিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। বক্সার বিদ্রোহ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় “আই হো চুয়ান” নামক গুপ্ত সমিতি। আই হো চুয়ান শব্দের অর্থ “ন্যায়পরায়ণ ও সমন্বয়পূর্ণ মুষ্টি”। আই হো চুয়ানের সদস্যদের বিদেশিরা বক্সার বলে অভিহিত করতেন।
  • (৪) তাছাড়া অভ্যুত্থান দুটির শ্রেণীভিত্তি ছিল মোটামুটি একই রকম। দু’টি ক্ষেত্রেই বিদ্রোহীরা ছিলেন দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ। বিশেষত দরিদ্র কৃষকদের অংশগ্রহণ দুটি বিদ্রোহের মধ্যে সাদৃশ্য স্পষ্ট করে তুলেছিল।

উপসংহার :- বিশ্বের মানবমুক্তির ইতিহাসে অন্যতম মহান সংগ্রাম হিসাবে স্বীকৃত তাইপিং অভ্যুত্থান। আর চীনের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন বক্সাররা।

(FAQ) তাইপিং বিদ্রোহ ও বক্সার বিদ্রোহের তুলনামূলক আলোচনা সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. তাইপিং বিদ্রোহ ও বক্সার বিদ্রোহ কোথায় হয়?

চিনে।

২. তাইপিং বিদ্রোহের সময়কাল কত?

১৮৫০-৬৪ খ্রিস্টাব্দ।

৩. বক্সার বিদ্রোহের সময়কাল কত?

১৮৯৯-১৯০১ খ্রিস্টাব্দ।

৪. তাইপিং বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন?

হুং শিউ চুয়ান।

অন্যান্য ঐতিহাসিক ঘটনাগুলি

Leave a Comment