মিরজাফর

মিরজাফর -এর জন্ম, আলিবর্দি খানের অধীনে চাকরি, যুদ্ধে খ্যাতি লাভ, প্রধান সেনাপতি, বাংলার সিংহাসন লাভ, আর্থিক সংকট, ক্লাইভের ওপর নির্ভরতা, স্বাধীনতা খর্বিত, শাহ আলমের বাংলা আক্রমণ, মারাঠা আক্রমণ, ক্লাইভের গর্দভ, ওলন্দাজদের সাথে বন্ধুত্ব, বিদরার যুদ্ধ, ইংরেজদের একাধিপত্য, গভর্নরের ভ্যান্সিটার্টের আগমন, মিরকাশিমের সাথে কোম্পানির গোপন চুক্তি, চুক্তির শর্ত, মিরজাফরের পদচ্যুতি, ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দের বিপ্লব, দ্বিতীয়বার বাংলার নবাব, বক্সারের যুদ্ধ ও মিরজাফরের মৃত্যু সম্পর্কে জানবো।

মিরজাফর

রাজত্বকাল১৭৫৭-৬০ এবং ১৭৬৩-৬৫ খ্রিস্টাব্দ
পূর্বসূরিসিরাজদ্দৌলা
উত্তরসূরিমিরকাশিম
রাজধানীমুর্শিদাবাদ
মিরজাফর

ভূমিকা :- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধ -এ নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর মিরজাফর বাংলার সিংহাসনে বসেন (২৬শে জুন, ১৭৫৭ খ্রিঃ)। যুদ্ধের পূর্বে সম্পাদিত গোপন চুক্তি অনুসারে তিনি কোম্পানিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেবার প্রতিশ্রুতি দেন।

জন্ম

মিরজাফর ১৬৯১ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ আহমেদ নাজাফি। মীর জাফর ছিলেন ইরানি বংশোদ্ভূত। তিনি তার বাবা-মার প্রথম সন্তান ছিলেন।

আলিবর্দি খানের অধীনে চাকরি

মিরজাফর পারস্য থেকে নি:স্ব অবস্থায় ভাগ্যান্বেষণে বাংলায় আসেনএবং বিহারের নায়েব নাযিম আলীবর্দী খানের অধীনে চাকরি গ্রহণ করেন।

যুদ্ধে খ্যাতি লাভ

১৭৪০ সালে সংঘটিত গিরিয়ার যুদ্ধে মিরজাফর আলীবর্দী খানের হয়ে নবাব সরফরাজ খানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং খ্যাতি লাভ করেন।

প্রধান সেনাপতি

নবাব আলীবর্দী খান তার দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলাকে বাংলার নবাব করায় ক্ষুব্ধ হন মীর জাফর। তাই তিনি প্রধান সেনাপতি হয়েও কখনোই সিরাজউদ্দৌলাকে নবাব হিসেবে মেনে নিতে পারেন নি। সব সময় তিনি চেয়েছেন বাংলার নবাবের পতন।

সিংহাসন লাভ

বিশ্বাসঘাতকতা করে তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রবার্ট ক্লাইভের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন, এবং পলাশীর যুদ্ধে মূলত তার কারণেই ব্রিটিশদের হাতে সিরাজদ্দৌলার পরাজয় ঘটে। এই বিশ্বাসঘাতী ষড়যন্ত্রে ইয়ার লতিফ, জগত শেঠ, রায় দুর্লভ, উঁমিচাদ প্রমুখ সামিল ছিল। এই যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মিরজাফরকে নবাবের মসনদে অধিষ্ঠিত করে।

আর্থিক সংকট

সিংহাসনে বসে তিনি দেখেন যে রাজকোষে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ নেই। এই অবস্থায় তিনি আসবাবপত্র এবং মূল্যবান ধাতুনির্মিত বাসনপত্র বিক্রি করে

  • (১) কোম্পানিকে দেড় কোটি টাকা দেন।
  • (২) ক্লাইভ ব্যক্তিগতভাবে ২০ লক্ষেরও কিছু বেশি টাকা এবং বার্ষিক ৩০ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি জায়গির আদায় করেন।
  • (৩) কলকাতা কাউন্সিলের প্রত্যেক সদস্য ৩০ থেকে ৮০ হাজার পাউন্ড উপঢৌকন পান।
  • (৪) কোম্পানির নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর প্রধানদের ২৫ লক্ষ টাকা দিতে হয়।
  • (৫) কোম্পানি ২৪ পরগণার জমিদারি-স্বত্ব লাভ করে এবং স্থির হয় যে নদিয়া, হুগলি ও বর্ধমানের রাজস্বও কোম্পানির হাতে তুলে দিতে হবে। ২৪-পরগণার জমিদারি থেকে কোম্পানি বছরে ৫ লক্ষ টাকা আয় করত।
  • (৬) কোম্পানি বিহারে একচেটিয়া সোরা ব্যবসায়ের অধিকার পায়।
  • (৭) স্থির হয় যে, নবাব আলিনগরের সন্ধির শর্তাদি মেনে চলবেন।
  • (৮) কোম্পানি ও তার কর্মচারীরা বাংলায় বিনাশুল্কে বাণিজ্য করবে।
  • (৯) কলকাতায় ইংরেজ কোম্পানির একটি টাঁকশাল স্থাপিত হবে।
  • (১০) সিরাজের কলকাতা আক্রমণকালে (১৭৫৬ খ্রিঃ) ইংরেজ ও ভারতীয় নাগরিকদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তাও তিনি মেটাবেন।

পার্সিভ্যাল স্পিয়ারের অভিমত

ঐতিহাসিক পার্সিভ্যাল স্পিয়ার (Percival Spear) বলেন যে, এইভাবে “বাংলার আর্থিক রক্তক্ষরণ শুরু হয়।”বস্তুত বাংলার এই শোচনীয় আর্থিক অবস্থা মোকাবিলা করার ক্ষমতা মিরজাফরের ছিল না।

ক্লাইভের ওপর নির্ভরতা

  • (১) সিংহাসনে বসার পর মিরজাফর তাঁর কিছু কর্মচারীর বিদ্রোহের সম্মুখীন হন এবং তাঁরা মিরজাফরের সিংহাসন লাভের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
  • (২) এই সব বিদ্রোহীরা হলেন মেদিনীপুরের শাসনকর্তা রাজা রামরাম সিংহ, বিহারের শাসনকর্তা রামনারায়ণ, পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা হাজির আলি।
  • (৩) মিরজাফর সন্দেহকরেন যে, এই সব বিদ্রোহের পশ্চাতে তাঁর সেনাপতি রায়দুর্লভ-এর মদত আছে। নবাবি সেনাদল এই সব বিদ্রোহ দমন করতে যেতে অস্বীকার করে, কারণ তারা দীর্ঘদিন কোনও বেতন পায় নি।
  • (৪) শেষ পর্যন্ত ক্লাইভের সেনাদলের সাহায্যে মেদিনীপুর ও পূর্ণিয়ার বিদ্রোহ দমন করা হয় এবং এর ফলে মিরজাফর ক্লাইভের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। মিরজাফরকে সাহায্যের বিনিময়ে ক্লাইভ অবশ্য প্রচুর অর্থ আদায় করেন।
  • (৫) স্থির হয় যে, কোম্পানির সেনাদলের সাহায্যের বিনিময়ে মিরজাফর প্রতি মাসে কোম্পানিকে ১ লক্ষ টাকা করে দেবেন। আসলে কোম্পানি তখন নানাভাবে তাঁর কাছ থেকে অর্থ আদায় করছিল।

ম্যালেসনের অভিমত

ঐতিহাসিক ম্যালেসন বলেন যে, কোম্পানির কাছে মিরজাফর ছিলেন টাকার থলি, যেখানে হাত ঢোকালেই ইচ্ছেমতো টাকা পাওয়া যাবে এবং টাকা আদায়ের ব্যাপারে ন্যায়-অন্যায় বা সম্ভব-অসম্ভব কোনও কিছুই তাদের বিবেচনার মধ্যে ছিল না।

স্বাধীনতা খর্বিত

  • (১) নবাবের ইচ্ছা ছিল যে তিনি রামরাম সিংহ, রামনারায়ণ ও রায়দুর্লভকে কঠোর শাস্তি দেবেন, কিন্তু ক্লাইভের হস্তক্ষেপে তা সম্ভব হল না।
  • (২) ক্লাইভ নবাবের সঙ্গে তাঁদের বিবাদ আপোশে মিটিয়ে দিলেন এবং এর ফলে নবাব অপেক্ষা ক্লাইভের ওপরেই তাঁদের আনুগত্য ও আস্থা বৃদ্ধি পেল।
  • (৩) দুর্বল ও অক্ষম নবাবের পক্ষে ক্লাইভের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। এইভাবে তিনি তাঁর বিদ্রোহী কর্মচারীদের শায়েস্তা করার অধিকারও হারালেন এবং তাঁর স্বাধীনতা খর্ব হতে লাগল।

শাহ আলমের বাংলা আক্রমণ

এই সময় ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির বাদশা দ্বিতীয় শাহ আলম বাংলা জয়ের উদ্দেশ্যে আক্রমণ চালান এবং বিহারে ঢুকে পড়েন। বিহারের জমিদারবর্গ ও বীরভূমের রাজা তাঁর সঙ্গে যোগদান করেন।

মারাঠা আক্রমণ

ঠিক একই সময়ে মারাঠারা উড়িষ্যার পথে বাংলার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। দ্বিতীয় শাহ আলম বা মারাঠা আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা মিরজাফরের ছিল না। তিনি সম্পূর্ণভাবে ক্লাইভ ও কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

ক্লাইভের গর্দভ

এই সময় বাংলার নবাবের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে নীচে নেমে গিয়েছিল। তাঁর সভাসদরাও তাঁকে অবজ্ঞার চোখে দেখতেন। তাঁর ওপর ক্লাইভের এমনই প্রভাব ছিল যে লোকে তাঁকে ‘ক্লাইভের গর্দভ’ বলে আখ্যায়িত করত।

ওলন্দাজদের সাথে বন্ধুত্ব

  • (১) ক্লাইভের উদ্ধত আচরণ, নানাভাবে অর্থশোষণ ও নবাবের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন মিরজাফরের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি উপলব্ধি করেন যে তাঁকে ‘নামেমাত্র’ সিংহাসনে বসিয়ে ক্লাইভই বাংলার প্রকৃত শাসক।
  • (২) এই অবস্থা থেকেমুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি গোপনে চুঁচুড়ার ওলন্দাজদের সঙ্গে ইংরেজ-বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বাংলায় ওলন্দাজদের কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ইংরেজদের প্রভাব খর্ব করা।
  • (৩) বাটাভিয়া থেকে সাহায্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নবাবের সাথে কোনও আলোচনা ব্যতিরেকেই ওলন্দাজরা হুগলি আক্রমণ করে (১৭৫৯ খ্রিঃ)।

বিদরার যুদ্ধ

ক্লাইভ বহুপূর্ব থেকেই মিরজাফরের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর লক্ষ্য রাখছিলেন এবং ওলন্দাজদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাও জানতেন। এই অবস্থায় চুঁচুড়া ও চন্দননগরের মধ্যবর্তী বিদরা নামক স্থানে দু’পক্ষে যুদ্ধ হয় এবং ক্লাইভ ওলন্দাজদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন (নভেম্বর, ১৭৫৯ খ্রিঃ)।

ইংরেজদের একাধিপত্য

বিদরার যুদ্ধে পরাজয়ের ফলেমিরজাফরের পক্ষে ইংরেজদের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার যেমন আর কোনও আশাই রইল না, তেমনি ইংরেজদের বিরোধিতা করার মতো আর কোনও বিদেশি শক্তিও বাংলায় থাকল না, কারণ ফরাসিরা রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চ থেকে আগেই অপসারিত হয়েছে।

গভর্নর ভ্যান্সিটার্টের আগমন

  • (১) ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে ক্লাইভ ভারত-ত্যাগ করেন এবং নতুন গভর্নর হন ভ্যান্সিটার্ট। এই সময় নবাবের অপদার্থতায় বাংলার শাসনযন্ত্র একেবারে ভেঙ্গে পড়ে এবং সর্বত্র চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
  • (২) অর্থগৃধু নতুন গভর্নর ভ্যান্সিটার্ট উপলব্ধি করেন যে, শূন্য রাজকোষের অধিকারী মিরজাফরের কাছ থেকে আর অর্থ আদায় করা সম্ভব নয়।
  • (৩) তাই তাঁর বিরুদ্ধে ওলন্দাজদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র ও অন্যান্য আরও কিছু সত্য-মিথ্যা অভিযোগ এনে তাঁকে অপসারিত করে তাঁর জামাতা মিরকাশিমকে সিংহাসনে বসাবার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মিরকাশিমের সাথে কোম্পানির গোপন চুক্তি

মিরজাফরকে পদচ্যুত করে মিরকাশিমকে সিংহাসনে বসানোর জন্য ভ্যান্সিটার্টের সঙ্গে মিরকাশিমের এক গোপন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় (২৭শে নভেম্বর, ১৭৬০ খ্রিঃ)।

কোম্পানির সাথে মিরকাশিমের চুক্তির শর্ত

চুক্তির শর্তে স্থির হয় যে,

  • (১) সিংহাসনে বসার পর মিরকাশিম মিরজাফরের কাছথেকে কোম্পানির প্রাপ্য সকল অর্থ পরিশোধ করবেন।
  • (২) ইংরেজ সেনার ব্যয়নির্বাহের জন্য বর্ধমান, মেদিনীপুর ও চট্টগ্রামের রাজস্ব আদায়ের অধিকার কোম্পানিকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
  • (৩) মিরকাশিম কোম্পানিকে ১০ লক্ষ টাকা এবং কলকাতা কাউন্সিলের সদস্যদের ২৯ লক্ষ টাকা উপঢৌকন দেবেন।
  • (৪) শ্রীহট্টে চুনের ব্যবসায় কোম্পানির একচেটিয়া কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
  • (৫) কোম্পানি নিজস্ব মুদ্রা প্রচলনের অধিকার পাবে।

মীরজাফরের পদচ্যুতি

চুক্তি সম্পাদনের পর মিরজাফরকে জানানো হয় যে, তিনিই নবাব থাকবেন—তবে ‘নামেমাত্র’। মিরকাশিম হবেন ‘নায়েব নাজিম’ বা ‘নায়েব সুবাদার এবং তাঁর হাতেই বাংলার প্রকৃত শাসনভার থাকবে। মিরজাফরের মতো হীনচেতামানুষও তাতে আপত্তি জানান। তখন ইংরেজ সেনা মিরজাফরের প্রাসাদ ঘেরাও করে তাঁকে পদচ্যুত করে কলকাতায় পাঠিয়ে দেয় এবং মিরকাশিম বাংলার নবাবের সিংহাসনে বসেন (অক্টোবর, ১৭৬০ খ্রিঃ)।

১৭৬০ খ্রিস্টাব্দের বিপ্লব

এইভাবে বিনা রক্তপাতে একজন নবাবকে বিতাড়িত করে অপর একজনকে নবাবকে সিংহাসনে বসানো হল। এই ঘটনা ‘১৭৬০ খ্রিস্টাব্দের বিপ্লব’ (‘Revolution of 1760’) নামে পরিচিত। বলা বাহুল্য, এই বিপ্লব ছিল দুই স্বার্থান্বেষী পক্ষের মধ্যে ‘সুবিধাজনক বিবাহ’ (‘marriage of conve nience’)—এতে কোনও ন্যায়, নীতি বা আদর্শের স্থান ছিল না।

বিনয় চৌধুরীর অভিমত

ঐতিহাসিক ডঃ বিনয় চৌধুরী বলেন যে, এই সময় কোম্পানির নতুন রাজনৈতিক দর্শনই ছিল কোম্পানির স্বার্থরক্ষা ও তার বিস্তৃতির সহায়ক না হলে বাংলার সিংহাসনে কোনও নবাবকে টিকতে না দেওয়া।

দ্বিতীয়বার বাংলার নবাব

মিরকাশিমের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানি তাকে পদচ্যুত করে দ্বিতীয়বারের জন্য মিরজাফরকে পুনরায় সিংহাসনে বসায় (১৬৩-৬৫)।

বক্সারের যুদ্ধ

২২ শে অক্টোবর ১৭৬৪ সালে মিরকাশিমের ইংরেজদের মধ্যে সংঘটিত বক্সারের যুদ্ধ -এর সময় মিরজাফর ছিলেন বাংলার নামেমাত্র নবাব।

মৃত্যু

১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দের ৫ ফেব্রুয়ারি মিরজাফরের মৃত্যু হলে তার পুত্র নজম উদ্দৌলা বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।

উপসংহার :- মিরজাফরের পদচ্যুতি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইংরেজরাই বাংলার প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী এবং তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার ওপরেই নবাবের অস্তিত্ব নির্ভরশীল। এই সময় থেকে নবাব পদ বিক্রি ইংরেজ কোম্পানির এক লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়।

(FAQ) মিরজাফর সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. কার ষড়যন্ত্রে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটে?

প্রধান সেনাপতি মিরজাফর।

২. মিরজাফরের সময় বাংলার গভর্নর কে ছিলেন?

রবার্ট ক্লাইভ।

৩. মিরজাফরকে সরিয়ে মিরকাশিমকে বাংলার নবাব করেন কে?

গভর্নর ভ্যান্সিটার্ট।

৪. মিরজাফরের রাজত্বকাল কত?

১৭৫৭ থেকে ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ এবং ১৭৬৩ থেকে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ।

Leave a Reply

Translate »