কলচুরি বংশ

কলচুরি বংশ প্রসঙ্গে বংশের প্রতিষ্ঠাতা, রাজা লক্ষ্মণরাজ, রাজা দ্বিতীয় যুবরাজ, রাজা বিক্রমাদিত্য, রাজা লক্ষ্মীকর্ণ, রাজা যশঃকর্ণ ও রাজা গয়কর্ণ সম্পর্কে জানবো।

কলচুরি বংশ

ঐতিহাসিক বংশকলচুরি বংশ
শাসনের সূচনাআনুমানিক ৮৭৫ খ্রি:
শাসনকেন্দ্রজব্বলপুর অঞ্চল
প্রতিষ্ঠাতাকোকন্ন
দিগ্বিজয়ী রাজালক্ষ্মীকর্ণ
কলচুরি বংশ

ভূমিকা :- কলচুরি রাজগণ দাবি করিতেন যে তারা মহাকাব্য ও পুরাণে বর্ণিত হৈহয় ক্ষত্রিয়গণের বংশোদ্ভূত। অন্ততঃ ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত শিলালিপিতে এদের নাম পাওয়া যায়। কলচুরিগণ নিজেদের বিষ্ণুর বংশধর বলে পরিচয় দিতেন।

কলচুরি বংশের প্রতিষ্ঠাতা

এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা কোকন্ন (আনুমানিক ৮৭৫-৯২৫ খ্রিস্টাব্দ) সম্ভবতঃ বর্তমান মধ্য প্রদেশের জব্বলপুর অঞ্চলে রাজত্ব করতেন। তিনি রাষ্ট্রকূট ও চান্দেল্ল বংশ-এর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। গুর্জর-প্রতিহারদের সাথেও তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করেছিলেন। রাষ্ট্রকূট বংশ-এর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের রীতি তিন পুরুষ ধরে অনুসৃত হয়েছিল।

কলচুরি বংশের রাজা লক্ষ্মণরাজ

কলচুরিবংশীয় লক্ষ্মণরাজ দশম শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে রাজত্ব করতেন। তিনি বঙ্গ, কোশল, গুজরাট, কাশ্মীর ও পাণ্ড্য রাজ্য-এর রাজগণকে পরাজিত করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। তিনি হয়ত লুণ্ঠনের জন্য বঙ্গদেশ, কোশল ও গুজরাটে অভিযান করেছিলেন, কিন্তু কাশ্মীর ও পাণ্ড্য রাজ্য -এর সাথে তার সম্পর্ক প্রমাণ করা কঠিন।

কলচুরি বংশের রাজা দ্বিতীয় যুবরাজ

পারমারবংশীয় দ্বিতীয় বাকপতি (মুঞ্জ) কলচুরিবংশীয় দ্বিতীয় যুবরাজকে পরাজিত করেন। কলচুরিগণের রাজধানী ত্রিপুরীও তিনি অধিকার করেছিলেন। ত্রিপুরী অল্পদিনের মধ্যেই পুনরধিকৃত হয়। কিন্তু কল্যাণের চালুক্য বংশ-এর দ্বিতীয় তৈল সম্ভবতঃ দ্বিতীয় যুবরাজকে পরাজিত করেন। দ্বিতীয় যুবরাজের উত্তরাধিকারী সম্ভবতঃ চন্দেল্লরাজ বিদ্যাধরের নিকট পরাজিত হন।

কলচুরি বংশের রাজা বিক্রমাদিত্য

গাঙ্গেয় বিক্রমাদিত্য (আনুমানিক ১০৩০-১০৪১ খ্রীস্টাব্দ) কলচুরি বংশের গৌরব পুনরুদ্ধার করেন। কথিত আছে, তিনি কীর (হিমাচল প্রদেশের কাংড়া উপত্যকা), বঙ্গ, উৎকল ও কুন্তল রাজ্যের রাজগণকে পরাজিত করেন। তিনি এলাহাবাদ ও বারাণসী অধিকার করে উত্তরে গঙ্গা নদী পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করেন। তবে তিনি পারমার বংশীয় নৃপতি রাজা ভোজ-এর নিকট পরাজিত হন।

কলচুরি বংশের রাজা লক্ষ্মীকর্ণ

  • (১) তাঁর পুত্র লক্ষ্মীকর্ণ (আনুমানিক ১০৪১-১০৭০ খ্রিস্টাব্দ) একজন খ্যাতনামা দিগ্বিজয়ী ছিলেন। অন্ততঃ কিছুকালের জন্য তিনি পশ্চিমে বণস ও মাহী নদীর উৎস থেকে পূর্বে হুগলী নদীর মোহানা পর্যন্ত, এবং উত্তরে গঙ্গা-যমুনা উপত্যকা থেকে দক্ষিণে মহানদী, বেনগঙ্গা ওয়ার্ধা ও তাপ্তী নদীর উজান অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ড নিজ শাসনাধীনে এনেছিলেন।
  • (২) কিন্তু রাজত্বকালের শেষের দিকে এই পরাক্রান্ত রাজাও বঙ্গদেশের নয়পাল ও দ্বিতীয় বিগ্রহপাল, চান্দেল্ল বংশীয় রাজা কীর্তিবর্মন, পারমার বংশীয় রাজা উদয়াদিত্য এবং চৌলুক্য বা সোলাঙ্কি বংশ-এর রাজা প্রথম ভীম, কল্যাণের চালুক্য বংশীয় রাজা প্রথম সোমেশ্বর কর্তৃক পরাজিত হন।

কলচুরি বংশের রাজা যশঃকর্ণ

তার উত্তরাধিকারী যশঃকর্ণও (আনুমানিক ১০৭৩ -১১২৫ খ্রিস্টাব্দ) পারমার, চান্দেল্ল ও চৌলুক্য রাজগণ কর্তৃক পরাজিত হন। সম্ভবতঃ তাঁর রাজত্বকালেই গাহড়বাল বংশ বারাণসী থেকে কনৌজ পর্যন্ত অঞ্চল অধিকার করেন। এর ফলে গঙ্গা-যমুনা উপত্যকার উর্বরতম জেলাগুলি কলচুরিদের হস্তচ্যুত হয়।

কলচুরি বংশের রাজা গয়কর্ণ

তার উত্তরাধিকারী গয়কর্ণ (আনুমানিক ১১৫১ খ্রীস্টাব্দ) সম্ভবতঃ চান্দেল্ল বংশীয় মানবর্মন কর্তৃক পরাজিত হন। তুম্মনের কলচুরি রাজারা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং দক্ষিণ কোশল গয়কর্ণের প্রভাবমুক্ত হয়। তাঁর উত্তরাধিকারীগণের সম্বন্ধে খুব সামান্য তথ্যই জানা যায়।

উপসংহার :- ত্রয়োদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের মধ্যে মুসলমানগণ ভানরের গিরিমালা পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করে। পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে জব্বলপুর অঞ্চলে গোন্দদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত সম্ভবতঃ কলচুরি রাজারা ঐ অঞ্চলে রাজত্ব করেছিলেন।

(FAQ) কলচুরি বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. কলচুরি বংশের শাসন শুরু হয় কখন?

আনুমানিক ৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে।

২. কলচুরি রাজারা নিজেদের কার বংশধর বলে দাবি করতেন?

বিষ্ণু।

৩. কলচুরি বংশের খ্যাতনামা দিগ্বিজয়ী রাজা কে ছিলেন?

লক্ষ্মীকর্ণ।

Leave a Comment