গাহড়বাল রাজপুত বংশ

গাহড়বাল রাজপুত বংশ প্রসঙ্গে চন্দ্রদেব গাহড়বাল, মদনচন্দ্র গাহড়বাল, গোবিন্দচন্দ্র গাহড়বাল, বিজয়চন্দ্র গাহড়বাল, জয়চন্দ্র গাহড়বাল, তুর্কী আক্রমণ, সংযুক্তা উপাখ্যান ও গাহড়বাল বংশের পতন সম্পর্কে জানবো।

গাহড়বাল রাজপুত বংশ

বিষয় গাহড়বাল রাজপুত বংশ
প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রদেব গাহড়বাল
শ্রেষ্ঠ রাজা গোবিন্দচন্দ্র গাহড়বাল
শেষ রাজা জয়চন্দ্র গাহড়বাল
পৃথ্বিরাজ রসো চাঁদ বরদাই
গাহড়বাল রাজপুত বংশ

ভূমিকা :- প্রতিহার সাম্রাজ্যের পতন হলে কনৌজ কিছুকাল রাষ্ট্রকূট শক্তির অধীনে থাকে। এরপর গাহড়বাল রাজপুত বংশ কনৌজ অধিকার করে তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

চন্দ্রদেব গাহড়বাল

১০৮৫ খ্রিস্টাব্দে চন্দ্রদেব গাহড়বাল রাষ্ট্রকূট গোপিয়াকে পরাস্ত করে কনৌজ অধিকার করেন। তিনি রাঠোর বা রাষ্ট্রকূটদের পরাস্ত করে পাঞ্চাল দেশ অধিকার করেন। কলচুরীদের পরাস্ত করে এলাহাবাদ, বারাণসী অধিকার করেন। গাহড়বাল শক্তি তুর্কী আক্রমণ থেকে হিন্দু তীর্থগুলিকে রক্ষার ব্যবস্থা করেন।

মদনচন্দ্র গাহড়বাল

চন্দ্রদেবের পর মদনচন্দ্র গাহড়বাল সিংহাসনে বসেন। তাঁর সঙ্গে গজনীর সুলতান তৃতীয় মাসুদের যুদ্ধ হয়। মদনচন্দ্রের পুত্র গোবিন্দচন্দ্র গৌড়ের রামপালের আক্রমণ প্রতিহত করেন।

গোবিন্দচন্দ্র গাহড়বাল

  • (১) এর পর গোবিন্দচন্দ্র (১১১৫-১১৫৪ খ্রি) সিংহাসনে বসেন। তিনি পূর্বদিকে রাজ্য জয় করে পাল রাজার হাত থেকে মুঙ্গের অধিকার করেন। ১১৫৮ খ্রিস্টাব্দে মদনপাল পুনরায় মুঙ্গের উদ্ধার করেন। গোবিন্দচন্দ্র বাংলার বিজয় সেনের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। মিথিলার রাজা নান্যদেবের সঙ্গেও তার সংঘাত হয়।
  • (২) গোবিন্দচন্দ্ৰ রাষ্ট্রকূট রাজ মদনপালের কাছ থেকে গোণ্ড জেলা জয় করেন। দক্ষিণের চালুক্য রাজ তৃতীয় সোমেশ্বরের সঙ্গে গোবিন্দচন্দ্রের সংঘর্ষ হয়। তিনি চালুক্য শক্তির বিরুদ্ধে চোল শক্তির সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করেন। উত্তরে কাশ্মীরের লোহার রাজবংশের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করে তিনি তুর্কী আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।
  • (৩) ডঃ মজুমদারের মতে, গোবিন্দচন্দ্র ছিলেন একজন সর্বভারতীয় প্রভাবশালী নৃপতি এবং তার আমলে কনৌজ তার পূর্ব গৌরবের কিছু ফিরে পায়। তুর্কী আক্রমণ থেকে তিনি হিন্দু তীর্থস্থানগুলি সুরক্ষা করেন। তাঁর চরিত্রে বহু সদগুণ ছিল।

বিজয়চন্দ্র গাহড়বাল

গোবিন্দচন্দ্রের পর বিজয়চন্দ্র গাহড়বাল (১১৫৫-১১৬৯ খ্রি) রাজত্ব করেন। তিনি খসরু মালিকের আক্রমণ প্রতিহত করেন।

জয়চন্দ্র গাহড়বাল

তাঁর পর সিংহাসনে বসেন জয়চন্দ্র গাহড়বাল (১১৭০-১১৯৩ খ্রি)। জয়চন্দ্রের পূর্ব সীমায় ছিল বাংলার সেন শক্তি এবং পশ্চিমে চৌহান ও চান্দেল্ল। তিনি এই প্রতিবেশীদের আক্রমণ নিরস্ত করে পৈত্রিক রাজ্য সীমা কিছুকাল রক্ষা করেন। কিন্তু পশ্চিম প্রতিবেশী চৌহান তৃতীয় পৃথ্বীরাজের সঙ্গে তার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে।

তুর্কী আক্রমণ

  • (১) গাহড়বাল ও চৌহান শক্তি যখন আত্মঘাতী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মত্ত ছিল তখন ভারতের উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে তুর্কী আগ্রাসনের প্রবাহ বন্যার মত ছুটে আসে। ভারতীয় রাজারা তাদের বিবাদ-বিসম্বাদ ভুলে একযোগে এই আক্রমণ বন্ধ করার চেষ্টা করেন নি।
  • (২) চৌহান ও গাহড়বাল দ্বন্দ্ব পরস্পরকে দুর্বল করে। ইলবারী তুর্কী সুলতান শিহাবুদ্দিন মহম্মদ ঘুরী চৌহান পৃথ্বীরাজকে আক্রমণ ও পরাস্ত করলেও জয়চন্দ্র গাহড়বাল তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। তরাইনের প্রথম যুদ্ধে জয়লাভ করলেও তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ চৌহান পরাজিত ও বন্দী হন।

গাহড়বাল বংশের পতন

পৃথ্বিরাজ চৌহানকে পরাজিত ও বন্দী করার পর মহম্মদ ঘুরী কনৌজ আক্রমণ করে জয়চন্দ্রকে পরাজিত করেন (১১৯৩ খ্রি)। এর ফলে গাহড়বাল শক্তির পতন ঘটে।

সংযুক্তা উপাখ্যান

  • (১) এই প্রসঙ্গে সংযুক্তা উপাখ্যানের কথা উল্লেখ্য। পৃথ্বীরাজ রসো কাব্যে চাঁদ বরদাই বলেছেন যে, জয়চন্দ্রের কন্যা সংযুক্তা স্বয়ম্বরা হতে ইচ্ছা করলে যে স্বয়ম্বর সভা হয় তাতে জয়চন্দ্র তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পৃথ্বীরাজকে আহ্বান করেন নি। পৃথ্বীরাজ বলপূর্বক সংযুক্তাকে হরণ করেন।
  • (২) কবি কল্পনায় বলা হয়েছে যে, সংযুক্তা, পৃথ্বীরাজকে মালা দিতে সংকল্প করেছিলেন। জয়চন্দ্র এই অপমানের প্রতিশোধের জন্য পৃথ্বীরাজের বিরুদ্ধে তুর্কীদের আহ্বান করেন। এই কাহিনীর কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই বলে মনে করা হয়।

উপসংহার :- জয়চন্দ্র গাহড়বাল কবি শ্রীহর্ষের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। শ্রীহর্ষ নিষাদ চরিত রচনা করেন।

(FAQ) গাহড়বাল রাজপুত বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. গাহড়বাল রাজপুত বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?

চন্দ্রদেব গাহড়বাল।

২. পৃথ্বিরাজ রসো কাব্য রচনা করেন কে?

চাঁদ বরদাই।

৩. কার আক্রমণে গাহড়বাল বংশের পতন ঘটে?

মহম্মদ ঘুরি।

৪. গাহড়বাল বংশের শেষ রাজা কে ছিলেন?

জয়চন্দ্র গাহড়বাল।

Leave a Reply

Translate »