সাহিত্যে নবজাগরণের প্রভাব

সাহিত্যে নবজাগরণের প্রভাব হিসেবে নতুন যুগের সাহিত্য চর্চা, নতুন যুগের সাহিত্যের উপজীব্য, নতুন যুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য, নতুন যুগের সাহিত্যের ভাষা, সাহিত্যে নবজাগরণ, ইতালিতে সাহিত্যচর্চার অবদানে দান্তে, পেত্রার্ক, বোকাচ্চিও, ম্যাকিয়াভেলি, ফ্রান্সে সাহিত্যচর্চার অবদানে ট্রুবাদুর, রেবেলিয়াস, ইংল্যান্ডে সাহিত্যচর্চার অবদানে ল্যামল্যান্ড, চসার, ফ্রান্সিস বেকন, এডমণ্ড স্পেন্সার, শেক্সপিয়ার, স্পেনে সাহিত্যচর্চা, হল্যাণ্ডে সাহিত্যচর্চা ও ইউরোপের অন্যত্র সাহিত্যচর্চা সম্পর্কে জানবো।

সাহিত্যে নবজাগরণের প্রভাব

গ্রন্থলেখক
ডিভাইন কমেডিদান্তে আলিঘেরি
দি প্রিন্সনিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
ডেকামেরণ গিয়োভানি বোকাচ্চিও
ক্যান্টারবেরিটেলসজিওফ্রে চসার
সাহিত্যে নবজাগরণের প্রভাব

ভূমিকা :- মধ্যযুগে সাহিত্য ও শিল্পচর্চা ছিল ধর্মভিত্তিক ও গির্জা-কেন্দ্রিক। গির্জা-নিয়ন্ত্রিতএই সাহিত্য ও শিল্পচর্চায় ধর্ম, দৈবশক্তি ও পরলোক প্রভৃতি প্রাধান্য পেত।

নতুন যুগের সাহিত্য

নবজাগরণ মানবতাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা বহন করে আনে। নতুন যুগের সাহিত্যে ধর্ম, দেবতা বা পরলোক নয়—এখানে মানুষ, বস্তুজগৎ ও প্রকৃতির কথা বলা হয়েছে।

নতুন যুগের সাহিত্যের উপজীব্য

মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ব্যথা-বেদনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, পাওয়া-না পাওয়া, ভালোবাসা এবং গাছ-পালা, পশু-পক্ষী, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত ও চন্দ্র-সূর্যই হল এই যুগের সাহিত্যের উপজীব্য।

নতুন যুগের সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য

গির্জার নিয়ন্ত্রণ-মুক্ত, ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবতাবাদী সাহিত্য-সৃষ্টিই হল এই যুগের বৈশিষ্ট্য।

নতুন যুগের সাহিত্যের ভাষা

মধ্যযুগে ল্যাটিন ছিল সাহিত্যের মাধ্যম, কিন্তু নতুন যুগের সূচনায় গ্রিক ও ল্যাটিন ভাষা প্রাধান্য পেলেও ধীরে ধীরে ল্যাটিনের পরিবর্তে স্থানীয় এবং কথ্য ভাষায় সাহিত্য-সৃষ্টি শুরু হয়।

সাহিত্যে নবজাগরণ

নবজাগরণের প্রভাবে এই সাহিত্যচর্চা প্রথমে ইতালিতে শুরু হলেও পরে তা ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

ইতালিতে সাহিত্যচর্চা

নবজাগরণের হাত ধরে ইতালিতে সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।যেমন –

(ক) দান্তে

  • (১) ইতালীয় নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা মহাকবি দান্তে আলিঘেরি (Dante Alighieri) ল্যাটিন ভাষায় সাহিত্য সৃষ্টি করলেও মাতৃভাষা টাসকান-এ রচনার পক্ষপাতী ছিলেন। এই টাসকান ভাষা থেকেই আধুনিক ইতালীয় ভাষার উৎপত্তি।
  • (২) দান্তে রচিত ‘ডিভাইন কমেডি’ ইতালীয় ভাষায় রচিত এক অমর সৃষ্টি। এই কাব্যে মধ্যযুগীয় জীবনধারার সমালোচনা, মানুষের প্রেম, ভালোবাসা, দেশপ্রেম, প্রাকৃতিক ঘটনা এবং সর্বোপরি স্বাধীন ও সংঘবদ্ধ ইতালীয় জাতীয়তার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। তাঁকে ‘ইতালীয় নবজাগরণের অগ্রদূত’ বলা হয়।

(খ) পেত্রার্ক

  • (১) ফ্লোরেন্সের অধিবাসী বিশিষ্ট কবি ফ্রান্সিসকো পেত্রার্ক (Francisco Petrarc) ছিলেন ‘মানবতাবাদের প্রবর্তক’ এবং ‘এই যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মনীষী’। তিনি ‘সনেট’ বা ‘চতুর্দশপদী কবিতার জনক’ হিসেবে পরিচিত।
  • (২) ইতালীয় মনীষীদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম প্রাচীন গ্রিক ও ল্যাটিন সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পের মূল্য বুঝতে পারেন এবং জনগণের মধ্যে তা প্রচারে ব্রতী হন।
  • (৩) তিনি হোমারের ‘ইলিয়াড’ও ‘ওসিডি’ কাব্যের ল্যাটিন অনুবাদ করেন। এর ফলে ল্যাটিন ভাষার চর্চা বৃদ্ধি পায়। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘সনেটস্ টু লরা’। তাঁর রচনায় জগৎ, জীবন, প্রকৃতি, মানুষ ও মানবপ্রেমের কথা আছে। পরলোক নয়—ইহলোকই তাঁর রচনার মুখ্য বিষয়।
  • (৪) তিনি প্রাচীন পুরাতত্ত্বের চর্চা করতেন। এর ফলে প্রাচীন মুদ্রা, শিলালিপি ও পুঁথিপত্রের অনুসন্ধান ও গবেষণা বৃদ্ধি পায়। তিনি বহু কষ্টে—এমনকী অনেক সময় নিজ জীবন বিপন্ন করেও প্রায় দুশো গ্রিক ও ল্যাটিন পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেন। এগুলির মধ্যে রোমের বিখ্যাত বাগ্মী সিসেরো-র ‘পত্রাবলী’ বিখ্যাত।
  • (৫) ঐতিহাসিক উইল ডুরান্ট (Will Durant) তাঁকে ‘নবজাগরণের জনক’ (‘Father of Renaissance’) বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে “পেত্রার্ক ছিলেন প্রথম মানবতাবাদী চিন্তাবিদ এবং মানুষের জীবন নিয়ে সাহিত্য সৃষ্টির অধিকার তিনিই প্রথম ঘোষণা করেন।”

(গ) বোকাচ্চিও

  • (১) পেত্রার্ক-এর শিষ্য এবং বিশিষ্ট কবি ও লেখক গিয়োভানি বোকাচ্চিও (Giovanni Boccaccio) ‘ইতালীয় গদ্যসাহিত্যের জনক’ হিসেবে স্বীকৃত।
  • (২) তাঁর রচিত ‘ডেকামেরন’ নামক জীবনমুখী কাব্যগ্রন্থটি ইতালীয় গদ্যসাহিত্যের উৎকৃষ্ট নিদর্শন। এটি তাঁর রচিত একশোটি গল্পের সংকলন। এই গ্রন্থে তিনি একদিকে সমাজের নানা পঙ্কিলতা, যাজক ও অভিজাতদের দুর্নীতি তুলে ধরেছেন, আবার অপরদিকে অতি সহজ ও সরলভাবে মানুষের আনন্দ, ভালোবাসা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথাও বিবৃত করেছেন।
  • (৩) গুরু পেত্রার্কের সঙ্গে মিলিত হয়ে তিনি বহু প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেন এবং ইতালিবাসীদের মনে প্রাচীন গ্রিক ও ল্যাটিন ভাষা ও সাহিত্যানুরাগ সৃষ্টি করেন। তাঁরই অনুরোধে পেত্রার্ক ‘ইলিয়াড’ ও ‘ওডিসি’ গ্রন্থ দুটি ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করেন। তিনি প্রাচীন যুগের ভূগোলের উপরেও একটি গ্রন্থ রচনা করেন।

(ঘ) ম্যাকিয়াভেলি

  • (১) কৃতী নাট্যকার, ঐতিহাসিক, কবি ও রাজনীতিজ্ঞ নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি (Nicolo Machiavelli) তাঁর ‘দি প্রিন্স’ নামক রাজনীতি-বিষয়ক গ্রন্থের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন। এই গ্রন্থটি ইতালীয় ভাষায় রচিত।
  • (২) তিনি তাঁর জন্মস্থান ফ্লোরেন্সের নেতৃত্বে এক ঐক্যবদ্ধ ইতালির স্বপ্ন দেখতেন। ফ্লোরেন্সের সক্রিয় রাজনীতিবিদ ম্যাকিয়াভেলি বুঝেছিলেন যে, শক্তিশালী শাসকই সুশাসনের ভিত্তি এবং এই শক্তিশালী শাসকের অধীনেই ইতালির স্বাধীনতা ও ঐক্য অর্জিত হবে।
  • (৩) ‘দি প্রিন্স’ গ্রন্থে তিনি রাষ্ট্র ও রাজনীতির কথাই বলেছেন। তাঁর মতে, রাজনীতির ক্ষেত্রে ধর্ম, নৈতিকতা বা ন্যায়-অন্যায় বলে কিছু নেই। তাঁকে ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক’ বলা হয়।

ফ্রান্সে সাহিত্যচর্চা

ফ্রান্সে নবজাগরণের সময় সাহিত্যক্ষেত্রে বিভিন্ন সাহিত্যিক ও লেখক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যেমন –

(ক) ট্রুবাদুর

মধ্যযুগের ফ্রান্সে ট্রুবাদুর নামে একদল ভ্রাম্যমান গীতিকবির আবির্ভাব হয়। তাঁরা তাঁদের গীতিকবিতার মাধ্যমে গির্জা ও যাজকদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। গির্জা তাঁদের ‘ধর্মচ্যুত’ বলে ঘোষণা করলেও তাঁরা তাঁদের মতাদর্শ থেকে বিচ্যুত হন নি।

(খ) রেবেলিয়াস

ফরাসি লেখক ও চিকিৎসক ফ্রাঁসোয়া রেবেলিয়াস (Francois Rabelais) প্রথম জীবনে একজন ধর্মযাজক ছিলেন এবং তিনি দীর্ঘদিন মঠে জীবন কাটান। তা সত্ত্বেও তিনি সর্বপ্রকার অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা, জ্যোতিষশাস্ত্র ও সংকীর্ণ তপস্যার জীবনের বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর হন। তাঁর বিখ্যাত রচনা ‘গারগায়া’ ও ‘প্যান্টায়েল’ গ্রন্থে গির্জা, সামন্তপ্রভু, বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতির বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্রুপ ধ্বনিত হয়েছে।

ইংল্যান্ডে সাহিত্যচর্চা

নবজাগরণের যুগে ইংল্যান্ডে সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পন্ডিত ও লেখক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। যেমন –

(ক) ল্যামল্যান্ড

ইংল্যান্ডে ইংরেজি ভাষায় মানবতাবাদী ও জীবনমুখী সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে উইলিয়াম ল্যামল্যান্ড (William Lamland)-এর নাম উল্লেখযোগ্য। তাঁর রচিত ‘কৃষক পিয়ার্সের স্বপ্ন’ একটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। এই কবিতার মাধ্যমে তিনিই প্রথম সর্বহারা কৃষক শ্রেণির সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরেন এবং সামন্ততন্ত্রের মূলে কুঠারাঘাত করে কৃষকদের মুক্তির পথ দেখান।

(খ) চসার

জিওফ্রে চসার (Geoffrey Chaucer) ছিলেন শেক্সপিয়ারের পূর্বে ইংল্যাণ্ডের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি। তিনি ‘ইংরেজি কাব্যের জনক’ নামে পরিচিত। বলা হয় যে, তাঁর হাতেই ইংরেজি ভাষার সূচনা। তাঁর রচিত ‘ক্যান্টারবেরি টেলস্’-এ মানুষের প্রতি তীব্র ভালোবাসা, মানুষের স্বাধীন চিন্তার প্রবণতা, গির্জা ও পাদ্রিদের প্রতি সাধারণ মানুষের তীব্র বিদ্বেষ এবং মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের নৈতিক অধঃপতনের চিত্র পাওয়া যায়।

(গ) ফ্রান্সিস বেকন

  • (১) ইংল্যান্ডের নবজাগরণের ইতিহাসে প্রখ্যাত আইনজ্ঞ, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক ও রাজনীতিবিদ স্যার ফ্রান্সিস বেকন (Sir Francis Bacon) একটি উল্লেখযোগ্য নাম। তিনি ইংল্যান্ড- রাজ প্রথম জেমস-এর মন্ত্রী ছিলেন।
  • (২) তিনি মধ্যযুগের শিক্ষাধারাকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলতেন যে, একমাত্র যুক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরীক্ষিত বিষয়গুলিকেই গ্রহণ করা যাবে- অন্য কিছুকে নয়।
  • (৩) তাঁর রচিত প্রবন্ধাবলী ও ‘অ্যাডভান্সমেন্ট অফ লার্নিং’ বা ‘শিক্ষার অগ্রগতি’ নামক গ্রন্থটি সাহিত্য ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। তাঁকে ‘ইংরেজি দর্শনের আদি গুরু’ বলা হয়।

(ঘ) এডমণ্ড স্পেন্সার

বিখ্যাত ইংরেজ কবি এডমন্ড স্পেন্সার (Edmund Spencer)-কে ‘আধুনিক ইংরেজি কবিতার স্রষ্টা’ বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত মহাকাব্য হল ‘দি ফেয়ারি কুইন’। এই কাব্যে রূপকের মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডের তৎকালীন রানি প্রথম এলিজাবেথের জীবনকাহিনি প্রকাশ করেন।

(ঙ) শেক্সপিয়ার

  • (১) ষোড়শ শতকে রানি এলিজাবেথের রাজত্বকালে ইংল্যান্ডের সাহিত্য ও শিল্পজগতে প্রভূত উন্নতি দেখা যায়। তাঁর রাজত্বকাল ইংল্যান্ডের ইতিহাসে ‘সুবর্ণ যুগ’ নামে খ্যাত। এই যুগে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার (William Shakespeare)-এর আবির্ভাব হয়।
  • (২) কেবলমাত্র ইংল্যান্ড নয়—তিনি পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও নাট্যকার হিসেবে স্বীকৃত। তিনি ‘ম্যাকবেথ’, ‘হ্যামলেট’, ‘কিং লিয়ার’, ‘জুলিয়াস সিজার’, ‘মার্চেন্টঅফ ভেনিস’ প্রভৃতি ৩৭টি নাটক রচনা করেন।
  • (৩) তার রচিত নাটক গুলিতে মানব জীবনের নানা আশা-আকাঙ্ক্ষা, ব্যথা-বেদনা, দেশপ্রেম এবং সমকালীন জীবনযাত্রার নিখুঁত চিত্র ফুটে উঠেছে।

স্পেনে সাহিত্যচর্চা

স্পেনের কৃতী যোদ্ধা মিগুয়েল দ্য সারভেনটেস (Miguel de Cervantes) ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি, নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক। তাঁর রচিত ‘ডন কুইক্‌জোট’ (‘Don Quixote’) বিশ্ব সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। এই উপন্যাসে মধ্যযুগের সামন্ততন্ত্র, অভিজাততন্ত্র ও নাইটদের নিয়ে যথেচ্ছ বিদ্রুপ করা হয়েছে। অনেকের মতে, এই গ্রন্থটি প্রথম আধুনিক উপন্যাস।

হল্যান্ডে সাহিত্যচর্চা

  • (১) হল্যান্ডের অধিবাসী বিখ্যাত ওলন্দাজ পণ্ডিত ডেসিডেরিয়াস ইরাসমাস (Desiderius Erasmess) ছিলেন উত্তর ইউরোপের সর্বশ্রেষ্ঠ মানবতাবাদী’। তাঁকে ‘মানবতাবাদীদের রাজপুত্র’ বলা হয়।
  • (২) গ্রিক, ল্যাটিন এবং খ্রিস্টীয় সাহিত্য ও দর্শনে সুপণ্ডিত এই ধর্মযাজক রাজতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং গির্জা ও জনজীবনের দুর্নীতিকে নিয়ে যথেচ্ছ ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছেন। তিনি যুক্তিগ্রাহ্য বিষয় ছাড়া কিছু মানতে রাজি ছিলেন না।
  • (৩) ‘ইন প্রেইজ অফ ফোলি’ (‘In Praise of Fooly) গ্রন্থে তিনি গির্জা ও যাজকদের দুর্নীতিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। এই কারণে তাঁকে ধর্মসংস্কার আন্দোলন -এর প্রেরণাদাতা বলা হয়।
  • (৪) ঐতিহাসিক ফিশার বলেন যে, “ভলতেয়ারের আগে ইরাসমাসের মতো আর কেউই ইউরোপকে প্রভাবিত করতে পারেন নি।”

ইউরোপের অন্যত্র সাহিত্যচর্চা

নবজাগরণের এই ধারা ক্রমে ইতালির সীমা অতিক্রম করে আল্পস পর্বতের উত্তরে জার্মানি, পর্তুগাল প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

উপসংহার :- নবজাগরণের মুক্ত হাওয়া জীবনের যে দিকগুলিকে সর্বাধিক আন্দোলিত করেছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম হল সাহিত্য। গীর্জার নিয়ন্ত্রণমুক্ত, ধর্মীয় বিশ্বাসের না-দেখা না-জানা বিষয়বস্তুকে পরিত্যাগ করে এই সময় সাহিত্য হয়ে ওঠে প্রকৃত অর্থেই জীবনমুখী।

(FAQ) সাহিত্যে নবজাগরণের প্রভাব সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. নবজাগরণের সূত্রপাত কোথায় হয়?

ইতালিতে।

২. ইতালির নবজাগরণের অগ্ৰদূত কাকে বলা হয়?

দান্তে।

৩. মানবতাবাদের প্রবর্তক কাকে বলা হয়?

পেত্রার্ক।

৪. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক কাকে বলা হয়?

ম্যাকিয়াভেলি।

Leave a Reply

Translate »