ইউরোপের সামন্ততন্ত্র

ইউরোপের সামন্ততন্ত্র প্রসঙ্গে দুটি পৃথক সামন্ততান্ত্রিক যুগ, সামন্ততন্ত্রের ধ্রুপদী যুগ, ইউরোপে সামন্ততন্ত্র সম্পর্কে বিতর্ক, ইউরোপে সামন্ততন্ত্রের উৎপত্তি-বিতর্ক, সামন্ত প্রভুর কার্যাবলী, সামন্ততান্ত্রিক সমাজের শ্রেণিবিভাগ, সামন্ততান্ত্রিক স্তরবিন্যাস ও সামন্ত প্রভুর প্রতি আনুগত্য সম্পর্কে জানবো।

ইউরোপের সামন্ততন্ত্র

ঐতিহাসিক ঘটনাইউরোপে সামন্ততন্ত্র
সামন্ততন্ত্রের ধ্রুপদী যুগএফ এল গানশফ
ক্ষুদ্র কৃষকভিলেন
অধিনস্তের প্রাপ্ত জমিফিফ
দরিদ্র কৃষকভ্যাসাল
আনুগত্যের শপথইনভেস্টিচার
ইউরোপের সামন্ততন্ত্র

ভূমিকা :- খ্রিস্টীয় নবম শতকের মধ্যভাগ থেকে পশ্চিম ইউরোপ -এ ক্যারোলিঞ্জীয় সাম্রাজ্যের ভাঙন শুরু হলে সেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগে স্থানীয় কাউন্ট ও অভিজাতরা ক্রমে শক্তিশালী হয়ে উঠলে পশ্চিম ইউরোপে সামন্ততান্ত্রিক আর্থসামাজিক কাঠামোর বিকাশ ঘটতে থাকে।

ইউরোপে দুটি পৃথক সামন্ততান্ত্রিক যুগ

ইতিহাসবিদ মার্ক ব্লখ মধ্যযুগের ইউরোপে দুটি পৃথক সামন্ততান্ত্রিক যুগের অস্তিত্বের কথা বলেছেন – খ্রিস্টীয় নবম-দশম শতক পর্যন্ত সময়কালের প্রথম সামন্ততান্ত্রিক যুগ এবং খ্রিস্টীয় একাদশ-দ্বাদশ শতক পর্যন্ত সময়কালের দ্বিতীয় সামন্ততান্ত্রিক যুগ।

সামন্ততন্ত্রের ধ্রুপদি যুগ

অনেকে মনে করেন যে, খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের বিস্তৃত অঞ্চলে সামন্ততন্ত্রের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। ইউরোপীয় ইতিহাসের এই সামন্ততান্ত্রিক সময়কালকে ইতিহাসবিদ এফ. এল. গানশফ্ তাঁর ‘Feudalism’ গ্ৰন্থে Classical Age of Feudalism বা সামন্ততন্ত্রের ধ্রুপদি যুগ বলে অভিহিত করেছেন।

ইউরোপের সামন্ততন্ত্র সম্পর্কে বিতর্ক

মধ্যযুগে ইউরোপে সামন্ততন্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। এই বিতর্কের কয়েকটি প্রধান দিক হল –

(১) রাজতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্রের পক্ষ সমর্থন

পন্ডিত বোলাঁভিয়ের সামন্ততন্ত্রকে প্রশংসা করে অভিজাততন্ত্রের অধিকারকে সুরক্ষিত করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। তাঁর মতে, রাজার পক্ষে অভিজাতদের অধিকার খর্ব করার চেষ্টা প্রাচীন ফ্রাঙ্ক সংবিধানের বিরোধী। পক্ষান্তরে, আবে দুবো রাজতন্ত্রের পক্ষ সমর্থন করে বলেছেন যে, রাজার অধিকারগুলি অভিজাতদের অধিকারের আগেই গড়ে উঠেছিল। তাই অভিজাতদের অধিকারের চাবিকাঠি রাজার হাতেই থাকা উচিত।

(২) উৎপত্তির সময়কাল

সাধারণভাবে মনে করা হয় যে, খ্রিস্টীয় নবম শতকে ইউরোপে সামন্ততন্ত্রের পথচলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু ঐতিহাসিক হেনরি পিরেন মনে করেন যে, ইউরোপে একান্তভাবে কৃষি-নির্ভর সামন্ততন্ত্রের সূচনা হয়েছিল আরও কয়েক শতক পূর্বে।

(৩) উৎপত্তির কারণ

মধ্যযুগের ইউরোপে সামন্ততন্ত্রের উদ্ভবের কারণ সম্পর্কে বহুবিধ বিতর্ক লক্ষ্য করা যায়। সাধারণভাবে ইউরোপে সামন্ততন্ত্রের উদ্ভবের কারণ হিসেবে ক্যারোলিঞ্জীয় রাজপরিবারে অন্তর্কলহ, সাম্রাজ্যের বিভাজন, বর্বর আক্রমণ, মুসলিম অভিযান প্রভৃতিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ঐতিহাসিক হেনরি পিরেন উক্ত বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন নি।

(৪) গ্রহণযোগ্যতা

বোলাঁভিয়ের মধ্যযুগের ইউরোপের সামন্ততন্ত্রকে সমর্থন করে এই ব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য বলে অভিমত দিয়েছেন। কিন্তু এজন্য মৃত্যুর পরবর্তী তিন শতক ধরে তিনি নানাভাবে সমালোচিত হয়েছেন। মন্তেস্কু সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কখনোই আদর্শ বা গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা বলে মনে করেন নি।

ইউরোপে সামন্ততন্ত্রের উৎপত্তি-বিতর্ক

ইউরোপে ধ্রুপদি যুগের সামন্ততন্ত্রের উৎপত্তির ক্ষেত্রে রোমান অথবা জার্মান কোন উপাদান অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল সে সম্পর্কে পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। যেমন  –

  • (১) ‘রোমান তত্ত্ব’-এর প্রবক্তা আবে দুবোর মতে, প্রাচীন রোমে অনুগামী পৃষ্ঠপোষক প্রথা’ নামে একটি প্রথা প্রচলিত ছিল যার দ্বারা কোনো সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি তার পরিবারের সদস্য, উত্তরসূরি, এমনকি বাইরের কিছু লোকের ওপরও চূড়ান্ত কর্তৃত্বের অধিকারী ছিলেন। এই রোমান ‘অনুগামী পৃষ্ঠপোষক প্রথা’ থেকেই ধ্রুপদি যুগের ইউরোপে সামন্ততন্ত্রের উৎপত্তি ঘটেছিল বলে তিনি মনে করেন।
  • (২) ‘জার্মান তত্ত্ব’-এর প্রবক্তা বোলাঁভিয়ের-এর মতে, জার্মানির ‘কমিটেটাস’ প্রথায় কিছু স্বাধীন যোদ্ধা স্বেচ্ছায় কোনো উপদলীয় নেতার অধীনতা মেনে তার স্বার্থ পূরণের অঙ্গীকার করত। এই ‘কমিটেটাস’ প্রথা থেকেই ধ্রুপদি যুগে ইউরোপে সামন্ততন্ত্রের উৎপত্তি ঘটেছিল।
  • (৩) তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিক মনে করেন যে, ইউরোপে ধ্রুপদি যুগের সামন্ততন্ত্রের বিকাশে রোমান ও জার্মান – উভয় উপাদানই কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছিল।

ইউরোপের সামন্তপ্রভুর কার্যাবলি

ইউরোপের সামন্তপ্রভুরা নিজেদের শাসনতান্ত্রিক অঞ্চলের যাবতীয় ক্ষমতা ভোগ করতেন। যেমন –

(১) শাসন ও আইন-সংক্রান্ত কাজ

তাঁরা ছিলেন নিজ শাসনাধীন অঞ্চলের প্রধান শাসক। নিজ এলাকায় দুর্গ নির্মাণ করে সামন্তপ্রভু তাঁর শাসনাধীন এলাকার শাসন পরিচালনা করতেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতেন।

(২) জনকল্যাণের কাজ

সামন্তপ্রভু তাঁর শাসন এলাকার রাস্তাঘাট, খাল, সাঁকো প্রভৃতি নির্মাণ ও সংস্কার করতেন।

(৩) বিচার করা

তিনি তাঁর অধীনস্থ এলাকায় বসবাসকারী প্রজাদের অন্যায়-অবিচারের প্রতিকার করতেন এবং এই উদ্দেশ্যে তিনি নিজ এলাকায় একটি বিচারালয় প্রতিষ্ঠা করতেন।

(৪) কর আদায়

নিজ এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে সামন্তপ্রভু কর বা খাজনা আদায় করতেন, এমনকি কখনো-কখনো নিজ নামে মুদ্রাও প্রচলন করতেন। তিনি উৎপাদন কর, সম্পত্তি কর-সহ বিভিন্ন ধরনের কর আদায় করতেন।

(৫) সৈন্য সহায়তা

বহিরাগত শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে তিনি রাজাকে প্রয়োজনের সময় সৈন্য দিয়ে সহায়তা করতেন।

ইউরোপে সামন্ততান্ত্রিক সমাজের শ্রেণিবিভাগ

মধ্যযুগে ইউরোপের সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় মানুষ মূলত তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। যথা  –

(১) যাজক

সামন্ততান্ত্রিক সমাজে অল্প কিছু মানুষ ছিল যাজক সম্প্রদায়ভুক্ত। যাজকরা ছিল সমাজের সর্বাধিক সুবিধাভোগী ও বিলাসপ্রিয় শ্রেণি। তারা রাষ্ট্রের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সুযোগসুবিধা লাভ করলেও সরকারকে কোনো ধরনের কর প্রদান করত না। দরিদ্র কৃষকরা খ্রিস্টান চার্চের প্রধান পরিচালক যাজকদের বিভিন্ন ধরনের কর প্রদানে বাধ্য ছিল। যাজকদের শোষণে কৃষকদের দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছিল।

(২) অভিজাত

সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় যাজক শ্রেণির পরেই প্রতিপত্তিশালী শ্রেণি হিসেবে অভিজাত শ্রেণি অবস্থান করত। তারাও যাজকদের মতো সরকারকে কোনোরূপ কর দিত না, অথচ রাষ্ট্রের কাছ থেকে বংশানুক্রমে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সুযোগসুবিধা ভোগ করত। তারাও কৃষকদের থেকে বিভিন্ন কর আদায় করত। অভিজাতরাই রাষ্ট্রের অধিকাংশ উচ্চপদগুলি দখল করত।

(৩) কৃষক

সমাজের তৃতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল বিপুল সংখ্যক কৃষক। ক্ষুদ্র কৃষকরা ‘ভিলেন’ নামে পরিচিত ছিল। জমি ছেড়ে যারা বাইরে যাওয়ার অধিকারী ছিল না তাদের বলা হত ‘সার্ফ’। ‘ব্রুটার’ ও ‘করাট’ নামে কৃষকরা ছিল ভূমিহীন কৃষক। কৃষক শ্রেণি সামন্ত সমাজের প্রথম দুটি শ্রেণির শোষণে জর্জরিত ছিল। রাষ্ট্র, চার্চ ও সামন্তপ্রভুদের বিভিন্ন ধরনের কর দিয়ে কৃষকরা নিঃস্ব হয়ে যেত। যাজক ও অভিজাত শ্রেণির সঙ্গে কৃষক শ্রেণির সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনের কোনো সুযোগ ছিল না।

ইউরোপের সামন্ততান্ত্রিক স্তরবিন্যাস

সামন্ততন্ত্রে একটি সুনির্দিষ্ট ক্রমোচ্চ স্তরবিন্যাস লক্ষ্য করা যায়। এই স্তরবিন্যাসে ওপরের স্তরের প্রভু তার নীচের স্তরে শোষণ চালাত। এই স্তরবিন্যাসের আকার কল্পনা করলে দেখা যায় যে তা ছিল পিরামিডের মতো। যেমন –

(১) রাজা

সামন্ততান্ত্রিক স্তরবিন্যাসের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থান করতেন দেশের চূড়ান্ত ক্ষমতার উৎস রাজা। তিনিই ছিলেন সমস্ত ভূসম্পত্তির মালিক। তিনি নির্দিষ্ট কিছু শর্তে তাঁর অধস্তন ডিউক ও আর্লদের হাতে জমি বন্দোবস্ত দিতেন এবং তাঁদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিতেন। এর বিনিময়ে ডিউক ও আর্ল-রা রাজার প্রতি আনুগত্য জানাতেন।

(২) ডিউক ও আর্ল

ডিউক এবং আর্ল-রা আবার নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে তাদের অধস্তন ব্যারনদের হাতে জমির বন্দোবস্ত প্রদান করতেন এবং তাদের নিরাপত্তা দান করতেন। এর বিনিময়ে ব্যারনরা ডিউক ও আর্লদের প্রতি আনুগত্য জানাতেন।

(৩) ব্যারন

ব্যারনরা আবার নির্দিষ্ট শর্তের মাধ্যমে তাঁদের অধস্তন নাইটদের হাতে জমির বন্দোবস্ত দিতেন এবং নাইটদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা দান করতেন।

(৪) নাইট

নাইটরা আবার নির্দিষ্ট কিছু শর্তের মাধ্যমে তাঁদের অধস্তন অগণিত কৃষকদের জমির বন্দোবস্ত দিতেন এবং কৃষকদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব নিতেন।

(৫) ভ্যাসাল

সামন্ততান্ত্রিক পিরামিডের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থানকারী অতি দরিদ্র কৃষকদের বলা হত ভ্যাসাল। তারা নির্দিষ্ট কিছু শর্তে নাইটদের কাছ থেকে প্রাপ্ত জমিতে উৎপাদনের কাজে নিযুক্ত থাকতেন। ভ্যাসালরা কারও আনুগত্য লাভ করার সুযোগ পেত না।

অধস্তন সামন্তকে সুবিধাদান

সামন্ততান্ত্রিক ক্রমোচ্চ স্তরবিন্যাসে ঊর্ধ্বতন প্রভু তাঁর অধস্তন সামন্ত বা প্রজাকে বিভিন্ন ধরনের অধিকার বা সুযোগসুবিধা দিতেন। যেমন  –

  • (১) ইনভেস্টিচার নামে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন সামন্ত-প্রভুর প্রতি অধস্তন সামন্ত আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতেন। এর বিনিময়ে ঊর্ধ্বতন সামন্তপ্রভু অধীনস্থ নিম্ন সামন্তকে জমি দান করতেন। এই জমিকে ‘ফিফ’ বলা হত।
  • (২) ঊর্ধ্বতন সামন্তপ্রভু তাঁর অধীনস্থ সামন্ত বা প্রজার জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করে তাঁকে নিরাপত্তা দান করতেন। তিনি তাঁর অধীনস্থ সামন্তকে আদালতে আইনের সুবিচার প্রদানেরও প্রতিশ্রুতি দিতেন।
  • (৩) দেশের অগণিত কৃষক সর্বোচ্চ সামন্তপ্রভু রাজা-সহ অন্যান্য সামন্তপ্রভুদের জমি চাষ করত। এর বিনিময়ে রাজা ও অন্যান্য সামন্তপ্রভূরা কৃষকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা দিতেন।

ইউরোপের সামন্ততন্ত্রে প্রভুর প্রতি আনুগত্য

ঊর্ধ্বতন সামন্তপ্রভুর কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগসুবিধা লাভ করার বিনিময়ে অধস্তন সামন্ত তাঁর ঊর্ধ্বতন প্রভুর প্রতি বিভিন্ন ধরনের আনুগত্য প্রদর্শন করতেন। যেমন –

  • (১) একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কোনো অধস্তন সামন্ত তাঁর ঊর্ধ্বতন সামন্তপ্রভুর প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতেন এবং এরপর ঊর্ধ্বতন প্রভুর কাছ থেকে সে তার ‘ফিফ’ বা জমি লাভ করতেন।
  • (২) অধীনস্থ সামন্ত তাঁর ঊর্ধ্বতন প্রভুর কাছ থেকে জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা লাভ করতেন এবং এর বিনিময়ে প্রভুকে বিভিন্ন ধরনের কর প্রদান করতেন।
  • (৩) সামন্তপ্রভু তাঁর অধীনস্থ সামন্তের অঞ্চলের ওপর দিয়ে ভ্রমণ করলে প্রভু ও তাঁর সঙ্গীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হত সেখানকার অধস্তন সামন্ত বা প্রজাকে।
  • (৪) বৈদেশিক আক্রমণ বা অন্য কোনো প্রয়োজনে অধস্তন সামন্ত তার ঊর্ধ্বতন সামন্তপ্রভুকে সৈন্য সরবরাহ করে সহায়তা করতেন। অধস্তনের কাছ থেকে প্রাপ্ত সামরিক সহায়তাই ছিল ঊর্ধ্বতন প্রভুর শক্তির প্রধান উৎস।
  • (৫) অধস্তন সামন্তদের অন্যতম দায়িত্ব ছিল তাঁর ঊর্ধ্বতন সামন্তপ্রভুর আদালতে উপস্থিত হওয়া।
  • (৬) প্রভুর সংকটকালে অধস্তন সামন্ত সংকট কাটানোর দায়িত্ব নিতেন এবং এই উদ্দেশ্যে উর্ধ্বতন প্রভুকে ‘স্কুটেজ’ নামে এক প্রকার কর দিতে বাধ্য হতেন।
  • (৭) সামন্তপ্রভুর কন্যার বিবাহ উপলক্ষ্যে, পুত্রের নাইট হওয়ার সময় এবং প্রভু কখনও বন্দি হলে তাঁর মুক্তির জন্য অধীনস্থ সামন্ত বা প্রজাকে কর দিতে হত।

উপসংহার :- ইউরোপের ইতিহাসে সামন্ততন্ত্র এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যে অনেক সময় মধ্যযুগকেই সামন্ততান্ত্রিক যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।

(FAQ) ইউরোপের সামন্ততন্ত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ক্ষুদ্র কৃষক কি নামে পরিচিত ছিল?

ভিলেন।

২. সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় কাদের জমি ছেড়ে বাইরে যাওয়ার অধিকার ছিল না?

সার্ফ।

৩. সামন্ততান্ত্রিক স্তরবিন্যাসের সর্বোচ্চ স্তরে কে ছিলেন?

রাজা বা প্রভু।

৪. সামন্ততান্ত্রিক স্তরবিন্যাসের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থানকারী কৃষকদের কি বলা হত?

ভ্যাসাল।

অন্যান্য ঐতিহাসিক ঘটনাগুলি

Leave a Comment