মৌর্য যুগে শিল্প

মৌর্য যুগে শিল্প প্রসঙ্গে শিল্পের প্রসার, কাষ্ঠশিল্প, ইস্পাত শিল্প, ধাতু শিল্প, বয়নশিল্প, শিল্প কেন্দ্র, শিল্পের সংগঠক, রাষ্ট্রের উদ্যোগ ও শিল্পে ব্যক্তিগত উদ্যোগ সম্পর্কে জানবো।

মৌর্য যুগে শিল্প

বিষয় মৌর্য যুগে শিল্প
উপাদান ইন্ডিকা, অর্থশাস্ত্র
ইন্ডিকা মেগাস্থিনিস
অর্থশাস্ত্র কৌটিল্য
মৌর্য যুগে শিল্প

ভূমিকা:- মৌর্য সম্রাটদের উদ্যোগে ভারতীয় শিল্পের স্থায়ী পুনরুজ্জীবন ঘটে। মৌর্যদের নেতৃত্বে ভারতে প্রথম সাম্রাজ্যিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বভাবতই একটা স্বতন্ত্র্য এবং দৃঢ় ভিতের উপর দাঁড়িয়ে মৌর্যরা শিল্পচর্চা করেছিলেন।

শিল্পের প্রসার

মৌর্য যুগে হস্ত শিল্পের বিশেষ প্রসার হয়েছিল। লোহার, কাঠের, চামড়া, মাটি, বাঁশ ও পাথরের শিল্পের বেশ প্রসার হয়েছিল।

কাষ্ঠ শিল্প

যুদ্ধের জন্য রথ তৈরি এবং মাল বইবার জন্য গরুর গাড়ি তৈরির কাজে কাঠের মিস্ত্রির খুব চাহিদা ছিল। মৌর্য যুগের জঙ্গলে বহু বড় বড় গাছ ছিল। সুতরাং কাঠের কাজের জন্য প্রচুর কাঠ পাওয়া যেত। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের কাঠের তৈরি বিশাল প্রসাদ ঐযুগে কাঠের কাজের উৎকর্ষতার প্রমাণ দেয়।

ধাতু শিল্প

সোনা-রূপার অলঙ্কারের কাজে সূক্ষ্ম কারিগরী প্রয়োগ করা হত। মেগাস্থিনিস ভারতে ৫টি ধাতুর ব্যবহার দেখেন। এর থেকে ভারতে ধাতু শিল্পের উন্নতির কথা জানা যায়।

ইস্পাত শিল্প

ভারতে উন্নত মানের ইস্পাত নির্মাণের কথা আগেই বলা হয়েছে। স্বয়ং আলেকজাণ্ডার ভারতীয় ইস্পাত যোগাড় করতে তৎপর ছিলেন। সাধারণ কর্মকার বা কামার বিভিন্ন লোহার যন্ত্রপাতি তৈরি করত। একশ্রেণীর কর্মকার ইস্পাতের অস্ত্র নির্মাণে বিশেষ দক্ষতা লাভ করে।

বয়নশিল্প

হাতির দাঁতের কাজের কদর্যও মৌর্য ভারতে ছিল। প্রাক ঐতিহাসিক যুগ থেকে ভারতে বয়নশিল্প খুবই উন্নত ছিল। ভারতীয় কাপড়ের চাহিদা দেশে ও বিদেশের বাজারেও বেশ ছিল। বাংলা, কর্ণাটক, কাশী ও কোঙ্কন ছিল বস্ত্রশিল্পের প্রধান কেন্দ্র। গাঙ্গেয় উপত্যকায় সূক্ষ্ম মসলিনের কাপড়ের উৎপাদন হত।

শিল্পকেন্দ্র

মৌর্য যুগে শিল্প অঞ্চল ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। গান্ধার, কাশ্মীর ছিল পশম শিল্পের জন্য বিখ্যাত। বারাণসী, মথুরা, উজ্জয়িনী বস্ত্র শিল্প, মগধ লোহার খনি ও লৌহ শিল্পের জন্য, রাজপুতনা তামার খনি, পাঞ্জাব লবণ শিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল।

শিল্পের সংগঠক

মৌর্য যুগে রাষ্ট্র শিল্পের প্রধান সংগঠক ছিল। মেগাস্থিনিস পাটলিপুত্র শিল্প সংগঠনের জন্য একটি বোর্ডের বা সমিতির উল্লেখ করেছেন।

রাষ্ট্রের উদ্যোগ

রাষ্ট্রই ছিল শিল্পের প্রধান উদ্যোক্তা। খনি শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাষ্ট্রের হাতে খনি দপ্তর রাখা হয়। কৌটিল্য বলেছেন যে, খনিগর্ভ ছিল মগধের রাজশক্তির গর্ভ গৃহ। মুদ্রা, নৌকা ও জাহাজ তৈরির কাজে রাষ্ট্র একচেটিয়া অধিকার ভোগ করত।

শিল্পে ব্যক্তিগত উদ্যোগ

রাষ্ট্রের হাতে অনেক শিল্প থাকলেও ব্যাক্তিগত উদ্যোগে বহু শিল্প গড়ার অবকাশ ছিল। জৈন গ্রন্থে শাদ্দুলপুত্র বা শার্দুল পুত্র নামে এক ধনী মৃৎশিল্পের কারখানা মালিকের নাম পাওয়া যায়, যার বহু শিল্প বোঝাই নৌকা গঙ্গার পথে বিভিন্ন স্থানে মাল বয়ে নিয়ে যেত।

উপসংহার:- মৌর্য যুগে রাষ্ট্রের হাতে বহু শিল্প থাকলেও উৎপাদন ও বন্টনে ব্যক্তিগত উদ্যোগের স্থান ছিল। মৌর্য যুগের শিল্পকলা চর্চার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন মৌর্যসম্রাটগণ। স্বভাবতই মৌর্য শিল্পে রাজকীয় আড়ম্বর ও গাম্ভীর্যের প্রকাশ দেখা যায়।

(FAQ) মৌর্য যুগে শিল্প সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. মৌর্য সাম্রাজ্যের বস্ত্রশিল্পের কেন্দ্রগুলির নাম লেখ?

বাংলা, কাশী, কোঙ্কণ।

২. মৌর্য যুগে মসলিনের কাপড় উৎপাদন হত কোথায়?

গাঙ্গেয় উপত্যকায়।

৩. মৌর্য যুগে শিল্পের প্রধান উদ্যোক্তা কে ছিল?

রাষ্ট্র।

৪. মেগাস্থিনিস ভারতে কতগুলি ধাতুর ব্যবহার দেখেন?

পাঁচটি।

Leave a Reply

Translate »