মৌর্য ভূমি রাজস্ব নীতি

মৌর্য ভূমি রাজস্ব নীতি প্রসঙ্গে মেগাস্থিনিসের মত, তার বিপরীত মন্তব্য, ডঃ ঘোষালের অভিমত, কোশাম্বীর অভিমত, সীতা জমির বন্দোবস্ত, ভাগ, বলি, সীতা জমির কর, অন্যান্য রাজস্ব ও কৃষকের অবস্থা সম্পর্কে জানবো।

মৌর্য ভূমি রাজস্ব নীতি

বিষয় মৌর্য ভূমি রাজস্ব নীতি
কর বলি, ভাগ
উপাদান ইন্ডিকা, অর্থশাস্ত্র
অর্থশাস্ত্র কৌটিল্য
ইন্ডিকা মেগাস্থিনিস
মৌর্য ভূমি রাজস্ব নীতি

ভূমিকা :- মৌর্য সম্রাটরা কর্মচারীদের নগদ বেতন দিতেন। মৌর্য কর্মচারীরা বেশ উচ্চহারে বেতন পেত। এজন্য সম্রাটের প্রচুর অর্থের দরকার হয়। অশোকের আমলে জনহিতকর কাজের জন্যও বিরাট অর্থ ব্যয় হত। এই অর্থের বেশীর ভাগ ভূমি রাজস্ব থেকে আদায় হত।

মেগাস্থিনিসের মত

  • (১) মৌর্য যুগে ভূমির মালিকানা কিরূপ ছিল তা আগে জানলে তবে ভূমি রাজস্ব সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে ধারণা করা যাবে। জার্মান গবেষক ব্রেলার (Brelar) বলেছেন যে, “প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্রীয় আইনের স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম ছিল যে, জমির মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে থাকবে।”
  • (২) ব্রেলারের এই অভিমত মেগাস্থিনিসের একটি মন্তব্যের দ্বারা সমর্থিত হয়। তিনি বলেছেন যে, “ভারতের সকল ভূমির মালিকানা হল রাজার। কোন ব্যক্তি জমির মালিক হতে আইনত অধিকার পায় না।”

মেগাস্থিনিসের বিপরীত মন্তব্য

  • (১) মেগাস্থিনিসের ওপরের অভিমত তার অন্য মন্তব্যের দ্বারা সমর্থিত হয় নি। তিনি অন্যত্র বলেছেন যে, “কৃষকরা জমির জন্য রাজাকে কর দেয় এবং জমির ফসলের ১/৪ ভাগ রাজাকে দেয়।” তাহলে ফসলের ৩/৪ ভাগ অবশ্যই কৃষকদের হাতে থাকে।
  • (২) যদি কৃষকদের জমিতে কোনো স্বত্ব না থাকবে তবে তারা ফসলের বৃহৎ অংশ হাতে কেন রাখতে অধিকারী হয়? একথার উত্তর মেগাস্থিনিস দেননি। অন্যান্য প্রমাণ থেকে জানা যায় যে, কৃষকেরা জমি দান, বিক্রি, হস্তান্তর করতে পারত। ধর্মশাস্ত্রে ও স্মৃতিশাস্ত্রে ভূমি দান, বিক্রি ও বন্ধক রাখার অধিকার স্বীকার করা হয়েছে।
  • (৩) জমির মালিকানাকে ধর্মশাস্ত্রে “স্বামিত্ব” বলা হয়েছে। ডঃ ইউ এন ঘোষালের মতে “স্বামিত্ব” বলতে কৃষকের স্বত্বও বুঝাত। প্রাচীন সাহিত্যেও জমির ওপর নাগরিকের ব্যক্তিগত মালিকানার কথা দেখা যায়। ভূমি দান ও বিক্রির উল্লেখ দেখা যায়।
  • (৪) সমকালীন যুগের শিলালিপিগুলিও একই কথা বলে। কার্লে গুহালিপি, সাতবাহন রাজা গৌতমী পুত্র সাতকর্ণির সনদ প্রভৃতিতে কৃষকের স্বত্বের উল্লেখ দেখা যায়।
  • (৫) আসলে মেগাস্থিনিসের উপরোক্ত মন্তব্য “ভারতের সকল জমির মালিকানা হল রাজার” তা মেগাস্থিনিস রাজকীয় খাস জমি বা “সীতা জমির” সম্পর্কে করেছেন। কৃষকের নিজস্ব জমি সম্পর্কে তিনি এই মন্তব্য করেননি বলে ডঃ ঘোষাল মনে করেন।

ডঃ ঘোষালের অভিমত

ডঃ ইউ এন ঘোষাল তাঁর হিন্দু রেভিনিউ সিস্টেম নামে এক বিখ্যাত গবেষণা গ্রন্থে মৌর্য যুগের ভূমি ব্যবস্থা সম্পর্কে অর্থশাস্ত্র, স্মৃতিশাস্ত্র ও অন্যান্য উপাদানের আলোকে যে তথ্য দিয়েছেন তা বেশীর ভাগ পণ্ডিত স্বীকার করেন। ডঃ ঘোষালের মতে, মৌর্য যুগে, আগের মতই দু ধরনের জমি ছিল যথা –

(ক) বংশানুক্রমিক মালিকানার জমি

  • (১) কৃষকের বাশানুক্রমিক মালিকানার জমির মালিক রাজা ছিলেন না। তিনি এই জমিতে কৃষকের অধিকার রক্ষা করতেন। তার বিনিময়ে তিনি ফসলের ১/৬ ভাগ কর পেতেন। জৈমিনী এজন্য রাজাকে “ষট” ভাগিশ” অর্থাৎ ছয় ভাগের এক ভাগ ভোগকারী বলেছেন।
  • (২) রাজা এই জমি থেকে যে ফসলের ১/৬ অংশ পেতেন তার নাম ছিল “ভাগ”। ভাগ ছিল নিয়মিত ও চিরাচরিত ভূমি-রাজস্ব। রাজা প্রথাগতভাবে উৎপন্ন ফসলের ১/৬ ভাগ পেতেন। তবে তিনি ফসলের অংশ নিতেন না কি তার দাম নিতেন তা পরিষ্কার জানা যায়নি।
  • (৩) এই জমি কৃষক দান, বিক্রি করতে পারত। তবে শোহগুড়া তাম্রলিপি ও মহাস্থানগড় শিলালিপির সাক্ষ্য থেকে মনে করা হয় যে, রাজা সুযোগ পেলে প্রজার অধিকার কিছুটা খর্ব করে ফেলতেন।
  • (৪) কৃষক তার এই জমিতে পুরোপুরি নিরঙ্কুশ অধিকার সর্বদা ভোগ করতে পারত না। অর্থশাস্ত্রে জলের ওপর, মাটির নীচের খনিজ দ্রব্যের ওপর রাজার মালিকানার কথা বলা হয়েছে। তার অর্থ হল কৃষক তার পৈত্রিক জমিতে চাষ-আবাদ, দান-বিক্রয়ের পূর্ণ স্বত্ব পেলেও, জমির নীচের খনিজ সম্পদ আবিষ্কৃত হলে জমিতে জল ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাকে রাজার অধিকার মানতে হত।

(খ) খাস জমি বা সীতা জমি

  • (১) ডঃ ঘোষালের মতে, দ্বিতীয় ধরনের জমি ছিল সীতা জমি। এই জমিতে রাজার নিরঙ্কুশ মালিকানা ছিল। তিনি কৃষকদের দ্বারা অথবা ক্রীতদাস বা স্বাধীন মজুরের দ্বারা সরকারি কর্মচারীর তদারকিতে এই জমি আবাদের ব্যবস্থা করতেন। বিনিময়ে কৃষকদের ফসলের একাংশ দিতেন।
  • (২) গ্রীক লেখক স্ট্র্যাবো বলেছেন যে, “কৃষকরা জমির ফসলের ১/৪ অংশ পাওয়ার শর্তে জমি আবাদ করত। ডঃ ঘোষালের মতে, স্ট্র্যাবোর এই উক্তি রাজার খাস জমি বা সীতা জমি সম্পর্কে প্রযোজ্য। যে কৃষকরা এ জমি চাষ করত তারা ছিল অর্থশাস্ত্রের ভাষায় “স্ববীর্য উপ-জীবিন অর্থাৎ নিজ বীর্য বা পরিশ্রমে জীবিকা অর্জন করত।

(গ) সমষ্টিগণের মালিকানা জমি

  • (১) ডঃ অতীন্দ্রনাথ বসু তার গবেষণা গ্রন্থে উপরোক্ত দুই রকম জমি (কৃষকের মালিকানার জমি, সীতা বা রাজার খাস জমি ছাড়া তৃতীয় এক প্রকার জমির কথা বলেছেন, যার মালিকানা ছিল সমষ্টিগণ। এই জমির ক্ষেত্রে গ্রামের ভূমি রাজস্ব সমষ্টিগতভাবে আদায় দিতে হত।
  • (২) জমির আবাদ সমষ্টিগতভাবে হত। তবে মৌর্যযুগে এই ধরনের জমির পরিমাণ দ্রুত কমছিল এবং কৃষক মালিকানার জমির পরিমাণ বাড়ছিল।

কোশাম্বীর অভিমত

  • (১) কোশাম্বীর মতে, মৌর্য জনপদের জমি প্রধানত দুরকম ছিল। চিরাচরিত কৃষকের মালিকানার জমি। যার জন্য কৃষক ফসলের ১/৬ ভাগ বলি নামে উপকর, জলসেচ ব্যবস্থার সাহায্য নিলে জলকর প্রভৃতি দিত। আর ছিল সীতা জমি যার চাষ-আবাদ রাজা বা তার কর্মচারীর তদারকীতে সম্পন্ন হত।
  • (২) বেশীর ভাগ চাষের জমি ছিল সীতা জমি। তাছাড়া পতিত জমিতে রাজা গ্ৰাম বসতি স্থাপন করাতেন। মৌর্য যুগে রাজা ও প্রজার মধ্যে সামন্ত বা মধ্যস্বত্বভোগী কেউ ছিল না। সীতা জমির কৃষকরা অনেকটা ভূমিদাসের মত ছিল।
  • (৩) কোশাম্বির মতে, তাদের পশু সম্পত্তির মত ব্যবহার করা হত। সীতা জমির কৃষকদের ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব করা হত। স্বাধীনভাবে জীবন-যাপন, সামাজিক মেলামেশা তারা করতে পারত না। মৌর্য রাজারা রাজ্য জয় করে বিজিত রাজ্যের পতিত জমি ও খনিজ সম্পদ দখল করতেন।
  • (৪) ডি. ডি. কোশাম্বি মোটামুটি ডঃ ঘোষালের মতের প্রতিধ্বনি করেছেন। কোশাম্বি বলেন যে, মৌর্য শাসন ছিল জনপদের ভিত্তিতে গঠিত। জনপদের ভেতর যে জমিগুলি আর্যদের আমল থেকে কর্ষিত হয়ে আসছিল সেগুলির মালিকানা ছিল কৃষকের হাতে।
  • (৫) এই সকল জনপদে রাষ্ট্র বা গ্রামের শাসন বিদ্যমান ছিল। ফসলের চিরাচরিত ১/৬ ভাগ কর কৃষকরা রাজাকে দিত। কখনও কখনও গ্রামগুলি সমষ্টিগতভাবে রাজাকে কর দিয়ে দিত। তারপর গ্রামবাসীরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে চাষ করত।

সীতা জমির বন্দোবস্ত

  • (১) এর বাইরে ছিল সীতা জমি। পতিত জমি, জঙ্গল কাটাই করে যে নতুন জমি বের হত, এক জনপদ হতে অন্য জনপদের মাঝে যে সীমানায় জমি থাকত এই সকল জমি ছিল রাজার খাস জমি বা সীতা জমি। লোকবসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গল পরিষ্কার করে নতুন জমি হাসিল করা হত।
  • (২) রাজা এই সীতা জমিতে শূদ্র প্রজা বসাতেন। এদের জমিতে মালিকানা থাকত না। এভাবেই শিশুপালগড়ের পত্তন হয়েছিল। সীতা জমিতে কৃষকদের জীবন স্বত্ব দেওয়া হত। কৃষকরা সীতা জমি দান বা বিক্রি করতে পারত না। কখনও কখনও ভাটক বা ভাড়াটে শ্রমিক দ্বারা জমি আবাদ করান হত।

ভাগ

ভূমির মালিকানা সম্পর্কে উপরের আলোচনার পর ভূমি রাজস্ব ও অন্যান্য রাজস্ব সম্পর্কে এবার আলোচনা করা যেতে পারে। আমরা আগেই দেখেছি যে, রাষ্ট্র জমি অর্থাৎ কৃষকের মালিকানা বা সমষ্টি মালিকানার জমিতে রাজা সাধারণত ফসলের কর পেতেন। এর নাম ছিল ভাগ। রাজা ইচ্ছা করলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাগের পরিমাণ কমিয়ে দিতেন। লুম্বিনী শিলালিপি থেকে দেখা যায় যে, এই স্থানে বুদ্ধের জন্মের জন্য রাজা অশোক প্রজাদের প্রদেয় হার কমিয়ে ১/৮ এবং বলি বা বাড়তি ভূমি কর লোপ করেন।

বলি

বলি বা কর ছিল অতিরিক্ত ভূমি রাজস্ব। মৌর্য সম্রাটদের শাসন কাজে প্রচুর অর্থ ব্যয় হত। এজন্য তাদের বাড়তি টাকা আদায় করতে হত। কেউ কেউ মনে করেন যে, বলি ছিল একটি উপকরণ যা বিশেষ জমির ওপর বিশেষ ধরনের কর্মচারীর ভরণ-পোষণের জন্য ধার্য করা হত। যাই হোক, বলি সম্ভবত নিয়মিত কর ছিল না। এটি সম্ভবত সাময়িক উপকর ছিল।

সীতা জমির কর

ডঃ ঘোষালের মতে, রাজার সীতা জমিতে জল করের হারের তারতম্য ছিল। কৃষক যদি নিজে জল বয়ে আনত তবে ফসলের ১/৫ ছিল জল কর। যদি কোনো জন্তুর দ্বারা বয়ে আনত তবে ফসলের ১/৪, যদি যন্ত্রের দ্বারা জল সরবরাহ করা হত তবে জল কর ছিল ১/৩। মেগাস্থিনিসের মতে, এগ্রোনোমই নামে কর্মচারীরা জল করের তদারকি করত।

অন্যান্য রাজস্ব

ভূমি রাজস্ব ছাড়া মৌর্য সম্রাটরা আরও নানা খাতে রাজস্ব আদায় করতেন। যেমন –

  • (১) কর্মকার, শিল্পী ও যারা হাতের কাজ করত তাদের কাছ থেকে কর আদায় করা হত।
  • (২) বণিকরা বাণিজ্য শুল্ক আদায় দিত।
  • (৩) চুঙ্গি কর, ফেরিঘাট, শহরে মাল আনা ও পাঠানোর উপর কর বসান হত।
  • (৪) খনি, বন, মাছের ঘেরি থেকে কর আদায় করা হত।
  • (৫) সকল প্রকার জীবিকার ওপর এমন কি গণিকাদের ওপরেও কর ধার্য করা হত।
  • (৬) সেনাভক্রম বা অগ্রসরমান সেনাদের ভরণ পোষণের জন্যে কর।
  • (৭) উৎসঙ্গ বা রাজপুত্রের জন্ম হলে উপঢৌকন।
  • (৮) বাস্তুক বা শহরের গৃহ কর।
  • (৯) গুপ্তধনে রাজার অধিকার, জরুরি অবস্থায় বিশেষ কর প্রভৃতি ছিল।

বণিকদের শোষণ

বণিকদের ভাল রকম শোষণ করা হত। লবণের উৎপাদনে সরকারের একচেটিয়া অধিকার ছিল। মুদ্রায় খাদ দিয়ে আয় বাড়ান হত। সরকারের আয়ের বড় অংশ কর্মচারীদের বেতন দিতে ও সেনাবাহিনী পুষতে খরচ হয়ে যেত।

কৃষকদের অবস্থা

  • (১) মৌর্য যুগে কৃষকদের খুব স্বচ্ছল অবস্থা ছিল বলে মেগাস্থিনিস বলেছেন। তাঁর মতে, জমি ছিল উর্বরা এবং জমিতে বছরে নানারকম ফসল ফলত। লোকের খাদ্যের অভাব ছিল না। লোকে নানারকম পোষাক ও গহনা পরতে ভালবাসত।
  • (২) কিন্তু বাস্তবে কৃষকদের এত ভাল অবস্থা ছিল না বলে পণ্ডিতেরা বলেন। কারণ, মৌর্য ভূমি রাজস্বের পরিমাণ ছিল খুব বেশী। তাছাড়া বাড়তি নানারকম কর আদায় করা হত। যদিও মেগাস্থিনিস ভারতে কখনো দুর্ভিক্ষ হয়নি বলেছেন, অর্থশাস্ত্রে দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধের কথা বলা হয়েছে।
  • (৩) মহাস্থান গড় শিলালিপিতে গাঙ্গেয় উপত্যকায় দুর্ভিক্ষের কথা জানা যায়। সীতা জমির কৃষকদের দূরবস্থার কথা আগেই বলা হয়েছে। মৌর্য যুগে যারা অব্রাহ্মণ তারাই বেশীরভাগ করের বোঝা বইত। তাছাড়া অশোকের পর রাজস্ব কর্মচারীরা অত্যাচারী হয়ে পড়ে।

উপসংহার :- মেগাস্থিনিসের মতে, জিনিষপত্রের বাজার দামের ১/১০ ভাগ ছিল সরকারী শুল্ক। অর্থশাস্ত্রে এর চেয়ে কম হারে শুল্কর হার দেওয়া হয়েছে।

(FAQ) মৌর্য ভূমি রাজস্ব নীতি সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. মৌর্য আমলে কি কি কর আদায় করা হত?

ভাগ, বলি।

২. মৌর্য সাম্রাজ্যের রাজার খাস জমিকে কি বলা হত?

সীতা।

৩. অর্থশাস্ত্র কার লেখা?

কৌটিল্য বা চাণক্য।

৪. ইন্ডিকা কার লেখা?

মেগাস্থিনিস।

Leave a Reply

Translate »