দ্বিতীয় নরসিংহ বর্মন

পল্লব রাজা দ্বিতীয় নরসিংহ বর্মন প্রসঙ্গে বিদ্রোহ দমন ও শত্রু জয়, বিশেষ খ্যাতি, শিল্পানুরাগ, চীনা সম্রাটের দৃষ্টি আকর্ষণ, ধর্মানুরাগ ও মন্দির স্থাপত্য সম্পর্কে জানবো।

দ্বিতীয় নরসিংহ বর্মন

রাজা দ্বিতীয় নরসিংহ বর্মন
রাজত্ব ৬৯৫-৭২২ খ্রি:
বংশ পল্লব বংশ
রাজধানী কাঞ্চী
পূর্বসূরি পরমেশ্বর বর্মন
উত্তরসূরি দ্বিতীয় পরমেশ্বর বর্মন
দ্বিতীয় নরসিংহ বর্মন

ভূমিকা :- পল্লব রাজা পরমেশ্বর বর্মনের পর দ্বিতীয় নরসিংহবর্মন পল্লব সিংহাসনে বসেন। তিনি রাজসিংহ উপাধি গ্ৰহণ করেন। তাঁর রাজত্বকালে বিশেষ কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ ঘটেনি। সম্ভবত পল্লব-চালুক্য দ্বন্দ্ব তাঁর আমলে মুলতুবী ছিল।

বিদ্রোহ দমন ও শত্রু জয়

ডঃ মহালিঙ্গমের মতে, কাঞ্চীর কৈলাস নাথ মন্দিরের লেখগুলি থেকে রাজসিংহের বিদ্রোহ দমন ও শত্রু জয়ের কথা জানা যায়। তবে এই শত্রু কারা তা জানা যায়নি। তাছাড়া রাজসিংহ “সংগ্রাম রায়”, “রণজয়” প্রভৃতি উপাধি অকারণে নেন বলে মহালিঙ্গম মনে করেন না। তাঁর “ধনশূর” উপাধি “শূর বা শত্রুর ধন বা সম্পদ হরণের ইঙ্গিত দেয়। হয়ত এই শত্রুরা ছিল স্থানীয় কলভ্র উপজাতি।

বিশেষ খ্যাতি

রাজসিংহের রাজত্বকাল সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শান্তিপূর্ণ বৈদেশিক নীতির জন্য বিখ্যাত। এক কথায় পল্লব সভ্যতা তার আমলে চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছায়। তাঁর কীর্তি-কাহিনী তার অসংখ্য লিপি ও তার বহু উপাধি থেকে প্রমাণিত হয়। তার লেখগুলির সংস্কৃত ভাষা ছিল বিশেষ উন্নত।

রাজরাজ চোলের সাথে তুলনা

তার আগে যে ধর্মযুগের সূচনা হয় এবং শৈবধর্মের যে বিকাশ হয় রাজসিংহের পৃষ্ঠপোষকতায় তার বিরাট অগ্রগতি ঘটে। “রাজসিংহকে তার শৈবধর্মের প্রতি অনুরাগ, শৈব মন্দির নির্মাণ ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতার জন্য রাজরাজ চোলের সঙ্গে তুলনা করা যায়।” তবে রাজরাজ চোলের সাম্রাজ্যবাদ তার মধ্যে ছিল না। কিন্তু দক্ষিণ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আরব বণিকদের ক্ষতিকারক ভূমিকা তিনি রাজরাজের মতই উপলব্ধি করেন।

শিল্পানুরাগ

তিনি পল্লব রাজধানী কাঞ্চি এবং পল্লব বন্দর মামল্লপুরমে যে শিল্প সৃষ্টি করেন তা তাকে অসামান্য খ্যাতি দিয়েছে। চৈনিক উপাদান থেকে জানা যায় যে, রাজসিংহ চীন সম্রাটের কাছে দূত পাঠিয়ে আরব ও তিব্বতীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাঁর সাহায্য চান।

মহালিঙ্গমের অভিমত

ডঃ মহালিঙ্গমের মতে, চম্পা ও কম্বোজে যে পল্লবরা শাসন করত তারা আরব ও তিব্বতীয় বণিকদের প্রতিযোগিতা থেকে পল্লব বাণিজ্যকে রক্ষা করতে অসমর্থ হয়। এজন্য রাজসিংহ আরব ও তিব্বতীয়দের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রয়োজনীয়তা বুঝেন।

চীন সম্রাটের দৃষ্টি আকর্ষণ

এই অঞ্চলে আরব ও তিব্বতীয়দের অনুপ্রবেশ চীনের বাণিজ্যিক স্বার্থের পরিপন্থী ছিল। সম্ভবত এই কারণেই রাজসিংহ বিষয়টির প্রতি চীন সম্রাটের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ধর্মানুরাগ

রাজসিংহ ছিলেন শৈব ধর্মের অনুরাগী। শৈব মন্দির নির্মাণের জন্য তিনি পল্লব স্থাপত্য, ভাস্কর্যের বিখ্যাত শৈলী সৃষ্টি করেন, যাকে রাজসিংহ শৈলী বলা হয়। কাঞ্চীর কৈলাসনাথ মন্দির রাজসিংহের শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব।

মন্দির স্থাপত্য

  • (১) তার সময়ে নির্মিত কাঞ্চীর কৈলাসনাথ মন্দিরের ভেতর ৫৮টি কক্ষ আছে। এই মন্দিরে ভগবান শিবের বিভিন্ন ভঙ্গির ভাস্কর্য এবং বহু ভাস্কর্য মণ্ডিত থাম ও হলঘর দেখা যায়। অনেকে মনে করেন যে, মহেন্দ্রবর্মন ও প্রথম নরসিংহ বর্মনের আমলে মহাবলীপুরমের যে তীরমন্দিরগুলির নির্মাণ শুরু হয় রাজসিংহ তা সম্পূর্ণ করেন।
  • (২) রাজসিংহের আমলে পল্লব স্থাপত্যের যে পরিবর্তন হয় তা তাঁর আমলের এই মন্দিরগুলির স্থাপত্যে দেখা যায়। এই শৈলীকে রাজসিংহ শৈলী বলা হয়। অনেকে আবার মহাবলীপুরমের পঞ্চপাণ্ডব রথ, বিভিন্ন গুহা ও রিলিফগুলিকে রাজসিংহের একক সৃষ্টি বলে মনে করেন। মহাবলীপুরমের তাঁর মন্দির সম্ভবত তারই তৈরি।

উপসংহার :- রাজসিংহ ছিলেন নিঃসন্দেহে পল্লব বংশের এক বহু গুণী রাজা। সঙ্গীত শাস্ত্রে ও হস্তিবিদ্যায় তাঁর অধিকার ছিল। তাঁর আমলে দক্ষিণে সংস্কৃত ভাষার চর্চার বহু অগ্রগতি ঘটে। তিনি “কবি প্রবোধ” উপাধি নেন। কাঞ্চীতে সংস্কৃত শাস্ত্র চর্চার জন্য বহু ঘেটিকা তিনি স্থাপন করেন ও অগ্রহার দান করেন।

(FAQ) দ্বিতীয় নরসিংহ বর্মন সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. কোন পল্লব রাজা রাজসিংহ নামে পরিচিত ছিলেন?

দ্বিতীয় নরসিংহ বর্মন।

২. কোন পল্লব রাজা চীনে দূত প্রেরণ করেছিলেন?

দ্বিতীয় নরসিংহ বর্মন।

৩. কাঞ্চীর কৈলাসনাথ মন্দির কার শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব?

দ্বিতীয় নরসিংহ বর্মন।

৪. স্থাপত্যে রাজসিংহ শৈলী কে সৃষ্টি করেন?

দ্বিতীয় নরসিংহ বর্মন।

Leave a Reply

Translate »