নরমপন্থী-চরমপন্থী মিলন

নরমপন্থী-চরমপন্থী মিলন প্রসঙ্গে বাল গঙ্গাধর তিলকের প্রত্যাবর্তন, তিলকের উপলব্ধি, বেশান্তের ভূমিকা, নরমপন্থীদের মনোভাব, গোখলে ও মেহতার বিরোধিতা, মাদ্রাজ অধিবেশন, নরমপন্থী নেতাদের মৃত্যু, গোখলে ও মেহতার মৃত্যু, বোম্বাই অধিবেশন ও ১৯১৬ সালে কংগ্রেসের লক্ষ্মৌ অধিবেশনে নরমপন্থী-চরমপন্থী মিলন সম্পর্কে জানবো।

নরমপন্থী-চরমপন্থী মিলন

বিচ্ছেদ কাল১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ
অধিবেশনসুরাট
মিলন কাল১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ
অধিবেশনলক্ষ্মৌ
প্রধান উদ্যোক্তাবাল গঙ্গাধর তিলক
নরমপন্থী-চরমপন্থী মিলন

ভূমিকা:- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে সুরাট বিচ্ছেদের পর চরমপন্থীরা জাতীয় কংগ্রেস থেকে দূরেই ছিলেন। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভারতের রাজনীতিতে পরিবর্তন দেখা যায়। এই সময় ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে নরমপন্থী-চরমপন্থী মিলন ভারতের ইতিহাসে এক উজ্জ্বলতম অধ্যায়।

তিলকের প্রত্যাবর্তন

১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই জুন দীর্ঘ কারাবাসের পর বাল গঙ্গাধর তিলক মুক্তিলাভ করেন। ইতিমধ্যে তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি হিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে এবং ব্রিটিশ শাসনের স্থায়িত্বের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করতে থাকেন।

তিলকের উপলব্ধি

বাল গঙ্গাধর তিলক স্পষ্টই উপলব্ধি করেন যে, চরমপন্থী ও নরমপন্থী মিলন ব্যতীত প্রাণহীন জাতীয় রাজনীতিতে গতিবেগ সঞ্চার অসম্ভব।

বেশান্তের ভূমিকা

তিলকের কংগ্রেসে যোগদানের ব্যাপারে ভারতে ‘থিওসফিক্যাল সোসাইটি-র প্রতিষ্ঠাত্রী শ্রীমতী অ্যানি বেশান্ত অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন।

নরমপন্থীদের মনোভাব

নরমপন্থী নেতারা কিন্তু তখনও চরমপন্থীদের জাতীয় কংগ্রেসের অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি ছিলেন না। তাঁদের ধারণা ছিল যে, তিলকের অন্তর্ভুক্তিতে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বিনষ্ট হবে এবং তাঁরা নেতৃত্বচ্যুত হবেন।

গোখলে ও মেহতার বিরোধিতা

তিলকের কংগ্রেসে যোগদানের ব্যাপারে গোপালকৃষ্ণ গোখলে ও ফিরোজ শাহ মেহতা ঘোরতর প্রতিবাদ জানান। মতিলাল ঘোষ গোখলেকে লিখছেন (১৫ই নভেম্বর, ১৯১৪ খ্রিঃ), “আপনি ও তিলক কলহ মিটিয়ে ফেললে ভারতবর্ষ সম্বন্ধে আবার আশা ফিরবে।”

মাদ্রাজ অধিবেশন

মূলত গোখলে ও মেহতার বিরোধিতার জন্যই ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের মাদ্রাজ অধিবেশনে কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মিলন হল না।

নরমপন্থী নেতাদের মৃত্যু

ইতি পূর্বে নরমপন্থী নেতাদের মধ্যে মহাদেব গোবিন্দ রাণাড়ে, উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, রমেশচন্দ্র দত্ত, তৈয়াবজী, আনন্দ চার্লু প্রমুখের মৃত্যু ঘটেছে। দাদাভাই নৌরজীর শেষ সময় আসন্ন। ওয়াচা ও সুরেন্দ্রনাথ ব্যতীত আর কোনো নেতাই তখন শারীরিক দিক থেকে সক্ষম নন।

গোখলে ও মেহতার মৃত্যু

এই অবস্থায় ঘোরতর তিলক-বিরোধী গোপালকৃষ্ণ গোখলে (১৯ই ফেব্রুয়ারি, ১৯১৫খ্রিঃ) ও ফিরোজ শাহ মেহতার (৫ই নভেম্বর, ১৯১৫ খ্রিঃ) মৃত্যু হলে তিলকের কংগ্রেসে যোগদানে আর কোনো অসুবিধা রইল না।

বোম্বাই অধিবেশন

১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে জাতীয় কংগ্রেসের বোম্বাই অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে জাতীয় কংগ্রেসের দরজা চরমপন্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

নরমপন্থী-চরমপন্থী মিলন

দীর্ঘ আট বছর পর ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে অম্বিকাচরণ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের লক্ষ্ণৌ অধিবেশনে চরমপন্থীরা পুনরায় কংগ্রেসে যোগদান করেন।ফলে নরমপন্থী-চরমপন্থী মিলন ঘটে।

উপসংহার:- ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসের লক্ষ্ণৌ অধিবেশনে  লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

(FAQ) নরমপন্থী-চরমপন্থী মিলন সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে নরমপন্থী-চরমপন্থী বিচ্ছেদ ঘটে?

১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে সুরাট অধিবেশনে।

২. কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে নরমপন্থী-চরমপন্থী মিলন ঘটে?

১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মৌ অধিবেশনে।

৩. কবে কোন অধিবেশনে লক্ষ্মৌ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?

ডিসেম্বর ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্মৌ অধিবেশনে।

Leave a Reply

Translate »