সুলতানি যুগে সামুদ্রিক বাণিজ্য

সুলতানি যুগে সামুদ্রিক বাণিজ্য প্রসঙ্গে গতিপথে পরিবর্তন, দুভাগে বাণিজ্য, বাংলায় জাহাজ নির্মাণ, ধাও জাহাজে বাণিজ্য, চীনে ভারতীয় দ্রব্যের চাহিদা, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সাথে বাণিজ্য, মিশর, আরবদেশের সাথে বাণিজ্য, ক্রীতদাস আমদানি ও ধনী বণিক সম্পর্কে জানবো।

সুলতানি যুগে সামুদ্রিক বাণিজ্য

ঐতিহাসিক ঘটনাসুলতানি যুগে সামুদ্রিক বাণিজ্য
মধুকর ডিঙাচাঁদ সদাগর
নৌযুদ্ধের উল্লেখইবন বতুতা
আরবদের জাহাজদাও
চীনের জাহাজজাঙ্ক
সুলতানি যুগে সামুদ্রিক বাণিজ্য

ভূমিকা :- প্রথমেই বলা দরকার যে, প্রাচীন যুগ হতে ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণ উপকূলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের বন্দর ছিল। রোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে এই সকল বন্দর থেকে বাণিজ্য চলত। কাজেই প্রাচীনযুগ থেকে ভারতের বণিকরা সমুদ্রপথে বাণিজ্যে অভ্যস্ত ছিল। ভারতে মুসলিম শাসন স্থাপিত হলে এই বাণিজ্যের ধারা অব্যাহত ছিল।

গতিপথে পরিবর্তন

  • (১) মধ্যযুগের গোড়ার দিক থেকেই প্রাচীনযুগের সামুদ্রিক বাণিজ্যের গতিপথে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। চীন থেকে রেশম রাস্তা ধরে, আফগানিস্তান হয়ে, ভারতের পশ্চিম উপকূলের বন্দরের পথে কুষাণ যুগ থেকে যে বাণিজ্য চলত, তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়।
  • (২) চীনের সঙ্গে পারসিক উপসাগর অঞ্চলের প্রত্যক্ষ বাণিজ্য সংযোগ স্থাপিত হয়। সপ্তম ও অষ্টম শতক থেকেই এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। চীন-পারস্য উপসাগরীয় সামুদ্রিক বাণিজ্যে আরব বণিকরা ঢুকে পড়ে।
  • (৩) দ্বিতীয় একটি পরিবর্তনের কথা আমাদের মনে রাখা দরকার। তা হল চীন ও পারস্য উপসাগরীয় সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের মাঝখানে ছিল দক্ষিণ ভারতীয় বন্দরগুলির অবস্থান। সুতরাং চীন – দক্ষিণ ভারত এবং দক্ষিণ ভারত – পশ্চিম এশিয়ার পথেই এই বাণিজ্য চলে। এইভাবে এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্য দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়, যথা পূর্বদেশীয় ও পশ্চিমদেশীয় বাণিজ্য।

দুভাগে বাণিজ্য

ভৌগোলিক এবং প্রাকৃতিক কারণে চীন-পশ্চিম এশিয়া বাণিজ্য এই দুইভাগে বিভক্ত হয়। ভারত মধ্যস্থলে থাকায় ভারত তার সুবিধা পায়। যেমন –

  • (১) এই যুগে পালতোলা জাহাজগুলির চীন-পশ্চিম এশিয়া দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হলে কয়েক মাস লাগত। ততদিনে বায়ুর গতি, আবহাওয়া বদলে যেত। এজন্য দুভাগে বাণিজ্য পরিচালনা সুবিধাজনক ছিল।
  • (২) ১২০০ খ্রিস্টাব্দে থেকে দু ধরনের জাহাজে পূর্ব ও পশ্চিমে মাল চলাচল করত। পূর্বদিকে জাঙ্ক বা ভারতীয় ডিঙা জাহাজ এবং পশ্চিম সমুদ্রে “ধাও” জাহাজে মাল পরিবহণ করা হত। পশ্চিম ভারতের মজবুত সেগুন কাঠের তৈরি জাহাজে সমুদ্রপথে মাল বহন করা হত।

ইবন বতুতার বর্ণনা

ইবন বতুতা বলেছেন যে, দক্ষিণ ভারতের করমণ্ডল এবং মালাবার উপকূলে হিন্দুযুগ থেকে ভারী সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মাণের কারিগরী কৌশল জানা ছিল। সুলতানি যুগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যে তিনি মুসলিম বণিক ও নাবিকদের প্রাধান্যের কথা বলেছেন।

বাংলায় জাহাজ নির্মাণ

  • (১) বাংলাদেশে সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মাণের জন্য নিজস্ব কারিগরী জানা ছিল এবং গম্ভীরা কাঠের তৈরি জাহাজ বাংলায় তৈরি হত। মঙ্গলকাব্যে সপ্ত ডিঙ্গা মধুকর ভাসিয়ে সওদাগরদের সমুদ্র বাণিজ্যের কাহিনী নিতান্তই কবি কল্পনা ছিল না।
  • (২) ইবন বতুতা গৌড় ও চট্টগ্রামের সুলতানদের মধ্যে নৌ যুদ্ধের কথা বলেছেন। এই কাহিনী বাংলার নাবিকদের সমুদ্রযাত্রায় দক্ষতার প্রমাণ দেয়। চীনা বিবরণ থেকেও চতুর্দশ ও পঞ্চদশ শতকে বাংলায় সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের কথা জানা যায়।

ধাও জাহাজে বাণিজ্য

  • (১) দ্বাদশ শতক থেকে ভারতের তিনদিকে সমুদ্রে বাণিজ্য চলত। পশ্চিম এশিয়া থেকে আরবদের জাহাজগুলি বা ধাও জাহাজগুলি দক্ষিণ ভারতের কালিকট, কোচিন, মালিপত্তন, নেগাপত্তন এবং কোরামাত্তন উপকূলের বন্দরে চলে আসত।
  • (২) “ধাও” জাহাজের মালগুলি অতঃপর এই সকল বন্দরে ভারতীয় বা চীনা জাঙ্ক (Junk) জাহাজে ভরা হত। এই জাহাজগুলি চীনে পাড়ি দিত। এই বাণিজ্য প্রধানত আরব-বণিকদের নিয়ন্ত্রণে চলত।
  • (৩) ইবন বতুতা দিল্লীর সুলতান মহম্মদ বিন-তুঘলকের দরবারে চীন সম্রাটের দূতের আগমনের উল্লেখ করেছেন। চীনের যুয়ান সম্রাট এই দূত দ্বারা মহম্মদের অধিকৃত কারাজল অঞ্চলে একটি বৌদ্ধমন্দির পুননির্মাণের অনুমতি চান। সুলতান মহম্মদ এর প্রত্যুত্তরে ইবন বতুতার নেতৃত্বে চীনে একটি মিশন পাঠান।

চীনে উপহার প্রেরণ

  • (১) ইবন বতুতার সঙ্গে চীন সম্রাটের জন্য মহম্মদ যে উপহারগুলি পাঠান তার মধ্যে ছিল ১০০টি ভালজাতের ঘোড়া, নৃত্য-গীতে পটু ২০০ জন হিন্দু দাস-দাসী, ৫ রকম দামী ৫০০ বস্ত্রের খণ্ড, ৫০০ খণ্ড পশমের কাপড় প্রভৃতি। এই কাপড়ের মধ্যে ছিল বাংলার বিখ্যাত মসলিন ও আগ্রা-বারাণসীর জাভা রেশমের কাপড়।
  • (২) সুলতান মহম্মদ তুঘলক এই উপহারগুলি পাঠাবার ফলে চীনে এই সকল জিনিষের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। চীনা পর্যটক মা হুয়ান বাংলায় আসেন। তিনি বাংলা থেকে মুসলিম বণিকদের চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের উল্লেখ করেছেন।

চীনে ভারতীয় দ্রব্যের চাহিদা

  • (১) চীনে যে সকল ভারতীয় দ্রব্যের বিশেষ চাহিদা ছিল তার মধ্যে মশলা একটি প্রধান স্থান দখল করে আছে। মার্কোপোলো চীনে ভারতীয় লঙ্কা ও গোল মরিচের প্রচুর চাহিদা দেখেন। মালাবার অঞ্চল থেকে এই গোলমরিচ ও লঙ্কা প্রধানত রপ্তানি হত।
  • (২) এছাড়া হিমালয় অঞ্চলে একধরনের ওষধির শিকড় প্রচুর রপ্তানি হত। করমণ্ডল, ক্যাম্বে ও বাংলা থেকে প্রচুর সুতী কাপড়ও চীনে রপ্তানি হয়। পঞ্চদশ শতকের আগে চীনে ভাল সুতী কাপড় উৎপাদন হত না।
  • (৩) দক্ষিণ ভারতের হীরার চাহিদার কথা চীনা লেখক চৌ-ভু-কুয়া উল্লেখ করেছেন। এছাড়া অন্যান্য সৌখিন, বিলাস দ্রব্যেরও চাহিদা ছিল। চীন থেকে ভারতে আসত ‘চীনাংশুক বা চীনের সাদা রেশমের কাপড়, চীনা মাটির বাসন, মাতাবানী চীনা মাটির কলসী।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সাথে বাণিজ্য

  • (১) ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া বিশেষত ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের কথাও এই সঙ্গে বলা দরকার। মালয় ও সুমাত্রার মশলা ভারতে আসত। ইবন বতুতা ইন্দোনেশিয়ায় তৈরী চন্দন কাঠের আসবাব দিল্লী সুলতানকে ব্যবহার করতে দেখেছিলেন।
  • (২) সুলতানি আমলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার দরুন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে মন্দা দেখা দেয়। পূর্বদেশীয় অর্থাৎ ভারত-চীন বাণিজ্য পথে জলদস্যুর উপদ্রব যথেষ্ট ছিল। মালাক্কা প্রণালীতে জলদস্যুর উৎপাত চলত।

মিশর, আরবদেশের সাথে বাণিজ্য

  • (১) ভারতের সঙ্গে পূর্ব আফ্রিকা, মিশর, আরব দেশ ও পারসিক উপসাগরীয় অঞ্চলের সুলতানি আমলে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক ছিল। মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া বন্দর ও পারসিক উপসাগরে হরমুজে প্রচুর ভারতীয় পণ্য রপ্তানি হত।
  • (২) ভারত থেকে মিশরের কায়রোর বাজারে ও আলেকজান্দ্রিয়ায় যে সকল পণ্য রপ্তানি হত তা হল মশলা, বিশেষত লঙ্কা ও গোলমরিচ, ঘৃনা ও সুগন্ধি দ্রব্য, নীল ও লাক্ষা, ঔষধির গাছ-গাছড়া। মিশর সহ গোটা মধ্য প্রাচ্যে ভারতীয় লোহা ও ইস্পাতের ব্যাপক চাহিদা ছিল।
  • (৩) এর সঙ্গে ভারত থেকে পিতল ও তামার বাসন রপ্তানি হত। তুলনামূলকভাবে সূতী ও রেশমের বস্ত্রের চাহিদা কম ছিল।

পশ্চিমের দেশে রপ্তানি

  • (১) পশ্চিমের অন্যান্য দেশে যে সকল ভারতীয় পণ্য রপ্তানি হত তা হল চাউল, সেগুন কাঠ, সুতী কাপড় এবং যুদ্ধের জন্য হাতি।  আরবের উপকূল অঞ্চলের অনেক দেশই ভারতীয় চাউলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বাংলা, ক্যাম্বে থেকে সুতী কাপড় রপ্তানি হত।
  • (২) এই রপ্তানির ফলে ভারতে এত সোনা আমদানি হত যে, পারসিক ঐতিহাসিক ওয়াসফ বলেন যে, “ঘাস ও শিকড় রপ্তানি করে তার বিনিময়ে ভারত সোনা নিয়ে নিত।” সপ্তদশ শতকে ফরাসী পর্যটক ফাঁসোয়া বার্ণিয়ের মন্তব্য করেন যে “বিশ্বের সকল দেশ থেকে সোনা খুঁড়ে ভারতে পাঠান হত”।

পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি

  • (১) পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে ভারতে যে মাল আমদানি হত তার মধ্যে প্রধান ছিল যুদ্ধের ঘোড়া। ওমানি বণিক জামালউদ্দিন ঢিবি পান্ড্য রাজার জন্য ঘোড়া সরবরাহ করে প্রচুর ধন সম্পদ পান। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ও আরব দেশ থেকে এই সকল ঘোড়া আনা হত।
  • (২) মার্কোপোলা ও ওয়াসফের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, জামালউদ্দিন পারস্য থেকে ১৪০০ ঘোড়া পান্ড্য রাজার কাছে রপ্তানি করেন। ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের শাসকরা ও দিল্লি সুলতানরাও ঘোড়া কিনতেন। প্রতি ঘোড়ার দাম ছিল ২২০ সোনার দিনার।
  • (৩) আবুবকরের আমলে পান্ড্য, ক্যাম্বে ও পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন বন্দরে ১০ হাজার ঘোড়া আমদানি করা হয়। ওয়াসফের মতে, হিন্দু রাজারা কর ও মন্দিরের সঞ্চিত অর্থ নিয়ে ঘোড়া ক্রয়ের জন্য ২,২০০,০০০ দিনার খরচ করেন।
  • (৪) জাহাজে করে ঘোড়া আনার সময় পথ কষ্টে অনেক ঘোড়া মারা পড়ত। এই মৃত ঘোড়াগুলির দামও ভারতীয় ক্রেতাদের দিতে হত। মার্কোপোলোর মতে, ভারতীয়রা ঘোড়াগুলির ঠিকমত রক্ষণাবেক্ষণ ও চিকিৎসার নিয়ম জানত না।
  • (৫) পশ্চিম এশিয়া থেকে কোনো পশু চিকিৎসক পাঠান হত না। ফলে ভারতে ঘোড়াগুলি মারা পড়লে, নতুন ঘোড়ার চাহিদা সর্বদাই থাকত। আল উমরির রচনা থেকে জানা যায় যে, আলি-বিন মনসুর নামে বাহারিনের এক ঘোড়ার চালানদার দিল্লীর সুলতানি সরকারকে ঘোড়া যোগান দিয়ে ভয়ানক ধনী হয়।

ক্রীতদাস আমদানি

  • (১) আফ্রিকা ও আরব দেশ থেকে ভারতে ক্রীতদাস আমদানি হত। এই ক্রীতদাসদের মধ্যে হাবসী ক্রীতদাসদের প্রচুর চাহিদা ছিল। দিল্লী সুলতানদের নিজস্ব সামরিক কর্মচারীদের মধ্যে বহু হাবসী ক্রীতদাস ছিল।
  • (২) সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক সামস দামঘানীকে গুজরাটে রাজস্বের ইজারাদার নিয়োগ করেন এই শর্তে যে বছরে ৪০০ বাছাই হাবসী ক্রীতদাস তাঁকে সরবরাহ করা হবে। আমীর খসরু হাবসী ও জাঙ্গি বা জাঙ্গিবারের ক্রীতদাসদের গুণগত পার্থক্য লক্ষ্য করেছিলেন।
  • (৩) সমুদ্রপথে মালবাহী জাহাজে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে পাহারাদারীর কাজে হাবসী নৌসেনার খুব সুনাম ছিল। স্বয়ং ইবন বতুতা এই রকম হাবসী নৌ পাহারাদারের দক্ষতা দেখে প্রশংসা করেন। আফ্রিকা থেকে পবিত্র বাওবাব বৃক্ষের চারা আমদানি করা হত।

আফ্রিকা থেকে আমদানি

বিভিন্ন জন্তুর আকৃতি যুক্ত খেলনা এবং আফ্রিকার জিরাফ ভারতে আমদানি করা হত। কিছু কিছু জেব্রাও আমদানি হত। এছাড়া আসত বিলাসের দ্রব্য, যথা পারসিক গালিচা, কিংখাব, কার্পেট, কাচের বাসন, লেখার কাগজ আসত আলেকজান্দ্রিয়া থেকে।

মিশর, আফ্রিকার সাথে বাণিজ্যের প্রমান

  • (১) ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতকে গুজরাট জয় করে দিল্লী সুলতানরা যখন গুজরাটের ধনরত্ন আনেন তখন ভারুচ বন্দর থেকে বহু মিশরীয় ও সিরীয় সোনা ও রূপার মুদ্রা পাওয়া যায়। এই থেকে পন্ডিতেরা সিদ্ধান্ত করেছেন যে মিশর, আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে ভারতের লাভজনক সামুদ্রিক বাণিজ্য ছিল।
  • (২) এই ধনরত্নের বেশীর ভাগ লুকিয়ে ফেলা হয়। যে সকল বণিক এই সমৃদ্ধিশালী বাণিজ্যে অংশ নিত তারা ছিল প্রধানত মুসলিম। অবশ্য হিন্দু বণিকরা ছিল।

রাজাদের মুনাফার ভাগ গ্ৰহণ

ভারতের পশ্চিম উপকূলের অনেক আঞ্চলিক হিন্দুরাজা যথা বোম্বাই-এর নিকটস্থ থানার রাজা, কন্নড় অঞ্চলের বাকানোর-এর হিন্দুরাজা প্রমুখ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যে মুনাফার ভাগ নিতেন।

ধনী বণিক

  • (১) যে সকল ভারতীয় মুসলিম বণিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে ধনশালী হন তাদের মধ্যে হিনাবারের জামালউদ্দিনের নাম করা যায়। তিনি দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ রপ্তানি বণিকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গোয়ার বা সান্দাপুরের বণিকদের সঙ্গে তার তীব্র প্রতিযোগিতা ছিল।
  • (২) কান্নানোরের বণিক মামাল্লি মালাদিভ গুজরাটের বণিকদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। কেরালার বণিক তাজ-আল-উদ্দিন-ইবন-আল-কলামি আলেকজান্দ্রিয়ায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। তার প্রধান কেন্দ্র ছিল কুইলন।

উপসংহার :- ইবন বতুতার মতে, ক্যাম্বের বেশীর ভাগ বণিক ছিল অভারতীয়। এছাড়া ছিল ইসমাইলি সম্প্রদায়ের বোহরা বণিকরা। কালিকটের বিখ্যাত বণিক মিথল চীন ইয়েমেনের সঙ্গে বাণিজ্য করে ধনশালী হন। ক্যাম্বের বোহরা বণিক ইলিয়াসেরও নাম এই সঙ্গে করা যায়। হিন্দু চেট্টি ও দালালরাও পিছিয়ে ছিল না।

(FAQ) সুলতানি যুগে সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. সুলতানি যুগে আরবদের জাহাজ কি নামে পরিচিত ছিল?

ধাও।

২. সুলতানি যুগে ভারতীয় ও চীনা জাহাজ কি নামে পরিচিত ছিল?

জাঙ্ক।

৩. সুলতানি যুগে আফ্রিকা ও আরব থেকে কি আমদানি করা হত?

ক্রীতদাস।

৪. কোন সুলতান চীনে উপহার প্রেরণ করেন?

মহম্মদ বিন তুঘলক।

Leave a Comment