এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া নীতি

জাপানের এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া নীতি প্রসঙ্গে জাপান ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানি সাম্রাজ্যবাদ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জাপানের ‘এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া’ নীতি, বৃহত্তর পূর্ব এশীয় সম্মেলনে এশিয়বাসীদের জন্য এশিয়া ধারণা, সামরিক বাহিনীর প্রচার, সুসম্পর্কের উদ্যোগ ও এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া’ স্লোগানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানবো।

জাপানের এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া নীতি

ঐতিহাসিক ঘটনাএশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া
দেশজাপান
প্রধানমন্ত্রীহিদেকি তোজো
একুশ দফা দাবি১৮ জানুয়ারি ১৯১৫ খ্রি
প্যারিসের সম্মেলন১৯১৯ খ্রি
টানাকা মেমোরিয়াল১৯২৭ খ্রি
জাপানের এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া নীতি

ভূমিকা :- ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে মেইজি পুনরুত্থানের পর থেকে জাপানে অতি দ্রুত আধুনিকীকরণ ও পাশ্চাত্যকরণ ঘটলে জাপান পশ্চিমি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির সমকক্ষ হয়ে ওঠে। নতুন শক্তিতে বলীয়ান জাপানও দ্রুত পশ্চিমি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির অনুকরণে সাম্রাজ্যবাদী নীতি গ্রহণ করে। ১৮৯৪-১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দের যুদ্ধে চিনের বিরুদ্ধে জয়লাভের ফলে জাপানের আত্মবিশ্বাস যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জাপানের মর্যাদাও প্রবলভাবে বৃদ্ধি পায়।

জাপান ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ

১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে জাপানের সামনে সাম্রাজ্যবাদী নীতি গ্রহণের অপূর্ব সুযোগ এসে যায়। যুদ্ধের সময় পাশ্চাত্য শক্তিগুলি ইউরোপের বিষয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে সেই সুযোগে জাপান চিনদেশে সাম্রাজ্যবাদী পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগী হয়। যেমন  –

(১) একুশ দফা দাবি

জাপান ১৮ জানুয়ারি ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে চিনের কাছে ‘একুশ দফা দাবি’ পেশ করে এবং মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা মেনে নেওয়ার জন্য চরমপত্র দেয়। এই দাবিপত্রে চিনে অন্যান্য রাষ্ট্রের স্থলে কেবল জাপানের অতি-রাষ্ট্রিক অধিকার ভোগ করার দাবি করা হয়। ইউয়ান-সি-কাই-এর নেতৃত্বাধীন চিনের দুর্বল প্রজাতান্ত্রিক সরকার এই দাবিগুলি মেনে নিতে বাধ্য হয়।

(২) এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া

একুশ দফা দাবিগুলি চিনের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত হানে এবং চিনে জাপানের একপ্রকার অভিভাবকত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। জাপানের আধিপত্যের ফলে চিনের দরজা ইউরোপীয়দের কাছে বন্ধ হয়ে যায়। ‘একুশ দফা দাবি’কে ‘এশিয়ার মনরো নীতি’ অর্থাৎ ‘এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া’ বলে অভিহিত করা হয়।

(৩) মিত্রশক্তিকে সহযোগিতা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান ডুবোজাহাজের আক্রমণ থেকে নিজেদের বাণিজ্যতরীগুলি রক্ষার জন্য মিত্রশক্তি জাপানের সহযোগিতা চায়। জাপান এবিষয়ে মিত্রশক্তিকে সহায়তা করে এবং বিনিময়ে চিনে জার্মান-অধিকৃত অঞ্চলগুলি জাপান দাবি করলে মিত্রশক্তি তা মেনে নেয়। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ভার্সাই সম্মেলনেও জাপানের এই দাবিগুলি বৈধতা পায়। এভাবে দূরপ্রাচ্যে জাপান প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানি সাম্রাজ্যবাদ

ঐতিহাসিক প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদী অগ্রগতি পশ্চিমি দেশগুলি সুনজরে দেখে নি। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক গুলি হল –

(১) ওয়াশিংটন চুক্তি

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জাপানি আধিপত্যের প্রসারের ফলে পশ্চিমি দেশগুলির ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থ বাধাপ্রাপ্ত হয়। এজন্য জাপানকে আমেরিকা ‘ওয়াশিংটন চুক্তি’ (১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ১২ নভেম্বর থেকে ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৬ ফেব্রুয়ারি) স্বাক্ষরে বাধ্য করে। এর ফলে জাপান অন্তত এক দশকের জন্য তার সাম্রাজ্যবাদী কার্যকলাপ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়।

(২) টানাকা মেমোরিয়াল

ইতিমধ্যে জাপানের রাজনীতিতে উগ্র জাতীয়তাবাদ, উগ্র জঙ্গিবাদ ও সামরিক আধিপত্যের প্রাধান্য বৃদ্ধি পায়। জাপানি মন্ত্রীসভায় সামরিক বিভাগের লোকজন ঢুকে পড়ে। জাপানের উগ্র সাম্রাজ্যবাদী প্রধানমন্ত্রী টানাকা ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে জাপানের সম্রাটের কাছে প্রদত্ত এক প্রতিবেদনে বলেন যে, পূর্ব এশিয়ার সমস্যা সমাধানের জন্য জাপানের অবশ্যই যুদ্ধনীতি গ্রহণ করা উচিত। এই প্রতিবেদন ‘টানাকা মেমোরিয়াল’ নামে পরিচিত।

(৩) সাধারণ মানুষের মনোভাব

জাপানের সাধারণ মানুষও এই সময় সেখানকার চিরাচরিত রাজনৈতিক নেতা ও দলগুলির ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। তারা মনে করতে থাকে যে, একমাত্র সামরিক বাহিনীই দেশের মঙ্গল করতে পারবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জাপানের ‘এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া’ নীতি

  • (১) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ইউরোপের বিভিন্ন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উপনিবেশ স্থাপিত হয়েছিল। এইসব ইউরোপীয় শক্তির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ডাচ বা ওলন্দাজ প্রভৃতি।
  • (২) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান এশিয়ার উপনিবেশগুলি থেকে এইসব পশ্চিমি শক্তিগুলিকে বিতাড়িত করে নিজের ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের প্রসার ঘটানোয় সক্রিয় উদ্যোগ নেয়।
  • (৩) এই উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের স্লোগান ছিল ‘এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া’। অর্থাৎ এশিয়ার ভূখণ্ডে পশ্চিমি দেশগুলির আধিপত্য জাপান স্বীকার করবে না। এই স্লোগানের আড়ালে জাপানের প্রকৃত বক্তব্য ছিল ‘পশ্চিমি শক্তিগুলি নয়, এশিয়ায় কর্তৃত্ব করবে জাপান।

বৃহত্তর পূর্ব এশীয় সম্মেলনে এশিয়বাসীদের জন্য এশিয়া ধারণা

  • (১) ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে (৫ ও ৬ নভেম্বর) বৃহত্তর পূর্ব এশীয় সম্মেলনে পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যোগদান করে। এই সম্মেলনে পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে জাপান ‘এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া’ ধারণাটি জোরালোভাবে তুলে ধরে। জাপান পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সামনে পশ্চিমি ‘বস্তুবাদী সভ্যতার’ তুলনায় ‘আধ্যাত্মবাদী’ এশিয়া সভ্যতা যে শ্রেষ্ঠ সেই বক্তব্য তুলে ধরে।
  • (২) এই সম্মেলনে বার্মার রাজনৈতিক নেতা বা ম (Ba Maw) জাপানের এশীয় ঐক্যের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন জানিয়ে ঘোষণা করেন, “আমার দেহের এশীয় রক্ত সর্বদা অন্য এশিয়াবাসীকে আহ্বান জানায়। প্রাচ্য বনাম পাশ্চাত্য রক্ত সম্পর্কের দ্বন্দ্বে জাপানের দৃষ্টিভঙ্গিকে এশিয়ার বহু নেতা সমর্থন করেন।

সামরিক বাহিনীর এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া ধারণার প্রচার

জাপানি সামরিক বাহিনী “Read This and the War is Won” শীর্ষক এক পুস্তিকার মাধ্যমে প্রচার করে যে, এশিয়ায় শোষণ চালিয়ে পশ্চিমি ঔপনিবেশিক দেশগুলি বিলাস-বৈভবে বাস করছে, আর এশীয়রা প্রতিনিয়ত দুর্বল হচ্ছে। জাপান বিমান থেকে ফিলিপিনস, মালয় ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রচারপত্র ফেলে সেখানকার জনগণকে পশ্চিমি ঔপনিবেশিক শক্তিগুলির বিরুদ্ধে জাপানের এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আবেদন জানায়।

এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাথে জাপানের সুসম্পর্কের উদ্যোগ

  • (১) জাপান পূর্ব এশিয়ার ইউরোপীয় উপনিবেশ এবং অন্যান্য স্বাধীন স্থানের জনসাধারণ ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করে নিজেকে তাদের নেতা হিসেবে তুলে ধরার প্রয়াস চালায়। জাপান এইসব অঞ্চলের সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলতে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।
  • (২) এই অঞ্চলে সাধারণ ভাষা হিসেবে ইংরেজি ভাষার পরিবর্তে জাপানি ভাষা প্রবর্তনের চেষ্টা চালানো হয়। বিভিন্ন ভাষায় লেখা প্রচারপত্রের দ্বারা প্রচার করা হয় যে, এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলকে পশ্চিমি শক্তিগুলির হাত থেকে উদ্ধার করে জাপান তাদের স্বাধীনতা দিয়েছে।

এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া’ স্লোগানের উদ্দেশ্য

জাপান ‘এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া’ স্লোগানের মাধ্যমে পশ্চিমি ঔপনিবেশিক শক্তিগুলির বিরুদ্ধে পূর্ব এশিয়ার ত্রাতা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করে। জাপান কর্তৃক ‘এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া’ স্লোগান প্রচারের কয়েকটি বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল। এই উদ্দেশ্যগুলি হল –

(১) পশ্চিমি শক্তির অনধিকারের তত্ত্ব প্রচার

‘এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া’ ঘোষণার অর্থ ছিল যে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যেসব ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল, তার অবসান ঘটানোর উদ্যোগ গ্রহণ। জাপানের মতে, একমাত্র এশীয়রাই এশিয়া শাসন করার অধিকারী। এই নীতির দ্বারা উজ্জীবিত জাপান যথারীতি প্রবল বিক্রমে এশিয়া থেকে পশ্চিমি ঔপনিবেশিক শক্তিগুলিকে বিতাড়িত করে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কাজে নেমে পড়ে।

(২) সম্প্রসারণ নীতি প্রয়োগ

এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া’ ঘোষণা ছিল জাপানের একটি ছলনা মাত্র। এর আড়ালে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী লিপ্সা চরিতার্থ করা। জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিদেকি তোজো ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত ‘বৃহত্তর পূর্ব এশিয়া সম্মেলন’-এ প্রদত্ত বক্তৃতায় দাবি করেন যে, পূর্ব এশিয়ায় ‘এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া’ নীতির মধ্য দিয়ে এশিয়াবাসীদের আশা-আকাঙ্খারই প্রতিফলন ঘটেছে। তবে জাপানের প্রকৃত বক্তব্য ছিল ‘এশিয়া কেবল জাপানেরই জন্যই’ এবং প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল একটি বৃহৎ জাপানি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা।

(৩) এশিয়ার দেশগুলিকে উৎসাহদান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান পাশ্চাত্যের মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে বিপুল সামরিক শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধে নিজেদের সাফল্য সুনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে জাপান এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ এবং জাতিগুলিকেও মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে শামিল করার প্রয়াস চালায়। পশ্চিমি দেশগুলির বিরুদ্ধে এশিয়ার দেশগুলির যুদ্ধ প্রয়াসকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেও জাপান ‘বৃহত্তর পূর্ব এশিয়া সম্মেলন’-এ ‘এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া’ নীতি ঘোষণা করে।

(৪) যুদ্ধনীতির অঙ্গ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পূর্ব এশিয়ায় জাপানের যুদ্ধনীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল এই অঞ্চলের ঔপনিবেশিক দেশগুলিকে ইংল্যান্ড ও আমেরিকার কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত করে সেখানে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। পশ্চিমি আধিপত্যমুক্ত বৃহত্তর পূর্ব এশিয়ায় এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি সবক্ষেত্রেই জাপান নেতৃত্বের আসন গ্রহণ করবে।

(৫) প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার

পশ্চিমি দেশগুলি পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বিচারে প্রাকৃতিক সম্পদ সংগ্রহ করে তা নিজেদের দেশে নিয়ে যায়। এইসব সম্পদ ও কাচামালের ওপর ভিত্তি করে সেখানে শিল্পের বিকাশ ঘটে। জাপান মনে করত যে, এশীয়দের পক্ষে পশ্চিমিদের একাজ মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ একমাত্র এশীয়দেরই পূর্ব এশিয়ার ভূখণ্ড ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার আছে। এখানে পশ্চিমিদের কোনো অধিকারই নেই।

(৬) মূল ভূখণ্ডে আধিপত্যের আকাঙ্ক্ষা

  • (ক) জাপানিরা প্রকৃতিগতভাবে ছিল পরিশ্রমী এবং সম্প্রসারণশীল। জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে বিভিন্ন ক্ষুদ্র-বৃহৎ দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। তাই জাপানিরা স্বাভাবিকভাবেই দ্বীপরাষ্ট্র থেকে এশিয়ার মূল ভূখণ্ডের দেশগুলিতে নিজেদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করত।
  • (খ) ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বাসস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য জাপান নতুন ভূখণ্ড দখলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিল। অথচ ইতিমধ্যেই এশিয়ার মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন স্থানে পশ্চিমি শক্তিগুলির একাধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জাপান তাই এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া স্লোগানের মাধ্যমে এই অঞ্চলে থেকে পশ্চিমি শক্তিকে হটিয়ে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় তৎপর হয়।

(৭) ভৌগোলিক অবস্থান

লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেমন সেই অঞ্চলে নিজের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠাকে অপরিহার্য বলে মনে করেছিল, অনুরূপভাবে পূর্ব এশীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য জাপানও সেখানে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হয়। প্রতিবেশী অঞ্চলগুলির ওপর নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে জাপান এই অঞ্চলের নেতৃত্বের আসন লাভ করতে চেয়েছিল।

উপসংহার :- জাপানের সাধারণ মানুষ দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ ও বহুদলীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে “এক দেশ, এক দল” ধ্বনি তোলে। সেই দল হল ‘সোয়া কাই’ বা সামরিক দল। এভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে জাপানের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের পটভূমি তৈরি হয়।

(FAQ) এশিয়াবাসীদের জন্য এশিয়া নীতি সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. এশিয়বাসীদের জন্য এশিয়া নীতি অনুসরণ করে কে?

জাপান।

২. হিদেকি তোজো কে ছিলেন?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

৩. জাপান কবে কার কাছে একুশ দফা দাবি পেশ করে?

১৮ জানুয়ারি ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে।

৪. টানাকা কে ছিলেন?

জাপানের উগ্ৰ সাম্রাজ্যবাদী প্রধানমন্ত্রী।

৫. সোয়া কাই কথার অর্থ কি?

সামরিক দল।

Leave a Comment