মালয় উপদ্বীপ

মালয় উপদ্বীপ প্রসঙ্গে হিন্দু রাজ্য, পুরাণে উল্লেখ, টলেমির বর্ণনা, ভারতীয় উপনিবেশ স্থাপনকারীদের ভ্রমণ, বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের মালয় উপদ্বীপে গমন, শৈব ও বৌদ্ধ রাজ্যের প্রতিষ্ঠা, শ্রীবিষ্ণুর শীলমোহর, চীনের সঙ্গে ভারতীয় উপনিবেশের যোগাযোগ, শৈলেন্দ্ররাজ্যের অন্তর্ভুক্ত মালয় উপদ্বীপ, মুসলমানদের মালয় উপদ্বীপ জয় ও মালয় উপদ্বীপে হিন্দু সভ্যতার বাস্তব নিদর্শন সম্পর্কে জানবো।

মালয় উপদ্বীপ

ঐতিহাসিক স্থানমালয় উপদ্বীপ
ভাষাসংস্কৃত
ধর্মহিন্দু ধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম
রাজাসরিপাল বর্মা
মালয় উপদ্বীপ

ভূমিকা :- খ্রিস্টীয় প্রথম এবং দ্বিতীয় বা তৃতীয় শতাব্দীতে যথাক্রমে কম্বোজ এবং চম্পায় হিন্দুরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। মালয় উপদ্বীপ ঐ সব স্থানে যাওয়ার পথেই পড়ে।

মালয় উপদ্বীপে হিন্দু রাজ্য

এরূপ অনুমান করা যুক্তিযুক্ত যে কম্বোজ এবং চম্পায় রাজ্য প্রতিষ্ঠার পূর্বেই মালয়ে হিন্দুরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু এই বিষয়ে কোনো সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।

পুরাণে মালয় উপদ্বীপের উল্লেখ

পুরাণে মালদ্বীপ এবং কটাহ দ্বীপের উল্লেখ আছে।

মালয় উপদ্বীপ সম্পর্কে টলেমির বর্ণনা

খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে ভারতীয়দের লব্ধজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে টলেমি ঐ অঞ্চলের প্রামাণিক বিবরণ প্রকাশ করেন।

মালয় উপদ্বীপে ভারতীয় উপনিবেশ স্থাপনকারীদের ভ্রমণ

ভারতীয় উপনিবেশ স্থাপনকারীদের অনেকেই সমুদ্রপথে সমস্ত মালয় উপদ্বীপের তীর ঘুরে না গিয়ে কটাহ বা বর্তমান কেভা হয়ে শ্যাম, কম্বোজ, চম্পা প্রভৃতি স্থানে যেতেন। অবশ্য দুই পথেই ভারতীয় সভ্যতা বিস্তারের নিদর্শন পাওয়া যায়।

বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের মালয় উপদ্বীপে গমন

চীনের ইতিবৃত্তে পাওয়া যায় যে খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে মালয়ের এক অংশে হিন্দু ছিল। মালয়ের অন্তর্গত ওয়েলেসলী এবং কেডাতে প্রাপ্ত ‘শাসন’ থেকে প্রমাণিত হয় উত্তর ও দক্ষিণ ভারত থেকে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী লোক গিয়ে চতুর্থ বা পঞ্চম শতাব্দীর মধ্যে মালয়ের পশ্চিম উপকূলে রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।

মালয় উপদ্বীপে বুদ্ধগুপ্তের নাম উল্লেখ

একটি ‘শাসনে’ মহানাবিক বুদ্ধগুপ্তের নাম পাওয়া যায়। বুদ্ধগুপ্ত ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার বিখ্যাত রাঙ্গামাটি (কর্ণসুবর্ণ) নামক স্থানের অধিবাসী।

মালয় উপদ্বীপে শৈব ও বৌদ্ধদের রাজ্য প্রতিষ্ঠা

কেডা এবং পেরাক-এ প্রাপ্ত অনেক প্রাচীন জিনিস থেকে এরূপ সিদ্ধান্ত করা যায় যে চতুর্থ-পঞ্চম শতাব্দীতে শৈব ও বৌদ্ধমতাবলম্বী লোক গিয়ে কেডাতে এবং পঞ্চম শতাব্দীর মধ্যে পেরাক-এ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।

মালয় উপদ্বীপে শ্রীবিষ্ণুবর্মার শীলমোহর

প্রাপ্ত জিনিসের মধ্যে পঞ্চম শতাব্দীর অশুদ্ধ সংস্কৃত ভাষায় পল্লব লিপিতে লিখিত শ্রীবিষ্ণুবর্মার একটি শীলমোহর আছে।

চীনের সঙ্গে ভারতীয় উপনিবেশের যোগাযোগ

  • (১) চীনের সুঙ্গবংশের ইতিহাসে পাওয়া যায় ৪৪৯ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব-মালয় অবস্থিত পাহাঙ রাজ্যের রাজা সরিপালবর্মা চীনের রাজদরবারে প্রতিনিধি পাঠান।
  • (২) এর পরে এই রাজদরবার থেকে দুজন ঐতিহাসিক বিভিন্ন সময়ে চীনের রাজ দরবারে যান। অতএব চীনের সঙ্গে ভারতীয় উপনিবেশের বেশ যোগাযোগ ছিল এবং সে সময়ে পাহাঙে এক উচ্চ সভ্যতা বর্তমান ছিল।

শৈলেন্দ্ররাজ্যের অন্তর্ভুক্ত মালয় উপদ্বীপ

প্রথমে মালয়ে ছোট ছোট ভারতীয় রাজা ছিল। খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে সমস্ত মালয় শৈলেন্দ্ররাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে মালয় যবদ্বীপের মজপহিট রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

মুসলমানদের মালয় উপদ্বীপ জয়

পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে মুসলমানরা মালয় জয় করে। মালয় জয়ের সময় মুসলমানরা মালয়ের অধিবাসীদের হিন্দু বলেই অভিহিত করেছে।

মালয় উপদ্বীপে হিন্দু সভ্যতার বাস্তব নিদর্শন

  • (১) হিন্দু সভ্যতার বাস্তব নিদর্শন মালয়ে অল্পই পাওয়া গেছে। কেডাতে একটি হিন্দু মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ এবং দুর্গা, গণেশ ও নন্দীমূর্তি পাওয়া গেছে। পেরাক-এর একস্থানে প্রাপ্ত একটি সোনার অলঙ্কারে গরুড়বাহন সমেত বিষ্ণু মূর্তি আছে।
  • (২) বৌদ্ধধর্মের জ্ঞাপক জিনিসও পাওয়া গেছে। আজও ভারতীয় ব্রাহ্মণদের বংশধরদের বসতি পূর্ব-উপকূলে অবস্থিত নাখনস্মীটাম্মারাট ও মাঝামাঝি অবস্থিত পাটালুঙে আছে।

উপসংহার :- মালয়ে সংস্কৃত ভাষা বেশ প্রচলিত ছিল। যদিও মুসলমান বিজয়ের পূর্বে মালয় সাহিত্য ছিল, তথাপি তার কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না।

(FAQ) মালয় উপদ্বীপ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. পুরাণে কোন কোন দ্বীপের উল্লেখ আছে?

মালদ্বীপ ও কটাহ দ্বীপ।

২. মালয়ে কোন ভাষা বেশ প্রচলিত ছিল?

সংস্কৃত।

৩. মালয় উপদ্বীপের হিন্দু রাজা কে ছিলেন?

সরিপাল বর্মা।

Leave a Comment