পূর্ণ স্বরাজ

পূর্ণ স্বরাজ প্রসঙ্গে সক্রিয় রাজনীতিতে গান্ধীজীর অবতরণ, গান্ধীজীর প্রধান কাজ, জাতীয় কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশন, লাহোর অধিবেশনে গৌরবময় ঘটনা, পূর্ণ স্বরাজের প্রস্তাব গ্ৰহণ, পতাকা উত্তোলন, স্বাধীনতা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত, আইন অমান্য আন্দোলনের প্রস্তাব ও গান্ধীজীর উপর সংগ্ৰামের দায়িত্ব প্রদান সম্পর্কে জানবো।

পূর্ণ স্বরাজ

ঐতিহাসিক ঘটনাপূর্ণ স্বরাজ
কংগ্রেসের অধিবেশনলাহোর
সময়কাল১৯২৯ খ্রি:
সভাপতিজওহরলাল নেহরু
পূর্ণ স্বরাজ

ভূমিকা :- অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের পর দেশের বর্তমান পরিস্থিতি কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের মধ্যেও গভীর উন্মাদনার সৃষ্টি করেছিল।

সক্রিয় রাজনীতিতে গান্ধীজীর অবতরণ

গান্ধীজী আবার সক্রিয় রাজনীতি ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে তিনি যোগদান করেন। অতঃপর তিনি জাতীয়তাবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংহতি সৃষ্টির দিকে মন দিয়েছিলেন।

গান্ধীজীর প্রধান কাজ

সমাজতান্ত্রিক মনোভাব সম্পন্ন অর্থাৎ বামপন্থী জাতীয়তাবাদীদের কংগ্রেসের মূল ধারার সঙ্গে সংযুক্তি করণই এই সময় তাঁর প্রধান কাজ হয়ে উঠেছিল।

জাতীয় কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশন

১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে লাহোরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনের জন্য জওহরলাল নেহেরুকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এই অধিবেশনটি একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল।

লাহোর অধিবেশনের গৌরবময় ঘটনা

কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনের একটা ঘটনা দেশের মানুষের মনে বেশ উৎসুক্যের সঞ্চার করেছিল। কারণ, এই অধিবেশনে আগের বছরের (১৯২৮) নির্বাচিত সভাপতি মতিলাল নেহেরুর স্থানে তাঁর পুত্র জওহরলাল নেহেরু সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভারতের আধুনিক ইতিহাসে একটি বিশেষ পরিবারের গৌরব এমনভাবে আর সূচিত হয় নি।

পূর্ণ স্বরাজ গ্ৰহণের পূর্বে নতুন বেপরোয়া চরমপন্থী চিন্তা

কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশন একটি নূতন বেপরোয়া চরমপন্থী চিন্তাকে রূপায়িত করেছিল।

লাহোর অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজের প্রস্তাব গ্ৰহণ

এই সর্বপ্রথম এই মর্মে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল যে পূর্ণ স্বরাজ বা পূর্ণ স্বাধীনতাই জাতীয় কংগ্রেস আন্দোলনের লক্ষ্য।

পূর্ণ স্বরাজ গ্ৰহণের পর পতাকা উত্তোলন

১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর নতুন ভাবে গৃহীত ত্রিবর্ণ রঞ্জিত জাতীয় পতাকা উত্তোলিত করা হয়েছিল।

পূর্ণ স্বরাজ গ্ৰহণের পর স্বাধীনতা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত

পরবর্তী বছর অর্থাৎ ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি দিনটি স্বাধীনতা দিবসরূপে প্রতিপালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

পূর্ণ স্বরাজ গ্ৰহণের পর প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস পালন

এই সিদ্ধান্তে আরও বলা হয়েছিল যে অতঃপর প্রতি বৎসর এই দিনটি ‘স্বাধীনতা দিবস’ রূপে পালন করা হবে এবং এই দিনটিতে ভারতবাসী এই সঙ্কল্প বাক্য উচ্চারণ করবে যে ব্রিটিশ শাসন মেনে নেওয়া ঈশ্বর এবং মানুষের বিরুদ্ধাচরণ, অর্থাৎ এটা মহাপাপ।

পূর্ণ স্বরাজ গ্ৰহণের মাধ্যমে আইন অমান্য আন্দোলনের প্রস্তাব

কংগ্রেসের এই অধিবেশনে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করার প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছিল। তবে এই আইন অমান্য আন্দোলনের কর্মসূচি বিশদভাবে তখনই ব্যাখ্যা করা হয় নি।

পূর্ণ স্বরাজ গ্ৰহণের পর গান্ধীজীর উপর সংগ্ৰামের দায়িত্ব প্রদান

আইন অমান্য আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়নের দায়িত্ব মহাত্মা গান্ধীর উপর অর্পিত হয়েছিল এবং কংগ্রেস সংগঠনকে তাঁর ইচ্ছামত সংগ্রামে লিপ্ত হবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

উপসংহার :- অতঃপর গান্ধীজীর নেতৃত্বে আর একবার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে ব্রিটিশ রাজশক্তির সঙ্গে সঙ্ঘর্ষে লিপ্ত হতে হয়েছিল। দেশবাসী আর একবার স্বাধীনতা অর্জনের সঙ্কল্প গ্রহণ করেছিল এবং এই সঙ্কল্প গ্রহণ দেশবাসীর মনে নতুন আশা ও উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।

(FAQ) পূর্ণ স্বরাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. জাতীয় কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজ প্রস্তাব হিসাবে গ্ৰহণ করা হয়?

লাহোর অধিবেশনে।

২. কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশন কখন হয়?

১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে।

৩. কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কে?

জওহরলাল নেহরু।

৪. কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে পূর্ণ স্বরাজের দাবি ঘোষণা করেন কে?

জওহরলাল নেহরু।

Leave a Comment