গণপরিষদ

ভারতের গণপরিষদ প্রসঙ্গে জওহরলাল নেহরুর ঘোষণা, জিন্নাহর ঘোষণা, লর্ড ওয়াভেল এর উদ্যোগ, গণপরিষদ গঠনের প্রেক্ষাপট, গণপরিষদের গঠন ও সংবিধান রচনার উদ্যোগ সম্পর্কে জানবো।

ভারতের গণপরিষদ

ঐতিহাসিক বিষয়গণপরিষদ
গঠনকালডিসেম্বর, ১৯৪৬ খ্রি
প্রথম অধিবেশন৯ ডিসেম্বর, ১৯৪৬ খ্রি
স্থানদিল্লী
সভাপতিড. রাজেন্দ্র প্রসাদ
ভারতের গণপরিষদ

ভূমিকা :- মন্ত্রী মিশনের পরিকল্পনা অনুসারে ভারতের সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে গণপরিষদ গঠিত হয়।

গণপরিষদে যোগদেওয়া প্রসঙ্গে জওহরলাল নেহরুর ঘোষণা

কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ মোটামুটিভাবে মন্ত্রী মিশনের পরিকল্পনা মেনে নেয়। তবে কংগ্রেস গণপরিষদে যোগ দিতে সম্মত হলেও অন্তবর্তী সরকারে যোগ দিতে অসম্মত হয়। কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহরু ঘোষণা করেন যে, গণপরিষদে কংগ্রেস যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে তবে কংগ্রেস গণপরিষদ বয়কট করবে।

গণপরিষদে যোগদেওয়া প্রসঙ্গে জিন্নার ঘোষণা

নেহরুর এই ঘোষণায় জিন্না-সহ মুসলিম লিগ অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ হয়। এই পরিস্থিতিতে ২৯ জুলাই (১৯৪৬ খ্রি.) জিন্না ঘোষণা করেন যে, মন্ত্রী মিশনের পরিকল্পনা মুসলিম লিগ মানবে না এবং অন্তর্বর্তী সরকারেও যোগ দেবে না।

গণপরিষদ গঠনে লর্ড ওয়াভেল এর উদ্যোগ

কিন্তু লর্ড ওয়াভেল দ্রুত কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহরুকে অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রীসভা গঠনের আহ্বান জানান এবং গণপরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেন।

গণপরিষদ গঠনের প্রেক্ষাপট

ভারতের গণপরিষদ গঠনের প্রেক্ষাপটগুলি হল –

(ক) ১৯৪৮-৪৭ খ্রিস্টাব্দের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

  • (১) ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়ে কংগ্রেসের নেতারা যখন কারারুদ্ধ, মুসলিম লিগ তখন চারটি প্রদেশে মন্ত্রীসভা গঠন করে ও ‘পাকিস্তান’ দাবির সপক্ষে প্রচার চালিয়ে মুসলিম জনমত গড়ে তোলে।
  • (২) এই সময় যে-কোনো উপায়ে পৃথক পাকিস্তান অর্জন করাই জিন্না ও অন্যান্য লিগ নেতাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। পাকিস্তানের দাবিকে সামনে রেখে লিগ ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাইতে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচনে অংশ নেয়। এই নির্বাচনে লিগ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় যথেষ্ট সাফল্য পায়।

(খ) লিগের প্রত্যক্ষ সংগ্রাম

এক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক গুলি হল –

(১) অন্তবর্তী মন্ত্রীসভা গঠন

মন্ত্রী মিশনের (১৯৪৬ খ্রি.) প্রস্তাব অনুসারে কেন্দ্রে একটি সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কথা ছিল। লিগ এই অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ না দিয়ে পৃথক পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে বড়োলাট ওয়াভেল ১২ আগস্ট ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহরুকে মন্ত্রীসভা গঠনের আহ্বান জানালে লিগ অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে সংঘর্ষের পথ গ্রহণ করে।

(২) প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক

মুসলিম লিগ পাকিস্তান আদায় এবং বর্তমানের ইংরেজ দাসত্ব ও সম্ভাব্য হিন্দু প্রাধান্যের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রামের’ ডাক দেয়।

(৩) কলকাতায় লিগের দাঙ্গা

বাংলার লিগ সরকারের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় পুলিশ ও প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় রেখে কলকাতায় পাঁচদিন ধরে (১৬-২০ আগস্ট) ব্যাপক দাঙ্গা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে। “লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান” ধ্বনি তুলে লিগের সমর্থকরা নির্বিচারে হিন্দু-নিধনে মেতে ওঠে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ‘কলকাতা হত্যাকাণ্ড’ (Great Calcutta Killing) নামে পরিচিত।

(৪) প্রত্যক্ষ সংগ্ৰাম সম্পর্কে মোসলে এর মন্তব্য

ইংরেজ ঐতিহাসিক মোসলে লিখেছেন যে, এই ক-দিনে কলকাতার ৬ হাজার লোক ছোৱা, বন্দুক, লাঠি বা অগ্নিদাহে নিহত হয় এবং ২০ হাজার নারী ধর্ষিত ও বিকলাঙ্গ হয়।

(৫) প্রত্যক্ষ সংগ্ৰাম সম্পর্কে আজাদের মন্তব্য

মৌলানা আবুল কালাম আজাদ তাঁর ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম’-এ লিখেছেন, “সমগ্র কলকাতা শহরে যখন নারী-পুরুষ খুন হচ্ছিল তখন পুলিশ ও মিলিটারি নীরবে দাঁড়িয়েছিল।

(গ) কলকাতা হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব

১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে মুসলিম লিগের প্রত্যক্ষ সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে সংঘটিত কলকাতার দাঙ্গা ও হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব কাদের তা নিয়ে নানা মতভেদ রয়েছে। যেমন –

(১) হিন্দুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কেউ কেউ কলকাতার দাঙ্গার জন্য হিন্দুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, যেমন – লিগ নেতা জিন্না ডিসেম্বর মাসে লন্ডনে এক ব্রিটিশ মন্ত্রীকে বলেন যে, কলকাতার দাঙ্গা বাধিয়েছিল হিন্দুরাই। কলকাতার দাঙ্গার বিষয়ে গঠিত কমিশনের প্রধান স্যার প্যাট্রিক স্পেন্স হিন্দুদের উসকানিকেই দাঙ্গার জন্য দায়ী করেছেন। কামাল শামসুদ্দিন এবং ইস্পাহানিও দাঙ্গার জন্য হিন্দুদেরই দায়ী করেছেন।

(২) নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত

যাঁরা কলকাতার দাঙ্গার জন্য হিন্দুদের দায়ী করেছেন তাদের বক্তব্য বহুলাংশেই যুক্তিগ্রাহ্য নয় বলে বিভিন্ন পণ্ডিত ও ঐতিহাসিক অভিমত দিয়েছেন। মৌলানা আজাদ, সেনাবাহিনীর এরিয়া কমান্ডার বুচার, ছোটোলাট বারোজ এবং ঐতিহাসিক অমলেশ ত্রিপাঠী, সুমিত সরকার, শীলা সেন প্রমুখ দাঙ্গার জন্য সরাসরি সোহরাওয়ার্দীকেই দায়ী করেছেন। ছোটোলার্ট ফ্রেডারিক বারোজ স্পষ্টই বলেছেন যে, সোহরাওয়ার্দী শুধু মুসলিম জীবন ও সম্পত্তি নিয়ে উদবিগ্ন ছিলেন এবং লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে বসে পুলিশ কমিশনারের কাজে বাধা দিয়েছিলেন।” বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অন্নদাশংকর রায় সোহরাওয়ার্দীকে ‘গুন্ডাদের মন্ত্রণাদাতা’ বলেছেন।

(ঘ) দাঙ্গার বিস্তার

  • (১) ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৬ আগস্ট কলকাতায় দাঙ্গা শুরু হলে তার সূত্র ধরে ভারতের অন্য কয়েকটি স্থানেও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এরপর দাঙ্গার আগুন ছড়িয়ে পড়ে বোম্বাই (১ সেপ্টেম্বর), নোয়াখালি ও ত্রিপুরা (১০ অক্টোবর), বিহার (২৫ অক্টোবর), যুক্তপ্রদেশের গড়মুক্তেশ্বর (নভেম্বর), পাঞ্জাব (মার্চ, ১৯৪৭ খ্রি.) প্রভৃতি স্থানে।
  • (২) নোয়াখালি ও ত্রিপুরার দাঙ্গা বীভৎস আকার ধারণ করে। এখানকার দাঙ্গাবাজরা ছিল মুসলিম। স্টেটসম্যান পত্রিকার মতে, দাঙ্গার প্রধান লক্ষ্য ছিল লুটপাট এবং মানুষকে ধর্মান্তরিত করা। এই দাঙ্গায় ৩০০-র বেশি মানুষ নিহত হয় এবং কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংস হয়।
  • (৩) গান্ধিজি ৭৭ বছর বয়সে অশক্ত শরীরে নোয়াখালির দাঙ্গাবিধ্বস্ত অঞ্চলে ঘুরেও সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তার আশ্বাস পান নি। নোয়াখালির হিন্দুদের অবস্থা বুঝে তিনি তাদের বলেন, “নোয়াখালি ত্যাগ করো, নইলে মরবে”। ড. সুমিত সরকারের মতে, নোয়াখালি ও ত্রিপুরার দাঙ্গার মধ্যে বিকৃত সামাজিক উপাদান বিদ্যমান ছিল।
  • (৪) এই দুই জেলার মুসলিমরা ছিল প্রধানত কৃষক এবং হিন্দুরা ছিল মূলত ভূস্বামী, বণিক ও অন্যান্য পেশার মানুষ। নোয়াখালির দাঙ্গার বদলা হিসেবে বিহারে হিন্দুরা দাঙ্গা শুরু করে প্রচুর মুসলিমকে হত্যা করে। লাহোর, অমৃতসর, মূলতান, আটক, রাওয়ালপিন্ডি প্রভৃতি স্থানে ব্যাপক নরহত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
  • (৫) পাঞ্জাবের মুসলিম প্রধান অঞ্চলগুলিতে দাঙ্গাবাজদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল শিখ ও হিন্দু ব্যবসায়ী এবং মহাজনরা। ঐতিহাসিক পেন্ডেরেল মুনের বিবরণ থেকে জানা যায় যে, ১৯৪৬-৪৭ খ্রিস্টাব্দের দাঙ্গায় প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ নিহত হয়, অন্তত ১ লক্ষ নারী অপহৃত হয় এবং বহু কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি নষ্ট হয়।

(ঙ) অন্তর্বর্তী সরকার গঠন

হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মধ্যেই ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ২ সেপ্টেম্বর জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে কেন্দ্রে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। –

(১) মন্ত্রীসভার প্রাথমিক সদস্য

অন্তর্বর্তী সরকারের উপ- সভাপতি বা প্রধানমন্ত্রী হন জওহরলাল নেহরু। মন্ত্রীসভার ১২ জন্য সদস্যের মধ্যে ৬ জন ছিলেন কংগ্রেসের। এরা হলেন জওহরলাল নেহরু, ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ, চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, শরৎচন্দ্র বসু এবং আসফ আলি। মন্ত্রীসভার অন্যান্য সদস্যরা হলেন সর্দার বলদেব সিং (শিখ), ড. জন মাথাই (ভারতীয় খ্রিস্টান), স্যার সাফাত্ আহম্মদ খান ও সৈয়দ আলি জাহির (লিগ-বহির্ভূত মুসলিম), সি. এইচ. ভাবা (পারসি) এবং ফ্রাঙ্ক অ্যান্টনি (অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান)।

(২) লিগের যোগদান

মুসলিম লিগ প্রথমে অন্তবর্তী সরকারে যোগ দেয় নি। তবে এককভাবে কংগ্রেসের হাতে ক্ষমতা চলে যাক, এটা ব্রিটিশ সরকার এবং লিগ কেউই চাইছিল না। লিগ আশঙ্কা করে যে, তারা মন্ত্রীসভায় যোগদান না করায় কংগ্রেসের ক্ষমতা বিপুল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং মুসলিম সমাজের নেতৃত্ব সরকারে যোগদানকারী মুসলিম সদস্যদের হাতে চলে যেতে পারে। তাই শেষপর্যন্ত কিছু দরকষাকষির পর বড়োলাট লর্ড ওয়াভেলের অনুরোধে ২৬ অক্টোবর লিগের ৫ জন সদস্য মন্ত্রীসভায় যোগ দেন। এই সদস্যরা হলেন লিয়াকৎ আলি খাঁ, চুন্দ্রীগড়, আবদুর রব নিস্তার, গজনফর আলি খাঁ ও যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল।

(৩) লিগের ভূমিকা

মন্ত্রীসভায় যোগ দিলেও লিগের মন্ত্রীরা একটি পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করতেন এবং তাঁদের মূল লক্ষ্যই ছিল সরকারি কাজে নানাভাবে বাধার সৃষ্টি করা এবং এর দ্বারা সরকারকে অচল করে দিয়ে ভারত বিভাগকে অনিবার্য করে তোলা। লিগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকৎ আলি খাঁ স্পষ্টই ঘোষণা করেন, “আমাদের সযত্নলালিত বাসনা পাকিস্তান অর্জনের লড়াইয়ে একটি শক্ত ভিত্তিভূমি পাওয়ার উদ্দেশ্যেই আমরা অন্তবর্তী সরকারে যোগদান করতে যাচ্ছি।”গান্ধিজির জীবনীকার ও ব্যক্তিগত সচিব প্যারেলাল বলেন, “যেদিন মুসলিম লিগ অন্তর্বর্তী সরকারে যোগদান করল সেদিনই অখন্ড ভারত গঠনের লড়াই চিরতরে পরাজিত হল।” মন্ত্রীসভায় লিগের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলার দলিত হিন্দুনেতা যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের মনোনয়ন ছিল কংগ্রেসের মুসলিম-প্রতিনিধি আসফ আলির মনোনয়নের প্রত্যুত্তর। যোগেন্দ্রনাথের মনোনয়ন থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, বিবাদের মনোভাব নিয়েই লিগ মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়েছিল।

গণপরিষদের গঠন ও সংবিধান রচনার উদ্যোগ

মন্ত্রী মিশনের প্রস্তাবে নতুন সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে যে সংবিধান সভা বা গণপরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছিল তা বাস্তবায়িত করতে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে সংবিধান সভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রাদেশিক আইনসভার বিধায়কগণ এই নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। গণপরিষদের মোট সদস্যসংখ্যা ছিল ৩৮৯ জন। এর মধ্যে দেশীয় রাজ্যের প্রতিনিধি ১৩ জন, কংগ্রেস ২০৮ জন, মুসলিম লিগের ৭৮ জন ছিল। ৯ ডিসেম্বর (১৯৪৬ খ্রি.) দিল্লিতে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।

(১) লিগের অসহযোগিতা

লিগ এই অধিবেশনে যোগ না দিয়ে পৃথক পাকিস্তানের দাবিতে জোর প্রচার চালাতে থাকে। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ গণপরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন (১১ ডিসেম্বর)। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৩১ জানুয়ারি লিগ গণপরিষদের গঠন ও কর্মধারাকে বেআইনি বলে ঘোষণা করে এবং গণপরিষদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানায়। ক্ষুণ্ণ কংগ্রেস নেতৃবৃন্দও লিগের সদস্যদের অন্তর্বর্তী সরকার থেকে অপসারণের দাবি জানায়। ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

(২) এটলির ঘোষণা

ইতিমধ্যে দাঙ্গার আগুনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল। ব্রিটিশ সরকারও ভারতের বিষয়ে আর সমস্যা বাড়াতে চাইছিল না। এই অবস্থায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেন্ট এটলি ২০ ফেব্রুয়ারি (১৯৪৭ খ্রি.) ঘোষণা করেন যে, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ব্রিটিশ সরকার ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। ইতিমধ্যে ভারতীয় নেতৃবৃন্দ কোনো সর্বসম্মত সরকার গঠনে সক্ষম না হলে ব্রিটিশ সরকার নিজের ইচ্ছামতো একটি কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রয়োজনে প্রাদেশিক সরকারগুলির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। এই ঘোষণার পর লিগ নতুন করে পাণ্ডাব ও আসামে দাঙ্গা শুরু করে।

উপসংহার :- প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা লাভের পর ২১ আগস্ট সংবিধান রচনার জন্য একটি খসড়া কমিটি গঠন করা হয়। এর চেয়ারম্যান হন ড. বি. আর. আম্বেদকর। প্রসঙ্গত, এই কমিটিই সংবিধান রচনার কাজ সম্পূর্ণ করে।

(FAQ) ভারতের গণপরিষদ সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. ভারতের গণপরিষদ গঠিত হয় কখন?

ডিসেম্বর ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে

২. ভারতের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন কখন কোথায় বসে?

৯ ডিসেম্বর ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীতে

৩. ভারতের গণপরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন কে?

ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ

৪. ভারতের গণপরিষদ গঠনের সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

ক্লিমেন্ট এটলি

৫. প্রত্যক্ষ সংগ্ৰামের ডাক দেন কে?

মহম্মদ আলি জিন্না

Leave a Comment