অব উপনিবেশীকরণের তাৎপর্য

অব উপনিবেশীকরণের তাৎপর্য প্রসঙ্গে সামাজিক তাৎপর্য হিসেবে বর্ণবৈষম্যবাদের গতিরোধ, অস্থির পরিস্থিতির উদ্ভব, এলিট গোষ্ঠীর শক্তি বৃদ্ধি, রাজনৈতিক তাৎপর্য হিসেবে তৃতীয় বিশ্বের উত্থান, জাতিভিত্তিক নতুন বিশ্বব্যবস্থার উদ্ভব, সাম্রাজ্যবাদের গতিরোধ, অর্থনৈতিক তাৎপর্য হিসেবে আর্থিক দুর্বলতা, নয়া উপনিবেশবাদ ও আঞ্চলিক সংগঠন সম্পর্কে জানবো।

অব উপনিবেশীকরণের তাৎপর্য

ঐতিহাসিক ঘটনাঅব-উপনিবেশীকরণের তাৎপর্য
সামাজিক তাৎপর্যবর্ণবৈষম্যবাদের গতিরোধ
রাজনৈতিক তাৎপর্যসাম্রাজ্যবাদের গতিরোধ
অর্থনৈতিক তাৎপর্যনয়া উপনিবেশবাদ
আঞ্চলিক সংগঠনসার্ক, আসিয়ান
অব উপনিবেশীকরণের তাৎপর্য

ভূমিকা :- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-এর পরবর্তীকালে বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পৃথিবী থেকে পশ্চিমি সাম্রাজ্যবাদী শাসনের অবসান অর্থাৎ উপনিবেশগুলির পতন ঘটতে থাকে এবং বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য লক্ষ্য করা যায়।

অব-উপনিবেশীকরণের সামাজিক তাৎপর্য

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে অব-উপনিবেশিকরণের সামাজিক তাৎপর্য গুলি হল –

(১) বর্ণবৈষম্যবাদের গতিরোধ

ঔপনিবেশিক শাসনকালে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন উপনিবেশের বাসিন্দারা বর্ণবৈষম্যবাদের শিকার হয়েছিল শ্বেতাঙ্গ শাসকদের সঙ্গে শাসিত কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর বিস্তর ব্যবধান ও অসাম্য সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু অব-উপনিবেশীকরণ-এর ফলে জাতিবৈরিতা ও বর্ণবৈষম্যবাদের গতি রুদ্ধ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা, রোডেশিয়া থেকে ক্রমে বর্ণবৈষম্যবাদ বিদায় নিতে থাকে।

(২) অস্থির পরিস্থিতির উদ্ভব

কিছু কিছু উপনিবেশ, বিশেষ করে আফ্রিকার বেশ কিছু উপনিবেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে এবং অভ্যন্তরীণ বিভেদ-দ্বন্দ্বে এতটাই দুর্বল ছিল যে, তারা স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এই পরিস্থিতিতে তারা ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করলেও দেশে সঠিক সুস্থ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব গৃহযুদ্ধের দিকে মোড় নেয়।

(৩) এলিট গোষ্ঠীর শক্তিবৃদ্ধি

ঔপনিবেশিক শক্তি বিদায় নেওয়ার পর সদ্য-স্বাধীন বহু রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা সেদেশের শিক্ষিত ও ধনী এলিট গোষ্ঠীর করায়ত্ত হয়। তারা দেশে নিজ গোষ্ঠীর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। দেশের সাধারণ দরিদ্র মানুষের সঙ্গে এই সমস্ত গোষ্ঠীর সামাজিক স্তর ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যের বিস্তর পার্থক্য ছিল।

অব-উপনিবেশীকরণের রাজনৈতিক তাৎপর্য

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে উপনিবেশিকরণের রাজনৈতিক তাৎপর্য গুলি হল –

(ক) তৃতীয় বিশ্বের উত্থান

  • (১) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বহু উপনিবেশ বিদেশি সাম্রাজ্যবাদের শাসনমুক্ত হয়, অর্থাৎ অব-উপনিবেশীকরণ ঘটে। এর ফলে এইসব মহাদেশের অন্তর্গত বিভিন্ন দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। সদ্য স্বাধীন এইসব দেশ তৃতীয় বিশ্ব নামে পরিচিত। তৃতীয় বিশ্বের এই দেশগুলি পৃথিবী থেকে উপনিবেশবাদ ও বর্ণবৈষম্য দূর করতে যথেষ্ট উদ্যোগী হয়ে ওঠে।
  • (২) তৃতীয় বিশ্বের এই দেশগুলি সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-এর সদস্যপদ গ্রহণ করে এবং উপনিবেশবাদ ও বর্ণবৈষম্য দূর করতে জাতিপুঞ্জের সাহায্য নেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে জাতিপুঞ্জের ১৭৯টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১০০টি সদস্য রাষ্ট্রই ছিল সদ্য স্বাধীন। তৃতীয় বিশ্বের উত্থানের ফলে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের পরিধি, কার্যাবলির যথেষ্ট প্রসার ঘটে ও তার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপুর্ণ হয়ে ওঠে।

(খ) জাতিভিত্তিক নতুন বিশ্বব্যবস্থার উদ্ভব

অব-উপনিবেশীকরণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে বিশ্বের রাজনৈতিক কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অব উপনিবেশীকরণের ফলে পুরোনো ইউরোপীয় সাম্রাজ্যগুলির অধীনতা ছিন্ন করে জাতিভিত্তিক ক্ষুদ্র বৃহৎ অসংখ্য রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে। স্বাধীনতা লাভের পর এসব জাতি নিজেদের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করার সুযোগ পায়। ফলে নতুন রাজনৈতিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

(গ) সাম্রাজ্যবাদের গতিরোধ

  • (১) অব-উপনিবেশীকরণের ফলে সাম্রাজ্যবাদী অধীনতা ছিন্ন করে অসংখ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে। সদ্য-স্বাধীন এই সব রাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরে সাম্রাজ্যবাদের কুফল ভোগ করার ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাম্রাজ্যবাদের বিরোধী হয়ে ওঠে।
  • (২) স্বাধীনতা লাভের পরও এই সব দেশ অন্যান্য পরাধীন দেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন জুগিয়ে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যায়। ফলে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলির সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রচেষ্টা বাধাপ্রাপ্ত হয়।

(ঘ) রাজনীতির প্রসার

  • (১) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে পর্যন্ত ইউরোপ মহাদেশ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে উত্তর আমেরিকা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিধি প্রসারিত ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় বহু নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটলে পূর্বেকার ঔপনিবেশিক শক্তিগুলি এই সব রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রক্ষা করতে বাধ্য হয়।
  • (২) এই ভাবেই অব-উপনিবেশীকরণের ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনীতির দিগন্ত বহুদূর প্রসারিত হয়। ইউরোপের বাইরে ক্ষুদ্র-বৃহৎ রাষ্ট্রগুলির নিজেদের মধ্যেও সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সমস্যাও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্থান করে নেয়।

(ঙ) নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার উদ্ভব

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল ব্রিটেন, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশগুলির নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয় অর্থাৎ অঞ্চল বা উপনিবেশগুলির অব-উপনিবেশীকরণ ঘটে। এর ফলে সদ্য- স্বাধীন এই সব (দেশে) অঞ্চলে যে শক্তিশূন্যতার সৃষ্টি হয় তা পুরণ করতে বিশ্বের দুই বৃহৎ শক্তি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত রাশিয়া এগিয়ে আসে। ফলে এই বৃহৎ শক্তি দুটির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধি পায়।

(চ)  ঠান্ডা লড়াইয়ের প্রসার

  • (১) ঔপনিবেশিক শক্তিগুলির কবল থেকে মুক্ত হলেও সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রগুলিতে সোভিয়েত রাশিয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ প্রচার ও প্রসারে এবং আমেরিকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন পুঁজিবাদের প্রসারে সক্রিয় উদ্যোগ নেয়।
  • (২) আদর্শগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক দখলদারির কারণে সৃষ্ট ঠান্ডা লড়াইয়ের ফলে সদ্য স্বাধীন এসব রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। রাশিয়া ও আমেরিকা উভয়েই এই সব দেশে নিজেদের স্বার্থে আর্থিক ও সামরিক সাহায্য দানের জন্য এগিয়ে এলে দেশগুলি আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে সংঘটিত ঠান্ডা লড়াইয়ের বৃত্তে প্রবেশ করে।

(ছ) আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব

সদ্য-স্বাধীন প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও স্বার্থের সংঘাত শুরু হয়ে যায়। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘর্ষ শুরু হয় এবং মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র গড়ে ওঠে। কোরিয়ার যুদ্ধ, ভারত-চিন যুদ্ধ, ভারতপাকিস্তান যুদ্ধ প্রভৃতি ছিল নতুন আঞ্চলিক সংঘাতের উদাহরণ।

অব-উপনিবেশীকরণের অর্থনৈতিক তাৎপর্য

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীকালে উপনিবেশিকরণের অর্থনৈতিক তাৎপর্য গুলি হল –

(ক) অর্থনৈতিক দুর্বলতা

  • (১) ঔপনিবেশিক শক্তিগুলি দীর্ঘদিন ধরে তাদের অধীনস্থ উপনিবেশগুলিকে শোষণ করার ফলে উপনিবেশগুলি অর্থনৈতিকভাবে একসময় নিঃস্ব হয়ে যায়। শেষপর্যন্ত ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তির ওপরই এই উপনিবেশগুলি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
  • (২) পরবর্তী সময়ে এই সব উপনিবেশগুলি স্বাধীনতা লাভ করলেও তারা অর্থনৈতিক দিক থেকে খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে দেশের কৃষি উৎপাদন, শিল্পায়ন প্রভৃতি ব্যাহত হয় এবং সামগ্রিক উন্নয়ন থমকে যায়। সদ্য স্বাধীন এই সব দেশে বেকারত্ব এবং কোথাও কোথাও খাদ্যাভাব তীব্র আকার ধারণ করে।

(খ) নয়া উপনিবেশবাদ

  • (১) ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পর সদ্য-স্বাধীন এইসব দেশ নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রভৃতির প্রয়োজনে ইউরোপ বা অন্যান্য স্থানের বৃহৎ শক্তিগুলির ওপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হয়। সুযোগ বুঝে বৃহৎ শক্তিগুলি সদ্য-স্বাধীন এই সব দেশে অর্থনৈতিক সহায়তা দান করে সেখানে নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও পরোক্ষভাবে শোষণ বৃদ্ধি করে।
  • (২) এর ফলে ঔপনিবেশিক শক্তির অধীনতা ছিন্ন করার পরও এই সব রাষ্ট্র ঔপনিবেশিক শক্তিগুলির অর্থনৈতিক উপনিবেশবাদের শিকার হয়। এই সদ্য-স্বাধীন দেশগুলিতে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলির অর্থনৈতিক সহায়তাদানের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করার ঘটনাই হল নয়া-উপনিবেশবাদ।

(গ) আঞ্চলিক সহযোগিতা

অব-উপনিবেশীকরণের একটি সদর্থক দিক ছিল আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। সদ্য স্বাধীন দেশগুলি নিজেদের সমস্যার সমাধান ও সামগ্রিক উন্নতির লক্ষ্যে সহযোগিতামূলক বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন গড়ে তোলে। এই সব সংগঠনের পারস্পরিক সহযোগিতার অন্যতম বিষয় ছিল অর্থনৈতিক সহযোগিতা। এরূপ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক সংগঠন হল আসিয়ান (ASEAN – Association of Southeast Asian Nations), সার্ক (SAARC = South Asian Association of Regional Cooperation), আরব লিগ প্রভৃতি।

উপসংহার :- অব উপনিবেশীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যে ক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদী শাসক তাদের ঔপনিবেশিক ক্ষমতা ও প্রতিপত্তিকে প্রত্যাহার করে নেয়। আবার অন্য একটি ধারণা অনুযায়ী সক্রিয় মুক্তি সংগ্রাম এবং গণআন্দোলনের চাপে ঔপনিবেশিক ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি অনেকটাই সংকুচিত হয়। এই দ্বিতীয় ক্ষেত্রেই অব উপনিবেশীকরণ অধিক প্রযোজ্য।

(FAQ) অব উপনিবেশীকরণের তাৎপর্য সম্পর্কে জিজ্ঞাস্য?

১. অব উপনিবেশীকরণের একটি সামাজিক তাৎপর্য লেখ।

বর্ণবৈষম্যবাদের গতিরোধ।

২. ঔপনিবেশিক শক্তি বিদায় নেওয়ার পর সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা কারা দখল করে?

শিক্ষিত ও ধনী এলিট গোষ্ঠী।

৩. তৃতীয় বিশ্ব বলতে কী বোঝো?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এশিয়া আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বহু উপনিবেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। সদ্য স্বাধীন এই সব দেশ তৃতীয় বিশ্ব নামে পরিচিত।

৪. নয়া উপনিবেশবাদ কি?

সদ্য স্বাধীন দেশগুলিতে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলির অর্থনৈতিক সহায়তা দানের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করার ঘটনাই হলো নয়া উপনিবেশবাদ।

Leave a Comment